চাপের মুখে ফেসবুকের নীতিমালা পরিবর্তনের ঘোষণা জাকারবার্গের

১২:৩৭ অপরাহ্ণ | রবিবার, জুন ৭, ২০২০ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি

বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি ডেস্ক- ফেসবুক কর্মীদের চাপের মুখে প্লাটফর্মে বিতর্কিত পোস্ট ও মন্তব্যসংক্রান্ত নীতিমালায় পরিবর্তন আনার প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করেছেন মার্ক জাকারবার্গ।

গত শুক্রবার ফেসবুকের সহপ্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) বলেন, শিগগিরই ফেসবুকের অভ্যন্তরীণ নীতিমালায় কিছু পরিবর্তন আনা হবে। খবর রয়টার্স।

সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রে চলমান বর্ণবাদবিরোধী বিক্ষোভ নিয়ে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিতর্কিত ফেসবুক পোস্ট মুছে না দেয়ার সিদ্ধান্ত জানিয়ে প্রতিষ্ঠানের কর্মীদের তীব্র সমালোচনার মুখে পড়েছিলেন মার্ক জাকারবার্গ।

শুধু তা-ই নয়; বর্ণবাদবিরোধী বিক্ষোভ নিয়ে ট্রাম্পের বিতর্কিত মন্তব্য ঘিরে প্রতিদ্বন্দ্বী সোস্যাল মিডিয়া প্লাটফর্ম টুইটারের স্বচ্ছ অবস্থান ও টুইটার প্রধান জ্যাক ডরসির গৃহীত সিদ্ধান্তের প্রকাশ্যে প্রশংসা করেছেন ফেসবুকের বেশ কয়েকজন জ্যেষ্ঠ ব্যবস্থাপক। কিন্তু মার্ক জাকারবার্গ তার সিদ্ধান্তে অনড় থাকায় ফেসবুক কর্মীদের মধ্যে ওয়াকআউটের ঘটনাও ঘটে।

ফেসবুকের পক্ষ থেকে ট্রাম্পের বিতর্কিত মন্তব্যের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে অস্বীকৃতি জানিয়ে এক পোস্টে মার্ক জাকারবার্গ বলেছিলেন, তিনি মনে করেন, মন্তব্যটি গভীরভাবে আপত্তিজনক হলেও তা সহিংসতার জন্য উসকানি দেয়ার বিরুদ্ধে কোম্পানির নীতিমালা লঙ্ঘন করেনি এবং জনগণকে জানতে হবে যে সরকার বল প্রয়োগ করার পরিকল্পনা করছে কিনা।

এদিকে প্রধান নির্বাহী জাকারবার্গের এমন বক্তব্যে হতাশ হন স্বয়ং তাঁর প্রতিষ্ঠানের কর্মীরা। তাই ট্রাম্পের বিতর্কিত ওই মন্তব্যের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নেওয়ায় জাকারবার্গের প্রতি ক্ষোভ জানিয়ে অনেক কর্মী কর্মবিরতি পালন করেন। এই ঘটনার জেরে কিছু কর্মী চাকরি ছাড়ার কথা ভাবছেন, যা প্রতিষ্ঠানের জন্য খুবই খারাপ পরিস্থিতির জন্ম দেবে বলে আশঙ্কা।

বিষয়টি নিয়ে প্রতিষ্ঠানের ভেতরে ক্ষোভ বেড়ে যাওয়ায় তা প্রশমনের জন্য উদ্যোগী হতে শুরু করেন জাকারবার্গ। ফেসবুকের নীতিমালা পুনর্বিবেচনা করার আশ্বাস দিয়ে শুক্রবার তিনি সব কর্মীর কাছে চিঠি পাঠান।

চিঠিতে জাকারবার্গ লিখেছেন, ‘আলোচনার সুযোগ দিতে আমরা আমাদের নীতিমালা পর্যালোচনা করতে যাচ্ছি এবং রাষ্ট্রীয় শক্তি ব্যবহারের হুমকির বিষয়ে যদি কোনো সংশোধনীর দরকার পড়ে, তাহলে আমরা সেটা করব।’

জর্জ ফ্লয়েড নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমগুলোতে একের পর এক বেফাঁস মন্তব্য করেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। এগুলো ঢেকে দিতে বা মুছে ফেলতে প্রতিষ্ঠানগুলোর কাছে দাবি জানানো হয় বিভিন্ন মহল থেকে।