সংবাদ শিরোনাম
  • আজ ২৯শে শ্রাবণ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

বাড়ছে ভাঙন, নদীর বাম তীরে বাঁধ নির্মাণের দাবি তিস্তা পাড়ের মানুষের

১:১৬ অপরাহ্ণ | বুধবার, জুলাই ৮, ২০২০ দেশের খবর, রংপুর

সাইফুল ইসলাম মুকুল, রংপুর- চলতি বর্ষাকালে গজলডোবা বাঁধ দিয়ে ভারত পানি ছেড়ে দিলে তিস্তার নদীতে ৩ ধাপে পানি বৃদ্ধি পেয়ে নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। ফলে গঙ্গাচড়া, কাউনিয়া উপজেলায় নদীর তীরবর্তী ও চরের হাজার হাজার মানুষ পানিবন্দী হয়ে পড়ে।

আমনের বীজতলা, ভুট্টা, পাটসহ বিভিন্ন শাক-সবজির ক্ষেত পানিতে ডুবে যায়। এসব এলাকায় দেখা যায় তীব্র খাদ্য ও বিশুদ্ধ পানি সংকট। গবাদি পশু, হাঁস-মুরগিসহ পরিবার-পরিজন নিয়ে বিপাকে পড়েন তারা।

বর্তমানে তিস্তা নদীর পানি কমলেও ভাঙন দেখা দিয়েছে। তাই তিস্তার আগ্রাসন থেকে নদীপাড়ের মানুষদের বাঁচাতে নদীর ডান তীর শাসনে ব্যবস্থা নিলেও বাম তীরের অধিবাসীরা চরম উৎকন্ঠায় দিনাতিপাত করেন। তাই বাম তীরে বাঁধ নির্মাণের দাবি তুলেছেন তিস্তা পাড়ের মানুষ।

জানা যায়, প্রতি বছর উজানের পানির সাথে পলি এসে তিস্তার বুক ভরাট হচ্ছে। সেই সাথে নদী ভাঙ্গনের ফলে নতুন এলাকায় চর জাগছে। শুস্ক মৌসুমে পানি শূন্য নদীতে দেখা যায় তিস্তার করুণ দৃশ্য। পলিতে ভরাট হওয়ায় পানি ধরে রাখার সক্ষমতা হারিয়েছে তিস্তা। তাই বর্ষা মৌসুমে তিস্তা হয়ে নদী সর্বনাশী হয়ে উঠে।

গঙ্গাচড়ার লহ্মীটারী ইউনিয়নের চর চল্লিশসাল, শংকরদহ, পূর্ব ইচলী, নোহালী ইউনিয়নের কোটামারী, বৈরাতী, কোলকোন্দ ইউনিয়নের চর মটুকপুর, বিনবিনার চর, চর চিলাখাল এলাকায় ভাঙ্গনে ইতোমধ্যে ২ শতাধিক ঘর-বাড়িসহ ফসলি জমি নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। বিনবিনার চরের পাকাসড়কের প্রায় ৫’শ ফুট অংশ ভেঙ্গে নদীগর্ভে চলে গেছে।

নদীর হাত থেকে রক্ষায় ইতোমধ্যে কোলকোন্দ ইউনিয়নের চিলাখালে বাঁশের পাইলিংসহ জিও ব্যাগ ফেলে চিলাখাল সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় রক্ষা চেষ্টা চালানো হয়েছে। এরপরেও প্রতিদিনই ভাঙ্গছে নতুন নতুন এলাকা। তিস্তা পাড়ের মানুষের মাথার ঘাম পায়ে ফেলে উপার্জনের সঞ্চয় শেষ হয়ে যায় বন্যা আর ভাঙ্গনে। তাই তিস্তা পাড়ের মানুষের অনটন শেষ হয় না।

গংগাচড়ার চরের চল্লিশসাল বাসিন্দা আকবর আলী বলেন, জন্ম থেকেই নদী ভাঙ্গন-বন্যা দেখে আসছি। নদীপাড়ের অসংখ্য মানুষ ভাঙ্গনের কবলে পড়ে বাঁধসহ অন্যান্য জায়গায় আশ্রয় নেয়। নদী চরবাসীর শেষ সম্বল ভিটেমাটি টুকু ছিনিয়ে নেয়। দেশের উচ্চ পর্যায়ের অনেকে বন্যা-ভাঙ্গনের সময় এসে বাঁধ নির্মাণের আশ্বাস দিয়ে যান, কিন্তু কাজ হয় না। আমি প্রশাসনের প্রতি অনুরোধ রাখবো যেন চিলাখাল-বিনবিনা থেকে বাগেরহাট পর্যন্ত যদি বেরি বাঁধ দেয়া হয়।

চিলাখালের আব্দুল মজিদ বলেন, প্রতি বছরোত নদী ভাঙ্গতে ভাঙ্গতে আবাদী জমি চলি গেইছে। শুকান দিনোত চরের জমিত আবাদ করি খাই। শেষ বয়সেও নদী ভাঙ্গন আর বন্যার জন্তে হামাক আতংঙ্ক নিয়া থাকা লাগে। এই জীবনে বাঁধ দেখি যাবার পামো কিনা জানি না। সরকার বাঁধ করি দিলে হামরা শান্তিতে থাকবার পাইনো হয়।

লহ্মীটারী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আব্দুল্লাহ্ আল হাদী বলেন, তিস্তা নদী সঠিকভাবে খনন না হওয়ার কারণে শেখ হাসিনা সেতুর নিচ দিক থেকে তিস্তা নদীর পানি প্রবাহিত না হয়ে বাম দিক থেকে পানি গিয়ে তিস্তায় মিলিত হচ্ছে। এতে করে বামতীরে থাকা শংকরদহ, জয়রাম ওঝা, চল্লিশসার, ইচলী, পূর্ব ইচলীসহ চরগুলোতে প্রতি বছর বন্যা, ভাঙ্গনের সৃষ্টি হয়।

এর আগে পানি উন্নয়ন বোর্ডের নদী খনন করলে তা কোন কাজে আসেনি। বরং খনন করা মাটিগুলো নদী থেকে দুরে না ফেলায় তা আবার পূণরায় নদীতে গিয়ে মিশেছে। তাই তিস্তা নদীর তীরবর্তী মানুষ ও চরবাসীর দুঃখ-দূর্দশা লেগেই আছে। দীর্ঘদিন ধরে বামতীরে বাঁধ নির্মাণের দাবী জানিয়ে আসছি কিন্তু কোন কাজ হচ্ছে না।

এ ব্যাপারে রংপুর-১ গঙ্গাচড়া আসনের সংসদ সদস্য মসিউর রহমান রাঙ্গা বলেন, তিস্তা নদী খননে পানি উন্নয়ন বোর্ডের গাফিলতি রয়েছে। উজানের পানির সাথে পলি এসে তিস্তা নদী ভরাট হয়ে গেছে। অনেক জায়গায় নদীর গতিপথ পরিবর্তন হয়ে নতুন এলাকা ভাঙ্গনের শিকার হচ্ছে। ভারতের গজলডোবা থেকে পানি ছেড়ে দিলে তিস্তা পানি ধরে রাখতে পারে না। বন্যা পরিস্থিতি তৈরী হয়। তিস্তা নদী ভাঙ্গন রোধে বামতীরে বাঁধ নির্মাণসহ নদীপাড়ের মানুষকে রক্ষায় মন্ত্রণালয়ে যোগাযোগ রাখাসহ ব্যবস্থা গ্রহন করা হচ্ছে। আমি নিজেও এলাকাগুলো পরিদর্শন করে এসেছি।

Skip to toolbar