সংবাদ শিরোনাম
  • আজ ২৯শে শ্রাবণ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

রিজেন্ট হাসপাতালের চেয়ারম্যানসহ ১৭ জনের নামে মামলা

১১:৩৬ পূর্বাহ্ণ | বুধবার, জুলাই ৮, ২০২০ আলোচিত বাংলাদেশ

সময়ের কণ্ঠস্বর, ঢাকা- করোনাভাইরাসে আক্রান্ত সন্দেহভাজনদের নমুনা নিয়ে তা পরীক্ষা না করাসহ বিভিন্ন অপরাধের দায়ে রাজধানীর রিজেন্ট হাসপাতালের বিরুদ্ধে মামলা করেছে র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‌্যাব)। এতে প্রতিষ্ঠানটির চেয়ারম্যান মো. শাহেদসহ ১৭ জনকে আসামি করা হয়েছে।

মঙ্গলবার রাতে রাজধানীর উত্তরা পশ্চিম থানায় মামলাটি করা হয়। মামলা নম্বর- ৫। উত্তরা পশ্চিম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তপন চন্দ্র সাহা বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

তিনি বলেন, করোনা টেস্ট না করে রোগীদের জাল রিপোর্ট দেওয়াসহ বিভিন্ন অভিযোগে রিজেন্ট হাসপাতালের বিরুদ্ধে র‍্যাব মামলা করেছে। প্রতারণা ও অর্থ-আত্মসাতের অভিযোগ আনা হয়েছে।

মামলার আসামিরা হলেন— হাসপাতালের অ্যাডমিন আহসান হাবীব (৪৫), এক্সরে টেকনিশিয়ান হাসান (৪৯), মেডিক্যাল টেকনোলজিস্ট হাকিম আলী (২৫), রিসিপশনিস্ট কামরুল ইসলাম (৩৫), রিজেন্ট গ্রুপের প্রজেক্ট অ্যাডমিন রাকিবুল ইসলাম (৩৯), রিজেন্ট গ্রুপের এইচআর অ্যাডমিন অমিত অনিক (৩৩), গাড়িচালক আব্দুস সালাম (২৫), এক্সিকিউটিভ অফিসার আব্দুর রশীদ খান জুয়েল (২৮), প্রতিষ্ঠানটির চেয়ারম্যান মো. শাহেদ (৪৩), ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) মাসুদ পারভেজ (৪০), হাসপাতাল কর্মচারী তরিকুল ইসলাম (৩৩), স্টাফ আব্দুর রশিদ খান (২৯), স্টাফ শিমুল পারভেজ (২৫), কর্মচারী দীপায়ন বসু (৩২) এবং মাহবুব (৩৮)। অপর দু’জনের নাম জানা যায়নি।

১৭ জন আসামির মধ্যে এমডি মাসুদ পারভেজসহ আট জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তবে রিজেন্ট চেয়ারম্যান শাহেদসহ ৯ জন পলাতক রয়েছেন। তাদের গ্রেফতারে র‌্যাবের অভিযান চলছে।

এর আগে মঙ্গলবার দুপুরে রিজেন্ট গ্রুপের মূল কার্যালয় এবং রাজধানীর উত্তরা ও মিরপুরে এর দুটি হাসপাতাল সিলগালা করে দেওয়া হয়। সোমবার উত্তরার রিজেন্ট হাসপাতালে র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়নের (র‌্যাব) নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. সারোয়ার আলমের নেতৃত্বে অভিযান পরিচালিত হয়। অভিযানে অভিযোগের সত্যতা পাওয়ায় মঙ্গলবার এই সিলগালার আদেশ দেন তিনি।

বেসরকারি এ হাসপাতালের বিরুদ্ধে অভিযোগ, মহামারীর সঙ্কটকে পুঁজি করে তারা জালিয়াতি ও অনিয়মের মাধ্যমে রোগীদের ঠকাচ্ছিল, চুক্তি ভঙ্গ করে তারা সরকারের সঙ্গেও প্রতারণা করে আসছিল।

অভিযোগের সত্যতা পাওয়ায় মেডিকেল প্র্যাক্টিস অ্যান্ড প্রাইভেট ক্লিনিক অ্যান্ড ল্যাবটরেটরি রেগুলেশন অর্ডিন্যান্স অনুযায়ী ওই হাসপাতালের কার্যক্রম অবিলম্বে বন্ধের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলে মঙ্গলবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়।

বাংলাদেশে করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাব শুরুর পরপরই গত মার্চে রিজেন্ট হাসপাতালকে কোভিড-১৯ রোগীদের চিকিৎসার জন্য নির্দিষ্ট করেছিল সরকার। কিন্তু আবাসিক এলাকার মধ্যে গড়ে তোলা হাসপাতালে এভাবে করোনাভাইরাসের চিকিৎসা দেওয়া নিয়ে তখনই আপত্তি জানিয়েছিলেন স্থানীয়রা।

তাদের আপত্তির মধ্যেই রিজেন্ট হাসপাতালে কোভিড-১৯ রোগীর চিকিৎসা চলতে থাকে। কিন্তু অতিরিক্ত টাকা আদায়সহ বিভিন্ন অভিযোগ আসতে থাকে রোগী ও স্বজনদের তরফ থেকে।

এর মধ্যেই নমুনা পরীক্ষা না করে করোনাভাইরাসের ভুয়া রিপোর্ট দেওয়ার ১৪টি অভিযোগ জমা পড়ে র‌্যাবের হাতে। সরকারি প্রতিষ্ঠানের সিল ও প্যাড নকল করে সেসব রিপোর্ট তৈরি করা হলেও র্যাব খোঁজ নিয়ে জানতে পারে, ওইসব সরকারি স্বাস্থ্যকেন্দ্রে এসব নমুনা পরীক্ষা করেনি বা রিপোর্টও দেয়নি।

ওই অভিযোগের ভিত্তিতে সোমবার উত্তরায় রিজেন্ট হাসপাতাল ও রিজেন্ট গ্রুপের প্রধান কার্যালয়ে অভিযান শুরু করে র্যাব। এরপর মঙ্গলবারও সেখানে অভিযান চলে। দুই জায়গাতেই বেশ কিছু অনুমোদনহীন টেস্ট কিট এবং করোনাভাইরাসের ভুয়া রিপোর্ট পাওয়ার কথা জানানো হয় র্যাবের পক্ষ থেকে।

রিজেন্ট হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের তিন ধরনের অপরাধের প্রমাণ পাওয়ার কথা বলছে র‌্যাব।

হাসপাতালটির সঙ্গে সরকারের চুক্তি ছিল, কোভিড-১৯ রোগীদের কাছ থেকে চিকিৎসার জন্য তারা কোনো টাকা নেবে না, সরকার ওই ব্যয় বহন করবে। কিন্তু রোগীদের কাছ থেকে তারা লাখ লাখ টাকা আদায় করেছে। আবার সেসব রোগীর চিকিৎসার জন্য তারা সরকারের কাছেও বিল করেছে।

চুক্তি অনুযায়ী ভর্তি রোগীদের কোভিড-১৯ পরীক্ষার জন্য তাদের কাছ থেকে কোনো টাকা নেওয়ার কথা নয় রিজেন্ট কর্তৃপক্ষের। সে অনুযায়ী আইইডিসিআর বা নিপসমের মত সরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে তারা ৪ হাজার ২০০ রোগীর নমুনা পরীক্ষা করিয়েছে বিনামূল্যে। কিন্তু সেই পরীক্ষার জন্য তারা রোগীপ্রতি সাড়ে তিন হাজার টাকা আদায় করে ১ কোটি ৪৭ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়েছে।

এর বাইরেও বহু রোগীর কাছ থেকে তারা নমুনা পরীক্ষার জন্য টাকা নিয়েছে, কিন্তু পরীক্ষা না করে ভুয়া রিপোর্ট দিয়েছে বলে র‌্যাবের অভিযোগ।

র‌্যাবের নির্বাহী হাকিম সারোয়ার আলম বলেন, রিজেন্ট হাসপাতাল যে পরিমাণ পরীক্ষা করিয়েছে, নমুনা সংগ্রহ করেছে তার তিন গুণ বেশি।

“অবস্থাদৃষ্টে মনে হচ্ছে, চার থেকে পাঁচ হাজার মানুষকে তারা ভুয়া প্রতিবেদন দিয়েছে, যা বড় ধরনের অপরাধ, ক্ষমার অযোগ্য অপরাধ।”

Skip to toolbar