• আজ ১লা শ্রাবণ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

করোনা চিকিৎসায় ভেন্টিলেটরের প্রয়োজন নেই: সংসদে স্বাস্থ্যমন্ত্রী

৫:৫২ অপরাহ্ণ | মঙ্গলবার, জুন ৩০, ২০২০ জাতীয়

সময়ের কণ্ঠস্বর, ঢাকা- করোনা আক্রান্ত হয়ে ভেন্টিলেটরে যাওয়া রোগীদের প্রায় সবাই মারা গিয়েছে উল্লেখ করে স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক বলেছেন, করোনা চিকিৎসায় ভেন্টিলেটরের কোনও প্রয়োজন নেই। দেশের ৪০০ ভেন্টিলেটরের মধ্যে সাড়ে তিনশ’ ব্যবহারই হয়নি বলেও তিনি জানান।

মঙ্গলবার (৩০ জুন) জাতীয় সংসদে বাজেট অধিবেশনের সমাপনী সেশনে অংশ নিয়ে তিনি এসব কথা বলেন।

আইসিইউ ও ভেন্টিলেটর সংকট নিয়ে অভিযোগের জবাব দিতে গিয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ‘আইসিইউ নিয়ে অনেক কথা হলো। ভেন্টিলেটর নিয়ে বিরাট হৈ চৈ। কিন্তু দেখা গেছে, ভেন্টিলেটরের কোনও প্রয়োজনই নেই। ভেন্টিলেটরে যারা গেছেন তাদের প্রায় সবাই মৃত্যুবরণ করেছেন। আমাদের চারশ’ ভেন্টিলেটর আছে। এর মধ্যে ৫০টিও ব্যবহার হয়নি। সাড়ে তিনশ’ ভেন্টিলেটর খালি পড়ে আছে। কারণ, তখন মানুষ এটা জানতো না।’

করোনা চিকিৎসার ওষুধ নিয়ে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বার বার তাদের অবস্থান পরিবর্তন করেছে বলেও স্বাস্থ্যমন্ত্রী এ সময় দাবি করেন।

তিনি বলেন, করোনার কী চিকিৎসা লাগবে ডব্লিউএইচও তা বারে বারে চেঞ্জ করেছে। আমরাও সঙ্গে সঙ্গে পরিবর্তন করেছি। কেউ কিন্তু আগে বলেনি পিপিই লাগবে। যখন বলা হলো, তখন সারাবিশ্ব লকডাউন। এই লকডাউনের কারণে আমরা পিপিই পাচ্ছিলাম না। যন্ত্রপাতি পাচ্ছিলাম না। পরে আস্তে আস্তে ব্যবস্থা করছি। এখন আর সেই অভিযোগ নেই। ইতোমধ্যে প্রায় ৩০ লাখ পিপিই সরবরাহ করা হয়েছে। এখন হাইফ্লো অক্সিজেনের প্রয়োজনের কথা বলা হচ্ছে। আমরা এক হাজার অক্সিজেনের অর্ডার দিয়েছি। প্রায় ১০ হাজার নতুন সিলিন্ডার বানানো হয়েছে।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ‘এমন নয় যে দেশের কোনো হাসপাতালে রোগীরা চিকিৎসা পাচ্ছেন না। আজ পর্যন্ত ৬০ শতাংশ বেড পূর্ণ হয়েছে এবং এখনও ৪০ শতাংশ বেড খালি রয়েছে। করোনা রোগীদের জন্য আমরা ১৪ হাজার বেড নির্দিষ্ট করে দিয়েছি।’

সম্পর্কে মন্ত্রী বলেন, ‘অভিযোগগুলো সঠিক নয়, কারণ ৫০টি হোটেলে প্রায় ৩ হাজার ৭০০ লোক একমাস অবস্থান করেছেন। তাদের জন্য ৫০০ টাকা খাদ্য ব্যয় হিসাবে দেয়া হয়েছিল। দিনে তিনবার খাবারের জন্য- সকাল দুপুর ও রাতের খাবারের জন্য। আর প্রতিটি রুমের ভাড়া প্রতিদিনের ভাড়া ছিল এক হাজার ১০০ টাকা ।’

ব্যয়গুলো এত বেশি ছিল না উল্লেখ করে তিনি আরও বলেন, ‘যে খাদ্য ব্যয় (অভিযোগে) বলা হয়েছিল, তা সঠিক নয়।’

স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, এখন প্রতিটি বেসরকারি হাসপাতালে (করোনায় আক্রান্তদের) চিকিৎসা করা হচ্ছে, যদিও তাদের সার্ভিস চার্জ কিছুটা বেশি। তবে সরকার বেসরকারি মেডিকেল হাসপাতালের সার্ভিস চার্জ ঠিক করে দেবে বলেও জানান তিনি।