সংবাদ শিরোনাম
জার্নি করলে অনেকের বমি হয় কেন? | সীতাকুণ্ডের ঐতিহাসিক ‘দেওয়ান দীঘি’ ভরাট বন্ধে হাইকোর্টের আদেশ | বাবার কবরের পাশে চিরনিদ্রায় শায়িত সাবেক আইন সচিব জহিরুল হক | জাতীয় দলের আরও ৬ ফুটবলার করোনাভাইরাসে আক্রান্ত | “আমেরিকার সাথে কূটনৈতিক লড়াই চায় না চীন” | ‘মার্কিন ও ইসরাইলি পরমাণু অস্ত্র সবার জন্য হুমকি’- ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী | কক্সবাজারে এখন থেকে সেনা ও পুলিশের যৌথ টহল চলবে: আইএসপিআর | বৈরুতের বিস্ফোরণে প্রাণহানির ঘটনায় প্রধানমন্ত্রীর শোক | সিনহা হত্যা মামলাঃ প্রদীপসহ ৩ পুলিশ সদস্যের ৭ দিনের রিমান্ড | ২২ ঘণ্টা ঘিরে রাখার পর জানা গেল বস্তুটি বোমা নয়, টাইলস কাটার যন্ত্র |
  • আজ ২২শে শ্রাবণ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

দর্শকপ্রিয়তা পেয়েছে যোবায়েদ আহসানের গল্পে নির্মিত ‘গজদন্তিনী’

১:৫৬ অপরাহ্ণ | শনিবার, জুলাই ৪, ২০২০ বিনোদন

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, সময়ের কণ্ঠস্বর: গায়ে কাতুকুতু দিয়ে যদি কাউকে হাসানো হয় সেই হাসিটা তার মন থেকে আসবে না নিশ্চয়ই। আর মনের ভেতর থেকে যে হাসিটা না আসে তা মনের খোড়াক কতটা জোগাবে বা মনে উপর প্রভাব ফেলবে তা আমার জানা নেই। তেমনি জোড় করেও কোন কিছু ভালো লাগানো যায় না। ভালো লাগার বিষয়টিও সম্পুন্ন মনের ব্যাপার।তবে দেশের অনেক নাটক সিনেমায় আজকাল যেন দর্শককে এক প্রকার জোড় করেই ভালো লাগানোর চেষ্টা করা হচ্ছে। এটা কি কোন ভাবেই সম্ভব?

দুইদশক আগেও বাংলাদেশের নাটকের একটা বিশেষ সুনাম ছিল পৃথিবীর বাংলা ভাষাভাষি মানুষের কাছে। আমি যেই সময়ের কথা বলছি সেই সময়টাকেই বলা হয় বাংলা নাটকের স্বর্নযুগ। অখাদ্য খাওয়ার চেয়ে অল্পস্বল্প পুষ্টিকর খাবার খাওয়া যেমন শরীরের জন্য যেমন ভালো। তেমনি পরিমানে নয় মানের নাটকই দেশের নাট্য জগতের জন্য ভালো। তবে তার জন্যে চাই ভালো মানের গল্প, ভালো পরিচালক এবং সবশেষ ভালো মানের অভিনয় শিল্পী।

বর্তমানে দেশে অনেক নির্মাতা আছেন, অনেক অভিনয় শিল্পী এবং অনেক গল্পকার আছেন। তবে এদের সামনে ‍যদি ”ভালো” কথাটা যুক্ত করি তাহলে কতজন পাওয়া যাবে? আমার মনে হয় তখন সংখ্যাটা অনেক কমে আসবে। আগে যারা নাটকের জন্য লিখতেন তাদের গল্প গুলো যেমন ছিল মনে ধরার মতো তেমনি উপভোগ্য। গুনি পরিচালকের হাতে পড়লে সেই গল্পগুলোই গুনি শিল্পীর অভিনয়ে আরো বেশি প্রানবন্ত হয়ে উঠতো। যা বছরের পর বছর দর্শক তাদের মনের মাঝে ধারণ করতো। যা আমরা কয়েকদশক আগের নাটক গুলোতে দেখেছি।

তবে বর্তমানেও যে মনে রাখার মতো বা ভালোলাগার মতো কিছূ নাটক দেশে হচ্ছে না তা নয়। গত দু-তিন বছরে এমন কিছু নাটক নির্মিত হয়েছে যার দর্শক প্রিয়তায় শীর্ষে। ইউটিউবে নাটকগুলোর দর্শক কোটির ঘরে । এর মূলে রয়েছে ভালোমানের গল্প।  কাহিনীটা যদি ভালো না হয় তাহলে অভিনয়শিল্পী যত ভালোই করুক না কেন তা জনপ্রিয় হবে না।

চলতি বছরে ভালো কাহিনীর জন্যে যে নাটকটি দর্শক মনে স্থান করে নিয়েছে তা হলো গত ফেব্রুয়ারীতে বিশ্বভালোবাসা দিবসে প্রচারিত ”গজদন্তিনী”। ভালোবাসার গল্পের উপর নির্মিত নাটকটি গত চারমাসেই ইউটিউবে ভিউ হয়েছে প্রায় ৬০লাখ। ধারণা করা হচ্ছে এ গজদন্তিনী নাটকটিই  চলতি বছরে দর্শক প্রিয়তায় সেরা নাটকের স্থান লাভ করবে।

আর জনপ্রিয় এ নাটকের গল্পটা যিনি লিখেছেন তার নাম যোবায়েদ আহসান। মুলত তিনি একজন ফেসবুক লেখক।মির্জাপুর ক্যাডেট কলেজের তুখোড় ছাত্র যোবায়েদ আহসান। কলেজ পাঠ চুকিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়েছেন বায়োকেমিস্ট্রি এন্ড মলিকুলার বায়োলজি বিষয় নিয়ে। পপুলেসন সায়েন্সে মাস্টার্স করেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে। অতঃপর ইস্ট ওয়েস্ট ইউনিভার্সিটি থেকে এমবিএ করেছেন।  তবে ফেসবুকে গল্প লিখা ছাড়াও দুটি উপন্যাসও লিখেছেন। একটি হলো হাকুল্লা অন্যটি ওসি-হতনামা। গজদন্তিনী যেমন ব্যতিক্রমধর্মী কাহিনীর উপর নির্মত তেমনি দুটি উপন্যাসেই এ লেখকের ব্যতিক্রমী লেখনীর ছোয়া পাওয়া গেছে।

যোবায়েদ আহসানের গজদন্তিনী গল্পটির নাট্যরূপ দিয়েছেন মিজানূর রহমান আরিয়ান। আর নাটকের মূল চরিত্রে অভিনয় করেছেন আফরান নিশো এবং মেহজাবিন চৌধুরী।

গজদন্তিনী নাটকটি কেন এত দর্শক প্রিয় হয়েছে তা বলে বুঝানো যাবে না। নাটকটির জনপ্রিয়তার কারণ খুঁজতে গেলে একবার নাটকটি ইউটিউভে অথবা বঙ্গ বিডিতে দেখে আসতে হবে। তাহলেই ভালো লাগার কারণটি আপনার কাছেও পরিস্কার হয়ে যাবে। ভালো গল্প হলে যে বাংলা নাটকের দর্শকের অভাব হয় না গজদন্তিনীই তার বাস্তব প্রমান।

Skip to toolbar