• আজ ১লা শ্রাবণ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

চিকিৎসকদের থাকা-খাওয়া নিয়ে দুর্নীতির অভিযোগ টোটালি রং: স্বাস্থ্যমন্ত্রী

৬:৩৯ অপরাহ্ণ | মঙ্গলবার, জুন ৩০, ২০২০ জাতীয়

সময়ের কণ্ঠস্বর, ঢাকা- ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে করোনা রোগীদের সেবায় নিয়োজিত চিকিৎসকদের থাকা-খাওয়ার বিষয়ে দুর্নীতির যে অভিযোগ উঠেছে তা সঠিক নয় বলে দাবি করেছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক।

মঙ্গলবার (৩০ জুন) জাতীয় সংসদে আইন মন্ত্রণালয়ের মঞ্জুরি দাবির ওপর ছাঁটাই প্রস্তাবে সংসদ সদস্যদের বক্তব্যের জবাব দিতে গিয়ে তিনি এসব কথা বলেন।

স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে শুরু হওয়া সংসদের বৈঠকে এ সময় প্রধানমন্ত্রী ও সংসদ নেতা শেখ হাসিনা উপস্থিত ছিলেন। ছাঁটাই প্রস্তাব নিষ্পত্তি শেষে মঙ্গলবার ২০২০-২১ অর্থবছরের বাজেট পাস হয়।

জাহিদ মালেক বলেন, ঢাকা মেডিক্যাল কলেজে চিকিৎসকদের থাকা-খাওয়ার বিষয় নিয়ে যে কথা হয়েছে আমি খোঁজ নিয়েছি। কাল রাতে আমি এটা দেখেছি। ৫০টি হোটেল ভাড়া হয়েছে। সেখানে তিন হাজার ৭শ’ মানুষ এক মাস থেকেছেন। প্রত্যেকটি রুমের ভাড়া ১১০০ টাকা। খাওয়ার খরচ যেটা বলা হয়েছে তা টোটালি রং। সেখানে দিনের তিনটি মিলের জন্য ৫০০ টাকা খরচ হয়েছে। দুর্নীতি করার সুযোগ নেই।

স্বাস্থ্যমন্ত্রীর বক্তব্যের আগে জাতীয় পার্টির এমপি পীর ফজলুর রহমান বলেন, “আগে থেকেই স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় নিয়ে কথা বলছিলাম। ৩৭ লাখ টাকার পর্দা। আগে থেকেই বলছিলাম। সর্বশেষ গতকাল প্রধানমন্ত্রী সংসদে বক্তব্য রেখেছেন। ডাক্তারদের ২০ কোটি টাকা থাকা-খাওয়ার বিল। সেখানে একটা কলার দাম দুই হাজার টাকা। একটা ডিমের দাম ১ হাজার টাকা এবং এক স্লাইস পাউরুটির দাম তিন হাজার টাকা। করোনাকালেও এই অবস্থা!

“কদিন আগে দেখেছি, জিম্বাবুয়ের স্বাস্থ্যমন্ত্রীকে পিপিই ও কিট কেনায় দুর্নীতির দায়ে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। আমাদের এই রুগ্ন স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের দুরাবস্থা করনোকালে এসে… মানুষ বলে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় মীনা কার্টুনের টিয়া পাখি মিঠুর মতো। মিঠু ঘুরে ঘুরে বেড়ায় আর মীনা চলতে থাকে। টিয়া পাখি দ্বারা চলছে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়। আমি মফস্বলের মানুষ। মন্ত্রীর সাথে বিরোধ নেই। বাজারে বাজারে ঘুরি। আমাকে মানুষ বলেছে, জেলা সদরে আইসিইউ নেই, অক্সিজেন নেই, আপনারা সংসদে বলেন। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের যে অবস্থা যদি সুযোগ থাকে… গ্রামের লোক বলে প্রধানমন্ত্রীকে বলতে, স্বাস্থ্যমন্ত্রীকে অন্য কোনো দায়িত্ব দিয়ে সাবেক মন্ত্রী মতিয়া চৌধুরীকে দেওয়ার জন্য লোকে বলে। মানুষের কথাটা নিবেদন করলাম।”

এছাড়া জাতীয় পার্টির সংসদ সদস্য কাজী ফিরোজ রশীদ বলেন, “আমাদের সবই করতে হয় মাননীয় প্রধানমন্ত্রীকে। প্রধানমন্ত্রীকে যদি সব করতে হয় তাহলে মন্ত্রণালয়-অধিদপ্তর এত রাখার দরকার নেই। রোজার মাসে দেখেছি চার ঘণ্টা মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জেলা প্রশাসকদের সাথে কথা বলেছে। কীভাবে হাঁচি দিতে হবে তাও শিখাইতেছেন। দূরত্ব রেখে কীভাবে থাকতে হবে, কী খেতে হবে তাও শিখাচ্ছেন।

“অথচ আমাদের স্বাস্থ্য অধিদপ্তর যদি হেলিকপটার দিয়ে লিফলেট গ্রামেগঞ্জে ছিটিয়ে দিত তাতেও কিন্তু সচেতন হত। আমাদের অধিদপ্তর ও মন্ত্রণালয়ের মধ্যে কোনো সমন্বয় নেই। সমন্বয়হীনতার জন্য দেখেছি, স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলছেন, তিনি জানেন না কোথায় কী হচ্ছে। এই সমন্বয়হীনতার জন্য প্যাঁচ খেয়ে গেছে।”

বর্তমান সংকট মোকাবেলায় দেশের বেসরকারি হাসপাতালগুলো অধিগ্রহণ করার প্রস্তাব দেন ফিরোজ রশীদ।

তবে সব অভিযোগ অস্বীকার করে বিগত তিন মাসে মহামারী মোকাবেলায় সক্ষমতা বৃদ্ধির দিকগুলো এদিন সংসদে তুলে ধরেছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী। সবাই মিলে কাজ করেছে বলেই ভারত, যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের চেয়ে বাংলাদেশে করোনাভাইরাসে মৃত্যু হার কম বলেও দাবি করেছেন তিনি।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক বলেন, “সংসদ সদস্যরা সংসদে আমাদের কেবল দোষারোপ করে গেছেন। আমরা কী কাজ করেছি তা আসেনি তাদের বক্তব্যে। কোভিড আসার শুরু থেকেই আমরা কাজ করে যাচ্ছি। চীনে কোভিড দেখা দেওয়ার পরপরই আমরা পোর্টগুলোতে স্ক্রিনিংসহ সব ধরনের ব্যবস্থা গ্রহণ করেছি। প্রত্যেক জেলা-উপজেলার হাসপাতালে কোভিডের জন্য আলাদা ব্যবস্থা করেছি। আমরা জাতীয় পর্যায়ে কমিটি তৈরি করেছি। ব্যবস্থা গ্রহণের ফলে আমাদের দেশে করোনায় মৃত্যুর হার ১ দশমিক ২৬ শতাংশ। এই হার ভারতে ৬ শতাংশ, যুক্তরাষ্ট্রে ১৫ শতাংশ, যুক্তরাজ্যে ১৪ শতাংশ। এটা এমনিতেই হয়নি। সকলে কাজ করেছে বলেই এটা হয়েছে।”

সংসদ সদস্যদের সমন্বয়হীনতার অভিযোগ অস্বীকার করে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, “আমাদের মধ্যে কোনো সমন্বয়হীনতা নেই। পাঁচ মাস কিন্তু আমরাই মাঠে আছি। ২৫ দিনে বসুন্ধরায় দুই হাজার বেডের হাসপাতাল বানিয়েছি। আমরা চেষ্টা করে যাচ্ছি। সকলের সহযোগিতা পেলে কোভিড চলে যাবে। স্বাভাবিকভাবে অর্থনীতি এগিয়ে যাবে।”

সংবাদ মাধ্যমের সমালোচনা করে তিনি বলেন, “প্রেস মিডিয়া অনেক কিছু বলে। প্রেস মিডিয়া যদি সব সময় মৃত্যুর খবর, দুঃসংবাদ দিতে থাক, আমরা মনে করি তরুণ প্রজন্ম মানসিকভাবে অসুস্থ হয়ে যাচ্ছে, বয়স্করাও অসুস্থ হয়ে যাবে। আমরা যারা আছি অসুস্থ হয়ে যাব। পজিটিভলি কথা বলতে হবে। ডাক্তার-নার্স যারা কাজ করে তাদের অনুপ্রাণিত করলে আরও ভালো কাজ করবে। সব সময় সমালোচনা করলে সঠিক হবে না। সকলের সহযোগিতা পোলে কোভিড থেকে ছুটি পাব।”