• আজ ২২শে শ্রাবণ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

সাহেদের বিরুদ্ধে আরও ২৩ মামলার সন্ধান, পাসপোর্ট জব্দ

১:৩৫ অপরাহ্ণ | রবিবার, জুলাই ১২, ২০২০ আলোচিত বাংলাদেশ

সময়ের কণ্ঠস্বর ডেস্ক- রিজেন্ট হাসপাতালের চেয়ারম্যান সাহেদ করিম ওরফে মো. সাহেদের পাসপোর্ট জব্দ করেছে তদন্তকারী দল। একইসঙ্গে তার বিরুদ্ধে আরও ২৩ মামলার হদিস মিলেছে।

নতুন সন্ধান পাওয়া ২৩ মামলা নিয়ে সর্বমোট ৫৬টি মামলার আসামি প্রতারক সাহেদ। শনিবার (১১ জুলাই) হাসপাতালটিতে ও রিজেন্ট কার্যালয়ে অভিযান পরিচালনা করে তদন্তকারী দল। অভিযানকালে গুরুত্বপূর্ণ আলামতসহ পাসপোর্ট জব্দ করে তারা।

তদন্তকারী দলের এক কর্মকর্তা বলেন, ‘সাহেদ দেশত্যাগ করতে পারে, এমন শঙ্কায় রিমান্ডে থাকা আসামিদের থেকে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে আবারও অভিযান পরিচালনা করা হয় রিজেন্ট হাসপাতালে। সেখান থেকে সাহেদের পাসপোর্ট জব্দ করা হয়েছে। এখন অন্তত সাহেদ কোনো এয়ারপোর্ট বা বন্দর হয়ে দেশত্যাগ করতে পারবেন না।’

তিনি বলেন, ‘অভিযানকালে আমরা রিজেন্ট কার্যালয়ের রান্নাঘর থেকে কম্পিউটারের তিনটি হার্ডডিস্ক জব্দ করেছি। এর মধ্যে সাহেদের ল্যাপটপের হার্ডডিস্কও রয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে, ধরা পড়ার শঙ্কায় এবং গুরুত্বপূর্ণ তথ্য ও নথি গায়েব করার উদ্দেশে হার্ডডিস্কগুলো তাৎক্ষণিকভাবে সরিয়ে ফেলা হয়েছিল। আমরা হার্ডডিস্ক বিশ্লেষণ করব, ফাইল ডিলিট করা হলে সেগুলো উদ্ধার করে খতিয়ে দেখা হবে।’

তদন্তকারী এ দলের সঙ্গে সেখানে উপস্থিত ছিলেন প্রাথমিক অভিযান পরিচালনাকারী র‍্যাব সদর দফতরের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সারওয়ার আলম। তিনি সিলগালা করা কার্যালয় খুলে দেন।

অভিযান শেষে তিনি বলেন, ‘আগে আমরা জানতাম, সাহেদের নামে ৩২ মামলা রয়েছে। অভিযানের পর তার বিরুদ্ধে আরেকটি মামলা দায়ের করা হয়। তবে এরপর নানা দিক থেকে তথ্য ও অভিযোগ আসতে থাকে। ভুক্তভোগীরা র‍্যাব ও থানা পুলিশের সঙ্গে যোগাযোগ করছেন। সর্বশেষ আমরা আরও ২৩টি মামলার হদিস পেয়েছি। সবমিলিয়ে, সাহেদের বিরুদ্ধে ৫৬টি মামলা রয়েছে। এর অধিকাংশ মামলাই প্রতারণা ও ব্যবসায়িক জালিয়াতি সংক্রান্ত।’

বাংলাদেশে করোনাভাইরাস সংক্রমণের শুরুর দিকে প্রথম বেসরকারি হাসপাতাল হিসেবে এই রোগের চিকিৎসা দিতে এগিয়ে আসে রিজেন্ট হাসপাতাল। তবে তাদের পরীক্ষা না করেই করোনাভাইরাসের ভুয়া প্রতিবেদন দেওয়ার ‘প্রমাণ পেয়ে’ গত সপ্তাহে ওই হাসপাতালে অভিযান চালায় র‌্যাব। প্রায় ছয় হাজার ব্যক্তির কাছ থেকে কোটি টাকার বেশি হাতিয়ে তারা এভাবে ভুয়া প্রতিবেদন দেওয়ার প্রমাণ পাওয়ার কথা র‌্যাবের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে।

করোনাভাইরাসের ভুয়া প্রতিবেদন দেওয়া ছাড়াও আরও অনিয়মের প্রমাণ পেয়ে ওই হাসপাতাল সিলগালা করে দেয় র‌্যাব। পরে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর থেকে উত্তরা ও মিরপুরে হাসপাতাল দুটি বন্ধের নির্দেশ দেওয়া হয়।

এ ঘটনায় র‌্যাবের করা মামলায় রিজেন্ট হাসপাতালের নয়জন কর্মকর্তা-কর্মচারী গ্রেপ্তার হলেও মালিক মোহাম্মদ সাহেদসহ এখনও তার কয়েকজন সহযোগী পালিয়ে আছেন। তাদের ধরতে চেষ্টা চলছে বলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কর্মকর্তারা বলে আসছেন।

Skip to toolbar