সংবাদ শিরোনাম
বিশ্বের বিভিন্ন দেশে প্রচলিত আজব কিছু কুসংস্কার | টিকটক সেলিব্রেটি ‘অফু বাই’ গ্রেফতার | শচীনের ব্যাটেই ৩৭ বলে সেঞ্চুরি করেছিলেন আফ্রিদি! | বাউফলে পানিতে ডুবে একই পরিবারের তিন বোনের মর্মান্তিক মৃত্যু | হিন্দু সম্প্রদায়ের বাড়িতে হামলা: যুবলীগ নেতাসহ জড়িতদের গ্রেপ্তারের দাবি | ‘শেখ হাসিনা প্রমাণ করেছেন সঠিক নেতৃত্বে দুর্যোগ মোকাবেলা করা সম্ভব’- তথ্যমন্ত্রী | সাবেক সেনা কর্মকর্তার মৃত্যুতে মির্জা ফখরুলের বিবৃতি | কুড়িগ্রামে করোনার উপসর্গ নিয়ে পুলিশ সদস্যের মৃত্যু | নেপালে ভূমিধসে আট নির্মাণশ্রমিকসহ ১০ জনের মৃত্যু | কোরবানির মাংস সংগ্রহ করতে গিয়ে নিখোঁজ, পানি থেকে ভাসমান মরদেহ উদ্ধার |
  • আজ ২০শে শ্রাবণ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

১৯ করোনা রোগীর চিকিৎসা বিল সাড়ে ৫ কোটি টাকা!

১২:৪৮ অপরাহ্ণ | শনিবার, জুলাই ১৮, ২০২০ আলোচিত

সময়ের কন্ঠস্বর ডেস্ক- কুমিল্লার বিশেষায়িত হাসপাতাল এএফসি হেলথ ফরটিস হার্ট ইনস্টিটিউট ১৯ করোনা রোগীর চিকিৎসা খরচ বাবদ সরকারের কাছে প্রায় সাড়ে ৫ কোটি টাকার বিল দাখিল করেছে। এ নিয়ে জেলায় সমালোচনার ঝড় বইছে। এরই মধ্যে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বিষয়টি ভাইরাল হয়ে গেছে। কাল্পনিক এ বিল দেখে জেলা স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মকর্তাদের চক্ষু চড়ক গাছ হওয়ার উপক্রম। যদিও সেই বিল সরকারের দুটি দফতরে আটকে গেছে।

২২ দিনে ১৯ জন করোনা রোগীর চিকিৎসা বাবদ ১২ লাখ ৭৫ হাজার ৬৩৬ টাকা এবং ওই হাসপাতালের আইসিইউসহ অন্যান্য স্থাপনা বাবদ ৫ কোটি ৪১ লাখ টাকা সরকারকে যদি পরিশোধ করতে হয় তাহলে প্রতি রোগীর জন্য খরচ দাঁড়াবে ২৯ লাখ টাকার ওপরে। এ ধরনের খরচ কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয় বলে জেলা স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মকর্তারা মন্তব্য করেছেন।

জানা গেছে, করোনাকালীন সময়ে কুমেক হাসপাতালে আইসিইউ স্থাপনের আগ পর্যন্ত গত ১০ মে থেকে ৩ জুন পর্যন্ত ১৯ জন করোনা রোগীকে চিকিৎসা দেয়া হয় ফরটিস হাসপাতালে। এরমধ্যে ৪জন রোগী মারা যান। অপর ১৫ জন সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরে গেছেন। এসব রোগীর চিকিৎসা ব্যয় বাবদ কুমেক হাসপাতালের পরিচালক বরাবরে বিল দাখিল করে বেসরকারি ফরটিস হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। এছাড়া হাসপাতালটিতে করোনা রোগীদের চিকিৎসা উপযোগী করে তুলতে আইসিইউ-সহ আনুষাঙ্গিক স্থাপনা বাবদ ৫ কোটি ৪১ লাখ টাকা খরচ দেখিয়ে স্বাস্থ্য অধিপ্তরে বিল করে হাসপাতালটির উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ। বিষয়টি বৃহস্পতিবার প্রকাশিত হলে বিকালে সাংবাদিকরা ওই হাসপাতালে ভিড় জমান।

হাসপাতালটির দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা কন্সালটেন্ট কার্ডিওলোজি ডা. সাঈদ আহমেদ সাংবাদিকদের জানান, ‘উল্লেখিত সময়ে আমরা ১৯জন করোনা রোগীকে চিকিৎসা দিয়েছি, এদের মধ্যে ৪জন রোগী মারা গেছেন। এদের চিকিৎসা, থাকা, ঔষধপত্র বাবদ ও কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন বাবদ ১২ লাখ ৭৫ হাজার ৬৩৬ টাকার বিল দাখিল করা হয়েছে।’

অপর এক প্রশ্নে তিনি জানান, ‘আমাদের হাসপাতালের ঢাকাস্থ প্রধান কার্যালয় থেকে এ হাসপাতালের একটি বড় কক্ষে ১০ বেডের আইসিইউ, ভেন্টিলেটার স্থাপনসহ আনুষাঙ্গিক খরচ বাবদ ৫ কোটিরও অধিক টাকা খরচ হয়েছে এবং এ বাবদ বিল স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে দাখিল করা হয়েছে বলে আমরা জেনেছি। বিষয়টি আমাদের উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ ভালো বলতে পারবেন। এর বেশি কিছু বলতে পারবো না।

তবে আমাদের হাসপাতালে জিএম অপারেশন তৌফিক হাসান এ বিষয়ে ভালো বলতে পারবেন।’ পরে জিএম অপারেশন তৌফিক হাসানের মোবাইল ফোনে একাধিকবার ফোন করেও রিসিভ না হওয়ায় তার বক্তব্য জানা যায়নি।

তবে স্বাস্থ্য সেবা সংশ্লিষ্ট স্থানীয় সূত্রগুলো জানায়, ২২ দিনে ১৯জন করোনা রোগীর চিকিৎসা বাবদ ১২ লাখ ৭৫ হাজার ৬৩৬ টাকা এবং ওই হাসপাতালের আইসিইউসহ অন্যান্য স্থাপনা বাবদ ৫ কোটি ৪১ লাখ টাকা সরকারকে যদি পরিশোধ করতে হয় এক্ষেত্রে প্রতি রোগীর জন্য খরচ দাঁড়ায় ২৯ লাখ টাকার উপরে। এ ধরণের খরচ কোনভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।

তবে কুমেক হাসপাতালের পরিচালক ডা. মো. মুজিবুর রহমান জানান, ‘জেলা করোনা প্রতিরোধ বিষয়ক মাল্টি সেক্টর কমিটি করোনা রোগীদের চিকিৎসার জন্য বেসরকারি ফরটিস হাসপালটিকে অধিগ্রহণ করেছিল। মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে আইসিইউ স্থাপনের আগ পর্যন্ত ওই হাসপাতালটি ২২ দিনে ১৯জন রোগীর সেবা দিয়েছে। রোগীদের ঔষধ, পথ্য ও চিকিৎসা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল থেকে দেওয়া হয়েছে। এক্ষেত্রে ওই হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ রোগীদের সেবা বাবদ ১২ লাখ ৭৫ হাজার ৬৩৬ টাকা ও আইসিইউ-সহ আনুষাঙ্গিক স্থাপনা বাবদ ৫ কোটি ৪১ লাখ টাকার বিল দাখিল করেছে, যা একেবারেই অস্বাভাবিক ও অগ্রহণযোগ্য।

এ বিষয়ে সিভিল সার্জন ডা. মো. নিয়াতুজ্জামান বলেন, এএফসি হেলথ ফরটিস হার্ট ইনস্টিটিউটে চিকিৎসা নেয়া ১৯ রোগীর ওষুধসহ ডাক্তার-নার্সদের সুরক্ষা সরঞ্জাম সব আমরা দিয়েছি। যারা চিকিৎসা দিয়েছে তাদেরকে কুমিল্লা ক্লাব ও ভিক্টোরিয়া হাসপাতালে রেখেছি। কিন্তু স্বাস্থ্য অধিদফতরে ফরটিস হার্ট ইনস্টিটিউট কর্তৃপক্ষের ৫ কোটি ৪৮ লাখ ৪৬ হাজার ৫৮৭ টাকা আর্থিক অনুদান দাবি ও একই রোগীদের জন্য কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের কাছে গত ৯ জুন সেখাকার কনসালটেন্ট ডা. সৈয়দ আহমদ ও ডা. মো. রাসেল আহমেদ চৌধুরীর আরও ১২ লাখ ৭৫ হাজার ৬৩৬ টাকার বিল দাখিল করার বিষয়টি হাস্যকর ও অযৌক্তিক।

এদিকে বৃহস্পতিবার দুপুরে ওই হাসপাতালটির ফার্মেসিতে জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট জনি রায়ের নেতৃত্বে অভিযান পরিচালনা করা হয়। ম্যাজিস্ট্রেট জনি রায় জানান, ওই ফার্মেসিতে রেজিস্ট্রেশনবিহীন ও মেয়াদ উত্তীর্ণ ঔষধ উদ্ধার করে ৩০ হাজার টাকা জরিমানা আদায় করা হয়েছে।

Skip to toolbar