‘দেশে আক্রান্তের তুলনায় ১০ গুণ বেশি এন্টিবডি তৈরি হয়েছে’

৫:৫২ অপরাহ্ণ | শনিবার, জুলাই ১১, ২০২০ জাতীয়

সময়ের কন্ঠস্বর ডেস্ক- বাংলাদেশে করোনা সংক্রমণের পিক-টাইম চলছে বলে মন্তব্য করেছেন গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের বিজ্ঞানী ডা. বিজন কুমার শীল। তিনি বলেন, ‘দেশের একটি বিশাল জনগোষ্ঠীর মধ্যে এন্টিবডি তৈরি হয়েছে। সেটা অত্যন্ত আনন্দের খবর।’ আগামী দুই থেকে তিন মাসের মধ্যে করোনা থেকে আমাদের মুক্তি হবে বলে তার ধারণা।

সম্প্রতি একটি গণমাধ্যমকে নিজেদের একটি জরিপের কথা জানিয়ে তিনি বলেন, ‘যে পরিবারের একজন মানুষের ইনফেকশন হয়েছে, তিনি করোনাতে আক্রান্ত হয়েছেন, সে পরিবারের সব সদস্যের ভেতরে ভেতরে এন্টিবডি তৈরি হয়েছে বলে আমাদের এক জরিপে পাওয়া গেছে। করোনার এই মহামারির সময়ে যেটি অত্যন্ত ভালো সংবাদ।’

ডা. বিজন কুমার বলেন, ‘আমরা দেখেছি, যেই পরিবারে একজন আক্রান্ত হয়েছেন, সেই পরিবারের অন্য সদস্যের ভেতরে লক্ষণ-উপসর্গ মারাত্মক আকার ধারণ করেনি। মৃদু লক্ষণের ভেতর দিয়ে গিয়েছেন তারা এবং এর ভেতর দিয়েই তাদের শরীরে এন্টিবডি তৈরি হয়েছে। এই চিত্র আমাকে আশান্বিত করেছে। আমাদের দেশে যত মানুষ করোনাতে আক্রান্ত হয়েছেন, তার ১০ গুণ বেশি মানুষের মধ্যে এন্টিবডি ফিরে এসেছে।’

এই চিকিৎসক বলেন, ‘দেশে ১৬ কোটি মানুষ, সেই হিসাবে একজন করে সংক্রমিত ব্যক্তির সংস্পর্শে আসা মানুষের হিসাব করলে সেটা অনেক। যদিও সংখ্যাটা সার্ভে না করে নির্দিষ্ট করে বলা যাবে না।’

ড. বিজন বলেন, ‘আমি মনে করি হার্ডলি আর দুই থেকে তিন মাস আমরা হয়তোবা করোনা থেকে মুক্ত হবো। তবে একটা কথা মনে রাখতে হবে, এটা কিন্তু জোন ওয়াইজ চলবে। সামনে যে ঈদটা আসছে, এ সময় কিছু ভাইরাস এদিক সেদিক ছড়াবে বিভিন্ন জায়গা থেকে। সেটা হয়তো একটু দীর্ঘায়িত হতে পারে।’

তিনি বলেন, ‘তবে যেটা বলা হয়, এ সমস্ত অ্যাকিউট ইনফেকশন যেটাকে বলা হয় দ্রুত আসে দ্রুত চলে যায়। এটা সাধারণত একটা সমাজে যতক্ষণ পর্যন্ত ব্যাপক এন্টিবডি তৈরি না হয় ততক্ষণ চলতেই থাকে। যতক্ষণ সে ভার্জিন হোস্ট পাবে ততক্ষণ সে গ্রো করবে। যখন সে হোস্ট পাবে না বা ভাইরোসের পরিমাণ কমে আসবে ইমিউনিটি বেল্ট তৈরি হবে, তখন সেটা কমতে কমতে ফাইনালি চলে যাবে।’

এই বিজ্ঞানী বলেন, ‘আমাদের দেশে যেহেতু এটির জানা মতে এখনো কোনো রিজার্ভার হোস্ট নেই, তাই এটি যদি একবার চলে যায় তবে আমাদের দেশে ফিরে আসার সম্ভাবনা খুবই কম। ব্যাপকহারে এন্টিবডি তৈরি হবে, ব্যাপক মানুষ ইমিউনিটি তৈরি করবে, এটা আর সহজে আমাদের সমাজে ঢুকতে পারবে না।’

‘বাংলাদেশে এই মুহূর্তে যদি পিক টাইম হয়, তাহলে ধরেন যে যদি সংস্পর্শে আসে তাহলে কিন্তু অনেক লোক আছে এবং আমি যেটা বললাম যে, একটি পরিবারের এক-দুই লোক ইনফেকটেড বাকিরা সবাই ইমিউনিটি তৈরি করেছে। এই হিসাব করলে কিন্তু অনেক’, যোগ করেন গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের এই বিজ্ঞানী।

ড. বিজন বলেন, ‘এটাতো একটা সার্ভে না করলে বলা যাবে না। আমার মনে হয়, এন্টিবডি টেস্ট বাংলাদেশে আসছে। ডেভিনেটলি বাংলাদেশ গর্ভমেন্ট এ ব্যাপারে একটা পদক্ষেপ নেবেন এবং উনারা যদি ঢাকা শহরেরই বিভিন্ন এলাকায় স্যাম্পল কালেকশন করে দেখতে পারেন তাহলে ইজিলি বোঝা যাবে যে কত পার্সেন্ট মানুষের ভেতর এন্টিবটি এসেছে এবং এটা নিতান্ত কম না। এটা কিন্তু খুব সুখের খবর।’

Skip to toolbar