সংবাদ শিরোনাম
বিশ্বের বিভিন্ন দেশে প্রচলিত আজব কিছু কুসংস্কার | টিকটক সেলিব্রেটি ‘অফু বাই’ গ্রেফতার | শচীনের ব্যাটেই ৩৭ বলে সেঞ্চুরি করেছিলেন আফ্রিদি! | বাউফলে পানিতে ডুবে একই পরিবারের তিন বোনের মর্মান্তিক মৃত্যু | হিন্দু সম্প্রদায়ের বাড়িতে হামলা: যুবলীগ নেতাসহ জড়িতদের গ্রেপ্তারের দাবি | ‘শেখ হাসিনা প্রমাণ করেছেন সঠিক নেতৃত্বে দুর্যোগ মোকাবেলা করা সম্ভব’- তথ্যমন্ত্রী | সাবেক সেনা কর্মকর্তার মৃত্যুতে মির্জা ফখরুলের বিবৃতি | কুড়িগ্রামে করোনার উপসর্গ নিয়ে পুলিশ সদস্যের মৃত্যু | নেপালে ভূমিধসে আট নির্মাণশ্রমিকসহ ১০ জনের মৃত্যু | কোরবানির মাংস সংগ্রহ করতে গিয়ে নিখোঁজ, পানি থেকে ভাসমান মরদেহ উদ্ধার |
  • আজ ২০শে শ্রাবণ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

সীমান্তে উত্তেজনার মধ্যেই লাদাখে মোদি

৩:৪২ অপরাহ্ণ | শুক্রবার, জুলাই ৩, ২০২০ আন্তর্জাতিক
modi

আন্তর্জাতিক ডেস্কঃ লাদাখ সীমান্তে চীনের সঙ্গে তীব্র উত্তেজনা বিরাজ করছে ভারতের। সম্প্রতি দুই দেশের সেনাবাহিনীর মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনায় অন্তত ২০ জন সেনা সদস্য নিহত হয়। এতে আরও চরমে পৌঁছে উত্তেজনা। এরই মধ্যে সীমান্তে দুই দেশই মোতায়েন করেছে হাজার হাজার সেনা সদস্য ও অত্যাধুনিক সাজোয়া যান, যেন যুদ্ধের প্রস্তুতি চলছে।

আর এই উত্তেজনার মাঝেই হঠাৎ লাদাখে গেলেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। ভারতের সেনাবাহিনীর মনোবল বাড়াতে শুক্রবার সকালে সীমান্তে পৌঁছেছেন দেশের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। এই মুহূর্তে সীমান্তের পরিস্থিতি কেমন আছে তা নিয়ে সেনাবাহিনীর সঙ্গে কথা বলেন তিনি। একই সঙ্গে সামরিক হাসপাতালে আহত সেনাদের সঙ্গে দেখা করবেন তিনি। নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে রয়েছেন প্রতিরক্ষা বাহিনীর প্রধান বিপিন রাওয়াত।

ভারতীয় সংবাদ মাধ্যম আনন্দবাজার পত্রিকার এক প্রতিবেদনে বলা হয়, তিন বাহিনীর প্রধান সিডিএস জেনারেল বিপিন রাওয়াত এবং স্থলবাহিনীর প্রধান মনোজ মুকুন্দ নরবণেকে নিয়ে শুক্রবার স্থানীয় সময় ১০টার দিকে লেহ সামরিক ঘাঁটিতে অবতরণ করেন মোদি। এলএসিতে ভারতীয় বাহিনীর যে সব সীমান্ত চৌকি রয়েছে, সেগুলোর কয়েকটিতে প্রধানমন্ত্রী গিয়েছেন এবং সীমান্তে মোতায়েন সেনাদের সঙ্গে কথা বলেছেন।

১৫ জুন রাতে গালওয়ানের সংঘর্ষে যে সেনারা আহত হয়েছিলেন, তাদের সঙ্গেও মোদি ইতিমধ্যেই লেহতে দেখা করেছেন বলেও খবর পাওয়া গেছে। তবে মোদি আগে লেহতে গিয়েছেন, নাকি সীমান্তের কাছাকাছি অবস্থিত ফরওয়ার্ড ল্যান্ডিং গ্রাউন্ড নিমুতে তার বিমান আগে অবতরণ করেছে, তা নিয়ে এখনও ধোঁয়াশা রয়েছে।

ভারতের প্রধানমন্ত্রীর দফতর বা প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়, কারও পক্ষ থেকেই আগে জানানো হয়নি যে, প্রধানমন্ত্রী মোদি নিজে আজ লাদাখ যেতে পারেন।

বৃহস্পতিবার প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিংহের লাদাখ সফরের কথা ছিল। সে সফর শেষ মুহূর্তে বাতিল হয়। কেন বাতিল হল, স্পষ্ট জানায়নি দিল্লি। কিন্তু প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞরা মনে করেছিলেন, চীনের সঙ্গে আলোচনার প্রক্রিয়া এগোচ্ছে বলেই রাজনাথের সফর স্থগিত করা হল।

ভারত যে এখন সংঘাত চাইছে না, বরং পরিস্থিতি প্রশমিত হয়ে এলে সামরিক তৎপরতা কমানোই যে ভারতের লক্ষ্য, রাজনাথের সফর স্থগিত করে সেই বার্তাই দেওয়া হল বলে কেউ কেউ ব্যাখ্যা দিয়েছিলেন।

কিন্তু শুক্রবার সকালে স্পষ্ট হয়ে গেল যে, আরও অনেক বড় বার্তা চীনকে দেওয়ার ছিল বলেই বৃহস্পতিবার (০২ জুলাই) রাজনাথের সফর স্থগিত করা হয়েছিল।

এলএসিতে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হওয়ার পরে স্থল সেনা প্রধান মনোজ মুকুন্দ নরবণে এবং বায়ুসেনা প্রধান আর কে এস ভদৌরিয়া আগেই লাদাখ ঘুরে এসেছিলেন। সামরিক প্রস্তুতি খতিয়ে দেখে এসেছিলেন তারা। যেকোনও আগ্রাসনের জবাব দিতে ভারত তৈরি বলেও বাহিনীর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছিল। তবে চীনের সঙ্গে আলোচনাও চলছিল। তার মাঝেই আচমকা প্রধানমন্ত্রী মোদি লাদাখ পৌঁছানোয় ভারতের কৌশলগত বার্তাই বদলে গেল বলে মনে করা হচ্ছে।

গত সপ্তাহে মন কি বাত রেডিও অনুষ্ঠানে মোদি জানিয়েছিলেন, লাদাখের বিষয়ে ভারত উপযুক্ত জবাব দিয়েছে চীনকে। চীনের নাম না করেই মোদি বলেছিলেন, পড়শি যে কোনো দেশ যদি লাদাখের দিকে তাকায়, তবে তার যোগ্য জবাব দিতে তৈরি ভারত।

প্রসঙ্গত, ১৫ জুন ভারত-চীন সংঘর্ষের ঘটনায় শোরগোল পড়ে যায় সারাবিশ্বে। ইন্দো-চীন সীমান্ত সম্পর্কের ইতিহাসে ৪৫ বছর পর এমন রক্তক্ষয়ী ঘটনা ঘটলেঅ।

এদিকে দফায় দফায় বৈঠক করেও চীনের সঙ্গে কোনোভাবেই সমঝোতায় পৌঁছানো সম্ভব হচ্ছে না। একাধিক উচ্চপদস্থ বৈঠকেও মিলছে না কোনো সমাধান।

উল্টোদিকে ভারত থেকে নিষিদ্ধ করে দেওয়া হয়েছে চীনের বেশ কিছু অ্যাপ। চীনেও ভারতের বেশ কিছু সাইটে ঢোকা যাচ্ছিল না বলে অভিযোগ উঠেছে। সংঘর্ষের পর থেকেই উভয় দেশের মধ্যে রয়েছে যুদ্ধ যুদ্ধ ভাব।

Skip to toolbar