সংবাদ শিরোনাম
  • আজ ৩০শে শ্রাবণ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

জমে উঠেছে মানিকগঞ্জের ঐতিহ্যবাহী “নৌকার হাট”

১১:৫৪ অপরাহ্ণ | বুধবার, জুলাই ১৫, ২০২০ ইতিহাস-ঐতিহ্য
anik

দেওয়ান আবুল বাশার, স্টাফ রিপোর্টার: মানিকগঞ্জের ঘিওরে জমে উঠেছে ঐতিহ্যবাহী নৌকার হাট। প্রতি বর্ষাতে জেলার নিম্নাঞ্চলের মানুষের একমাত্র বাহন নৌকা। ফলে শত বছর ধরে বর্ষার কয়েক মাস প্রতি বুধবার ঘিওর উপজেলা সদরের কেন্দ্রীয় ঈদগাহের মাঠে চলে আসছে ঐতিহ্যবাহী নৌকার হাট।

প্রতি হাটে ৫০০/৬০০ নৌকা বিক্রি হয় বলে হাট কমিটি নিশ্চিত করেছে। তবে ক্রেতাদের অভিযোগ গতবছরের চেয়ে এবার দাম একটু বেশী আর বেপারীরা বলছেন করোনা ভাইরাসের প্রভাবে কিছুটা কম দামেই বিক্রি করতে হচ্ছে তাদের।

মানিকগঞ্জের দৌলতপুর, শিবালয়, হরিরামপুর ও ঘিওর উপজেলা পদ্মা, যমুনা, ধলেশ্বরী ও ইছামতী নদীবেষ্টিত। অসংখ্য খাল-বিল ও ডোবা-নালা এখন কানায় পানিতে ভরা। এসব উপজেলায় রয়েছে বিভিন্ন চরাঞ্চল ও নিম্নাঞ্চল। নদ-নদীর পানি বাড়লেই এসব চরাঞ্চল ও নিম্নাঞ্চলে রাস্তাঘাট তলিয়ে যায়। হাজার হাজার মানুষ পানিবন্ধী হয়ে পড়ে। তখন এই অঞ্চলের মানুষের চলাচলের প্রধান বাহন এই নৌকা। যুগ যুগ ধরে নৌকা এসব অঞ্চলের ঐতিহ্য বহন করে আসছে।

হাটে আসা জিয়ান পুরের মাসুদ বলেন, বর্ষা শুরু হলেই আমাদের এলাকার অনেক জায়গা প্লাবিত হয়ে যায়, নৌকা ছারা আমাদের চলাচল প্রায় অসম্ভব, এ হাট থেকেই তিন বছর আগে নৌকা কিনেছিলাম, সেটা এবছর আর ব্যাবহার করা যাবেনা নৌকাটি ভেঙে গেছে তাই নতুন নৌকা কিনতে এসেছি। এবার মাঝারি সাইজের নৌকা কিনবেন বলে জানান তিনি। এ হাটে দীর্ঘদিন ধরে নৌকা বিক্রি করে আসছেন সাইজুদ্দিন তার সাথে কথা বলে জানা যায়, হাটে ছোট ও মাঝারি সাইজের নৌকার কেনাবেচা সবচেয়ে বেশি হয়।

নৌকা ব্যবসায়ীদের সাথে কথা বলে জানা যায়, মেহগনি, কড়ই, আম, চাম্বল, রেইনট্রি গাছের কাঠ দিয়ে তৈরি ডিঙি নৌকা মেলে এই হাটে। আকার ও মানভেদে প্রতিটি নৌকা দুই হাজার থেকে ছয় হাজার টাকায় বিক্রি হয়। জেলার প্রত্যন্ত অঞ্চল ছাড়াও আশপাশের টাঙ্গাইলের নাগরপুর, সিরাজগঞ্জের চৌহালী এবং রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ থেকে ক্রেতারা নৌকা কিনতে এই হাটে আসেন।

এ হাটের ইজরাদার গৌরাঙ্গ কুমার ঘোষ বলেন, এ হাটটি প্রায় একশ বছরের পুরনো। পানি যত বেশিদিন ধরে থাকে আমাদের হাট ততই জমে ওঠে।

Skip to toolbar