সংবাদ শিরোনাম
  • আজ ২৪শে শ্রাবণ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

পবিত্র নগরী মদিনায় মডেলদের খোলামেলা ফটোশুট, সমালোচনার ঝড়

৮:৫২ অপরাহ্ণ | শনিবার, জুলাই ১৮, ২০২০ আলোচিত
modina

আন্তর্জাতিক ডেস্কঃ সৌদি আরবের পবিত্র নগরী মদিনায় মডেলদের খোলামেলা ছবি নিয়ে বিতর্ক শুরু হয়েছে। গত ৮ জুলাই ‘ভোগ-অ্যারাবিয়া’ নামের যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক একটি ম্যাগাজিনে প্রকাশিত ছবি নিয়ে শুরু হয়েছে এই বিতর্ক।

ফটোশুটের স্থানটি মদিনা শহর থেকে ৩০০ কিলোমিটারের মধ্যে। তাই মুসলমানদের পবিত্র স্থান হিসেবে গণ্য মদিনায় এমন খোলামেলা ছবি দেশটির মুসলমানদের মধ্যে প্রবল ক্ষোভের সৃষ্টি করেছে।

২৪ ঘণ্টা ধরে চলা ওই শুটে অংশ নেন কেট মস, মার্সিয়া কার্লা বসকোনো, ক্যানডিস সোয়েনপোল, জর্ডান ডান, জিয়াও ওয়েন এবং অ্যালেক ওয়েকের মতো মডেলরা। ফটোশুটটির আয়োজন করেছেন লেবানীয় ডিজাইনার এলি মিজরাহি। তাঁরা সেখানে কালো ও সাদা রঙের খোলামেলা পোশাক পরেন এবং হাঁটেন। এ ছাড়া সৌদির সাংস্কৃতিক এবং ঐতিহ্যবাহী স্থানে নাচানাচিও করেন তাঁরা।

এই পুরো ফটোশুট অর্গানাইজ এবং শুট পরিচালনা করেছেন লেবানিজ ডিজাইনার এলি মিজরাহি। এমন বিতর্কিত এই ফটোশুটের পর মুসলিম বিশ্বে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে। কেন সৌদি কর্তৃপক্ষ এ ধরনের ফটোশুটের অনুমতি দিয়েছে, তা নিয়েও বহু মুসলিম ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।

এক সৌদি বাসিন্দা টুইট পোস্টে লিখেছেন, ‘সৌদি আরব প্রশাসন নারীদের গাড়ি চালানোর স্বাধীনতা দেয় না, অথচ এরকম খোলামেলা ছবি তোলার আয়োজন করেছে।’ সোমাইয়া কামাল নামের এক আরবী নারী টুইট করেন, আল উলা এলাকায় বিদেশি একটি ম্যাগাজিন আমাদের সংস্কৃতিকে অবমাননা করে যে ফটোশ্যুট করেছে; তা বিশ্বাসীদের বিশ্বাসের স্তম্ভ ধরে নাড়া দিয়েছে। ব্যথিত করেছে তাদের হৃদয়কে।

মোহাম্মদ তোবা নামের অপর একজন লেখেন, কি আশ্চর্য ধাঁধাঁ। যখন হাজিয়া সোফিয়ায় আবার আযানের ধ্বনি উঠছে, ঠিক তখনই নগ্ন নারীদের পৃথিবীর পবিত্রতম বালুকাভূমিতে প্রদর্শন করা হচ্ছে।

সৌদি নারীদের প্রকৃত দুর্দশা তুলে ধরে হায়াত ইয়ামানি নামের এক নারী লিখেছেন, লুজেইন হাথৌলের মতো সৌদি নারীদের যখন ন্যায়সঙ্গত দাবির জন্য কারাবাস দেওয়া হয়েছে, ঠিক তখনই আল্লাহ প্রেরিত দূতের শহরে সুপারমডেলদের অর্ধ-নগ্ন হয়ে ছবি তোলার অনুমতি দেওয়া হয়েছে।

উল্লেখ্য সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান যে সংস্কারপ্রক্রিয়া শুরু করেছেন, তারই অংশ হিসেবে গত বছর থেকেই দেশটিতে নারীদের গাড়ি চালানোর অনুমতি দেওয়া হয়। এ ছাড়া স্টেডিয়ামে গিয়ে খেলা দেখাসহ আরো বিভিন্ন ক্ষেত্রে শিথিলতা দিয়েছে সৌদি সরকার। যদিও বিশ্লেষকরা বলছেন, নারী আত্মীয়দের নিয়ন্ত্রণ এখনো অনেকাংশেই রয়েছে পুরুষ অভিভাবকদের কাছে।

Skip to toolbar