১০ বছরের শিশু অন্তঃসত্তা, ধর্ষক আরবি শিক্ষক!

১০:৪৪ অপরাহ্ণ | শুক্রবার, জুলাই ১০, ২০২০ রাজশাহী

সাখাওয়াত হোসেন জুম্মা, বগুড়া প্রতিনিধি:আরবি শিক্ষকের ধর্ষণে বগুড়ার নন্দীগ্রামে শিশুকন্যা (১০) তিন মাসের অন্তঃসত্তা হয়েছে। গ্রাম্য সালিশে টাকার বিনিময়ে বিষয়টি ধামাচাপা দেয়ার চেষ্টার অভিযোগে চারজন গ্রাম্য মোড়লকে আটক করেছে পুলিশ।

তিন লাখ টাকার বিনিময়ে কয়েকবার সালিশের মাধ্যমে ঘটনাটি আপোষ-মিমাংসা করার চেষ্টা করেন এই মোড়লরা বলে অভিযোগ রয়েছে। ধর্ষিতার পরিবারকে বিভিন্নভাবে ভয়ভীতিও দেখান তারা।

৯ জুলাই বৃহস্পতিবার রাতে ও ১০ জুলাই শুক্রবার দুপুরে থানা পুলিশ দফায় দফায় অভিযান চালিয়ে কয়েকজন গ্রাম্য মোড়লকে আটক করলেও অভিযুক্ত লম্পট মক্তব শিক্ষক রুহুল কুদ্দুস (৫৫) এখনো ধরাছোয়ার বাইরে।

আটককৃতরা হলেন দারিয়াপুর শাহপাড়ার আবু সাঈদ (৬০), আফজাল হোসেন (৬৫), বাবু মিয়া (৩৫), শাকিবুল্লাহ (৩০)।

ধর্ষিতার পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, দারিয়াপুর শাহপাড়ার মৃত অপি শাহ’র ছেলে রুহুল কুদ্দুস (৫৫) নিজ বাড়িতে মক্তব খুলে দীর্ঘদিন ধরে গ্রামের শিশুদের আরবি শিক্ষা দিয়ে আসছিলেন। একই এলাকার নসিমন চালক তার শিশুকন্যাকে (১০) মক্তবে আরবি শেখার জন্য ভর্তি করান।

এই লম্পট শিক্ষক আরবি শিক্ষা দেয়ার আড়ালে শিশুকন্যাদের দিকে কু-নজর দেন। ৫-৬ মাস পূর্বে নসিমন চালকের কন্যাকে বিভিন্নভাবে ফুসলিয়ে দিনের পর দিন ধর্ষণ করেন ওই শিক্ষক। মেয়েটি ভয়ে বিষয়টি পরিবারকে জানায়নি। এখন শিশুকন্যাটি অন্তঃসত্তা হওয়ার পর ঘটনাটি জানাজানি হয়ে গেছে।

শিশুটির মা জানান, বেশ কিছুদিন ধরে তাদের শিশুকন্যাটি বমি করছিল। ৬ জুলাই সোমবার নন্দীগ্রামে স্থানীয় একটি ক্লিনিকে নিয়ে গেলে শিশুকন্যা তিন মাসের অন্তঃসত্তা হয়েছে বলে জানান চিকিৎসকরা। তখন তার মেয়ে তাকে সব খুলে বলে।

থানার ওসি মোহাম্মদ শওকত কবির বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, ভুক্তভেআগি শিশু থানা হেফাজতে রয়েছে। অভিযুক্ত লম্পট শিক্ষক রুহুল কুদ্দুসকে আটকের জোর চেষ্ট চলছে। গ্রাম্য সালিশে বিষয়টি ধামামচাপা দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছিল বলে শুনেছি। গ্রামের চার মাতব্বরকে আটক করা হয়েছে। এ ঘটনায় ৯ এর ১ ধারায় ধর্ষণ মামলা দায়ের করা হয়েছে।

আরও পড়ুন…বগুড়ায় দুই ট্রাক মুখোমুখি সংঘর্ষ, নিহত-১, আহত ২

বগুড়া প্রতিনিধি: বগুড়ার শেরপুরে ঢাকা-বগুড়ার মহাসড়কে দুই ট্রাক মুখোমুখি সংঘর্ষে ড্রাইভার আশরাফ আলী (৪০) নিহত হয়েছে। এ ঘটনায় অন্য ট্রাকের ড্রাইভার শাহ জালাল (২২) গুরুতর আহত হয়েছে। নিহত আশরাফ আলী শাহজাহানপুর উপজেলার মানিকদিপা গ্রামের কাদের আলীর ছেলে।

১০ জুলাই শুক্রবার সকাল ৬টায় শেরপুর উপজেলার মহিপুর এলাকায় এ দুর্ঘটনাটি ঘটে বলে জানাযায়, নওগাঁ থেকে আম বোঝাই করে ঢাকা যাওয়ার সময় শেরপুর উপজেলার মহিপুর এলাকায় পৌছালে বগুড়াগামী অপর একটি ট্রাকের সঙ্গে মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এতে ঘটনাস্থলেই বগুড়াগামী ট্রাক ড্রাইভার আশরাফ আলী ঘটনাস্থলে মারা যায়। এবং অন্য ট্রাকের ড্রাইভার শাহ জালালকে শেরপুর ফায়ার সার্ভিস উদ্ধার করে শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যায়।

এ ব্যাপরে শেরপুর ফায়ার সার্ভিস সিভিল ডিফেন্স এর ষ্টেশন অফিসার রতন হোসেন জানান, আমরা সংবাদ পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌছে তাদের উদ্ধার করে শজিমেক হাসপাতালে ভর্তি করিয়েছি।

অন্যদিকে, ঢাক বগুড়া মহাসড়কের ধুনটমোড় এলাকায় রাত্রি ৩টায় অজ্ঞাতনামা একটি দ্রæতগামী ট্রাক রাস্তার পাশের্^ দাড়িয়ে থাকা একটি মহিলাকে ধাক্কা দিয়ে চলে যায়। শেরপুর ফায়ার সার্ভিস তাকে উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করিয়ে দেয়।

আরও পড়ুন…মোটরসাইকেল থেকে ছিটকে পড়ে শিশুর মৃত্যু, বাবা-মা আহত

বগুড়া প্রতিনিধি: বাবা-মায়ের সঙ্গে আর নানাবাড়িতে যাওয়া হলো না আট বছরের শিশু হিমি আকতারের। মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছে শিশুটি। আহত হয়েছেন তার বাবা টুটুল মিয়া ও মা লাকি খাতুন। বৃহস্পতিবার রাতে বগুড়ার ধুনট উপজেলার পারধুনট এলাকায় ধুনট-জোড়শিমুল আঞ্চলিক সড়কে এ মর্মান্তিক দুর্ঘটনাটি ঘটে। আহতদের ধুনট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে।

ধুনট থানার ওসি কৃপা সিন্ধু বালা জানান, সিরাজগঞ্জের কাজিপুর উপজেলার উত্তরপাইকপাড়া গ্রামের টুটুল মিয়া গার্মেন্টস শ্রমিক হিসেবে কাজ করেন। ৯ জুলাই বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় মোটরসাইকেল যোগে স্ত্রী লাকি খাতুন ও তাদের মেয়ে গাজিপুর মাদ্রাসার দ্বিতীয় শ্রেণির ছাত্রী হিমি আকতারকে নিয়ে পারধুনট শ্বশুরবাড়িতে যাচ্ছিলেন।

পারধুনট এলাকায় পৌঁছালে টুটুল মিয়া মোটরসাইকেলের নিয়ন্ত্রণ হারান। মোটরসাইকেলটি সড়কের পাশে একটি গাছে ধাক্কা দেয়। এতে ছিটকে পড়ে তিনজনই আহত হন। পথচারীরা তাদের উদ্ধার করে ধুনট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিলে চিকিৎসক শিশু হিমি আকতারকে মৃত ঘোষণা করেন।

আরও পড়ুন….বগুড়ায় মার্কেন্টাইল কো-অপারেটিভ ব্যাংকে আগুন

বগুড়া প্রতিনিধি:বগুড়ার শাজাহানপুর উপজেলায় একটি ভবনের আগুনে দি ঢাকা মার্কেন্টাইল কো-অপারেটিভ ব্যাংক লিমিটেডের মাঝিড়া (বি-ব্লক) শাখার কাগজপত্র, আসবাবপত্র, কম্পিউটার, এসিসহ প্রায় সকল মালামাল পুড়ে গেছে।

বৃহস্পতিবার সন্ধ্যার ওই ঘটনায় শাখা ব্যবস্থাপক আবুল হাসনাত দাবি করেছেন, তাদের অন্তত ৩০ লাখ টাকার তি হয়েছে। তবে বগুড়া ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের সিনিয়র স্টেশন অফিসার আবদুর রশিদ জানান, আগুনে ২০ লাখ টাকার মতো তি হতে পারে।

বগুড়া ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের সূত্র এবং প্রত্যদর্শীরা জানান, শাজাহানপুর উপজেলার মাঝিড়া সেনানিবাসের বি-ব্লক এলাকায় শাহ্ সুলতান (রহ.) মার্কেট ভবনের নিচতলায় দি ঢাকা মার্কেন্টাইল কো-অপারেটিভ ব্যাংকের শাখা, দোতলায় অগ্রণী ব্যাংক লিমিটেড এবং পাশে সোনালী ব্যাংক ও রূপালী ব্যাংকের শাখা রয়েছে।

বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে নিচতলায় দি ঢাকা মার্কেন্টাইল কো-অপারেটিভ ব্যাংকের শাখা থেকে ধোঁয়া বের হতে দেখা যায়। কিছুণের মধ্যে আগুন পুরো ব্যাংকে ছড়িয়ে পড়ে। প্রথমে মাঝিড়া ক্যান্টনমেন্ট থেকে অগ্নিনির্বাপকের একটি ইউনিট এসে আগুন নেভানোর চেষ্টা করে।

রাত ৮টার পর বগুড়া ফায়ার সার্ভিসের আরো একটি ইউনিট এসে আগুন নেভানোর কাজে যোগ দেয়। তারা রাত ৯টার দিকে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে সম হয়। আগুনে ওই শাখার কম্পিউটার, এসি, আবসাবপত্র ও কাগজপত্র পুড়ে গেছে।

ক্ষতিগ্রস্থ দি ঢাকা মার্কেন্টাইল কো-অপারেটিভ ব্যাংকের শাখা ব্যবস্থাপক আবুল হাসনাত আগুন লাগার কারণ বলতে পারেননি।

বগুড়া ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের সিনিয়র স্টেশন অফিসার বজলুর রশিদ জানান, শাহ্ সুলতান (রহ.) সেনানিবাস মার্কেটের নিচতলা ও দোতলায় কয়েকটি ব্যাংকের শাখা রয়েছে। আগুনে শুধু দি ঢাকা মার্কেন্টাইল কো-অপারেটিভ ব্যাংকের কম্পিউটার, এসি, কাগজপত্র ও আসবাবপত্র পুড়ে গেছে। তিনি আরও বলেন, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, বৈদ্যুতিক শর্টসার্কিট থেকে ওই শাখায় আগুনের সূত্রপাত হয়েছিল।

আরও পড়ুন…বগুড়ায় ব্যাক্তি মালিকানাধীন জমিতে সরকারি খাল খনন

বগুড়া প্রতিনিধি: খরা মৌসুমে নদী বা খালে পানি থাকেনা। এতে আবাদী জমিতে সেচকাজে অনেক সমস্যায় পড়তে হয় খাল ও নদীর তীরবর্তী অঞ্চলের কৃষকদের। তাছাড়া খাল ও নদী খনন না থাকায় বৃষ্টি বা বন্যার পানি আবাদী জমিতে ঢুকে আকস্মিক বন্যায় প্লাবিত হয় ফসলাদী।

আর এই কারণে সরকারিভাবে খাল বা নদীর নাব্যতা ফেরাতে পুনঃখননের উদ্যোগ নেয় সংশ্লিষ্ট অধিদপ্তর। তবে সরকারিভাবে খালের নকশা অনুযায়ী ড্রেজার দিয়ে খনন করার পাশাপাশি ব্যক্তি মালিকানাধীন জমির মধ্যে দিয়েও খনন করার চেষ্টা করছে সংশ্লিষ্ট কাজের নিযুক্ত ঠিকাদার। এমনই অভিযোগ উঠেছে বগুড়ার শেরপুরের খামারকান্দি ইউনিয়নের ঘোড়দৌড় মেঘা দিগদাড় খাল খননের বেলায়।

খালের প্রকৃত নকশা ব্যতিত স্থানীয় একটি মহলের ইশারায় ব্যক্তি মালিকানাধীন জমি বা সম্পত্তির মধ্য দিয়ে খাল খননের পায়তারা চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। ব্যক্তি মালিকানাধীন জমিতে খননকাজ বন্ধে ৮ জুলাই শেরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছে স্থানীয় ২০ জন ভুক্তভোগী এলাকাবাসী।

সরেজমিনে জানা যায়, উপজেলার খামারকান্দি ইউনিয়নের ঘোড়দৌড় গ্রামবাসীর আবাদী জমির পানি নিষ্কাষণ ও সেচকাজে সুবিধা দিতে মেঘা দিগদাড় খাল বিএডিসি প্রকল্পের আওতায় খননের কাজ শুরু করে। প্রায় ১ হাজার ৬’শ মিটার মেঘা দিগদাড় খাল খনন প্রকল্প ব্যয় প্রায় ২২ লাখ টাকা বরাদ্দ করে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

এর প্রেক্ষিতে বগুড়ার ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান মেসার্স বাবলু এন্টারপ্রাইজ এর স্বত্ত্বাধিকারী কামরুজ্জামান মাসুদ সম্প্রতি ওই খাল খননের শুরু করেন। এতে সরকারি নকশা ব্যতিত ব্যক্তি মালিকানাধীন জমিতে কোন অধিগ্রহন ছাড়াই খাল খননের চেষ্টা করছে। এ কাজ বন্ধে ভূক্তভোগী এলাকাবাসীরা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছে।

খাল খননে ব্যাক্তি মালিকানাধীন জমি নিয়ে ভুক্তভোগী সাইদুর রহমান, মেহেদী, ইলাম উদ্দীন, আব্দুল খালেক, মাসুদরানা, আলতাব হোসেন, জাকারিয়া, জিলহজ¦, আবু সাইদসহ একাধিকরা জানান, খননকৃত খালের প্রকৃত নকশা অনুযায়ী খনন করা হচ্ছেনা, সংশ্লিষ্ট ইউপি চেয়ারম্যান ও মেম্বার আমাদের ব্যক্তিগত জমিও খালের নকশাভূক্ত করেছে, সেক্ষেত্রে জমি অধিগ্রহন করতে হয়। তবে এভাবে আমাদের জমির উপর দিয়ে যদি অবৈধভাবে খাল খনন করে তাহলে আমরা ক্ষতিগ্রস্থ হবো। তাই খনন কাজ বন্ধে প্রশাসনের সহযোগীতা কামনা করছি।

এ প্রসঙ্গে সংশ্লিষ্ট খামারকান্দি ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুল ওহাব বলেন, ঘোড়দৌড় মেঘা দিগদাড় খালটি পূর্বেই ছিল, অভিযোগকারীরাই বরং ভরাট করে নিয়ে আবাদী কাজ করছে এবং নিজের সম্পত্তি বলে দাবী করছে। সেক্ষেত্রে পূর্বের নকশা অনুযায়ী খাল খনন করা হচ্ছে।

এ ব্যাপারে খাল খনন কাজে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান মেসার্স বাবলু এন্টারপ্রাইজের স্বত্বাধিকারী কামরুজ্জামান মাসুদ বলেন, প্রকল্পটির নকশা ও টেন্ডার কার্যাদেশ অনুযায়ী কাজ করছি, তবে ব্যক্তি মালিকাধীন জমি খালের নকশায় সম্পৃক্ত কিনা আমার জানা নেই।

এ প্রসঙ্গে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. লিয়াকত আলী সেখ বলেন, খাল খনন বিষয় নিয়ে এলাকাবাসীর দেয়া অভিযোগ পেয়েছি, তদন্তপূর্বক প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।

Skip to toolbar