• আজ ১লা শ্রাবণ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

উইঘুর মুসলিমদের ইলেক্ট্রিক শক দিয়ে ভ্রুণ হত্যা করছে চীন সরকার

৭:৩৫ অপরাহ্ণ | মঙ্গলবার, জুন ৩০, ২০২০ আন্তর্জাতিক

আন্তর্জাতিক ডেস্কঃ চীনের বিরুদ্ধে মুসলিম সংখ্যালঘুদের নির্মূল চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে। এ লক্ষ্যে আগের চেয়ে কঠোর করা হয়েছে জন্মনিয়ন্ত্রণ কার্যক্রম। বাধ্য করা হচ্ছে গর্ভপাত ও ভ্রুণ হত্যার মতো জঘন্য কাজে। বার্তা সংস্থা এপি এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে। বেইজিংয়ের এ আচরণকে জাতিসংঘের কনভেনশনের লঙ্ঘন বলছেন বিশেষজ্ঞরা।

উইঘুর মুসলিমসহ সংখ্যালঘু জনসংখ্যা কমানোর লক্ষ্যে জন্মনিয়ন্ত্রণ পদ্ধতি ব্যাপকভাকে জোরদার করেছে চীনের কমিউনিস্ট সরকার। সরকারি তথ্য, কারাগারে আটক সাবেক ৩০ বন্দি, তাদের পরিবার, আটক কেন্দ্রের এক পরিদর্শকের সাক্ষাৎকার গ্রহণের ভিত্ততে বার্তা সংস্থা এপির অনুসন্ধানি প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়। খবরে বলা হয়, দুইয়ের অধিক সন্তান থাকলেই দিতে হচ্ছে মোটা অংকের অর্থ। করতে হয় কারাভোগ।

একজন বলেন, তৃতীয় সন্তানের জন্মনিববন্ধসহ সরকারি সব কাগজপত্র আছে। তারপরও বলা হলো দু’দিনের মধ্যে আড়াই হাজার ডলার দিতে হবে। কোনো অর্থ ছিল না। তারা কারো কথা শুনে না। কথা না শুনলে ইলেক্ট্রিক শক দিয়ে ভ্রুণ হত্যা করে। সন্তান জন্মাদানে সবাই এখন ভয় পায়।

অতিরক্তি সন্তান্তের খোঁজে প্রায় সব বাসাবাড়িতে অভিযান চালায় পুলিশ। ভয়ে শিশুদের লুকিয়ে রাখেন আতঙ্কিত বাবা-মায়েরা। এছাড়া জন্মহার কমাতে বাধ্য করা হচ্ছে জন্মনিয়ন্ত্রণের বিভিন্ন পদ্ধতি গ্রহণে। জোরপূর্বক গর্ভপাত, অঙ্গ অকেজোসহ অনামনিবক নানা নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে।

আরেকজন বলেন, তারা আমাদের নির্মূল করতে চায় কিন্তু মেরে ফেলছে না। স্টেরিলাইজেশন, কারাগারে আটকে রাখা, স্বামী-স্ত্রীকে আলাদা করার মাধ্যমে আমাদের ধীরে ধীরে শেষ করে দেয়া হচ্ছে।

উইঘুরের হোতান ও কাশগারে ২০১৫ থেকে ২০১৮ সালের মধ্যে জন্মহার কমেছে ৬০ শতাংশ। জিনজিয়ানে কমেছে ২৪ শতাশং। কিন্তু চীনের অন্যান্য জায়গায় এ হার কমেছে মাত্র ৪ শতাংশ। একে জনমিতি গণহত্যা বলছেন বিশেষজ্ঞরা।

এডরিন জেনজ বলেন, জিনজিয়ানে চীনা সরকার জন্মনিয়ন্ত্রণ পদ্ধতি কঠোর ও নির্মম করেছে। তারা ব্যাপকভাবে নারীদের স্টেরিলাইজেশন করাচ্ছে। যা জাতিসংঘ কনভেনশনের লঙ্ঘন। তাদের এ অপকর্মের অকাট্ট প্রমাণ আছে আমাদের কাছে।

এ বিষয়ে চীনের আগের বক্তব্য, তারা হানজাতির জনসংখ্যার সঙ্গে অন্যান্য সংখ্যালঘুগোষ্ঠীর জনসংখ্যা সমান করার জন্য জন্মনিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে। তবে সবশেষে এপির প্রতিবেদকের কাছে কোনো মন্তব্য করেনি বেইজিং।