• আজ ২৩শে শ্রাবণ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

শিক্ষার্থীদের মেধা যাচাইয়ে প্রধান শিক্ষকের ব্যতিক্রমী উদ্যোগ

১১:০২ অপরাহ্ণ | বুধবার, জুলাই ১৫, ২০২০ রংপুর
pan

নাজমুস সাকিব মুন, পঞ্চগড় প্রতিনিধিঃ চলমান করোনা পরিস্থিতিতে স্থবির হয়ে পড়েছিল জনজীবন। সরকারিভাবে জীবিকার তাগিদে ব্যবসা প্রতিষ্ঠান, সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান চালুর অনুমতি দেয়া হলেও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান চালুর ব্যাপারে এখনো নিশ্চিত করে কোন সিদ্ধান্ত জানাতে পারেনি সরকার। তবে সরকারিভাবে টিভি চ্যানেলে বিভিন্ন শ্রেণীর পাঠদান সম্প্রচার করা হচ্ছে। যেখানে অভিজ্ঞ শিক্ষকরা পাঠদান করছেন।

করোনার এই পরিস্থিতিতে যখন দেশের বিদ্যালয়গুলোতে শিক্ষা কার্যক্রম ঝিমিয়ে পড়েছে তখন দেশের উত্তরের জেলা পঞ্চগড়ের একটি বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নিয়েছেন ব্যতিক্রমী উদ্যোগ।

জেলার দেবীগঞ্জ উপজেলার অলদিনী সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক প্রদীপ কুমার সিংহ বিদ্যালয়ের ছাত্রীদের মেধা যাচাইয়ের জন্য নিয়েছেন ভিন্ন উদ্যোগ। বিদ্যালয়ে না এসে বাসায় থেকে অষ্টম ও দশম শ্রেণীর শিক্ষার্থীদের পরীক্ষা গ্রহণের উদ্যোগ নিয়েছেন তিনি।

এইজন্য প্রতিষ্ঠানের তরফ থেকে অভিভাবকদের নিকট প্রশ্নপত্র ও অলিখিত উত্তরপত্র সরবরাহ করা হয়েছে। এরজন্য অভিভাবকদের নিকট থেকে কোন ফি নেয়া হয় নি। চলতি (জুলাই) মাসের ১৪, ১৫, ১৬, ১৮ তারিখে প্রতিদিন সকাল ১০ টায় বাসায় শিক্ষার্থীরা অভিভাবকদের উপস্থিতিতে পরীক্ষায় অংশ নিবে। বিদ্যালয়ের পরীক্ষার মতোই ৩ ঘণ্টা সময় নির্ধারণ করে দেয়া হয়েছে। ১৯ জুলাই উত্তরপত্র শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে জমা দেয়ার ব্যাপারে নির্দেশনা প্রদান করা হয়েছে। নির্দেশনায় বলা হয়েছে পরীক্ষা চলাকালীন সময়ে প্রধান শিক্ষকসহ অন্যান্য শিক্ষকরা শিক্ষার্থীদের বাড়িতে পরিদর্শনে যাবেন।

তবে এই পরীক্ষা যে পরবর্তী শ্রেণীতে ওঠা বা রোল পরিবর্তনে প্রভাব ফেলবে না তাও বলা হয়েছে।

এই বিষয়ে আষ্টম শ্রেণীর ছাত্রী মারিয়া নুসরাত অর্পিতার বড় বোন বলেন, এই মুহূর্তে পরীক্ষা নেয়াটা জরুরী ছিল। এতে করে শিক্ষার্থীরা কতটুকু অধ্যয়ন করেছে তার মূল্যায়ন হবে।

দশম শ্রেণীর ছাত্রী আল সামিয়া সাম্মির মা বলেন, পরীক্ষা নেয়াতে ভালই হয়েছে। বিদ্যালয় বন্ধ থাকায় এতদিন অল্প করে পড়লেও পরীক্ষার কারণে পুরো বই রিভাইস দেয়া হয়েছে। আমার মেয়ে যেহেতু এসএসসি পরীক্ষার্থী তাই এই মুহূর্তে পরীক্ষা নেয়াটা গুরুত্বপূর্ণ। এতে ওর মধ্যে উৎসাহ কাজ করছে।

অষ্টম শ্রেণীর ছাত্রী যুথিকা রায়ের বাবা তপন কুমার রায় বলেন, শিক্ষার্থীরা দীর্ঘদিন বিদ্যালয় ও পড়াশুনা থেকে বিচ্ছিন্ন ছিল। এই মুহূর্তে বাসায় থেকে পরীক্ষা নেয়ার উদ্যোগ সত্যি ভাল। শিক্ষকদের পরীক্ষা গ্রহণের উদ্যোগের কারণে শিক্ষার্থীরাও উজ্জীবিত হয়েছে।

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক (ভারপ্রাপ্ত) প্রদীপ কুমার সিংহ বলেন, পরীক্ষার ফি না নেয়ার কারণে শিক্ষার্থী এবং অভিভাবকদের মধ্যে আমরা আগ্রহ দেখেছি। ৮০ শতাংশ অভিভাবক প্রশ্ন ও অলিখিত উত্তরপত্র সংগ্রহ করেছেন। আমরা দুইজন শিক্ষক একটি রুমে ৭০/৮০ জন শিক্ষার্থীদের পরীক্ষা নেই সেখানে বাবা অথবা মা একজন বাচ্চার পরীক্ষা নিবেন। মনে হয় যথাযথ ব্যবস্থা নিয়ে পরীক্ষা নিবেন অভিভাবকরা।

প্রধান শিক্ষক আরো বলেন, অনলাইন ক্লাস কতটুকু শিক্ষা বিস্তারে ভূমিকা রাখছে সেটা মূল্যায়নই মূল উদ্দেশ্য যদি এটাতে সাফল্য আসে পর্যায়ক্রমে সকল ক্লাসেই এ ভাবে পরীক্ষা নেয়ার চেষ্টা করবো।

Skip to toolbar