সংবাদ শিরোনাম
  • আজ ২৩শে শ্রাবণ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

দুর্নীতির দায়ে মুকুলকে নবীগঞ্জ উপজেলা আ.লীগ সভাপতির পদ থেকে অব্যাহতি

১১:৩৫ অপরাহ্ণ | বুধবার, জুলাই ১৫, ২০২০ সিলেট
mukul

মতিউর রহমান মুন্না, নবীগঞ্জ থেকে: নবীগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি ইমদাদুর রহমান মুকুলকে আওয়ামী লীগের সভাপতি পদ থেকে অব্যাহতি দেয়া হয়েছে। তিনি চাল আত্মসাৎকারী হিসেবে প্রমাণিত হওয়ায় দলের ভাবমূর্তি চরমভাবে ক্ষুন্ন হয় এ জন্য (১৫ জুলাই) বুধবার উপজেলা অডিটোরিয়ামে নবীগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের বিশেষ বর্ধিত সভায় সর্বসম্মতিক্রমে এ সিদ্ধান্ত গৃহিত হয়।

এর আগে গত ৭ জুলাই দৃশ্যমান দুর্নীতির অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় চেয়ারম্যান পদ থেকে ইমদাদুর রহমান মুকুলকে বরখাস্ত করে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়। এ ঘটনায় ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনে ব্যাপক প্রতিক্রয়া দেখা দেয়। সকল জল্পনা, কল্পনা আর নাটকীয়তা শেষে অবশেষে চেয়ারম্যান মুকুলকে দল থেকে অব্যাহতির সিদ্ধান্ত নেয় উপজেলা আওয়ামী লীগ।

বর্ধিত সভায় নবীগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি গজনাইপুর ইউনিয়ন চেয়ারম্যান ইমদাদুর রহমান মুকুলের বিরুদ্ধে ১০টাকা কেজি দরের চালের তালিকায় ২২৯জন সুবিধাভোগীর নামের চাল ৪বছর ধরে আত্মসাত ও ব্যাপক অনিয়ম দুর্নীতি প্রমাণিত হওয়ায় সর্বস্মতিক্রমে তাকে নবীগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি পদ থেকে অব্যাহতি দেয়ার সিদ্ধান্ত গৃহিত হয় এবং পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য হবিগঞ্জ জেলা আওয়ামীলীগের বরাবর প্রেরণ করার প্রস্তাবও গৃহিত হয়।

এ ব্যাপারে নবীগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সাইফুল জাহান চৌধুরী বলেন, নবীগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও গজনাইপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ইমদাদুর রহমান মুকুলের বিরুদ্ধে প্রধানমন্ত্রীর ১০টাকা কেজি দরের চালের তালিকায় ২২৯জন সুবিধাভোগী অসহায়দের চাল ৪বছর ধরে আত্মসাতসহ নানা ধরণের অনিয়ম দুর্নীতি প্রমাণিত হওয়ায় তিনি সরকার কর্তৃক বরখাস্ত হন। দুর্নীতি পরায়ন এমন কর্মকাণ্ডে নবীগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের সুনাম চরমভাবে ক্ষুন্ন হয়। তাই উপজেলা আওয়ামী লীগের বিশেষ বর্ধিত সভায় সর্বসস্মতিক্রমে নবীগঞ্জ উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি পদ থেকে মুকুলকে সাময়িক অব্যাহতির সিদ্ধান্ত গৃহিত হয়।

উল্লেখ্য, সরকারের খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির ১০ টাকা কেজি দরের চাল বিতরণে নানা অনিয়মের অভিযোগে গত ৭ জুলাই নবীগঞ্জের গজনাইপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ইমদাদুল রহমান মুকুলকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করেছে স্থানীয় সরকার বিভাগ। উপ-সচিব মোহাম্মদ ইফতেখার আহমেদ চৌধুরী স্বাক্ষরিত এক প্রজ্ঞাপনে এ সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়।

প্রসঙ্গত, গজনাইপুর ইউনিয়নে খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির ১০ টাকা কেজি দরের চাল প্রাপ্তির তালিকায় মোট উপকারভোগী রয়েছেন ১ হাজার ১৮৫ জন। ২০১৬ সালে ওই তালিকা তৈরি করা হয়। তখন থেকে উপকারভোগীদের চাল পাওয়ার কথা থাকলেও অনেকেই পাননি সে সুবিধা। তালিকায় কোনো কোনো ব্যক্তির নাম ৩ থেকে ৪ বার রয়েছে। একাধিক ব্যক্তির নাম প্রায় ৫০টির মতো রয়েছে তালিকায়। রয়েছে কয়েকজন মৃত ব্যক্তির নামও।

আবার কয়েকটি গ্রামে কোনো হিন্দু পরিবার বসবাস না করলেও ওই গ্রামের তালিকায় দেওয়া হয়েছে হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষের ভুয়া নাম। তালিকায় নাম থাকলেও কোনো সময়ই চাল জুটেনি, এমন লোকের সংখ্যাও কম নয়। এদিয়ে দেশের শীর্ষ বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রতিবেদন প্রচারের পর বিষয়টি নিয়ে তদন্তে নামে উপজেলা প্রশাসন। তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়ায় তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে।

Skip to toolbar