সংবাদ শিরোনাম
  • আজ ৩০শে শ্রাবণ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

সেই বাংলাদেশির ভিসা বাতিল করল মালয়েশিয়া

১:১৯ অপরাহ্ণ | রবিবার, জুলাই ১২, ২০২০ আন্তর্জাতিক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক- মালয়েশিয়ায় করোনা ভাইরাস বিস্তার রোধ এবং এতে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি কমাতে দেশটিতে থাকা অবৈধ অভিবাসীদের বিষয়ে কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরায় সাক্ষাৎকার দেওয়া বাংলাদেশি যুবক রায়হান কবিরের ভিসা বাতিল করেছে মালয়েশিয়া ইমিগ্রেশন।

দেশটির পুলিশ মহাপরিদর্শক তান শ্রী আব্দুল হামিদ বাবর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

মালয়েশীয় সংবাদমাধ্যম মালয় মেইলের খবরে বলা হয়, আজ রোববার আব্দুল হামিদ বাবর বলেন, ‘অভিবাসীদের নিয়ে ‘‘ভুল’’ তথ্য দেওয়া ২৫ বছর বয়সী বাংলাদেশি যুবকের ওয়ার্ক পারমিট (ভিসা) অভিবাসন বিভাগ থেকে বাতিল করা হয়েছে।’

তিনি বলেন, ‘এখন তাকে দেশে পাঠানোর ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। তার আগে তাকে আত্মসমর্পণ করতে হবে।’

উল্লেখ্য, আল জাজিরার নির্মিত ‘‘লকড আপ ইন মালয়েশিয়া’স লকডাউন’’ শিরোনামের প্রামাণ্যচিত্রে বাংলাদেশসহ আরও কয়েকটি দেশের অভিবাসীরা নিজেদের সমস্যার কথা তুলে ধরেছেন। প্রায় ২৬ মিনিটের প্রামাণ্যচিত্রটির সাড়ে পাঁচ মিনিটের দিকে রায়হান কবির নামের এক বাংলাদেশিকে দেখা যায়।

প্রামাণ্যচিত্রের ভয়েস ওভারে দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, রায়হান কবির মালয়েশিয়ার চোয়াক জেলায় থাকেন। উপস্থাপককে নিজের মোবাইলে একটি ভিডিও দেখান রায়হান। সেই ভিডিওতে মালয়েশিয়ান প্রশাসনের কিছু পদক্ষেপের দৃশ্য ছিল। দেখা গেছে, ৬০০ মানুষকে তারা ট্রাকে করে অন্য কোথাও নিয়ে যাচ্ছেন।

রায়হান অভিযোগ করে বলেন, ‘তারা আমাদের ফাঁদে ফেলেছে। ওষুধ, খাবারসহ সবকিছু দিয়েছে। কিন্তু কেউই বুঝতে পারেনি গ্রেপ্তার করা হবে। তারা খুনি নয়, সন্ত্রাসী নয়। শুধু কাগজপত্রহীন অভিবাসী।’

রায়হানের অবশ্য কাগজপত্রের সমস্যা নেই। বৈধ ওয়ার্ক পারমিট নিয়েই দেশটিতে আছেন তিনি। তবে হৃদয় নামে তার এক বন্ধুর ওয়ার্ক পারমিটের মেয়াদ শেষ হওয়ায় পুলিশ ধরে নিয়ে গেছে।

‘আমার বন্ধুকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। কিন্তু দোষ তার নয়,’ দাবি করে রায়হান বলেন, তার কোম্পানি ভিসা নবায়ন করেনি। আমি ইমিগ্রেশনে গিয়েছি, পুলিশের কাছে গিয়েছি। আমার বন্ধুর সঙ্গে দেখা করতে গেটে কান্নাকাটি করেছি।’

ভিডিওতে আরেক বাংলাদেশির কথা বলা হয়েছে, যিনি ২০ বছর ধরে দেশটিতে আছেন। উপস্থাপককে নিয়ে রায়হান তার কাছে যান। লকডাউনের সময় তার ভিসার মেয়াদ শেষ হয়ে যায়। রায়হান ইংরেজিতে কথা বললেও ওই ব্যক্তি বাংলায় নিজের দুর্দশার বর্ণনা দেন।

এদিকে প্রতিবেদনটি প্রকাশের পর মালয়েশিয়ায় ব্যাপক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়। মালয়েশীয় সংবাদমাধ্যম দ্য স্টারের খবরে বলা হয়েছে, মালয়েশিয়ার অভিবাসন আইন ১৯৫৯/৬৩-এর আওতায় তদন্তের জন্য রায়হান কবিরের সন্ধান চাইছে কর্তৃপক্ষ।

বিবৃতিতে বলা হয়, রায়হান কবিরের অবস্থান সম্পর্কে কোনো তথ্য জানা থাকলে অভিবাসন কর্তৃপক্ষকে অফিস চলাকালে ফোন দিয়ে জানানোর জন্য।

Skip to toolbar