• আজ ৩১শে শ্রাবণ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

মানুষের প্রজনন ক্ষমতা কমে যাচ্ছেঃ গবেষণা

৮:২৯ অপরাহ্ণ | বৃহস্পতিবার, জুলাই ১৬, ২০২০ ফিচার
popuu

আন্তর্জাতিক ডেস্কঃ বর্তমান শতাব্দী শেষ হওয়ার আগেই পৃথিবীর জনসংখ্যা অনেক কমে আসবে। যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটির এক গবেষণায় উঠে এসেছে এ তথ্য। সম্প্রতি বিখ্যাত মেডিকেল জার্নাল দ্য ল্যানসেটে প্রকাশিত হয়েছে এ গবেষণা প্রতিবেদন।

গবেষণা বলছে, প্রজনন হার এভাবে কমতে থাকলে ২১০০ সালের পর বিশ্বের অধিকাংশ দেশের জনসংখ্যাই এখনকার তুলনায় অনেক কম থাকবে। এটা চলতে থাকলে স্পেন, জাপানসহ ২৩টি দেশের জনসংখ্যা অর্ধেকে নেমে যাবে।

ওয়াশিংটন বিশ্ববিদ্যালয়ের হেলথ ম্যাট্রিক্স অ্যান্ড ইভালুয়েশন ইন্সটিটিউটের এক গবেষণায় উঠে এসেছে, ১৯৫০ সালে একজন নারী জীবদ্দশায় গড়ে ৪ দশমিক ৭টি সন্তান জন্ম দিতেন; যা ২০১৭ সালে ২ দশমিক ৪-এ নেমে এসেছে।

প্রজনন হার আরও কমে ২১০০ সাল নাগাদ ১ দশমিক ৭ এ দাঁড়াতে পারে বলে ল্যানসেটে প্রকাশিত নিবন্ধে ধারণা দিয়েছেন গবেষকরা। তাদের হিসাব অনুযায়ী, পৃথিবীতে ২০৬৪ সাল নাগাদ মানুষের সংখ্যা ৯৭০ কোটিতে পৌঁছালেও তার ৩৬ বছর পরই এ সংখ্যা ৮৮০ কোটিতে নেমে যাবে।

অথচ জাতিসংঘ এক পূর্বাভাসে জানিয়েছিল, ২০৫০ সালের মধ্যে বিশ্বের জনসংখ্যা ৯৭০ কোটিতে উন্নীত হবে। এবং ২১০০ সালের দিকে জনসংখ্যা দাঁড়াবে ১১০০ কোটিতে।

গবেষকরা বলছেন, প্রজনন হারের ক্রমাবনতি মোকাবেলায় বিশ্বের প্রস্তুতি সন্তোষজনক নয়। অথচ পরিবর্তিত ‘চোয়াল ঝুলে যাওয়া’ পরিস্থিতি ভবিষ্যৎ সমাজের ওপর ব্যাপক নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে। তাঁরা বলছেন, প্রজনন হার ধারাবাহিকভাবে কমতে থাকলে চলতি শতকের শেষে বিশ্বের বেশির ভাগ দেশের জনসংখ্যাই এখনকার তুলনায় অনেকটা কমে যাবে।

প্রজনন হার কমার পেছনে কর্ম ও শিক্ষা ক্ষেত্রে নারীদের আগের তুলনায় পদচারণ বৃদ্ধির পাশাপাশি জন্মনিরোধক ব্যবহারের আধিক্যকে কারণ হিসেবে দেখছেন গবেষকরা।

বিশ্বের ১৯৫টি দেশের ১৮৩টিতেই প্রজনন হার এমন হবে যে তা আর প্রতিস্থাপনযোগ্য থাকবে না; ফলে বিষয়টি সবার মাথাব্যথার কারণ হয়ে দাঁড়াবে। জনসংখ্যা কমলে কার্বন নিঃসরণ কমবে, কমবে বন-বনাঞ্চলের বিনাশ। ফলে প্রজনন হার কমাকে অনেকে ‘ভালো’ বললেও বিজ্ঞানীরা খুশি হতে পারছেন না। কেননা, তাঁদের হিসাবে ২১০০ সাল নাগাদ তরুণদের তুলনায় বৃদ্ধ মানুষের সংখ্যা এখনকার অনুপাতে অনেক বেশি থাকবে।

অধ্যাপক মুর বলেন, ‘এটি সমাজে বড় ধরনের পরিবর্তন নিয়ে আসবে। বৃদ্ধদের এ পৃথিবীতে কারা কর দেবে? বেশি বয়সীদের স্বাস্থ্যসেবায় কারা অর্থ খরচ করবে? কারা তাঁদের দেখভাল করবে? সে সময় চাকরি থেকে অবসর নেওয়ার সুযোগ থাকবে তো?’

সূত্র : বিবিসি ও টিবিএস নিউজ।

Skip to toolbar