২ বাংলাদেশিকে নির্যাতনের পর রক্তাক্ত অবস্থায় ফেলে গেল বিএসএফ

১:৫৫ অপরাহ্ণ | শনিবার, জুন ২৭, ২০২০ আলোচিত

সময়ের কণ্ঠস্বর, চুয়াডাঙ্গা- চুয়াডাঙ্গার দামুড়হুদা উপজেলার ঠাকুরপুর সীমান্তে দুই বাংলাদেশি গরু ব্যবসায়ীকে নির্মমভাবে নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিএসএফ’র বিরুদ্ধে।

শুক্রবার রাতে রক্তাক্ত অবস্থায় ওই দুই গরু ব্যবসায়ীকে উদ্ধার করে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

নির্যাতনের শিকার গরু ব্যবসায়ীরা হলেন- ঠাকুরপুর বাজারপাড়ার মৃত ইছাহাক আলীর ছেলে কদম আলী (৩৫) ও একই এলাকার মৃত আব্দুস সামাদের ছেলে বাবু ওরফে কালু (৩০)। এর মধ্যে কদম আলীর শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার্ড করে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।

স্থানীয়রা জানায়, কদম আলী ও বাবু দু’জন গরু পাচারের সঙ্গে জড়িত। গতকাল সন্ধ্যার দিকে গরু আনতে ঠাকুরপুর সীমান্তের ৮১নং মেইন পিলারের আশপাশ দিয়ে ভারতে প্রবেশ করার সময় তাদেরকে পিটিয়ে জখম করে বাংলাদেশের সীমানায় ফেলে রেখে যায় বিএসএফ সদস্যরা।

পরে স্থানীয়রা তাদেরকে উদ্ধার করে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এরমধ্যে আশঙ্কাজনক অবস্থায় কদম আলীকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার্ড করেছে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালের কর্তব্যরত চিকিৎসক।

চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালের জরুরি বিভাগের কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. মাহাবুবুর রহমান বলেন, আহত কদম আলীর অবস্থা খারাপ। তার পিঠে তিনটা, ডান হাতের কনুইয়ে এবং ডান পায়ে ক্ষত আছে। রোগীর শরীর থেকে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ হওয়ার কারণে তাকে রক্ত দিতে হয়েছে। এককথায় তার শারীরিক অবস্থা খারাপ। আমরা তাকে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়েছি এবং উন্নত চিকিৎসার জন্য রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পরামর্শ দিই।

দর্শনা থানার ওসি মাহাবুবুর রহমানের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, লোকমুখে শুনেছি, গতকাল সন্ধ্যার দিকে কদম আলী ও বাবু ওরফে কালু নামের দুজন অবৈধভাবে ভারতে প্রবেশ করছিল। বিএসএফের সদস্যরা তাদের পিটিয়ে বাংলাদেশের সীমানায় ফেলে রেখে যায়। তিনি আরো বলেন, ঘটনার সত্যতা সম্পর্কে আমি খোঁজ নিয়ে দেখছি।

এ বিষয়ে চুয়াডাঙ্গা-৬ বিজিবির পরিচালক মোহাম্মদ খালেকুজ্জামান জানান, আহত বাবু নামের একজনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য প্রথমে ঠাকুরপুর ক্যাম্পে নিয়ে আসা হয়। সীমান্তের অপার থেকে গরু আনার বিষয়টি তিনি স্বীকার করেছেন। পরে স্থানীয়দের মাধ্যমে সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়। এর নেপথ্যে অন্য কোনো ঘটনা আছে কি না তা তদন্ত করা হচ্ছে।