এই মাত্র
  • বিএনপি চরম দুঃসময় কাটাচ্ছে: মির্জা ফখরুল
  • হোঁচট খেয়ে পড়ে গেলেন পাপন
  • সংসদে আকস্মিক উত্তেজনা, ছুটে এলেন স্পিকার
  • তিস্তাপাড়ে বালুখেকোদের বিরুদ্ধে ইউএনওর কৌশলগত অভিযান
  • ক্ষমা, সহনশীলতা ও সাহসের প্রতীক নবী করিম সা.
  • পাকিস্তানের মসজিদে বিস্ফোরণে নিহত বেড়ে ৩২
  • ছাত্রলীগকর্মীকে শিক্ষক না করায় চবি ভিসির কার্যালয়ে ভাঙচুর, শাটল ট্রেন অবরোধ
  • কারা পালিয়েছিল, দেশের মানুষ সব জানে: মির্জা ফখরুল
  • পাকিস্তানে মসজিদে শক্তিশালী বোমা বিস্ফোরণ: নিহত কমপক্ষে ২৮
  • ঢাকায় জমজমের পানি বিক্রি বন্ধের নির্দেশ
  • আজ মঙ্গলবার, ১৮ মাঘ, ১৪২৯ | ৩১ জানুয়ারী, ২০২৩

    জাতীয়

    ১৯১টি অনলাইন নিউজ পোর্টাল বন্ধে চিঠি দেওয়া হয়েছে: তথ্যমন্ত্রী

    সময়ের কণ্ঠস্বর, ঢাকা: তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ বলেছেন, দেশবিরোধী সংবাদ প্রচারের অভিযোগ পেলে অনলাইন সংবাদ মাধ্যম বন্ধের পদক্ষেপ নেওয়া হবে। এরইমধ্যে ১৯১টি অনলাইন নিউজ পোর্টালের লিংক বন্ধে ডাক ও টেলিযোগযোগ বিভাগে চিঠি পাঠানো হয়েছে বলেও জানান তথ্যমন্ত্রী। সোমবার (৩০ জানুয়ারি) জাতীয় সংসদের প্রশ্নোত্তরে বিরোধী দল জাতীয় পার্টির সদস্য মুজিবুল হকের এক প্রশ্নের জবাবে তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী এ কথা বলেন। স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে প্রশ্নোত্তর টেবিলে উত্থাপিত হয়। হাছান মাহমুদ বলেন, বর্তমানে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় হতে অনলাইন নিউজ পোর্টাল ১৬২টি, দৈনিক পত্রিকার অনলাইন পোর্টাল ১৬৯টি এবং টিভি চ্যানেলের অনলাইন পোর্টাল ১৫টিসহ ৩৪৬টি অনলাইন পত্রিকা নিবন্ধন দেওয়া হয়েছে। দেশবিরোধী সংবাদ প্রচার বন্ধে সরকারের পরিকল্পনা রয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, জনমনে বিভ্রান্তি ছড়ায় এমন কার্যক্রম পরিচালনাকারী ও সরকারের গোয়েন্দা সংস্থার তথ্যের ভিত্তিতে ১৯১টি অনলাইন নিউজ পোর্টালের ডোমেইন বরাদ্দ বাতিলকরণসহ লিংক বন্ধ করার জন্য ইতোমধ্যে ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগে চিঠি দেওয়া হয়েছে। সংরক্ষিত মহিলা আসনের সংসদ সদস্য সৈয়দা রুবিনা আক্তারের প্রশ্নের জবাবে তথ্যমন্ত্রী জানান, বর্তমানে রাজধানী ঢাকা হতে প্রকাশিত দৈনিক, সাপ্তাহিক ও মাসিক পত্রিকার সংখ্যা এক হাজার ১৪১টি। এর মধ্যে দৈনিক পত্রিকা ৫০৯টি, সাপ্তাহিক ৩৪৫টি এবং মাসিক পত্রিকা ২৮৭টি।

    নিপাহ ভাইরাসে দেশে মারা গেছেন ৫ জন: স্বাস্থ্যমন্ত্রী

    সময়ের কণ্ঠস্বর, ঢাকা: বাংলাদেশের বেশকিছু এলাকায় নিপা ভাইরাস রোগী পাওয়া গেছে জানিয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক বলেছেন, আমাদের কাছে তথ্য এসেছে আট জন এ ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন, এর মধ্যে মারা গেছেন পাঁচ জন। রোববার (২৯ জানুয়ারি) সচিবালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ তথ্য জানান। মন্ত্রী বলেন, আমাদের কাছে ৮ জন রোগী এসেছেন। এদের মধ্যে ৫ জন মারা গেছে। এ ভাইরাসে ৭০ শতাংশ মারা যায়। কাচা রস ও পাখিদের খাওয়া ফল খেলে এ রোগ হয়। বাদুড় এ ভাইরাস বহন করে। বাদুড়ের পান করা খেজুরের রস যদি কোনো ব্যক্তি পান করেন তাহলে তিনি এ ভাইরাসে আক্রান্ত হবেন। অসুস্থ মানুষের সংস্পর্শে গেলেও দ্রুত এ ভাইরাস ছড়ায়। তখন মাল্টিপল সংক্রমণ হয়। স্বাস্থ্যমন্ত্রী জানান, এই ভাইরাস থেকে রক্ষায় মানুষকে সচেতন করতে পদক্ষেপ নিয়েছি। আমরা টিভিসি (সচেতনতামূলক ভিডিও) করেছি। সংক্রমণ ব্যাধি হাসপাতালে আলাদা ইউনিট করে চিকিৎসা দিচ্ছি। তিনি বলেন, নিপা ভাইরাসের কোনো ভ্যাকসিন নেই। আমাদের সচেতন থাকতে হবে। এজন্য কাচা রস পান করা যাবে না। পাখিদের খাওয়া ফল কোনো খাওয়া যাবে না।

    পুলিশকে জনগণের আস্থা অর্জন করতে হবে: প্রধানমন্ত্রী

    সময়ের কণ্ঠস্বর, ঢাকা: স্বাধীনতার সুফল জনগণকে পৌঁছে দিতে পুলিশ বাহিনীকে সক্রিয় হবার আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, আমরা ইতোমধ্যে ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ে তুলেছি। এখন স্মার্ট বাংলাদেশ, স্মার্ট অর্থনীতি, স্মার্ট প্রশাসনের পাশাপাশি স্মার্ট পুলিশ বাহিনী গড়ে তোলা হবে। পাশাপাশি সবার আগে পুলিশ বাহিনীকে জনগণের আস্থা অর্জন করতে হবে। কারণ জঙ্গিবাদ ও সন্ত্রাস দমন জনগণের ভূমিকা ও সহযোগিতা প্রয়োজন। রোববার (২৯ জানুয়ারি) রাজশাহীর সারদায় বাংলাদেশ পুলিশ একাডেমিতে ৩৮তম বিসিএস (পুলিশ) ক্যাডারের শিক্ষানবিশ সহকারী পুলিশ সুপারদের প্রশিক্ষণ সমাপনী কুচকাওয়াজ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় তিনি এসব কথা বলেন। শেখ হাসিনা বলেন, আমাদের মহান মুক্তিযুদ্ধে পুলিশ বাহিনীর বিরাট অবদান রয়েছে। ১৯৭১ সালে পাকিস্তানের হানাদার বাহিনী যখন নিরস্ত্র বাঙ্গালির ওপর হামলা চালাতে শুরু করে, রাজারবাগে পুলিশ বাহিনীর ওপর তারা আক্রমণ করে, পুলিশ বাহিনী অত্যন্ত বীরত্বের সাথে তার প্রতিরোধ করবার চেষ্টা করে ও প্রতিরোধ গড়ে তোলে। এই সারদা একাডেমিতেও হানাদার বাহিনী আক্রমণ করেছিল। এখানে যারা ছিলেন তারা মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করেন, ২৪ জন সদস্য শাহাদাত বরণ করেন। তিনি বলেন, জাতির পিতা যুদ্ধের পর ৮২টি থানা পূর্ণ প্রতিষ্ঠা করেন এবং এই একাডেমিও উন্নত করেন। চেয়েছিলেন বাংলাদেশ উন্নত ও সমৃদ্ধ হবে। ক্ষুধা, দারিদ্রমুক্ত ও সমৃদ্ধ সোনার বাংলা গড়ে তুলতে চেয়েছিলেন তিনি। ১৫ আগস্ট আমাদের আশা সম্পূর্ণ নস্যাৎ করে দেওয়া হয়। এরপর অবৈধভাবে ক্ষমতা দখলের পালা শুরু হয়। সংবিধান লঙ্ঘন করে বারবার যে ক্ষমতার পরিবর্তন হয়েছে তার ফলে পুলিশ বা সশস্ত্র বাহিনীর অনেককেই জীবন দিতে হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়েছি। মানুষ ডিজিটাল সেবা পাচ্ছে। তবে এর ভালো দিক যেমন আছে, আবার বিভিন্ন ধরনের সন্ত্রাস, জঙ্গিবাদ, মানিলন্ডারিং, সাইবার ক্রাইম, মানবপাচার সেটাও কিন্তু নতুন নতুন রূপে সামনে আসছে। এগুলো মোকাবিলা করার জন্য ইতোমধ্যে পদক্ষেপ নিয়েছি। আমাদের পুলিশ বাহিনী বিদেশে সুনাম অর্জন করেছে। একটি ঘটনায় পুলিশ বাহিনীর দুই সদস্য জীবন দিয়েছিলেন হলি আর্টিজেনে। প্রতিটি ক্ষেত্রে পুলিশের সাহসী ভূমিকা বাংলাদেশে সন্ত্রাস, জঙ্গিবাদ মুক্ত রাখতে সহায়তা করেছে। পাশাপাশি জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে আমাদের পুলিশ বাহিনী ভূয়সী প্রশংসার কাজ করছে। তিনি বলেন, পুলিশ বাহিনীর জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯ ব্যাপক প্রশংসা লাভ করেছে। যখনই প্রয়োজন হয় সেটা অ্যাম্বুলেন্স, ফায়ার সার্ভিস বা পুলিশের জরুরি সেবা হোক অথবা কেউ বিপদে পড়লে উদ্ধার করা, নির্যাতনের শিকার নারীদের পাশে থাকা থেকে শুরু করে বিভিন্ন ক্ষেত্রে মানুষ সহযোগিতা পাচ্ছেন। আমরা চাই পুলিশ বাহিনী পেশাদারিত্ব দক্ষ ও বিজ্ঞানভিত্তিকভাবে গড়ে উঠবে। সেজন্য বহু প্রতিষ্ঠান ও অনেক সরঞ্জামাদি ক্রয় করেছি।  

    এইচএসসির ফল প্রকাশ ৮ ফেব্রুয়ারি

    সময়ের কণ্ঠস্বর, ঢাকা: আগামী ৮ ফেব্রুয়ারি এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফল প্রকাশ করা হবে। রোববার (২৯ জানুয়ারি) সকালে আন্তশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটির আহ্বায়ক ও ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান তপন কুমার সরকার সাংবাদিকদের এ তথ্য জানিয়েছেন। এর আগে আগামী ৭, ৮ বা ৯ ফেব্রুয়ারি-যেকোনো এক দিন ফলাফল প্রকাশের জন্য সরকারের কাছে প্রস্তাব পাঠিয়েছিল শিক্ষা বোর্ডগুলো। ওই সময় ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান তপন কুমার সরকার বলেছিলেন, পরীক্ষা শেষ হওয়ার ৬০ দিনের মধ্যে ফলাফল প্রকাশের নিয়ম রয়েছে। সে হিসেবে ১১ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত সময় আছে। এ সময় বিবেচনা করে আগামী ৭, ৮ বা ৯ ফেব্রুয়ারি-যেকোনো এক দিন ফলাফল প্রকাশের জন্য প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যেদিন সম্মতি দেবেন, সেদিন ফলাফল প্রকাশ করা হবে। এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশের কার্যক্রম প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা উদ্বোধন করে থাকেন।

    রাজনীতি করি দেশের উন্নয়নের জন্য: স্বাস্থ্যমন্ত্রী

    দেওয়ান আবুল বাশার, স্টাফ করেসপন্ডেন্ট (মানিকগঞ্জ): স্বাস্থমন্ত্রী জাহিদ মালেক বলেছেন, আমরা রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ কিন্তু একে অপরের শত্রু নই। আমরা রাজনীতি করি দেশের উন্নয়নের জন্য, দেশের মানুষের জন্য। কাজেই নিজেদের মধ্যে শত্রুতা করলে রজানীতির ক্ষতি হবে, দেশের অর্থনীতি দুর্বল হয়ে যাবে। উন্নয়ন ব্যাহত হবে। দেশের মানুষের ক্ষতি হবে। সেজন্য যারা রাজনীতি করে তাদের মধ্যে ঐক্য থাকা উচিত। শনিবার (২৮ জানুয়ারি) বিকেলে মানিকগঞ্জ সদর উপজেলার জাগীর উচ্চ বিদ্যালয়ের মাঠে নবনির্মিত ভবন উদ্বোধন ও বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতার পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠানে এমন মন্তব্য করেন তিনি। প্রধান অতিথির বক্তব্যে মন্ত্রী বলেন, আমাদের মাঝে যদি ঐক্য না থাকে তাহলে তৃতীয় শক্তি রাজনীতির মাঠ দখল করে নেবে। কাজে আমাদের পরিচ্ছন্নভাবে রাজনীতি করতে হবে। পিছনের দরজা দিয়ে ক্ষমতায় আসতে বিএনপি-জামায়াত ষড়যন্ত্র করছে। তাতে ক্ষতি হবে জনগণের। ক্ষতি হবে আপনাদেরও। সেজন্য আপনারাও নির্বাচনে অংশগ্রহণ করেন। দেশের জনগণ যাদেরকে পছন্দ করে তাদেরকেই ভোট দিয়ে জয়লাভ করাবেন। এর বাইরে আর কোনো সুযোগ নাই। জাগীর উচ্চ বিদ্যালয়ের সভাপতি মো, শামীম মিয়ার সভাপতিত্বে অন্যান্যদের মাঝে উপস্থিত ছিলেন, জেলা প্রশাসক মুহাম্মদ আব্দুল লতিফ, পৌর-মেয়র মো. রমজান আলী প্রমুখ।

    দেশের শান্তি রক্ষায় নিরলসভাবে কাজ করছে পুলিশ: প্রধানমন্ত্রী

    সময়ের কন্ঠস্বর ডেস্ক: প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, ‘বাংলাদেশ পুলিশ দেশের অভ্যন্তরীণ শান্তি-শৃঙ্খলা রক্ষা, অপরাধ দমন এবং আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় নিরলসভাবে কাজ করে চলেছে। জঙ্গিবাদ ও সন্ত্রাসবাদ দমন, মাদক নির্মূল এবং চোরাচালান দমনে পুলিশের ভূমিকা বিশ্ব দরবারে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি আরও উজ্জ্বল করেছে।’ আগামীকাল রোববার রাজশাহীর সারদায় ৩৮তম বিসিএস (পুলিশ) ক্যাডারের প্রশিক্ষণের সফল সমাপ্তি উপলক্ষে আজ শনিবার দেওয়া এক বাণীতে প্রধানমন্ত্রী এ কথা বলেন। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, ‘একটি গণতান্ত্রিক সমাজে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার জন্য একটি দক্ষ পুলিশ বাহিনী অপরিহার্য। তাই সরকার গঠনের পর থেকেই আমরা পুলিশের উন্নয়ন ও আধুনিকায়নে প্রয়োজনীয় সব পদক্ষেপ গ্রহণ করেছি।’ প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বাহিনীর জনবল বৃদ্ধি, নতুন নতুন ইউনিট গঠন, ভৌত অবকাঠামোর উন্নয়ন, আধুনিক যানবাহন ও লজিস্টিক্স সুবিধা বৃদ্ধি, সর্বাধুনিক প্রশিক্ষণ সুবিধা নিশ্চিতকরণ, পুলিশ সদস্যদের সার্বিক কল্যাণের জন্য কল্যাণ ট্রাস্ট ও ব্যাংক গঠন, আবাসন ও চিকিৎসা ব্যবস্থার উন্নয়ন প্রভৃতি ক্ষেত্রে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের মাধ্যমে বাংলাদেশ পুলিশকে একটি আধুনিক, যুগোপযোগী, দক্ষ ও জনবান্ধব সার্ভিসে পরিণত করার সর্বাত্মক প্রচেষ্টা অব্যাহত আছে। শেখ হাসিনা বলেন, ‘ইন্ডাস্ট্রিয়াল পুলিশ, ট্যুরিস্ট পুলিশ, নৌ-পুলিশ, পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন, অ্যান্টি টেররিজম ও কাউন্টার টেররিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম ইউনিটসহ বেশ কয়েকটি রেঞ্জ, মেট্রোপলিটন ইউনিট, সাইবার পুলিশ সেন্টার, ব্যাটালিয়ন, ইন-সার্ভিস ট্রেনিং সেন্টার থানা, তদন্ত কেন্দ্র, ফাঁড়ি এবং জাতীয় জরুরি সেবায় ৯৯৯ ইউনিট গঠন করেছি। আমরা নারী, শিশু, বয়স্ক ও প্রতিবন্ধী সার্ভিস ডেস্ক চালু করেছি, বিট পুলিশিংয়ের মাধ্যমে পুলিশ সেবা জনগণের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিচ্ছি।’ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, ‘জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা কার্যক্রমে সক্রিয় অংশগ্রহণের মাধ্যমে বাংলাদেশ পুলিশের সাহসী সদস্যরা উল্লেখযোগ্য প্রশংসনীয় অবদান রেখে চলেছে। কোভিড-১৯ মোকাবিলায় পুলিশ সদস্যগণ নিজেদের জীবন বিপন্ন করে জনসেবার ক্ষেত্রে নজিরবিহীন ভূমিকা রেখেছে।’ তিনি বলেন, ‘নবীন কর্মকর্তারা মহান মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও স্বাধীনতা সংগ্রামে তাদের পূর্বসূরীদের আত্মত্যাগকে হৃদয়ে ধারণ করে প্রশিক্ষণলব্ধ জ্ঞান ও অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে রূপকল্প-২০৪১ সফল বাস্তবায়নের মধ্য দিয়ে জাতির পিতার স্বপ্নের সোনার বাংলাদেশ তথা স্মার্ট বাংলাদেশ বিনির্মাণে অগ্রণী ভূমিকা পালন করবেন।’ প্রিয় মাতৃভূমির স্বাধীনতার জন্য আত্মোৎসর্গকারী দেশপ্রেমিক বীর পুলিশ সদস্যদেরকে শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করে শেখ হাসিনা বলেন, ‘মহান মুক্তিযুদ্ধে বাংলাদেশ পুলিশের রয়েছে গৌরবোজ্জ্বল আত্মত্যাগ ও বীরত্বের স্বর্ণোজ্জ্বল ইতিহাস। সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের উদাত্ত আহ্বানে সাড়া দিয়ে ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ কালরাতে অকুতোভয় বীর পুলিশ সদস্যরা গড়ে তুলেছিল প্রথম সশস্ত্র প্রতিরোধ।

    সংবিধান অনুযায়ীই আগামী নির্বাচন, ব্রিটিশ এমপিদের প্রধানমন্ত্রী

    সময়ের কণ্ঠস্বর, ঢাকা: দেশের সংবিধান অনুযায়ীই দ্বাদশ সংসদ নির্বাচন হবে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ব্রিটিশ অল-পার্টি পার্লামেন্টারি গ্রুপের চারজন সংসদ সদস্য সৌজন্য সাক্ষাতে গেলে একথা বলেন প্রধানমন্ত্রী। বুধবার (০৪ ডিসেম্বর) প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে এ সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠক শেষে প্রধানমন্ত্রীর প্রেসসচিব ইহসানুল করিম সাংবাদিকদের এ ব্যাপারে জানান। তিনি বলেন, সৌজন্য সাক্ষাতে শেখ হাসিনা ব্রিটিশ সংসদ সদস্যদের বলেছেন, ‘দেশে নির্বাচন কমিশন অনেকটাই স্বাধীন। আমরা আপনাদের ওয়েস্টমিনস্টারের গণতন্ত্র অনুসরণ করি। নির্বাচন পর্যবেক্ষক এলে আমাদের কোনো সমস্যা নেই।’ প্রধানমন্ত্রী উল্লেখ করেন, রাজনৈতিক দল হিসেবে অতীতে সামরিক শাসকদের কাছ থেকে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের জন্য লড়াই করার দীর্ঘ ঐতিহ্য রয়েছে আওয়ামী লীগের। তিনি বলেন, সামরিক শাসকরা বন্দুক ব্যবহার করে রাষ্ট্রক্ষমতা দখল করতো এবং রাজনৈতিক দল গঠন করে রাজনীতিতে পৃষ্ঠপোষকতা করতো। এসময় রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বন্ধে উদ্যোগ নিতে ব্রিটিশ সংসদ সদস্যদের প্রতি আহ্বান জানান শেখ হাসিনা। বলেন, নিষেধাজ্ঞা ও পাল্টা নিষেধাজ্ঞার ফলে বাংলাদেশের মতো দেশগুলো নানাভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। সরকারপ্রধান বলেন, ইউক্রেন থেকে খাদ্যশস্য, প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র এবং ভোজ্যতেল আসত। কিন্তু যুদ্ধের কারণে এই আইটেমগুলোর আমদানি বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। ফলে এই জিনিসগুলোর দাম বৃদ্ধি পাচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী যুক্তরাজ্যের উদ্যোক্তাদের সারা দেশে ১০০টি বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলে বিনিয়োগের আহ্বান জানান। বলেন, ‘আমরা সেখানে যুক্তরাজ্যের বিনিয়োগকে স্বাগত জানাব।’ ব্রিটিশ এমপিরা বাংলাদেশের অভূতপূর্ব অবকাঠামোগত উন্নয়নে সন্তোষ প্রকাশ করেন। তারা এ উন্নয়নের জন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রশংসা করেন। প্রেসসচিব বলেন, ‘বিশেষ করে তারা মেট্রোরেল, পদ্মা সেতু ও বঙ্গবন্ধু টানেলসহ কানেকটিভিটির উন্নয়নের ভূয়সী প্রশংসা করেছেন।’ বাংলাদেশের উন্নয়নে এসব অবকাঠামো খুবই সহায়ক হবে বলে মনে করেন সংসদ সদস্যরা। ব্রিটেনকে বাংলাদেশের উন্নয়ন অংশীদার উল্লেখ করে তারা বলেন, ব্রিটেন বাংলাদেশের উন্নয়নে কাজ করতে চায়।  তারা উল্লেখ করেছেন যে, যুক্তরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিরা অনেক পরিশ্রমী এবং তারা ব্রিটিশ অর্থনীতিতে বিশেষ অবদান রেখে চলেছেন। তারা আরও বলেন, যুক্তরাজ্য জলবায়ু পরিবর্তন ইস্যুতে বাংলাদেশের সঙ্গে কাজ করবে। ব্রিটিশ এমপিরা বাংলাদেশের আগামী সাধারণ নির্বাচন নিয়েও আলোচনা করেছেন বলে জানান ইহসানুল করিম।. 

    প্রধানমন্ত্রীকে বরণে প্রস্তুত রাজশাহী

    অসীম কুমার সরকার, রাজশাহী প্রতিনিধি: প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আগামীকাল রাজশাহীতে আসছেন। ওই দিন বিকেলে রাজশাহী মাদরাসা মাঠে আওয়ামীলীগ আয়োজিত জনসভায় ভাষণ দেবেন প্রধানমন্ত্রী। রাজশাহীতে দিনব্যাপী সফরে ১হাজার ৩১৭ কোটি টাকার ২৫টি প্রকল্প উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী। এ দিনই তিনি ৩৭৬ কোটি টাকার আরও ৬টি প্রকল্পের ভিত্তি প্রস্তুর স্থাপন করবেন সরকার প্রধান। এদিকে প্রধানমন্ত্রীর আগমনকে কেন্দ্র করে রাজশাহী সেজেছে বর্ণিল সাজে। যেন উৎসবের সাজ সাজ রব চারিদিকে ছড়িয়ে পড়েছে। প্রধানমন্ত্রীকে বরণ করতে শেষ সময়ের প্রস্তুতিতে ব্যস্ত সময় পার করছেন দলীয় নেতাকর্মীরা। নৌকার আকৃতিতে জনসভাস্থল মাদরাসা মাঠে তৈরি হয়েছে মঞ্চ। চলছে মাঠে সাজসজ্জার কাজ। প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানিয়ে বিলবোর্ড, ব্যানার, ফেস্টুনে ছেয়ে গেছে নগরী। দেয়াল লিখন, আলোকসজ্জা ও তোরণ নির্মাণসহ নানা সাজসজ্জা করা হয়েছে। রাজশাহী বিভাগের সকল জেলা, উপজেলা ও নগর আওয়ামীলীগ ব্যাপক প্রস্তুতি নিয়েছে। সভা-সমাবেশ ছাড়াও প্রচার মিছিল, মাইকিং করা হচ্ছে নগরজুড়ে। শনিবার মাঠে গিয়ে দেখা গেছে, প্রধানমন্ত্রী যে মঞ্চে বক্তব্য দেবেন সেই মঞ্চে সাজসজ্জার কাজ শেষ পর্য়ায়ে। পুরো মাঠসহ চারপাশ সাজানোর কাজ চলছে। রাজশাহীর এই জনসভায় স্মরণকালের জনসমাগম ঘটবে বলে মনে করেন দলীয় নেতারা। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আগামী ২৯ জানুয়ারি সকালে একদিনের সফরসূচিতে রাজশাহী আসছেন। এদিন সকালে তিনি বাংলাদেশ পুলিশ একাডেমিতে ৩৮তম বিসিএস (পুলিশ) ক্যাডারের শিক্ষানবিস সহকারী পুলিশ সুপারদের প্রশিক্ষণ সমাপণী কুচকাওয়াজ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে যোগদান করবেন। পরে দুপুরে রাজশাহীর ঐতিহাসিক মাদরাসার ময়দানে আওয়ামী লীগের বিশাল জনসভায় প্রধান অতিথির ভাষণ দেবেন।  আওয়ামী লীগের সভাপতিমন্ডলীর সদস্য ও রাজশাহী সিটি মেয়র এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটন বলেন, প্রধানমন্ত্রী পাঁচ বছর পর রাজশাহীতে আসছেন। সারাদেশের মতো রাজশাহীর সব উন্নয়নের অবদান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার। রাজশাহীতে প্রধানমন্ত্রীর জনসভা সফল করতে জানুয়ারি মাসের শুরু থেকেই আমরা প্রস্তুতি গ্রহণ করছি। রাজশাহীর পার্শ্ববর্তী বিভিন্ন জেলায় গিয়ে সভা-সমাবেশ ও প্রচার মিছিল করা হয়েছে। সব জায়গাতেই আমরা ব্যাপক সাড়া পাচ্ছি। রাজশাহীতে স্মরণকালের সর্ববৃহৎ জনসভা হবে। সবার কাছেই জনসভাটি স্মরণীয় হয়ে থাকবে। এ জনসভায় প্রধানমন্ত্রী গুরুত্বপূর্ণ দিক নির্দেশনামূলক বক্তব্য রাখবেন। এছাড়া আওয়ামী লীগের সভাপতিমন্ডলীর সদস্য জাহাঙ্গীর কবির নানক বলেন, আগামী ২৯ জানুয়ারি রাজশাহী মহানগরী এক উত্তাল জনসমুদ্রে পরিণত হবে। কেবল এই মাদরাসা মাঠই নয়, পুরো রাজশাহীই মানুষে ছাপিয়ে যাবে; লোকে লোকারণ্য হয়ে যাবে। এরই মধ্যে জনসভার সকল প্রস্তুতি শেষ হয়েছে। সারা উত্তরবঙ্গের মানুষ এখন অপেক্ষায় রয়েছেন জনসভায় আসার জন্য। নাটোর জেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক শরিফুল ইসলাম রমজান বলেন, প্রধানমন্ত্রীর আগমনকে ঘিরে নেতাকর্মীদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ, উদ্দীপনা, উচ্ছ্বাস ও আনন্দের জোয়ার বইছে। নাটোর থেকে চারটি ট্রেনের ব্যবস্থা করা হয়েছে। নলডাঙ্গা, মাধনগন, নাটোর, মালঞ্চি, আব্দুলপুর থেকে ওই ট্রেনে লোক যাবে রাজশাহীতে। এছাড়া জেলা, ৭টি উপজেলা, ৮টি পৌর ও ৫২টি ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি, সাধারণ সম্পাদকের নেতৃতে কর্মী-সমর্থকরা সমাবেশে আসবেন। সমাবেশের আগের দিনই অনেক নেতাকর্মী রাজশাহীতে অবস্থান করবেন। এজন্য যাবতীয় প্রস্তুতি নিচ্ছেন তারা। কতটি গাড়ি রাজশাহীতে আসবে সেটারও তালিকা করা হয়েছে। জেলার নেতারা উপজেলা, পৌরসভা, ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড পর্যায়ে দায়িত্ব ভাগ করে দিয়েছেন। সমাবেশের আগেই যেন নেতা-কর্মীদের বহর নিয়ে রাজশাহী শহরে সকলে প্রবেশ করতে পারেন সে লক্ষ্যে যাবতীয় পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। রাজশাহী মহানগর আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মোহাম্মদ আলী কামাল বলেন, রাজশাহীর বাইরে থেকে যারা আসবেন, তাদের জন্য সর্বোচ্চটা করার প্রচেষ্টা রয়েছে। এছাড়া সমাবেশ উপলক্ষে মাদরাসা মাঠসহ যে ১২টি পয়েন্টে ডিজিটাল মনিটরের মাধ্যমে লাইভ দেখানো হবে। সেখানকার জন্য ৫ শতাধিক স্বেচ্ছাবেসী কাজ করবেন। নির্বিঘ্নে যেন মানুষ আসতে পারে ও সমাবেশ সফল করতে পারে যে লক্ষে যাবতীয় প্রস্তুতিই নেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে, প্রশাসনের পক্ষ থেকে নিরাপত্তার চাদরে ঢেকে দেওয়া হয়েছে রাজশাহী নগরী। র‌্যাব, পুলিশ, গোয়ান্দা সংস্থাসহ পুরো আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তৎপরতা বাড়িয়েছে। কয়েক সপ্তাহ আগে থেকেই সমাবেশস্থল মাদরাসা মাঠে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। নগরীজুড়ে পোশাকে সাদা পোশাকে পুলিশি ও গোয়েন্দা তৎপরতা বাড়ানো হয়েছে। মাদরাসা মাঠে পুলিশি পাহারা বসানো হয়েছে। রাত-দিন ২৪ ঘণ্টা পুলিশি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে মাদরাসা মাঠ। জনসাধারণের মাঠে প্রবেশেও এক ধরনের নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে। আশপাশের এলাকাগুলোতেও পুলিশি নজরদারি ও টহল বাড়ানো হয়েছে। নগরীর গুরুত্বপূর্ণ মোড়েও পুলিশি পাহারা জোরদার করা হয়েছে। জানা যায়, মাঠে আমন্ত্রিত অতিথিসহ গণমাধ্যমকর্মীদের বিষয়েও মাঠ পর্যায়ে খোঁজ নেওয়া হচ্ছে। সন্দেহভাজনদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। নগরীতে চলাচলকারী সন্দেহভাজন ব্যক্তিদের জিজ্ঞাসাবাদের আওতায় আনা হচ্ছে। র‌্যাব-৫ এর অধিনায়ক লে. কর্নেল রিয়াজ শাহরিয়ার বলেন, প্রধানমন্ত্রীর আগমন উপলক্ষে সকল পর্যায়ে গোয়েন্দা তৎপরতা বাড়ানো হয়েছে। পোশাকে, সাদা পোশাকে সমাবেশস্থলসহ নগরী ও যে রুটে প্রধানমন্ত্রী আসবেন সেখানে গোয়েন্দা তৎপরতা আছে। এছাড়া সামাবেশের দিন মাঠে ১০ পেট্রোল র‌্যাব সদস্য মোতায়েন থাকবে। এছাড়া ৩টি রিজার্ভ পেট্রোল থাকবে। পাশাপাশি অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীসহ প্রধানমন্ত্রীর স্পেশাল ফোর্সের সঙ্গে সমন্বয় করে নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হচ্ছে। এদিকে, মাদরাসা মাঠে আওয়ামী লীগের বিভাগীয় এই সমাবেশকে সামনে রেখে রাজশাহী মহানগর এলাকার শান্তি-শৃঙ্খলা রক্ষায় বেশ কিছু নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশ। ২৭ জানুয়ারি সকাল ৬টা থেকে ৩০ জানুয়ারি সকাল ৬টা পর্যন্ত সব ধরনের অস্ত্র-শস্ত্র বহন, আতশবাজি, পটকা ফুটানো, বিস্ফোরক দ্রব্য বহন, সংরক্ষণ, ক্রয়-বিক্রয় ও ব্যবহার এবং অনুমতি ব্যতীত ড্রোন উড্ডয়ন নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশের (আরএমপি) কমিশনার আনিসুর রহমান বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আগমনকে সামনে রেখে এরই মধ্যে ব্যাপক প্রস্তুতি নিয়েছে পুলিশ। ঢাকা হেড কোয়ার্টারের পরিকল্পনা অনুযায়ী আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তাদের কার্যক্রম চালাচ্ছে। যে কোনো ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা এড়াতে আগে থেকে সোচ্চার রয়েছে পুলিশ। 

    আর একজন রোহিঙ্গাকেও ঢুকতে দেওয়া হবে না: পররাষ্ট্রমন্ত্রী

    সময়ের কন্ঠস্বর ডেস্ক: মিয়ানমার থেকে আর একজন রোহিঙ্গাকেও সীমান্ত পার হয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করতে দেওয়া হবে না বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেন। এটা সরকারের নীতিগত সিদ্ধান্ত উল্লেখ করে তিনি বলেন, সম্প্রতি যারা দেশে প্রবেশ করেছে, তাদের বের করে দেওয়া হবে। আজ শুক্রবার সিলেটের ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের আইসিইউ-৩ ইউনিট ও অসংক্রামক রোগ নিয়ন্ত্রণ কর্নারের (এনসিডি) উদ্বোধন অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের তিনি এসব কথা বলেন। দ্বিতীয় ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জমি অধিগ্রহণের নির্দেশ দিয়ে মন্ত্রী বলেন, কাজটি দ্রুত শুরু করতে হবে। কারণ, সিলেটবাসীর স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিতে সরকার আন্তরিক। হাসপাতালের আইসিইউ-৩ ইউনিট এ অঞ্চলের মানুষের, বিশেষ করে মুমূর্ষু রোগীদের জীবন বাঁচাতে মূল্যবান অবদান রাখবে। অবদান রাখবে এনসিডি ইউনিটও। ড. মোমেন বলেন, দ্বিতীয় ওসমানী হাসপাতাল হলে সিলেটবাসীর চিকিৎসাসেবা সহজলভ্য হবে। অনেকে বিদেশে চিকিৎসার জন্য যান। তাঁদের আর যেতে হবে না। বিদেশে চিকিৎসার পেছনে অনেক টাকা খরচ হয় উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, কম টাকায় মানুষের জীবনও অনেক সুরক্ষিত হবে। উদ্বোধনকালে হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ডা. মাহবুবুর রহমান ভুঁইয়া, মেডিকেল কলেজের সদ্য সাবেক অধ্যক্ষ ডা. মইনুল ইসলাম, ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ ডা. শিশির চক্রবর্তী, সাবেক বিভাগীয় স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. হিমাংশু লাল রায়, হাসপাতালের উপপরিচালক ডা. সৌমিত্র চক্রবর্তী প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

    বানর থেকে মানুষের তথ্য, পাঠ্যবইয়ের কোথাও নেই: শিক্ষামন্ত্রী

    সময়ের কন্ঠস্বর ডেস্ক: শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি বলেছেন, ‘পাঠ্যবইয়ে যেসব ভুল বেরিয়েছে, তার অধিকাংশ ১০ বছর আগের। পাঠ্যবইয়ে কোনো ভুল যদি থাকে, সেটা অনিচ্ছাকৃত। আর যদি কেউ ইচ্ছাকৃত ভুল করে, তার জন্য আমরা তদন্ত কমিটি করেছি।’ আজ শুক্রবার বিকেলে চাঁদপুর প্রেসক্লাবে ডাকাতিয়া নদীর পাড়ে ব্র্যাকের অভিজ্ঞতামূলক শিক্ষা তরীর উদ্বোধন অনুষ্ঠানে সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে এসব কথা বলেন শিক্ষামন্ত্রী। শিক্ষামন্ত্রী দীপু মনি বলেন, ‘পাঠ্যবইয়ের কোথাও বানর থেকে মানুষ হয়েছে- এমন কোনো তথ্য নেই। অথচ একটা গোষ্ঠী অপপ্রচার করছে। যেই ছবিটা রয়েছে, বিভিন্ন সময়ের মানুষ। আদিযুগে মানুষ দেখতে কেমন ছিল আর এখন কেমন। তিনি বলেন, ‘অনেকেই না দেখে মন্তব্য করছেন, সত্যিই মনে হয় বইতে এই কথাটি রয়েছে। আপনারা বই খুলে দেখেন, কোথাও এই কথা নেই। কেউ গুজবে কান দেবেন না। এসময় উপস্থিত ছিলেন চাঁদপুর পৌরসভার মেয়র জিল্লুর রহমান জুয়েল, ব্র্যাক শিক্ষা তরীর পরিচালক সাফি রহমান খান, চাঁদপুর সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সানজিদা শাহনাজ, অতিরিক্ত পুলিশ (সদর সার্কেল) ইয়াসির আরাফাত, চাঁদপুর প্রেসক্লাবের সভাপতি এ এইচ এম আহসান উল্লাহ, সাধারণ সম্পাদক আল ইমরান শোভন প্রমুখ।

    সেচ মৌসুমে লোডশেডিং থাকবে না: বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী

    সময়ের কন্ঠস্বর ডেস্ক: চলতি সেচ মৌসুমে লোডশেডিং থাকবে না বলে জানিয়েছেন জ্বালানি বিদ্যুৎ ও খনিজসম্পদ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ। আজ শুক্রবার রাজধানীর ঢাকা রেসিডেনসিয়াল মডেল কলেজে ১৪তম ডিআরএমসি জাতীয় বিজ্ঞান কার্নিভাল ২০২৩-এর উদ্বোধন শেষে তিনি এ কথা বলেন। নসরুল হামিদ বলেন, চাহিদার সঙ্গে সমন্বয় রেখে উৎপাদন বাড়ানো হচ্ছে। কৃষকরা সেচের সময় পিক ও অফ পিক আওয়ার মেনে চললে ভালো ফল পাবেন। একই সঙ্গে বিদ্যুতের দাম পর্যায়ক্রমে সমন্বয় করা হবে তিনি বলেন, ব্যবসায়ীরা নিরবচ্ছিন্ন গ্যাস চেয়েছিলেন। আমরা গ্যাসের মূল্যেরও সমন্বয় করছি। আমরা এখন এপ্রিল থেকে নিরবচ্ছিন্ন গ্যাস দেওয়ার পরিকল্পনা করছি। ভোলায় যে গ্যাস পাওয়া গেছে, তা আগামী দুইমাসের মধ্যে জাতীয় গ্রিডে সংযোগ করা হবে। সেচের মৌসুমে লোডশেডিংয়ের বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘লোডশেডিংটা ওই রকম না। বিভিন্ন জায়গা থেকে আমরা ম্যানেজ করছি। কিছু কিছু জায়গায় লোডশেডিংয়ের সমস্যা দেখা দিচ্ছে। সেচের জন্য আমরা যে সময় নির্ধারণ করেছি ওই সময় সেচযন্ত্র চালালে তেমন সমস্যা হবে না।’ এর আগে, গত ২৪ জানুয়ারি বিদ্যুৎ ভবনে সেচ মৌসুমে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ-সংক্রান্ত আন্তঃমন্ত্রণালয় সভায় বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী বলেন, সেচ মৌসুমে অগ্রাধিকারের ভিত্তিতে বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করা হবে। সার্বিক সমন্বয়ের মাধ্যমে তদারকি জোরদারের মাধ্যমে কৃষকরা উপকৃত হবেন। রক্ষণাবেক্ষণের নামে যেন অহেতুক সময় নষ্ট না হয় বিষয়টি গুরুত্ব দিতে হবে।

    আগামী নির্বাচন সুষ্ঠু হবে, প্রস্তুতি নিচ্ছি: প্রধানমন্ত্রী

    সময়ের কন্ঠস্বর ডেস্ক: প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, দেশের আগামী সাধারণ নির্বাচন অবাধ ও সুষ্ঠু করতে সরকার সব ধরনের প্রস্তুতি নিচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আরও বলেছেন, আমরা নির্বাচনের সব ধরনের প্রস্তুতি নিচ্ছি। সুইজারল্যান্ডের বিদায়ী রাষ্ট্রদূত নাথালি চুয়ার্ড বৃহস্পতিবার প্রধানমন্ত্রীর সংসদ ভবন কার্যালয়ে তার সঙ্গে সাক্ষাৎকালে শেখ হাসিনা এসব কথা বলেন। সাক্ষাৎ শেষে সাংবাদিকদের ব্রিফ করেন প্রধানমন্ত্রীর স্পিচ রাইটার মো. নজরুল ইসলাম। শেখ হাসিনা বলেন, নির্বাচন কমিশন আইন প্রণয়নের পর সরকার সার্চ কমিটির মাধ্যমে নিরপেক্ষ নির্বাচন কমিশন গঠন করেছে। বিদেশি পর্যবেক্ষকরা নির্বাচন তদারকি করতে আসবেন এবং তারা স্বাধীনভাবে তাদের কাজ করবেন। তিনি বলেন, দেশের নির্বাচন কমিশন সম্পূর্ণ স্বাধীন, এর ওপর এবং এর বাজেটের ওপর সরকারের কোনো নিয়ন্ত্রণ নেই। আওয়ামী লীগ সভাপতি বলেন, আওয়ামী লীগ বাংলাদেশের প্রধান রাজনৈতিক দল যার ভিত্তি তৃণমূল পর্যায় পর্যন্ত রয়েছে। এই রাজনৈতিক দলের (আওয়ামী লীগ) জন্ম গণমানুষ থেকে। প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিএনপির জন্ম সেনানিবাস থেকে। এই দলের প্রধান প্রথমে অবৈধভাবে রাষ্ট্রক্ষমতা দখল করে রাষ্ট্রপতি হন, পরে রাজনৈতিক দল গঠন করেন। জনগণের মধ্যে তাদের কোনো ভিত্তি নেই। জামায়াতে ইসলামী সম্পর্কে তিনি বলেন, তারা ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের সময় মানবতাবিরোধী অপরাধে জড়িত ছিল। জনগণের মধ্যে তাদের কোনো ভিত্তি নেই। তিনি আশা প্রকাশ করে বলেন, আগামী নির্বাচনে জনগণ আওয়ামী লীগকে ভোট দিলে সরকার গঠন করবে। শেখ হাসিনা বলেন, গত ১৪ বছরে সরকার দেশের ব্যাপক রূপান্তর ঘটিয়েছে। ২০০৮ সালের নির্বাচনে জনগণ আওয়ামী লীগ ও তার জোটকে দুই তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতায় ভোট দেওয়ার কারণে এটা সম্ভব হয়েছে। আওয়ামী লীগ সবসময় জনগণের শক্তিতে বিশ্বাস করে এবং গণতন্ত্রের বিকাশে কাজ করে। রোহিঙ্গা ইস্যু প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ১০ লাখের বেশি মিয়ানমারের নাগরিক বাংলাদেশের জন্য বোঝা। তিনি সব পশ্চিমা দেশকে মিয়ানমারের নাগরিকদের তাদের নিজ দেশে প্রত্যাবর্তনে সমর্থন প্রসারিত করার আহ্বান জানান। তিনি আরও বলেন, কোভিড-১৯ এবং রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে সারা বিশ্বের অর্থনীতিতে নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে। কোভিড এবং ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধ বাংলাদেশসহ উন্নয়নশীল দেশগুলোকে কষ্টে ফেলেছে। আমরা এই প্রভাব বন্ধ করার চেষ্টা করছি। তিনি প্রশ্ন তোলেন, এই যুদ্ধে কাদের লাভ। শুধু অস্ত্র বিক্রেতারাই লাভবান হচ্ছে। বিশ্বের উচিত অবিলম্বে এই যুদ্ধ বন্ধ করা। এ সময় প্রধানমন্ত্রী দেশে নারীর ক্ষমতায়নের কথাও সংক্ষেপে বর্ণনা করেন। সুইজারল্যান্ডের বিদায়ী রাষ্ট্রদূত নাথালি চুয়ার্ড বলেন, বাংলাদেশ স্বল্পোন্নত দেশ থেকে উন্নয়নশীল দেশে পরিণত হচ্ছে এবং তার দেশ মসৃণ উত্তরণে বাংলাদেশকে সমর্থন অব্যাহত রাখবে। তিনি বলেন, আমি সবসময় বাংলাদেশের শুভাকাঙ্ক্ষী হিসেবে থাকব। তিনি বলেন, তিনি দেশের প্রতিটি কোণ পরিদর্শন করেছেন এবং তিনি দেশের উল্লেখযোগ্য এবং চিত্তাকর্ষক উন্নয়ন প্রত্যক্ষ করে মুগ্ধ হয়েছেন। নাথালি চুয়ার্ড বলেন, বাংলাদেশকে কোভিড-১৯ মহামারি, রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ এবং জলবায়ু পরিবর্তনসহ কিছু চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে হবে। আমি আশা করছি যে বাংলাদেশ এই সব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে আরও এগিয়ে যেতে পারবে। তিনি গণতন্ত্রের মান, এর স্থিতিশীলতা এবং প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে সুসম্পর্কের প্রশংসা করেন। তিনি দেশের নারীর ক্ষমতায়নের, অগ্রগতিরও ভূয়সী প্রশংসা করেন। রোহিঙ্গা ইস্যু প্রসঙ্গে সুইজারল্যান্ডের বিদায়ী রাষ্ট্রদূত মনে করেন, তাদের (রোহিঙ্গা) দ্রুত স্বদেশে ফিরে যাওয়া উচিত। তিনি বলেন, দেশের নির্বাচন কমিশন সম্পূর্ণ স্বাধীন এবং এর ওপর সরকারের কোনো নিয়ন্ত্রণ নেই।

    ডিসিদের দুর্নীতিমুক্ত থাকতে বললেন রাষ্ট্রপতি

    সময়ের কন্ঠস্বর ডেস্ক: সরকারের বহুমুখী কার্যক্রম সমন্বয় ও তত্ত্বাবধানকারী হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে ক্ষমতার অপপ্রয়োগ যাতে না হয় তা নিশ্চিত করার জেলা প্রশাসকদেরকে (ডিসি) নির্দেশ দিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মো. আব্দুল হামিদ। আজ বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় বঙ্গভবনে ‘জেলা প্রশাসক সম্মেলন-২০২৩’-এর তৃতীয় দিনে ডিসিদের উদ্দেশে এ নির্দেশনা দেন তিনি। ডিসিদের উদ্দেশে রাষ্ট্রপতি মো. আব্দুল হামিদ বলেন, ‘নিজে দুর্নীতিমুক্ত থাকবেন, এবং অন্যরাও যাতে দুর্নীতির সুযোগ না পায় সেদিকেও খেয়াল রাখবেন। দুর্নীতি দেশের উন্নয়নের সবচেয়ে বড় অন্তরায়। দুর্নীতির কারণে টেকসই উন্নয়ন বাধাগ্রস্থ হচ্ছে। তাই মাঠ প্রশাসনের প্রতিটি স্তরে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে।আশা করি, আপনারা কর্মক্ষেত্রে দায়িত্ব ও ক্ষমতার পার্থক্য সচেতনভাবে বজায় রাখবেন। জনকল্যাণে ও মানবাধিকার সমুন্নত রাখতে ডিসিদেরকে তাদের মেধা ও দক্ষতা ব্যবহার করার ও নির্দেশনা দেন রাষ্ট্রপতি। তিনি আশা প্রকাশ করেন, জেলা প্রশাসকরা মুক্তিযুদ্ধের চেতনার আলোকে দেশাত্মবোধ ও একাগ্রতার সঙ্গে অর্পিত দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করে যাবেন। বাংলাদেশ ইতোমধ্যে স্বল্পোন্নত দেশ থেকে উন্নয়নশীল দেশের মর্যাদায় উন্নীত হয়েছে উল্লেখ করে রাষ্ট্রপতি প্রত্যাশা করেন, ২০৩০-এর মধ্যেই বাংলাদেশ এসডিজির সব লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে সক্ষম হবে এবং ২০৪১ সালের মধ্যে ‘আধুনিক ও স্মার্ট বাংলাদেশে’ পরিণত হবে। জেলা প্রশাসনের কর্ণধার ও সেবক হিসেবে জনগণের দোরগোঁড়ায় সরকারি সেবা পৌঁছে দেওয়ার অর্পিত এ গুরুদায়িত্ব আরও নিষ্ঠার সঙ্গে পালন করার  আহ্বান জানান রাষ্ট্রপতি। তিনি প্রধানমন্ত্রীসহ মন্ত্রিপরিষদের সম্মানিত সদস্যদের কাছ থেকে প্রাপ্ত মূল্যবান পরামর্শ ও প্রয়োজনীয় দিক-নির্দেশনাগুলো বাস্তবায়নে ডিসিদেরকে আন্তরিক হওয়ার পরামর্শ দেন। মো. আব্দুল হামিদ বলেন, ‘জনগণের সেবা দেওয়া আপনাদের দায়িত্ব ও কর্তব্য। এটাকে দয়া বা অনুগ্রহ মনে করার কিছু নেই। করোনাকালে ও পরবর্তীতে করোনার অভিঘাত মোকাবিলায় সরকারের বিভিন্ন আর্থিক ও প্রণোদনা প্যাকেজ বাস্তবায়নে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের জন্য জেলা প্রশাসকদের ধন্যবাদ জানান তিনি। রাষ্ট্রপতি চলমান রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের প্রভাবে খাদ্যদ্রব্য, ভোজ্য তেল ও জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধিসহ জাতীয় জীবনে নানাবিধ চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় তাদেরকে সব সময়ই জনগণের পাশে থাকার নির্দেশনা দেন। রাষ্ট্রপতি মো. আব্দুল হামিদ বলেন, ‘বৈশ্বিক পরিস্থিতি মাথায় রেখে সরকারি সম্পদের সর্বোচ্চ ব্যবহার, ব্যয় সংকোচন এবং সরকারের উন্নয়ন কর্মসূচির সফল বাস্তবায়নে আপনাদের আরো যত্নশীল হওয়ার অনুরোধ করছি। পরিবেশবান্ধব গ্রামোন্নয়নে আবাসন, শিক্ষা, কৃষি নির্ভর শিল্পের প্রসার, চিকিৎসা সেবা, বিদ্যুৎ, গ্যাস, পানীয় জল ও পয়ঃনিষ্কাশনের ব্যবস্থার মাধ্যমে উপজেলা সদরে ও বর্ধিষ্ণু শিল্পকেন্দ্রগুলোকে আধুনিক শহর-উপশহর হিসেবে গড়ে তুলতে সরকারি উদ্যোগের সঙ্গে বেসরকারি উদ্যোগের সমন্বয় ঘটাতে জেলা প্রশাসকদেরকেও কার্যকরী ভূমিকা রাখার নির্দেশ দেন রাষ্ট্রপতি। ভূমি ব্যবস্থাপনার সঙ্গে জনগণের সরাসরি সম্পৃক্ততার কথা উল্লেখ করে তিনি দক্ষ, আধুনিক, জনকল্যাণমুখী ও টেকসই ভূমি ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে ভূমির সর্বোত্তম ব্যবহার এবং ভূমি সংক্রান্ত জনবান্ধব ডিজিটাইজ সেবা নিশ্চিতকরণে ডিসিদের আরও বেশি কৌশলী ও তৎপর হওয়ার তাগিদ দেন। রাষ্ট্রপতি বলেন, ‘এসব ব্যাপারে জেলা প্রশাসকদেরকে আরও কঠোর হতে হবে। এসি ল্যান্ডসহ তৃণমূল পর্যায়ের ভূমি অফিসগুলোকে দুর্নীতিমুক্ত রাখতে হবে।’ জেলা ই-সার্ভিস সেন্টার, পৌর ডিজিটাল সেন্টার ও ইউনিয়ন ডিজিটাল সেন্টারগুলোর সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে তথ্যপ্রযুক্তি সেবাকে তৃণমূল পর্যায়ে পৌঁছে দিতে ডিসিদের কার্যকরী ভূমিকা রাখার পরামর্শ দেন রাষ্ট্রপতি। দুর্যোগপ্রবণ বাংলাদেশে জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণে সামাজিক বনায়ন, বন্যা নিয়ন্ত্রণ ও নিষ্কাশন, জলাভূমির উন্নয়ন এবং জলবায়ু পরিবর্তনজনিত কারণে প্রাকৃতিক দুর্যোগের ঝুঁকি হ্রাস ও দুর্যোগ মোকাবিলায় সরকারের চলমান কর্মসূচির বাস্তবায়নে ডিসিদেরকে আরও সক্রিয় হওয়ার কথা বলেন রাষ্ট্রপতি। তিনি বলেন, অবৈধ দখলদারদের হাত থেকে বন, নদী ও পাহাড় রক্ষা করতে হবে। যুব সমাজের মেধা, সৃজনশীলতা ও প্রতিভা বিকাশের লক্ষ্যে সরকার যুব সমাজকে সুসংগঠিত ও উৎপাদনমুখী করতে ‘ন্যাশনাল সার্ভিস কর্মসূচি’সহ অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত প্রধানমন্ত্রীর ১০টি বিশেষ উদ্যোগ বাস্তবায়নে কার্যকর অবদান রাখার পরামর্শ দেন রাষ্ট্রপতি মো. আব্দুল হামিদ। তিনি মাদকদ্রব্য যাতে যুব সমাজকে ধ্বংসের মুখে ঠেলে না দেয় সে দিকেও জেলা প্রশাসকদেরকে সতর্ক দৃষ্টি রাখার নির্দেশ দেন। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলা গড়ার পথ পরিক্রমায় একটি উন্নত, আধুনিক ও তথ্যপ্রযুক্তি ভিত্তিক ‘স্মার্ট বাংলাদেশ’ বিনির্মাণে আন্তরিকভাবে কাজ করার আহ্বান জানান রাষ্ট্রপতি।

    নিয়ন্ত্রণে এলেও জঙ্গিবাদ মূলোৎপাটন হয়নি: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

    সময়ের কণ্ঠস্বর, ঢাকা: জঙ্গিদের নিয়ন্ত্রণ করা গেলেও এখনো তাদের মূলোৎপাটন করা যায়নি বলে মন্তব্য করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল। বৃহস্পতিবার (২৬ জানুয়ারি) সকালে রাজধানী উচ্চ বিদ্যালয়ের পূজামণ্ডপ পরিদর্শন শেষে এ কথা বলেন তিনি। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, সরকার জঙ্গিদের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতিতে আছে। যেকোনো মূল্যেই তাদের নির্মূল করা হবে। পাহাড়ে আশ্রয় নেওয়া ৫২ জঙ্গিকে আইনের আওতায় আনা হবে জানিয়ে আসাদুজ্জামান খান কামাল বলেন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সতর্ক আছে। বিভিন্ন সংস্থা সমন্বিতভাবে কাজ করছে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, রোহিঙ্গা সংকটের সমাধান না হলে আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর অনুপ্রবেশ ঘটতে পারে। ক্যাম্প এলাকায় সাম্প্রতিক জঙ্গি আস্তানার সন্ধান সেটিরই ইঙ্গিত বহন করে। এছাড়া ইয়াবার টাকা ভাগাভাগি নিয়ে বিভিন্ন রোহিঙ্গা গ্রুপ মারামারি করছে বলেও জানান তিনি।

    আবারও বাড়ল চিনির দাম

    সময়ের কণ্ঠস্বর, ঢাকা: বাজারে চিনির সংকটের মধ্যেই আবারও পণ্যটির দাম বাড়ানোর ঘোষণা দিয়েছে বাংলাদেশ সুগার রিফাইনার্স অ্যাসোসিয়েশন (বিএসআরএ)। খুচরা পর্যায়ে কেজিতে ৫ টাকা বেড়েছে খোলা ও প্যাকেটজাত চিনির দাম। আগামী ১ ফেব্রুয়ারি থেকে কার্যকর হবে নতুন দাম। বৃহস্পতিবার (২৬ জানুয়ারি) এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানায় সংগঠনটি। বিএসআরএ’র বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, আগামী ১ ফেব্রুয়ারি থেকে নতুন দামে বিক্রি হবে চিনি। খুচরা পর্যায়ে কেজিতে ৫ টাকা বেড়েছে খোলা ও প্যাকেটজাত চিনির দাম। প্রতি কেজি পরিশোধিত খোলা চিনি বিক্রি হবে ১০৭ টাকায়। আর পরিশোধিত প্যাকেটজাত চিনি বিক্রি হবে প্রতি কেজি ১১২ টাকায়। দেশের চিনির বাজার এখনও অস্থির। বাজারে প্যাকেটজাত চিনি নেই বললেই চলে। এমনকি ডিলার পর্যায়েও মিলছে না কাঙ্ক্ষিত চিনি। আবার যাও পাওয়া যাচ্ছে, তাও সরকার নির্ধারিত দামের চেয়ে বেশি দামে কিনতে হচ্ছে ভোক্তাদের। বিএসআরএর বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত চিনির ঊর্ধ্বমুখী দাম, ডলারের বাড়তি বিনিময় হার এবং স্থানীয় পরিশোধনকারী মিলগুলোর উৎপাদন ব্যয় বিবেচনা করে দাম বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।  এক্ষেত্রে বাংলাদেশ ট্রেড অ্যান্ড ট্যারিফ কমিশন ও বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে আলোচনা করা হয়েছে বলেও বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়। এর আগে গত বছরের ১৭ নভেম্বর খোলাবাজারে কেজি প্রতি চিনির মূল্য নির্ধারণ করা হয় ১০২ টাকা, আর প্যাকেটজাত চিনির মূল্য ১০৮ টাকা।  এই চিঠি বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব, বাংলাদেশ ট্যারিফ কমিশন এবং চিনি কম্পানিগুলোর চেয়ারম্যানকে পাঠানো হয়েছে।

    দেশের সব শিল্পাঞ্চলে ফাইভজি সেবা নিশ্চিত করা হবে: প্রধানমন্ত্রী

    সময়ের কণ্ঠস্বর, ঢাকা: দেশের সব শিল্পাঞ্চলে ফাইভজি সেবা নিশ্চিত করা হবে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। বৃহস্পতিবার (২৬ জানুয়ারি) তিন দিনব্যাপী ‘ডিজিটাল বাংলাদেশ মেলা ২০২৩’র উদ্বোধনের সময় এমন মন্তব্য করেন তিনি।  প্রধানমন্ত্রী তার সরকারি বাসভবন গণভবন থেকে ভার্চুয়ালি বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে আয়োজিত অনুষ্ঠানে যুক্ত হন। ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগ আয়োজিত এই মেলা চলবে আগামী শনিবার (২৮ জানুয়ারি) পর্যন্ত। শেখ হাসিনা বলেন, প্রযুক্তিকে হাতিয়ার করে উন্নত সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়তে চায় সরকার। এজন্য দেশের সব শিল্পাঞ্চলে ফাইভজি সেবা নিশ্চিত করা হবে। ডিজিটাল সংযোগেই স্মার্ট বাংলাদেশ বিনির্মাণ করা হবে। মেলার মূল প্রতিপাদ্য নির্ধারণ করা হয়েছে ‘ডিজিটাল বাংলাদেশের সংযুক্তির মহাসড়ক’। জানা গেছে, মেলায় ৫২টি প‌্যাভিলিয়নে বিভিন্ন ডিজিটাল প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান তাদের পণ্য প্রদর্শন করবে। এর মধ্য প্যারেন্টাল কন্ট্রোল, ট্রিপল প্লে (এক ক্যাবলে ল্যান্ডফোনের লাইন, ইন্টারনেট ও ডিশ সংযোগ), মোবাইল অ্যাপস, ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেট সেবা ও ডিজিটাল প্রযুক্তি ইত্যাদি প্রদর্শন করা হবে।  এছাড়া প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান জেডটিই ও হুয়াওয়ে তাদের উদ্ভাবিত পণ্য প্রদর্শন করবে। পাশাপাশি দেশি সফটওয়্যার কোম্পানিগুলো তাদের তৈরি সফটওয়্যার ও সেবা উপস্থাপন করবে। টেলিকম অপারেটরগুলো তাদের ভয়েস, ইন্টারনেট ও মূল্য সংযোজিত সেবা (ভ্যাস) দেখাবে। মেলায় লাইভ দেখা যাবে ফাইভ-জি।  মেলায় বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে পৃথক কর্নার থাকবে। এর মাধ্যমে বঙ্গবন্ধুর জীবনী তুলে ধরা হবে। এছাড়া ৮টি সেমিনারের মাধ্যমে সরকারের মন্ত্রী এবং অভিজ্ঞ ব্যক্তিরা বর্তমানের প্রযুক্তি ও আগামী দিনে প্রযুক্তির গন্তব্য নিয়ে কথা বলবেন।

    বিআইডব্লিউটিএর অনুমোদন ছাড়া কোনো সেতু নয়: নৌপ্রতিমন্ত্রী

    সময়ের কণ্ঠস্বর, ঢাকা: বিআইডব্লিউটিএর অনুমোদন ছাড়া কোনো সেতু নির্মাণ করা যাবে না বলে জানিয়েছেন নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী খালেদ মাহমুদ। এ ক্ষেত্রে ডিসিদের কার্যকরী ভূমিকা রাখারও নির্দেশ দিয়েছেন তিনি। বৃহস্পতিবার (২৬ জানুয়ারি) দুপুর ১২টায় ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত জেলা প্রশাসক (ডিসি) সম্মেলনের দ্বিতীয় অধিবেশন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন। প্রতিমন্ত্রী বলেন, আমাদের নদীগুলোতে বিভিন্ন ধরনের জাহাজ চলাচল করে। এ ক্ষেত্রে কোন নদীতে কোন জাহাজ চলাচল করবে, সেটা মাথায় রেখেই সেতুগুলো নির্মাণ করতে হবে। সেটির ক্লিয়ারেন্স দেয় বিআইডব্লিউটিএ। এ ক্ষেত্রে তাদের অনুমোদন ছাড়া রোডস, এলজিইডি, সেতু বিভাগ কেউই যেন কোনো ব্রিজ নির্মাণ করতে না পারে, এ বিষয়ে জেলা প্রশাসকদের তদারকি করতে বলেছি।

    বাঘ বুড়ো হলেও তার থাবা বুড়ো হয়না: আ ক ম মোজাম্মেল হক

    টাঙ্গাইল প্রতিনিধি: মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক বলেছেন, কাদের সিদ্দিকী ইতিহাসের গর্বিত সন্তান। মুক্তিযুদ্ধের মহামানব। তার বীরত্বগাঁথা ইতিহাসে বিরল। যুদ্ধ শেষে বিজয়ী হয়ে তিনি এক লাখ চার হাজার অস্ত্র বঙ্গবন্ধুর কাছে জমা দিয়েছিলেন। এটি একটি বিষ্ময়। বাংলাদেশ সৃষ্টিতে কাদেরিয়া বাহিনীর গৌরবোজ্জল ভূমিকা রয়েছে।  মঙ্গলবার (২৪ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় টাঙ্গাইলে মুক্তিযুদ্ধকালীন কাদেরিয়া বাহিনীর বঙ্গবন্ধুর কাছে অস্ত্র জমা দেয়ার ৫০ বছর পুর্তি অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে মন্ত্রী তিনি এসব কথা বলেন। শহরের শহীদ মিনারে আয়োজিত অনুষ্ঠানে মন্ত্রী আরও বলেন, কাদের সিদ্দিকীর বক্তব্যে স্থানীয় আওয়ামী লীগ সম্পর্কে যে মনোভাব প্রকাশ তা আমার জন্য বিব্রতকর। আমরা এই অনুষ্ঠানটিকে জাতীয় রাজনীতির প্রেক্ষাপটে দেখতে চাই। সম্পর্কের কোন অবনতি থাকলে তা জাতীয়ভাবে নিতে চাই না। জাতীয়ভাবে আমরা মনে করি এটি একটি ঐতিহাসিক দিন। কাদেরিয়া বাহিনীর যোদ্ধারা পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর কাছ থেকে অস্ত্র লুট করে মুক্তিযোদ্ধাদের সরবরাহ করছে। সেই অস্ত্র দিয়ে যুদ্ধ করে দেশ স্বাধীন করা হয়েছে। কাদেরিয়া বাহিনীর যোদ্ধারা আমার চেয়েও সাহসী ছিলেন। কাদের সিদ্দিকীকে উদ্দেশ্যে করে মন্ত্রী বলেন, বাঘ বুড়ো হয়, কিন্তু তার থাবা বুড়ো হয় না। বয়স আমাদের হতে পারে। এই ৫২ বছরে আমরা সেই ২৫/২৬ বছরের টকবগে যুবক নয়। তাই ঘোলা পানিতে কেউ মাছ শিকারের চেষ্টা করবেন না। অনুষ্ঠানে আওয়ামী লীগের মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক সম্পাদক সংসদ সদস্য মৃণাল কান্তি দাস বলেন, দলের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের তাকে এই অনুষ্ঠানে যোগদানের নির্দেশ প্রদান করেছেন।  তিনি কাদের সিদ্দিকীকে বঙ্গবন্ধুর স্বার্থক আদর্শিক পুত্র অবহিত করে বলেন, আসুন আমরাও আপনাকে নিয়ে পথ চলতে চাই। ২৪ সালে যে নির্বাচন হবে সে নির্বাচনে এক বৃত্তে থাকবেন মুক্তিযুদ্ধের বীরসেনানীরা। স্বার্থক পিতার স্বার্থক উত্তরসূরী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আমরা স্বাধীনতা বিরোধী শক্তির বিরুদ্ধে লড়বো। কাদেরিয়া বাহিনীর অস্ত্র জমাদান দিবস উদযাপন কমিটির আহবায়ক আবু মোহাম্মদ এনায়েত করিমের সভাপতিত্বে বক্তব্য রাখেন সাবেকমন্ত্রী ও সাবেক সংসদ সদস্য আবদুল লতিফ সিদ্দিকী, বীরমুক্তিযোদ্ধা কবি বুলবুল খান মাহবুুব, কবি আল মুজাহিদী, আব্দুল কাদের সিদ্দিকীর সহধর্মিনী নাসরিন সিদ্দিকী, জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি বীরমুক্তিযোদ্ধা হামিদুল হক মোহন, জেলা জাতীয় পার্টির সাধারণ সম্পাদক আব্দুস ছালাম চাকলাদার, আবুল কালাম আজাদ বীরবিক্রম, হাবিবুর রহমান তালুকদার বীরপ্রতীক প্রমুখ।

    আল্লাহ গজব না দিলে দুর্ভিক্ষের কোনো চান্স নেই: খাদ্যমন্ত্রী

    সময়ের কণ্ঠস্বর, ঢাকা: বৈশ্বিক সংকটের মাঝেও দেশে দুর্ভিক্ষ হওয়ার কোনো সুযোগ নেই বলে জানিয়েছেন খাদ্যমন্ত্রী সাধন চন্দ্র মজুমদার। তিনি বলেন, শঙ্কিত হওয়ার কোনো কারণ নেই, আমি আগেও বলেছি। দেশে দুর্ভিক্ষ হবে না, হওয়ার কোনো চান্স নেই। যদি আল্লাহ নিজের হাতে গজব না ফেলে।  বুধবার (২৫ জানুয়ারি) রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে আয়োজিত জেলা প্রশাসক (ডিসি) সম্মেলনের দ্বিতীয় দিনের দ্বিতীয় অধিবেশন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এ কথা বলেন তিনি। মন্ত্রী বলেন, ‘আমনের আগে খরার সময় আমরা মনে করছিলাম দুর্ভিক্ষ হবে, আমন হবে না ইত্যাদি ইত্যাদি। এবার আমনের বাম্পার ফলন হয়েছে। সংগ্রহ ভালো হচ্ছে, সরবরাহ ভালো আছে। এখন সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ মজুত (সরকারি খাদ্যশস্যের), এখন ১৯ লাখ ২৫ লাখ টন সরকারি মজুত, যেটা কোনোদিনই ছিল না। এখনও সংগ্রহ চলছে। আমরা মাসে এক লাখ টন করে ওএমএস দিচ্ছি।’ সারাদেশেই এবার সরিষা চাষ হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, আমরা তো মনে হয় এবার ৩০ শতাংশ ভোজ্যতেল সরিষা থেকেই পাব। চালের দাম যাদের জন্য অসহনীয় পর্যায়ে তাদের জন্য ওএমএস, খাদ্যবান্ধব কর্মসূচি, ভিজিডি, ভিজিএফ ইত্যাদি আছেই। অতএব শঙ্কিত হওয়ার কারণ নেই। সবাই ভালো আছেন। খাদ্য অপচয় রোধের তাগিদ দিয়ে মন্ত্রী বলেন, খাবার অপচয়টা যাতে রোধ হয়। একটি বিয়ে বাড়িতে দেখা যায় প্রায় ১০ থেকে ১৫ শতাংশ খাবার নষ্ট হয়। এটা রোধ করতে হবে। শেখ হাসিনার বাংলাদেশ ক্ষুধা হবে নিরুদ্দেশ। পেট ঠান্ডা, মাথা ঠান্ডা।

    চালু হলো পল্লবী স্টেশন, ৭ মিনিটে পল্লবী টু আগারগাঁও

    সময়ের কণ্ঠস্বর, ঢাকা: চালু হয়েছে মেট্রোরেলের পল্লবী স্টেশন। বুধবার থেকে রাজধানীর এই স্টেশনে যাত্রী উঠা নামায় থামছে ট্রেন। সকাল সাড়ে ৮টায় শুরু হয়ে এ স্টেশনের কার্যক্রম চলবে দুপুর সাড়ে ১২টা পর্যন্ত। মঙ্গলবার সাপ্তাহিক বন্ধ ছাড়া সপ্তাহের বাকি ছয় দিনই মেট্রোরেলে চলাচল করছে। একইসঙ্গে মেট্রোরেলের চলাচলের সময়েরও পরিবর্তন হয়েছে। এর মধ্য দিয়ে মিরপুরের যাত্রীদের নতুন একটি চলাচলের পথ উন্মুক্ত হলো। মেট্রোরেলের মাধ্যমে তারা এখন অনায়াসে উত্তরা ও আগারগাঁও যেতে পারবেন। প্রথমদিন রাজধানীর উত্তরা থেকে ট্রেনটি মিরপুরের পল্লবী স্টেশনে যখন পৌঁছে, তখন সকাল ৮ টা ৩৫ মিনিট। যাত্রী ওঠার পর ট্রেনটি আগারগাঁওয়ের উদ্দেশ্য রওনা হয় ৮টা ৩৭ মিনিটে। পল্লবী থেকে আগারগাঁও আসতে যাত্রীদের সময় লেগেছে মাত্র ৭ মিনিট। ঢাকা ম্যাস ট্রানজিট কোম্পানি লিমিটেড-ডিএমটিসিএলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এম এ এন ছিদ্দিক জানান, তিনটি স্টেশনে সকাল সাড়ে ৮টা থেকে দুপুর সাড়ে ১২টা পর্যন্ত ট্রেন চলাচল করবে। তবে টিকিট কাটার সুবিধার্থে যাত্রীদের জন্য গেট খোলা হবে সকাল ৮টা থেকে। ট্রেনগুলো আগের মতোই ১০ মিনিট পরপর চলাচল করবে। ডিএমটিসিএলের মহাব্যবস্থাপক ইফতেখার হোসেন গণমাধ্যমকে বলেন, প্রথম দিনের শুরুতে পল্লবী স্টেশনে যাত্রী সংখ্যা কিছুটা কম। দিন বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে যাত্রীর সংখ্যা বাড়বে। গত ২৮ ডিসেম্বর আনুষ্ঠানিকভাবে উত্তরা থেকে আগারগাঁও মেট্রোরেল চালু হয়। এতদিন এ দুটি স্টেশনে যাত্রীরা চলাচল করতে পারতেন। আজ বুধবার থেকে পল্লবী স্টেশনে ট্রেন থামতে শুরু করেছে। ১১ দশমিক ৭৩ কিলোমিটার দীর্ঘ দিয়াবাড়ী-আগারগাঁও রুটে স্টেশনের সংখ্যা ৯টি। আজ পল্লবীসহ সচল হচ্ছে তিনটি। উত্তরা সেন্টার, উত্তরা সাউথ, মিরপুর-১১, মিরপুর-১০, কাজীপাড়া ও শেওড়াপাড়া স্টেশনে আগামী ২৬ মার্চ থেকে ট্রেন থামবে। পল্লবী থেকে আগারগাঁওয়ের ভাড়া ৩০ টাকা। দিয়াবাড়ীর ভাড়াও ৩০ টাকা।

    মাদ্রাসাতেও স্কাউটিং চালু করতে হবে: প্রধানমন্ত্রী

    সময়ের কণ্ঠস্বর, ঢাকা: প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, স্কুলের পাশাপাশি মাদ্রাসাতেও স্কাউটিং চালু করতে হবে। বাছাইকৃত নয়, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রতিটি শিক্ষার্থীই যাতে স্কাউটিংয়ের প্রশিক্ষণ পায় সে বিষয় ব্যবস্থা নিতে হবে। বুধবার (২৫ জানুয়ারি) বেলা সাড়ে ১১টায় গাজীপুরের কালিয়াকৈরের মৌচাকে স্কাউট জাম্বুরির ৩২তম সমাবেশের সমাপ্তি অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমি প্রতিটি শিশুকে দেশের একজন যোগ্য নাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে চাই। স্কাউটদের নৈতিক ও জীবনমুখী শিক্ষা দিয়ে, সেবা দেওয়ার মানসিকতা সম্পন্ন করে দেশপ্রেমিক ও সচেতন নাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে হবে।’  তিনি বলেন, আমি চাই আমাদের দেশটা আরো চমৎকারভাবে গড়ে উঠুক যেখানে মাদক, সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদের কোন স্থান হবে না। দেশ সাম্প্রদায়িকতা ও সন্ত্রাসমুক্ত থাকবে। কাজেই বাংলাদেশে যে শিশুরা বড় হবে তারা উদার মন নিয়ে বড় হবে, দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ হবে এবং দেশকে সুন্দরভাবে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য তারা কাজ করবে।  শেখ হাসিনা বলেন, স্কাউটিং নতুন প্রজন্মকে নৈতিক ও জীবনধর্মী প্রশিক্ষণ দিয়ে থাকে। এর মাধ্যমে তরুণদের মাঝে আধুনিক, প্রগতিশীল ও সৃজনশীল গুণাবলী বিকশিত হয়। ফলে স্কাউট সদস্যরা সেবার মন্ত্রে দীক্ষিত হচ্ছে এবং সচেতন দেশপ্রেমিক নাগরিক হিসেবে নিজেদেরকে গড়ে তুলছে। পরোপকারি হিসেবে সমাজ সেবার ক্ষেত্রে বিশেষ অবদান ও প্রশংসনীয় ভূমিকা রেখে যাচ্ছে। নানা প্রাকৃতিক দুর্যোগ বা কোভিড-১৯ কালীন স্কাউট সদস্যদের সেই আন্তরিকতা আমরা দেখতে পেয়েছি। কাজেই আমি চাই আমাদের দেশে এই স্কাউট আন্দোলন আরো ব্যাপকভাবে গড়ে উঠুক। দেশে স্কাউট আন্দোলন জোরদার করতে তাঁর সরকারের উদ্যোগের সংক্ষিপ্ত বর্ণনা দিয়ে তিনি বলেন, সরকার প্রতিটি উপজেলা ও জেলায় স্কাউট ভবন ও প্রশিক্ষণ কেন্দ্র নির্মাণ করবে। প্রধানমন্ত্রী বিশ্ব স্কাউটস জাম্বুরী ভবিষ্যতে বাংলাদেশে অনুষ্ঠিত হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করে এ লক্ষে প্রস্তুতি নিতে সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দেন। অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী কাব স্কাউটসদের সর্বোচ্চ স্বীকৃতি ‘শাপলা কাব অ্যাওয়ার্ড’ বিতরণ করেন এবং তাঁর নিজের স্বাক্ষরিত সনদপত্র ১২ জনের হাতে তুলে দেন। অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ স্কাউটসের সভাপতি মো. আবুল কালাম আজাদ এবং জাম্বুরী আয়োজক কমিটির সভাপতি ও বাংলাদেশ স্কাউটসের প্রধান জাতীয় কমিশনার ড. মো. মোজাম্মেল হক খান। প্রধানমন্ত্রী আঞ্চলিক ও জাতীয় স্কাউটদের জাম্বুরী চিহ্নিত করে একটি স্মারক ডাক টিকিট ও অবমুক্ত করেন। এ সময় ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগের সচিব আবু হেনা মোরশেদ জামান ও ডাক অধিদপ্তরের মহাপরিচালক হারুনুর রশীদ উপস্থিত ছিলেন।

    রাষ্ট্রপতি নির্বাচন ১৯ ফেব্রুয়ারি

    সময়ের কণ্ঠস্বর, ঢাকা: বাংলাদেশের ২২তম রাষ্ট্রপতি নির্বাচন আগামী ১৯ ফেব্রুয়ারি। রাষ্ট্রপতি পদে আগ্রহী প্রার্থীদের ১২ ফেব্রুয়ারির মধ্যে নির্বাচনী কর্তার কাছে মনোনয়নপত্র জমা দিতে হবে। বুধবার (২৫ জানুয়ারি) নির্বাচন কমিশন এই ভোটের তফসিল ঘোষণা করেছেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কাজী হাবিবুল আউয়াল। নির্বাচন কমিশন সভায় রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের বিস্তারিত দিনক্ষণ চূড়ান্ত করে সাংবাদিকদের এ তথ্য জানানো হয়। কাজী হাবিবুল আউয়াল জানান, দেশের ২২তম রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের জন্য মনোনয়ন জমা দেওয়ার তারিখ ১২ ফেব্রুয়ারি। ১৩ ফেব্রুয়ারি মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই এবং ১৪ ফেব্রুয়ারি প্রার্থিতা প্রত্যাহার করা হবে। প্রার্থীর সংখ্যা একজনের বেশি না হলে তাকেই বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত ঘোষণা করা হবে। আর একাধিক প্রার্থী হলে সংসদের অধিবেশন কক্ষে বিধিমালা অনুযায়ী ভোট হবে ১৯ ফেব্রুয়ারি দুপুর ২টা থেকে বিকাল ৫টার মধ্যে। রাষ্ট্রপতি নির্বাচন পরিচালনা করবেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার কাজী হাবিবুল আউয়াল, যিনি এ নির্বাচনের ‘নির্বাচনী কর্তা’। তার কার্যালয়েই (প্রধান নির্বাচন কমিশনারের অফিসে) নির্ধারিত দিনে অফিস চলাকালে মনোনয়নপত্র জমা দিতে হবে। এর আগে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন নিয়ে আলোচনার জন্য গতকাল জাতীয় সংসদের স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন সিইসি। উল্লেখ্য, সংবিধানের ১২৩(১) অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, রাষ্ট্রপতি পদের মেয়াদ অবসানের কারণে এ পদ শূন্য হলে মেয়াদ সমাপ্তির তারিখের আগের ৯০ থেকে ৬০ দিনের মধ্যে শূন্য পদ পূরণের জন্য নির্বাচন হবে। বর্তমান রাষ্ট্রপতির মেয়াদ শেষ হবে আগামী ২৩ এপ্রিল।

    সীমান্ত হত্যাকাণ্ড বন্ধ না হওয়ায় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর দুঃখ প্রকাশ 

    মোঃ ইউনুস আলী, লালমনিরহাট প্রতিনিধি: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল বলেন, সীমান্তে হত্যাকাণ্ড বন্ধ হচ্ছে না- এটা দুঃখজনক, তবে বিজিবি ও বিএসএফ তাদের সাধ্যমতে সীমান্তে হত্যাকাণ্ড বন্ধে চেষ্টা করছেন। মঙ্গলবার (২৪ জানুয়ারী) দুপুরে দেশের বৃহত্তম সেচ প্রকল্প তিস্তা ব্যারাজ এলাকায় লালমনিরহাট ও নীলফামারী জেলার শীতার্ত মানুষজনের মাঝে শীতবস্ত্র বিতরণকালে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, এ বিষয়ে উভয় পক্ষে আলোচনা চলছে। ভারত সরকারও আন্তরিক। তারা সবসময় বলে থাকেন বর্ডার ক্লিন (সীমান্তে হত্যা) বন্ধ করবেন। তারপরও তারা করছেন। আমরা দুপক্ষই আন্তরিক এটা বন্ধ করতে। খুব শিগগির আমাদের পরিকল্পনা এটা বন্ধে আমরা সফল হবো। এসময় তিনি আরও বলেন, র‍্যাব শুধু এলিড ফোর্স নয়, তারা জনগণের সেবায় কাজ করে যাচ্ছেন। এ সেবার মাধ্যমে তারা আজকে বাংলাদেশের মানুষের হৃদয় জয় করেছেন। আস্থার যায়গাটা জয় করছেন। যখন যার যেটা প্রয়োজন তখন র‍্যাব তার পাশে এসে দাঁড়ায়। সেই জন্য র‍্যাব বাহিনী আজ সবার সবার মনে মনে। সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আরও বলেন, মহান মুক্তিযুদ্ধে যেসব শহীদদের কবর দেশের বাহিরে রয়েছে তাদের কবর দেশে এনে কবর দেওয়ার ইচ্ছা রয়েছে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার। র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়নের (র‍্যাব) আয়োজনে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন স্থানীয় সংসদ সদস্য মোতাহার হোসেন। এ সময় অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন র‍্যাবের মহাপরিচালক এম খুরশীদ হোসেন, ভারপ্রাপ্ত জেলা প্রশাসক টি এম মমিন, জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান মতিয়ার রহমান ও পুলিশ সুপার মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম।

    পাঠ্যবইয়ের ভুলভ্রান্তি সংশোধনে দুটি কমিটি করা হচ্ছে: শিক্ষামন্ত্রী

    সময়ের কণ্ঠস্বর, ঢাকা: নতুন শিক্ষাবর্ষের পাঠ্যবইয়ে ভুল-ভ্রান্তি, তথ্য বিকৃতি ও ধর্মীয় উসকানি সংশোধনসহ জড়িত ব্যক্তিদের চিহ্নিত করতে উচ্চপর্যায়ের দুটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হচ্ছে।  কমিটিতে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়, শিক্ষা মন্ত্রণালয়, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়সহ সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা সম্পৃক্ত থাকবেন বলে জানিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী দীপু মনি।  মঙ্গলবার (২৪ জানুয়ারি) দুপুরে রাজধানীর সেগুনবাগিচায় আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউটে আয়োজিত এক প্রেস কনফারেন্সে তিনি এসব কথা বলেন। এ সময় শিক্ষামন্ত্রী বলেন, পাঠ্যবইয়ের যে ভুলগুলো চিহ্নিত হচ্ছে সেটা খুব ইতিবাচকভাবেই দেখছি। এ ভুলগুলো শনাক্ত করতে আমরা দুটি কমিটি করছি। একটি কমিটিতে আমাদের বিষয়ভিত্তিক বিশেষজ্ঞরা থাকবেন। একই সাথে পাঠ্যবই সংশোধনীতে একটি অনলাইন ফর্ম সরবরাহ করবে মন্ত্রণালয়। এ ফর্মে বিষয়ভিত্তিক বইগুলোর ভুল বা অসংগতি সম্পর্কে দেশ এবং দেশের বাইরে থেকে অবহিত করার সুযোগ থাকবে। বিশেষজ্ঞরা নতুন করে সব বই পর্যালোচনা করবেন। বইয়ের মধ্যে যেসব ভুল চিহ্নিত হবে সেগুলো আমলে নিয়ে বিশেষজ্ঞরা সমাধান করবেন। সেসব সংশোধনী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পাঠিয়ে দেয়া হবে। শিক্ষামন্ত্রী বলেন, 'কে কি বললো, সেটা নিয়ে এখন তাকে পাল্টা আক্রমণের চেয়ে আমি মনে করি- কোথায় ভুল করেছি, আমার কোথায় ভুল আছে, আমার ভুল থাকলে সেটা সংশোধনের ব্যাপারে বেশি আগ্রহী।' তিনি বলেন, 'কেউ কেউ আছেন অন্ধকারে ঢিল ছুড়ছেন, একেবারেই হয়তো পড়ে দেখেননি। কিংবা যারা ইচ্চাকৃতভাবে অন্য কিছু করছেন। তাদের বিষয় দেখবার জন্য সরকারের বিভিন্ন মানুষ থেকে শুরু করে দায়িত্বশীল ব্যক্তি সকলেই আছেন। সেগুলো আপনারা সবাই দেখবেন।' 'আমরা মানুষ, ভুল হতে পারে। ভুল হলে আমি মনে করি তা স্বীকার করতে আমাদের কোনো লজ্জাবোধ থাকা উচিত না। কিন্তু আমাদের মধ্যে কোনো ইচ্ছাকৃত ভুল আছি কি না, অন্যায়ভাবে আমরা সমাজে অস্থিতিশীলতা সৃষ্টির চেষ্টা করেছি কি না, কাউকে হেয় প্রতিপন্ন করেছি কি না সেটা দেখতে হবে।'

    সন্তানের অভিভাবক হিসেবে মায়ের স্বীকৃতি দিলেন হাইকোর্ট

    সময়ের কণ্ঠস্বর, ঢাকা: শিক্ষাসহ প্রয়োজনীয় সকল ফরম পূরণের ক্ষেত্রে অভিভাবকের জায়গায় বাবা অথবা মা আইনগত অভিভাবকে রাখার নির্দেশ দিয়ে এক ঐতিহাসিক রায় দিয়েছেন হাইকোর্ট।  মঙ্গলবার (২৪ জানুয়ারি) বিচারপতি নাইমা হায়দার ও বিচারপতি মো. খায়রুল আলমের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এ রায় দেন। সন্তানের অভিভাবক হিসেবে মা স্বীকৃতি পাবেন কি না- এ বিষয়ে গত ১৬ জানুয়ারি শুনানি শেষে রায়ের জন্য ২৪ জানুয়ারি দিন ধার্য করেন আদালত।  ওইদিন আদালতে রিটের পক্ষে শুনানি করেন অ্যাডভোকেট আইনুননাহার সিদ্দিকা, অ্যাডভোকেট এস এম রেজাউল করিম এবং অ্যাডভোকেট আয়েশা আক্তার। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল অমিত দাশ গুপ্ত। রায়ের পর অ্যাডভোকেট আইনুন্নাহার সিদ্দিকা বলেন, হাইকোর্ট রায়ে বলেছেন, পিতৃপরিচয়হীন সন্তান, যৌনকর্মীদের সন্তান যাদের বাবার পরিচয় নেই তারা শুধু মায়ের নাম দিয়েই ফরম পূরণ করতে পারবেন। হাইকোর্ট রায়ের পর্যবেক্ষণে বলেছেন, সংবিধান সবাইকে সমান অধিকার দিয়েছে, শুধু বাবার নাম না থাকলে একজন শিশু ফরম ফিলাপ করতে পারবে না, পাসপোর্ট পাবে না এটা ঠিক না। এটা সংবিধানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক। সংবিধানে সমতার কারণে বাবা অথবা মায়ের পরিচয় থাকলেই যেকোনো ফরম পূরণ বা রেজিস্ট্রেশন পূরণ করার অধিকার পাবে। অ্যাডভোকেট আয়েশা আক্তার বলেন, আজকের রায়ের ফলে এসএসসি, এইচসি পরীক্ষার ফরম পূরণ, পাসপোর্টের ফরম পূরণসহ সব ফরম পূরণে বাবা অথবা মা অথবা অথবা আইনগত অভিভাবকের নাম লেখা যাবে। এই রায়ের ফলে বাবা-মায়ের উভয়ের নাম লেখার বাধ্যবাধকতা থাকলো না। শুধু মায়ের নাম লিখেও ফরম পূরণ করা যাবে। মাধ্যমিক স্কুল সার্টিফিকেট পরীক্ষায় অংশগ্রহণের আগে শিক্ষার্থী তথ্য ফরমে অত্যাবশ্যকীয়ভাবে বাবার নাম পূরণ করতে না পারায় মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড রাজশাহী ঠাকুরগাঁও জেলার এক তরুণীকে এসএসসি পরীক্ষায় অংশগ্রহণের প্রবেশপত্র দিতে অস্বীকৃতি জানায়।  পরবর্তীতে এ ঘটনার যথাযথ অনুসন্ধানে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে এবং সন্তানের অভিভাবক হিসেবে মায়ের স্বীকৃতি প্রতিষ্ঠার দাবিতে মানবাধিকার সংগঠন বাংলাদেশ লিগ্যাল এইড এন্ড সার্ভিসেস ট্রাস্ট (ব্লাস্ট), বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ এবং নারীপক্ষ যৌথভাবে জনস্বার্থে রিট করে।  সেই রিটের শুনানি নিয়ে বিচারপতি সৈয়দ রেফাত আহম্মেদ ও বিচারপতি মইনুল ইসলাম চৌধুরীর হাইকোর্ট বেঞ্চ রুলসহ আদেশ দেয়। একপর্যায়ে রুলের চুড়ান্ত শুনানি শেষে মঙ্গলবার (২৪ জানুয়ারি) রায় দেয় হাইকোর্ট।

    জেলা প্রশাসকদের সম্মেলন উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী

    সময়ের কণ্ঠস্বর, ঢাকা: জেলা প্রশাসকের (ডিসি) তিন দিনব্যাপী সম্মেলনের উদ্বোধন করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। মঙ্গলবার (২৪ জানুয়ারি) বেলা ১১টা ২৮ মিনিটে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের শাপলা হলে তিনি এই সম্মেলনের উদ্বোধন করেন। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন মন্ত্রিপরিষদ সচিব মো. মাহবুব হোসেন। অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব মো. তোফাজ্জল হোসেন মিয়া, রাজশাহী বিভাগীয় কমিশনার জি এস এম জাফরউল্লাহ, নরসিংদী জেলা প্রশাসক আবু নইম মোহাম্মদ মারুফ খান, বান্দরবানের জেলা প্রশাসক (ডিসি) ইয়াসমিন পারভীন তিবরীজি প্রমুখ। সম্মলনে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে মুক্ত আলোচনায় অংশ নেবেন ডিসিরা। তারা সরাসরি প্রধানমন্ত্রীর কাছে বিভিন্ন বিষয় তুলে ধরবেন। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের অনুষ্ঠানের পরে রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে মন্ত্রণালয় ও বিভাগভিত্তিক কার্য অধিবেশন অনুষ্ঠিত হবে। সরকারের নীতি-নির্ধারক ও জেলা প্রশাসকদের মধ্যে সামনা-সামনি মতবিনিময় এবং প্রয়োজনীয় দিক-নির্দেশনা দেওয়ার জন্য প্রতি বছর ডিসি সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। এ সম্মেলনকে সামনে রেখে এবার ডিসি ও বিভাগীয় কমিশনারদের কাছ থেকে ২৪৫টি প্রস্তাব পাওয়া গেছে। এ বছর সবচেয়ে বেশি প্রস্তাব পাওয়া গেছে স্বাস্থ্যসেবা সংক্রান্ত বিভাগ থেকে। এ মন্ত্রণালয় সংক্রান্ত প্রস্তাব ২৩টি। এরপর ভূমি মন্ত্রণালয় সংক্রান্ত ১৫টি ও পানিসম্পদ মন্ত্রণালয় সংক্রান্ত ১৩টি, সুরক্ষা সেবা বিভাগ সংক্রান্ত ১১টি এবং গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয় সংক্রান্ত ১০টি প্রস্তাব পাওয়া গেছে। এবারের সম্মেলনে মোট ২৬টি অধিবেশন অনুষ্ঠিত হবে। এর মধ্যে বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও বিভাগের সঙ্গে কার্যঅধিবেশন রয়েছে ২০টি।

    সরকারকে সরাতে পাঠ্যবইয়ে ভর করার অপচেষ্টা চলছে: শিক্ষামন্ত্রী

    সময়ের কণ্ঠস্বর, ঢাকা: কোনো ইস্যু না পেয়ে শেখ হাসিনার সরকারকে সরাতে কেউ কেউ নতুন শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তকের ওপর ভর করার চেষ্টা করছেন বলে মন্তব্য করেছেন শিক্ষামন্ত্রী দীপু মনি। সোমবার (২৩ জানুয়ারি) রাজধানীর আন্তর্জাাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউটে প্রাথমিক স্তরের শিক্ষক প্রশিক্ষণ কার্যক্রমের উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক মো. ফরহাদুল ইসলাম। শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ‘পাঠ্যপুস্তক নিয়ে যারা সমালোচনা করছেন তাদেরকে করুণা করা যায়। তারা যা বলছেন তা মিথ্যাচার, সেটি মেনে নেয়া যায় না। পাঠ্যবইয়ে যেগুলো ভুল এখন পর্যন্ত পাওয়া গেছে তা সংশোধন করে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পাঠানো হয়েছে। বাকি বইগুলো সবার জন্য উন্মুক্ত আছে। সবাই মতামত দিন। যেসব মতামত যৌক্তিক তা গ্রহণ করা হবে।’ দীপু মনি বলেন, আমি সবার কাছে অত্যন্ত কৃতজ্ঞ  এবং আমি আনন্দিত এজন্য যে, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়, শিক্ষা মন্ত্রণালয় এবং শিক্ষা বোর্ডসমূহের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার পাশাপাশি দেশের সব মানুষ পাঠ্যবই পড়ছেন। যত গঠনমূলক সমালোচনা ও পরামর্শ রয়েছে আমাদের দিক, আমরা খোলা মনে সমস্ত পরামর্শ বিবেচনা করবো। যেখানে যৌক্তিক হবে, সেখানে পরিমার্জন, পরিশোধন, পরিশীলন করা হবে। এটি আমি দায়িত্ব নিয়ে বলছি।   তিনি বলেন, কেউ কেউ বই না পড়ে, না দেখে কেউ একজন বলেছে তা শুনে অপরাজনৈতিক হিংসা, বিদ্বেষ নিয়ে সমালোচনা শুরু করেছেন। তারা চায় যে এ সরকার না থাকুক। স্মার্ট বাংলাদেশ কি দরকার, তারা চায় পাকিস্তান। এরকম একটি গোষ্ঠী বলছে, নতুন বইয়ে ইসলাম নাই, যা আছে ওটা ইসলাম বিরোধী। আপনার আশপাশে ও জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড  (এনসিটিবি) এর  ওয়েবসাইটে বই আছে আপনি দেখে নিন। চিলে কান নিয়ে গেছে আপনি তার পিছে না ছুটে নিজে দেখুন।   শিক্ষামন্ত্রী আরও বলেন, আমাদের এবারের বইগুলো শিক্ষক, অভিভাবক-শিক্ষার্থী, শিক্ষাবিদ, বিজ্ঞানী, মনোবিজ্ঞানির পরামর্শ নিয়ে করা হয়েছে। আমরা তো মানুষ। আমাদের ভুল হতে পারে। ৩৫ কোটি বই ছাপা হয়, এটি একটি বিশাল কর্মযজ্ঞ। গত বছর বিদ্যুতের সমস্যা ও কাগজের সংকট ছিল। প্রকাশকদের নিয়েও নানান ধরনের সমস্যা সমাধান করতে হয়েছে। যেখানে ভুল থাকবে, যেখানে ধরা পড়বে আমরা তার সব যৌক্তিক ভুল সংশোধন করবো। কিন্তু যারা মিথ্যাচার করছেন তা মেনে নেওয়া হবে না। পশ্চিমবঙ্গের বাতিল করা একটি বইয়ের বর্ণপরিচয় থাকা একটি পৃষ্ঠার সঙ্গে আমার ছবি দিয়ে বলা হচ্ছে যে আমি পৌত্তলিকতা শিখাচ্ছি। সেটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে দিয়ে জীবনের হুমকি দেওয়া হলে সেটি সামাজিকতা নয়।   তিনি বলেন, যেসব শিক্ষকরা সামান্য সম্মানির বিনিময়ে দিনের পর দিন কষ্ট করে বইগুলো সম্পাদনা করে তাদের যদি হুমকি দেওয়া হয়, তাদের আমি কী বলবো।   তিনি আরও বলেন, কোনো মিথ্যাচার ও অপপ্রচার সহ্য করা হবে না। যা যৌক্তিক, সঠিক আমরা তা নিশ্চয় গ্রহণ করবো। কোনো কিছু ইস্যু না পেয়ে শেখ হাসিনা সরকারকে সরাতে নতুন শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তকের ওপরে ভর করার চেষ্টা করা হচ্ছে। কারণ তারা যা বলছেন তা মিথ্যাচার। যেসব ভুল এখন পর্যন্ত পাওয়া গেছে তা সংশোধন করে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পাঠানো হয়েছে।  

    মানবতাবিরোধী অপরাধ: ময়মনসিংহের ৬ জনের মৃত্যুদণ্ড

    সময়ের কণ্ঠস্বর, ঢাকা: মহান মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় ময়মনসিংহের ত্রিশাল উপজেলার ৬ জনের মৃত্যুদণ্ডের রায় দিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। সোমবার (২৩ জানুয়ারি) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চেয়ারম্যান মো. শাহিনুর ইসলামের নেতৃত্বাধীন বেঞ্চ এই রায় ঘোষণা করেন। আসামিরা হলেন, মোখলেছুর রহমান মুকুল, শামসুল হক ফকির, নুরুল হক ফকির, সুলতান মাহমুদ ফকির, নাকিব হোসেন আদিল সরকার ও সাইদুর রহমান রতন। তারা সবাই পলাতক। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী প্রসিকিউটর ব্যারিস্টার তাপস কান্তি বল। এর আগে এই মামলার রায় ঘোষণার জন্য সোমবার দিন ঠিক করেছিলেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। তারই ধারাবাহিকতায় আজ রায় ঘোষণা করা হলো। ব্যারিস্টার তাপস কান্তি বল জানান, এ মামলায় মোট নয়জন আসামি ছিলেন। তাদের মধ্যে গ্রেফতার হয়ে কারাগারে ছিলেন দুজন। কারাগারে থাকা দুজন ও পলাতক একজনসহ মোট তিনজন মারা গেছেন। আর বাকি ছয়জন পলাতক। ২০১৭ সালের ২৬ জানুয়ারি এ মামলার তদন্ত শুরু করা হয়। পরে ওই বছরের ৩১ ডিসেম্বর আসামিদের বিরুদ্ধে তদন্ত প্রতিবেদন ট্রাইব্যুনালে জমা দেওয়া হয়। চার্জ গঠনের সময় আসামির সংখ্যা ছিল ৯। এরপর ২০১৯ সালের ১৮ ফেব্রুয়ারি সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু করার পর শেষ হয় ২০২০ সালের ৫ জানুয়ারি। এতে মোট ১৯ জন সাক্ষ্য দেন। ২০২২ সালের ৫ ডিসেম্বর মামলাটির যুক্তিতর্ক শেষ হয়। এরপর যে কোনো দিন রায়ের জন্য অপেক্ষমাণ রাখা হয়।

    আখেরি মোনাজাতের মাধ্যমে শেষ হলো এবছরের বিশ্ব ইজতেমা

    সময়ের কণ্ঠস্বর, ঢাকা: দেশ ও জাতির কল্যাণ কামনা করে আখেরি মোনাজাতের মধ্যে দিয়ে শেষ হয়েছে এবারের বিশ্ব ইজতেমা। আখেরি মোনাজাতে অংশ নিতে ভোর থেকে লাখ লাখ মুসল্লি ছুটে যায় তঙ্গীর তুরাগ তীরে। মোনাজাতের সময় ‘আমিন, আল্লাহুম্মা আমিন’ ধ্বনিতে তুরাগ তীর মুখতির হয়ে ওঠে।  আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের আশায় লাখ লাখ মুসল্লি আকুতি জানান। অনেকে কেঁদে কেঁদে মহান আল্লাহর কাছে ক্ষমা চান। বিশ্ব শান্তির জন্য দোয়া করেন। রোববার (২২ জানুয়ারি) দুপুর ১২টা ১৫ মিনিটে তুরাগতীরে ইজতেমার দ্বিতীয় পর্বের আখেরি মোনাজাত শুরু হয়। প্রায় আধা ঘণ্টাব্যাপী এ আখেরি মোনাজাত পরিচালনা করেন মাওলানা সাদ কান্ধলভীর বড় ছেলে মাওলানা ইউসুফ বিন সাদ কান্ধলভী।  এর আগে বাদ ফজর বয়ান করেন ভারতের মাওলানা মুরসালিন। আর হেদায়তি বয়ান করেন মাওলানা ইউসুফ বিন সাদ কান্ধলভী। তাদের বয়ান বাংলায় তরজমা করবেন মাওলানা জিয়া বিন কাসিম। আখেরি মোনাজাতে ঈমানি জিন্দেগী, ঈমানি মৃত্যু, উত্তম আখলাক, ঈমানি হাকিকত বুঝার তৌফিক, অন্তরে আল্লাহর ভয় ও মহব্বত সৃষ্টি, সারা জীবনের গোনাহ মুক্তি, উত্তম রিজিক, দুনিয়া ও আখিরাতের কামিয়াবি, পৃথিবীর মুসলিম উম্মাহর কল্যাণ, ঈমানি ভ্রাতৃত্ব মজবুত করা ও সারা বিশ্বের সকল মানুষের জন্য আল্লাহর বিশেষ অনুগ্রহ চাওয়া হয়। মোনাজাতে মাওলানা ইউসুফ বিন সাদ কান্ধলভী প্রথমে সুরা আলে ইমরান থেকে তেলাওয়াত করেন। দয়াময় আল্লাহর নামে হামদ পাঠ করেন। মোনাজাতে তিনি সারা দুনিয়ার মুসলমানদের জান-মাল আর সময়কে আল্লাহর জন্য কবুল, জাহান্নামের ভয়ানক আগুন আর পুলসিরাতের কঠিন পথ মুক্তি এবং মুসলিমদের হকের ওপর অটুট রাখা এবং বাতিল শক্তিকে পরাজিত করার আর্জি জানান।  কবরবাসী সকল মুমিন নারী-পুরুষকে জান্নাতের সর্বোচ্চ মাকাম দান, দ্বীনের জন্য যারা মেহনত করছেন তাদের জান-মাল আর সময় কবুল করে তাদের সম্মান বৃদ্ধি, সাহাবিদের মতো ঈমান, ঈমানি শক্তি, ধৈর্য, প্রজ্ঞা আর সম্প্রতির দোয়া করেন তিনি। দুনিয়ার সমস্ত কাজকর্ম ঈমানের সঙ্গে করার, রাগকে খতম, নাফরমানিকে শেষ করে দিয়ে ঈমানের প্রতি আগ্রহ পয়দা করার বিশেষ আর্জি করা হয় মোনাজাতে। ধ্যানের সাথে নামাজ কায়েম, নামাজের মাধ্যমে যেকোনো সমস্যার সমাধান আর অন্তরকে স্রেফ আল্লাহর দিকে মুতাওয়াজ্জা করার তাওফিক চাওয়া হয়। বিশ্ব মুসলমানদের জানমালের হেফাজত, মুসলমানদের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রকারীদের ষড়যন্ত্র নস্যাৎ, ষড়যন্ত্রকারীদের ষড়যন্ত্র থেকে ঈমানদার মুসলমানদের রক্ষা, বাতিল শক্তির সমস্ত চক্রান্ত-ষড়যন্ত্রকে উৎখাত করার মালিক আল্লাহ। হকের রাজ প্রতিষ্ঠা ও বাতিল শক্তিকে চিরতরে নস্যাৎ করে দিতে আল্লাহর কাছে বিশেষ সাহায্য কামনা করা হয়। মোনাজাতে বিশ্ব শান্তি ও কল্যাণের পাশাপাশি আত্মশুদ্ধির জন্য আল্লাহর সাহায্য কামনা করা হয়। এর আগে প্রথম পর্বের ইজতেমা হয় ১৩ থেকে ১৫ জানুয়ারি পর্যন্ত। ওই পর্বের ইজতেমায় অংশ নেন মাওলানা জুবায়েরের অনুসারীরা। দ্বিতীয় পর্বের ইজতেমার শেষ দিনের কার্যক্রম শুরু হয় বাদ ফজর আমবয়ানের মধ্য দিয়ে। বয়ান চলে সকাল সাড়ে ৭টা পর্যন্ত। খাবারের বিরতি শেষে শুরু হয় হেদায়েতি বয়ান। এরপর শুরু হয় আখেরি মোনাজাত। ১৯৬১ সাল থেকে বাংলাদেশে তাবলিগ জামাতের আয়োজনে ইজতেমা হয়ে আসছে। ২০১৮ সালে তাবলিগের বর্তমান আমির ভারতের দিল্লির মাওলানা সাদ কান্ধলভীকে মানা না-মানাকে কেন্দ্র করে বিভক্ত হয়ে পড়ে তাবলিগ জামাত। ওই বছর ইজতেমায় অংশ নিতে বাংলাদেশে এসে বিরোধের মুখে ফিরে যান তিনি। তাবলিগ জামাতের দুই পক্ষের বিরোধে ২০১৮ সালের ডিসেম্বরে তুরাগ ময়দানে সংঘর্ষে নিহত হন এক মুসল্লি। এরপর ২০১৯ সাল থেকে দুই পক্ষ আলাদাভাবে ইজতেমা করে আসছে।

    শবে মেরাজের তারিখ নির্ধারণে চাঁদ দেখা কমিটির বৈঠক সোমবার

    সময়ের কণ্ঠস্বর, ঢাকা: পবিত্র শব-ই-মিরাজের তারিখ নির্ধারণের লক্ষ্যে আগামী সোমবার (২২ জানুয়ারি) জাতীয় চাঁদ দেখা কমিটির সভা অনুষ্ঠিত হবে। ফলে সোমবার জানা যাবে পবিত্র শব-ই-মিরাজ কবে! রোববার (২২ জানুয়ারি) ইসলামিক ফাউন্ডেশনের এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। এতে জানানো হয়, ১৪৪৪ হিজরি সনের পবিত্র শব-ই-মিরাজের তারিখ নির্ধারণ এবং পবিত্র রজব মাসের চাঁদ দেখার লক্ষ্যে আগামীকাল সন্ধ্যা ৬টায় (বাদ মাগরিব) ইসলামিক ফাউন্ডেশন বায়তুল মুকাররম সভাকক্ষে জাতীয় চাঁদ দেখা কমিটির সভা অনুষ্ঠিত হবে। সভায় সভাপতিত্ব করবেন ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মাননীয় প্রতিমন্ত্রী মো. ফরিদুল হক খান। বাংলাদেশের আকাশে কোথাও পবিত্র রজব মাসের চাঁদ দেখা গেলে তা নিম্নোক্ত টেলিফোন ও ফ্যাক্স নম্বরে অথবা সংশ্লিষ্ট জেলা প্রশাসক অথবা উপজেলা নির্বাহী অফিসারকে জানানোর জন্য অনুরোধ করেছে ইসলামিক ফাউন্ডেশন কর্তৃপক্ষ। টেলিফোন নম্বরগুলো: ০২-২২৩৩৮১৭২৫, ০২-৪১০৫০৯১২, ০২-৪১০৫০৯১৬ এবং ০২-৪১০৫০৯১৭।

    এইচএসসির ফল প্রকাশ ৭ থেকে ৯ ফ্রেব্রুয়ারির মধ্যে

    সময়ের কণ্ঠস্বর, ঢাকা: এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশের সম্ভাব্য দিনক্ষণ ঠিক করে প্রস্তুতি নিচ্ছে শিক্ষা বোর্ডগুলো। আগামী ৭ থেকে ৯ ফেব্রুয়ারির মধ্যে ফল প্রকাশ করতে চায় আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটি। কমিটির আহ্বায়ক ও ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান তপন কুমার সরকার এ তথ্য জানান। তপন কুমার জানান, এ তিন দিনের মধ্যে ফল প্রকাশে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর অনুমতি ও ফল প্রকাশের সময়সূচি পাওয়ার ভিত্তিতে তা প্রকাশ করা হবে। ২০২১-২০২২ শিক্ষাবর্ষের এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা ২০২২ সালের ৬ নভেম্বর থেকে শুরু হয়। এ বছর মোট ১২ লাখ তিন হাজার ৪০৭ জন পরীক্ষার্থী পরীক্ষা দেয়। এর মধ্যে ছয় লাখ ২২ হাজার ৭৬৯ জন ছেলে ও পাঁচ লাখ ৮০ হাজার ৬১১ জন মেয়ে। এবছর দুই হাজার ৬৪৯টি কেন্দ্র ও ৯ হাজার ১৮১টি প্রতিষ্ঠানে এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়।

    বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে হাজী সেলিমের শ্রদ্ধা

    সময়ের কণ্ঠস্বর, ঢাকা: জামিনে মুক্তি পেয়ে বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধা জানিয়েছেন আওয়ামী লীগের সংসদ সদস্য হাজী মোহাম্মদ সেলিম।  শনিবার (২১ জানুয়ারি) দুপুরে তিনি ধানমন্ডি ৩২ নম্বরে বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধা জানাতে আসেন। এ সময় মোটরসাইকেল, ট্রাক ও পিকআপের করে একটি বিশাল শোডাউন দেখা যায়। গত মঙ্গলবার (১৭ জানুয়ারি) দুপুরে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএসএমএমইউ) প্রিজন সেল থেকে মুক্তি পান দুর্নীতির মামলায় ১০ বছরের দণ্ডপ্রাপ্ত হাজী সেলিম। গত ৬ ডিসেম্বর প্রধান বিচারপতি হাসান ফয়েজ সিদ্দিকীর নেতৃত্বে আপিল বেঞ্চ দুর্নীতির মামলায় হাজী মোহাম্মদ সেলিমকে জামিন দেন। একইসঙ্গে ১০ বছর দণ্ডের বিরুদ্ধে হাজী সেলিমকে আপিলের অনুমতি দেওয়া হয়। এর আগে গত ৬ ডিসেম্বর দুর্নীতির মামলায় ১০ বছরের দণ্ডপ্রাপ্ত হাজী মোহাম্মদ সেলিমকে জামিন দেন আপিল বিভাগ। একইসঙ্গে ১০ বছর দণ্ডের বিরুদ্ধে হাজী সেলিমকে আপিলের অনুমতি দেন আদালত। গত বছরের ২২ মে হাজী সেলিম বিচারিক আদালতে আত্মসমর্পণ করে যেকোনো শর্তে জামিনের আবেদন করেন। এদিন দুপুর ২টার দিকে ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৭ এর বিচারক শহিদুল ইসলামের আদালত হাজী সেলিমকে জামিন না দিয়ে কারাগারে পাঠান। কারাগারে উন্নত চিকিৎসা ও প্রথম শ্রেণির ডিভিশন চেয়ে আরও দুটি আবেদন করা হয়। জামিন না দিয়ে এরপর সাজা ভোগের জন্য তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন আদালত। পরে ওইদিন বিকেল ৫টা ৫ মিনিটে আদালত থেকে পিকআপ ভ্যানে তাকে নিয়ে কেরানীগঞ্জ কেন্দ্রীয় কারাগারের উদ্দেশে রওনা হয় পুলিশ। সন্ধ্যা ৬টার দিকে কারাগারে পৌঁছান তিনি। তবে কারাগারে এক রাত কাটিয়ে ২৩ মে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে (বিএসএমএমইউ) ভর্তি করা হয় হাজী সেলিমকে। এরপর থেকে তিনি হাসপাতালেই ছিলেন।

    তত্ত্বাবধায়ক সরকার ফিরে আসার সম্ভাবনা নেই: আইনমন্ত্রী

    সময়ের কণ্ঠস্বর, ঢাকা: তত্ত্বাবধায়ক সরকার ফিরে আসার কোনো সম্ভাবনা নেই বলে জানিয়েছেন আইনমন্ত্রী আনিসুল হক। শনিবার (২১ জানুয়ারি) সকালে বিচার প্রশিক্ষণ ইউনিস্টিউটে এক অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন। আইনমন্ত্রী বলেন, তত্ত্বাবধায়ক সরকারের যে কথা বলা হচ্ছে- সেটা আদালত দ্বারা অবৈধ ঘোষিত হয়েছে। এই রায়ের ভিত্তিতে পঞ্চদশ সংশোধনীও করা হয়েছে। তত্ত্বাবধায়ক সরকার ফিরে আসার সম্ভাবনা আমি দেখি না। তিনি বলেন, যে সরকার ক্ষমতায় থাকে সেই সরকারের স্থায়ীত্বকালেই জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। এই নির্বাচন সুষ্ঠুভাবে পরিচালনার জন্য নির্বাচন কমিশনকে যেসব সহযোগিতা লাগে এবং যেসব সরকারি বিভাগগুলো তাদের আওতায় থাকে সেইগুলো নির্বাচন কমিশনের নির্দেশনায় চলবে। আর সরকার ডে টু ডে রুটিনে কাজ করবে। সেই আদলেই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। কর্মশালায় ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় বিচারক আইনজীবীর মধ্যে বাকবিতণ্ডার ঘটনার দিকে ইঙ্গিত দিয়ে আইনমন্ত্রী বলেন, বিচারকদের সঙ্গে খারাপ আচরণ করলে আইনজীবী ক্ষতিগ্রস্ত না হলেও তার ক্লায়েন্ট ক্ষতিগ্রস্ত হন। কারণ বিচারকের হাতে কলম থাকে। দাবির মুখে কোনো বিচারককে বদলি করা হবে না বলেও মন্তব্য করেন আইনমন্ত্রী।

    ২৩ জেলার ওপর দিয়ে বইছে শৈত্য প্রবাহ

    সময়ের কণ্ঠস্বর, ঢাকা: পৌষের হিমে হাড়কাঁপুনির পর মাঘের শুরুতেও কাঁপছে দেশের বিস্তীর্ণ জনপদ; অনেক এলাকায় চলমান ‍মৃদু থেকে মাঝারি ধরনের শৈত্যপ্রবাহ আরও কয়েকদিন থাকার আভাস মিলেছে। শনিবার (২১ জানুয়ারি) সকাল ৯টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টার আবহাওয়া পূর্বাভাসে এ তথ্য জানানো হয়। এতে বলা হয়, উপমহাদেশীয় উচ্চচাপ বলয়ের বর্ধিতাংশ পশ্চিমবঙ্গ ও তৎসংলগ্ন এলাকায় অবস্থান করছে। মৌসুমের স্বাভাবিক লঘুচাপ দক্ষিণ বঙ্গোপসাগরে অবস্থান করছে। এ অবস্থায় অস্থায়ীভাবে আংশিক মেঘলা আকাশসহ সারাদেশের আবহাওয়া শুষ্ক থাকতে পারে। মধ্যরাত থেকে সকাল পর্যন্ত দেশের নদী অববাহিকায় মাঝারি থেকে ঘন কুয়াশা এবং দেশের অন্যত্র কোথাও কোথাও হালকা থেকে মাঝারি ধরনের কুয়াশা পড়তে পারে। পূর্বাভাসে বলা হয়, দেশের ২৩ জেলায় শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে এবং তা কিছু কিছু এলাকা থেকে প্রশমিত হতে পারে। জেলাগুলো হলো ফরিদপুর, মাদারীপুর, গোপালগঞ্জ, রাজশাহী, পাবনা, নওগাঁ, সিরাজগঞ্জ, মৌলভীবাজার, রাঙ্গামাটি, ফেনী, যশোর, চুয়াডাঙ্গা, কুষ্টিয়া, বরিশাল, ভোলা, কুড়িগ্রাম, রংপুর, লালমনিরহাট, গাইবান্ধা, দিনাজপুর, পঞ্চগড়, ঠাকুরগাঁও ও নীলফামারী। গত ২৪ ঘণ্টায় সর্বনিম্ন ৬ দশমিক ৫ ডিগ্রি সিলসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে তেঁতুলিয়ায়। এ ছাড়া সর্বোচ্চ ২৯ ডিগ্রি সিলসিয়াস রেকর্ড করা হয়েছ টেকনাফে।

    বিশ্বের দূষিত শহরের তালিকায় ফের শীর্ষে ঢাকা

    সময়ের কণ্ঠস্বর ডেস্ক: বিশ্বের দূষিত শহরের তালিকায় আবারও শীর্ষে উঠে এসেছে রাজধানী ঢাকা। শনিবার (২১ জানুয়ারি) সকাল ১০টা ২ মিনিটে বায়ু মানের সূচক (একিউআই) অনুযায়ী ঢাকায় বাতাসের মান ছিল ২৮৫। সেই হিসেবে ঢাকাকে শীর্ষে রাখা হয়েছে। এ ছাড়া একিউআই স্কোর ২৪৬ নিয়ে দ্বিতীয় অবস্থানে ইরাকের বাগদাদ। ২২২ স্কোর নিয়ে তৃতীয় অবস্থানে ভারতের কলকাতা। চতুর্থ স্থানে থাকা ভারতের দিল্লি স্কোর ২১৮। তথ্যমতে, একিউআই স্কোর ১০১ থেকে ২০০ এর মধ্যে থাকলে ‘অস্বাস্থ্যকর’, ২০১ থেকে ৩০০ এর মধ্যে থাকলে ‘খুব অস্বাস্থ্যকর’ এবং স্কোর ৩০১ থেকে ৪০০ এর মধ্যে থাকলে ‘ঝুঁকিপূর্ণ’ বলে বিবেচিত হয়। দীর্ঘদিন ধরে বায়ু দূষণে ভুগছে ঢাকা। এর বাতাসের গুণমান সাধারণত শীতকালে অস্বাস্থ্যকর হয়ে যায় এবং বর্ষাকালে কিছুটা উন্নত হয়। ২০১৯ সালের মার্চ মাসে পরিবেশ অধিদপ্তর ও বিশ্বব্যাংকের একটি প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে যে, ঢাকার বায়ু দূষণের তিনটি প্রধান উৎস হল, ইটভাটা, যানবাহনের ধোঁয়া ও নির্মাণ সাইটের ধুলো।

    বিদেশি কারও ফরমায়েশে দেশ চলবে না: ওবায়দুল কাদের

    সময়ের কন্ঠস্বর ডেস্ক: আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন,`গণতন্ত্রকে নষ্টকারী বিএনপির মুখে গণতন্ত্রের বুলি শোভা পায় না। আমাদের গণতন্ত্র আমরাই চালাব। বিদেশি কারও ফরমায়েশে চলবে না।' আজ শুক্রবার রাজধানীর বঙ্গবন্ধু এভিনিউয়ে দলের প্রধান কার্যালয়ে বঙ্গবন্ধু কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশে শীতবস্ত্র বিতরণ অনুষ্ঠানে তিনি এ সব কথা বলেন। ত্রাণ ও সমাজ কল্যাণ উপকমিটি এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। ওবায়দুল কাদের বলেন, শত বাধা বিপত্তির মধ্যেও শেখ হাসিনা গণতন্ত্র বিকাশে আপ্রাণ চেষ্টা করে যাচ্ছেন। এ দেশে গণতন্ত্রকে মুক্ত করতে অগ্রভাগে ছিলেন শেখ হাসিনা। তার নেতৃত্বেই গণতন্ত্র মুক্ত হয়েছে। ‘তত্ত্বাবধায়ক সরকারকে মৃত ইস্যু’ জানিয়ে সেতুমন্ত্রী বলেন, আগামী নির্বাচন হবে অবাধ, নিরপেক্ষ, সুষ্ঠু ও অংশীদারিত্বমূলক। সরকার শুধু রুটিন দায়িত্ব পালন করবে। সরকারের পরিবর্তন চাইলে বিএনপিকে নির্বাচনে অংশগ্রহণের আহ্বান জানান আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের। তিনি আরও বলেন, যেকোনো দুর্যোগে মানুষের পাশে থাকা আওয়ামী লীগের সাত দশকের ইতিহাস, এটাই আওয়ামী লীগের ঐতিহ্য। ওবায়দুল কাদের বলেন, আওয়ামী লীগ ষড়যন্ত্র করে না, ষড়যন্ত্রের শিকার হয়। আওয়ামী লীগ হত্যার রাজনীতিতে বিশ্বাস করে না কিন্তু বার বার হত্যা রাজনীতির শিকার হয়। এটাই বাস্তবতা। আজকে বিএনপি কখন যে কী বলে! তাদের ভেতরে গণতন্ত্র নেই। সম্মেলন হয় না কতদিন তাদের। নিজেরাই কমিটি দেয়। তারা কিভাবে গণতন্ত্র শেখাবে আওয়ামী লীগ কে? তাদের আমলে ভোটচুরির রেকর্ড হয়েছে, ১ কোটি ২৩ লাখ ভুয়া ভোটার করেছিল, ওয়ান ইলেভেনের জন্য এটা অন্যতম কারণ। তারা গণতন্ত্রের বস্ত্রহরণ করেছে। তাদের মুখে গণতন্ত্রের বুলি মানায় না।    আওয়ামী লীগের ত্রাণ ও সমাজ কল্যাণ বিষয়ক সম্পাদক আমিনুল ইসলামের সভাপতিত্বে শীতবস্ত্র বিতরণ অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন দলের স্বাস্থ্য ও জনসংখ্যা বিষয়ক সম্পাদক ডাক্তার রোকেয়া সুলতানাসহ কেন্দ্রীয় ও মহানগর আওয়ামী লীগের নেতারা। বক্তারা বলেন, যেকোনো দুর্যোগ, দুর্বিপাক কিংবা বিপদ-আপদ সবসময়ই মানুষের পাশে থাকে আওয়ামী লীগ। রাষ্ট্র ক্ষমতার বাইরে থাকলেও পাশে থাকে। এ জন্য বাংলার মানুষ আওয়ামী লীগকে নিজেদের দল মনে করে।

    শিক্ষকদের আরও দায়িত্বশীল হতে বললেন প্রধানমন্ত্রী

    সময়ের কন্ঠস্বর ডেস্ক: প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর উন্নয়ন ও কল্যাণমূলক কাজের জন্য অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশনের মাধ্যমে তহবিল সংগ্রহের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘দেশের বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নয়ন ও কল্যাণমূলক কাজের জন্য অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশনের (প্রাক্তন ছাত্র সমিতির) মাধ্যমে আপনারা (বিশ্ববিদ্যালয়ের) নিজস্ব তহবিল বাড়ান।’ বৃহস্পতিবার প্রধানমন্ত্রী তার সরকারি বাসভবন গণভবনে বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি কাউন্সিলের (বিইউসি) স্থায়ী কমিটির সদস্যদের সঙ্গে সাক্ষাতে এ কথা বলেন। বাংলাদেশের পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যদের নিয়ে বিইউসি গঠন করা হয়েছে। পরে প্রধানমন্ত্রীর ডেপুটি প্রেস সেক্রেটারি কেএম শাখাওয়াত মুন সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান। প্রতিটি বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশন রয়েছে উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, এই অ্যাসোসিয়েশনের মাধ্যমে তারা বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নয়নে নিজস্ব তহবিল সংগ্রহ করতে পারে এবং শিক্ষার্থীদের কল্যাণে উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়ন করতে পারে। শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের মধ্যে সুসম্পর্ক বজায় রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করে তিনি বলেন, পড়াশোনার পাশাপাশি প্রতিটি শিক্ষার্থীকে দেশের উন্নয়নে সময়ের উপযোগী মানুষ হিসেবে গড়ে তুলতে হবে। প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের শিক্ষার্থীরা অত্যন্ত মেধাবী এবং তাদের একটু সুযোগ দিলে তারা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা শেষ করে বিদেশ থেকে উচ্চতর ডিগ্রি নিয়ে আসতে পারবে। এ লক্ষ্যে তিনি শিক্ষার্থীদের উপযুক্ত মানবসম্পদ হিসেবে গড়ে তুলতে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের আরও দায়িত্বশীল ও মনোযোগী হওয়ার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্বপ্ন বাস্তবায়নে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে প্রতিটি শিক্ষার্থীকে সোনার ছেলে-মেয়ে হিসেবে গড়ে তুলতে হবে। সরকারপ্রধান বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার পাশাপাশি খেলাধুলা, সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড ও সৃজনশীল কর্মকাণ্ডে নিয়োজিত করতে হবে; যাতে তারা সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদ থেকে দূরে থাকে। এ লক্ষ্যে আন্তঃবিশ্ববিদ্যালয় ক্রীড়া প্রতিযোগিতা পুনরায় চালুর উদ্যোগ নিতে তিনি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানান। এক সময় বিশ্ববিদ্যালয়ে অস্ত্রের ঝনঝনানি ছিল উল্লেখ করে তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় এসেই বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে অস্ত্রের ঝনঝনানি বন্ধ করেছে, দেশে সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদ নিয়ন্ত্রণ করা হয়েছে লৌহহস্তে। তরুণদের দক্ষতা উন্নয়নে সরকার গুরুত্ব দিয়েছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, লেখাপড়া করে চাকরির পেছনে না ছুটে তরুণরা যাতে উদ্যোক্তা হতে পারে এবং অন্যদের চাকরি দিতে পারে সে জন্য পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ যখনই ক্ষমতায় আসে দেশে শিক্ষার হার ও মান বৃদ্ধি পায়। এ প্রসঙ্গে তিনি উল্লেখ করেন যে, তার সরকার শিক্ষা, গবেষণা, উৎপাদন ও উৎকর্ষের পাশাপাশি দক্ষতা উন্নয়নে গুরুত্ব দিয়েছে। একই সঙ্গে পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা করে সরকার দেশকে ধীরে ধীরে শিল্পায়নের দিকে টেনে নিচ্ছে বলেও জানান প্রধানমন্ত্রী। শেখ হাসিনা বলেন, তার তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিষয়ক উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয়ের নির্দেশনায় সরকার ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ে তুলেছে। তিনি বলেন, জয় ইয়ং বাংলা ও সিআরআইএ’র মাধ্যমে তরুণ প্রজন্মকে স্বাবলম্বী হতে উৎসাহিত করছেন। দেশের উন্নয়নের এই ধারাবাহিকতা বজায় রেখে ২০৪১ সালে একটি উন্নত, সমৃদ্ধ ও স্মার্ট বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন প্রধানমন্ত্রী। অনুষ্ঠানে বিভিন্ন পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যরা নিজ নিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন সমস্যার কথা তুলে ধরেন এবং পর্যায়ক্রমে এসব সমস্যা সমাধানের আশ্বাস দেন প্রধানমন্ত্রী।

    পোশাকশ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি ২৪ হাজার টাকা করার দাবি

    সময়ের কণ্ঠস্বর, ঢাকা: অবিলম্বে মজুরি বোর্ড গঠন করে পোশাকশ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি ২৪ হাজার টাকা নির্ধারণের দা‌বি জা‌নি‌য়ে‌ছে সম্মিলিত গার্মেন্টস শ্রমিক ফেডারেশন। একই সঙ্গে সামাজিক নিরাপত্তা, বাসস্থান, রেশনিং ব্যবস্থা ও চাকরির নিরাপত্তা নিশ্চিতের দাবি জানিয়েছে সংগঠনটি।  বৃহস্পতিবার (১৯ জানুয়ারি) জাতীয় প্রেস ক্লাবে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব দাবি জানান বাংলাদেশ গার্মেন্টস শ্রমিক ঐক্য পরিষদের সভাপতি নাজমা আক্তার। তিনি ব‌লেন, বর্তমানে নিত্য প্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্যবৃদ্ধির কারণে জীবনযাত্রার মান একেবারেই নিম্নমুখী। ২০১৮ সালের সেপ্টেম্বরে সরকার গার্মেন্টস শ্রমিকদের জন্য মাসিক সর্বনিম্ন মজুরি ৮ হাজার টাকা নির্ধারণ করে, যা পূর্বে ছিল ৫ হাজার ৩০০ টাকা।   তি‌নি ব‌লেন, দেশের সব‌চে‌য়ে বড় শিল্প সেক্টর গার্মেন্টসের শ্রমিকদের জন্য ন্যূনতম মজুরি নির্ধারণ করা হয়েছিল ৫ বছর আগে। এ ৫ বছরে নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্য, বাড়ি ভাড়া এবং জীবন-যাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি পেয়েছে অস্বাভাবিক হারে। কিন্তু এ সেক্টরে শ্রমিকদের জন্য নতুন মজুরি নির্ধারণ করা হয়নি।  নাজমা আক্তার বলেন, সিপিডির তথ্য অনুযায়ী, ঢাকার কেন্দ্রস্থলে বসবাসরত একজন ব্যক্তির মাসিক খাবার খরচ ৫ হাজার ৩৩৯ টাকা। চার জনের একটি পরিবারের ক্ষেত্রে এ খরচ ২১ হাজার ৩৫৮ টাকা। যদি কোনো পরিবার পুরো মাসে একবারও মাছ, গরু, খাসি কিংবা মুরগির মাংস না খায় তাহলেও খরচ ৮ হাজার ১০৬ টাকা খরচ পড়ে। এর বাইরে এক কক্ষের ঘর ভাড়া, গ্যাস-বিদ্যুতের বিল, চিকিৎসা ব্যয়, স্বাস্থ্য সুরক্ষার পণ্য ক্রয়, সন্তানের পড়ালেখার খরচ, যাতায়াত, মোবাইল ফোন ও ইন্টারনেটের বিল আছে।  তিনি আরও ব‌লেন, গণপরিবহনের ভাড়াও বেড়েছে। ফলে উচ্চ মূল্যস্ফীতির কারণে পোশাক শ্রমিকদের প্রকৃত মজুরি কমে যাচ্ছে। তাতে বর্তমান মজুরিতে শ্রমিকদের জীবনযাপন করা কঠিন হয়ে পড়েছে। শ্রমিকরা মজুরি কম হওয়ায় শরীরের চাহিদা অনুযায়ী পুষ্টিকর খাবার গ্রহণ করতে পারছেন না। ফলে পুষ্টিহীনতায় ভুগে অনেক শ্রমিক কাজ ছেড়ে দিচ্ছেন। এতে একজন শ্রমিক পরিবার, সমাজ ও তথাপি দেশের বোঝা হয়ে যাচ্ছেন। যার প্রভাব দেশের অর্থনীতিতেও পড়ছে।

    তারেক-জোবাইদাকে আদালতে হাজির হতে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের নির্দেশ

    সময়ের কণ্ঠস্বর, ঢাকা: জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) করা মামলায় তারেক রহমান ও তার স্ত্রী ডা. জোবাইদা রহমানকে আদালতে হাজির হতে বিজ্ঞপ্তি (গেজেট) প্রকাশের নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। আজ বৃহস্পতিবার (১৯ জানুয়ারি) ঢাকা মহানগর দায়রা জজ মো. আছাদুজ্জামানের আদালত এ আদেশ দেন।  আদালতে দুদকের সহকারী পরিচালক আমিনুল ইসলাম বিষয়টি জানিয়েছেন। নির্দেশে বলা হয়েছে, তাঁদের হাজির হওয়ার জন্য সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করতে হবে। উক্ত বিজ্ঞপ্তিসহ আগামী ৬ ফেব্রুয়ারি পরবর্তী শুনানি অনুষ্ঠিত হবে। বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের পর আসামিরা আদালতে হাজির না হলে তাঁদের অনুপস্থিতিতে বিচার শুরু হবে।  এর আগে গত ৫ জানুয়ারি আদালত দুজনের সম্পত্তি ক্রোকের নির্দেশ দেন। এসংক্রান্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য ১৯ জানুয়ারি বৃহস্পতিবার দিন ধার্য করা হয়। আজ সম্পত্তি ক্রোকসংক্রান্ত প্রতিবেদন দাখিল করার পর বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের নির্দেশ দেওয়া হলো।  এর আগে গত বছরের ১ নভেম্বর এই দুজনের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছিল। ওই দিন দুজনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র (চার্জশিট) গ্রহণ করে পরোয়ানা জারি করা হয়।  ২০০৮ সালে ডা. জোবাইদাসহ তিনজনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়। অন্য দুজন হলেন তারেক রহমান ও জোবাইদার মা ইকবাল মান্দ বানু। এর পরই মামলা বাতিল চেয়ে হাইকোর্টে আবেদন করেন জোবাইদা। ওই বছরই এই আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে মামলার কার্যক্রম স্থগিত করে রুল জারি করেন হাইকোর্ট। এর বিরুদ্ধে আপিল করলে আপিল বিভাগ হাইকোর্টের আদেশ বহাল রাখেন। এসংক্রান্ত চূড়ান্ত শুনানি শেষে ২০১৭ সালের ১২ এপ্রিল হাইকোর্ট জোবাইদার করা মামলা বাতিলের আবেদন খারিজ (রুল ডিসচার্জ) করে রায় দেন। একই সঙ্গে ওই মামলায় আট সপ্তাহের মধ্যে জোবাইদাকে বিচারিক আদালতে উপস্থিত হতে নির্দেশ দেওয়া হয়। উচ্চ আদালতের এই খারিজ আদেশের বিরুদ্ধে ওই বছরই লিভ-টু-আপিল করেন জোবাইদা।  গত বছরের ১৩ এপ্রিল প্রধান বিচারপতি হাসান ফয়েজ সিদ্দিকীর নেতৃত্বাধীন চার সদস্যের আপিল বেঞ্চ লিভ-টু-আপিল খারিজ করে হাইকোর্টের দেওয়া রায় বহাল রাখেন। এর ফলে ডা. জোবাইদার বিরুদ্ধে দুর্নীতি মামলা চলতে আইনগত বাধা কেটে যায়। এই পরিস্থিতিতে নিম্ন আদালতে জোবাইদার মামলা আবার সচল হয়। মামলার বিবরণে জানা যায়, ঘোষিত আয়ের বাইরে ৪ কোটি ৮১ লাখ ৫৩ হাজার ৫৬১ টাকার মালিক হওয়া এবং সম্পদের তথ্য গোপন ও জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগে ২০০৭ সালের ২৬ সেপ্টেম্বর রাজধানীর কাফরুল থানায় এই মামলা করে দুদক। মামলায় তারেক রহমান, জোবাইদা রহমান ও তাঁর মা অর্থাৎ তারেক রহমানের শাশুড়ি ইকবাল মান্দ বানুকে আসামি করা হয়। উল্লেখ্য, তারেক রহমানের শাশুড়ি মারা যাওয়ায় এই মামলা থেকে তাঁকে অব্যাহতি দেওয়া হয়।

    বিদ্যুৎ-গ্যাসে এখনো ভর্তুকি দিচ্ছি: প্রধানমন্ত্রী

    সময়ের কন্ঠস্বর ডেস্ক: প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, গ্যাস যে মূল্যে কেনা হবে সেই মূল্যই গ্রাহককে দিতে হবে, সেক্ষেত্রে দাম বাড়তে পারে। এটা ভুলে যাবেন না ভর্তুকির টাকা তো জনগণেরই। বিদ্যুতের দাম কম থাকলে আমাদের বিত্তশালীরা লাভবান হন। যারা সাধারণ মানুষ তারা ঠিকমতো বিল দেয়। বিত্তশালীরা আরাম-আয়েশ করবে। আর স্বল্প মূল্যে পাবে- তা কী করে হয়? সেদিকে লক্ষ্য রেখেই আমরা আমাদের পরিকল্পনা নিচ্ছি। বুধবার জাতীয় সংসদে প্রধানমন্ত্রীর জন্য নির্ধারিত প্রশ্নোত্তর পর্বে জাতীয় পার্টির এমপি মুজিবুল হক চুন্নুর প্রশ্নের জবাবে শেখ হাসিনা এসব কথা বলেন। মুজিবুল হক চুন্নু পয়েন্ট অব অর্ডারে ফ্লোর নিয়ে আইএমএফের ঋণের শর্তে বিদ্যুৎ ও গ্যাসের দাম বাড়ানো হচ্ছে অভিযোগ উত্থাপন করে বলেন, বিদ্যুৎ ও গ্যাসের দাম বৃদ্ধির ফলে মূল্যস্ফীতির চাপ সরকার কিভাবে সামলাবে। ব্যবসায়ীদের উদ্দেশ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, যারা বেসরকারি খাতের ব্যবসায়ী আছেন, এখানেও (সংসদে) আছেন তাদের আমি তো স্পষ্ট বলেছি, গ্যাস আমি দিতে পারব, কিন্তু যে মূল্যে গ্যাস আমরা বাইরে থেকে কিনে নিয়ে আসলাম সেই মূল্য যদি আপনারা দেন আমরা গ্যাস দিতে পারব। আমরা বাল্কের যেটুকু বাড়ানোর বাড়িয়েছি। তারা যদি নিরবচ্ছিন্ন গ্যাস সরবরাহ চায় তাহলে যে মূল্যে কিনে আনব সেই মূল্য তাদের দিতে হবে। এখানে ভর্তুকি দেওয়ার কোনো যৌক্তিকতা নেই। মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে সরকারের পদক্ষেপ তুলে ধরে শেখ হাসিনা বলেন, আমরা নিম্ন ও মধ্যম আয়ের মানুষের জন্য টিসিবির ফেয়ার প্রাইস কার্ড দিয়ে দিয়েছি। যেখানে ৩০ টাকা কেজিতে চাল কিনতে পারে। তেল, চিনি, ডাল সীমিত আয়ের মানুষ ন্যায্য মূল্যে কিনতে পারে। সেই ব্যবস্থাটা করে দিয়েছি। এর থেকে যারা নিম্নআয়ের তাদের জন্য আমরা ১৫ টাকায় চাল দিচ্ছি। সেই সঙ্গে তেল, ডাল ও চিনিও দেওয়া হচ্ছে। আর একেবারে হতদরিদ্র যারা কিছুই করতে পারে না, তাদের বিনা-পয়সায় খাদ্য সরবরাহ করছি। স্বল্প আয়ের মানুষ যাতে কষ্টে না পড়ে সেদিকে দৃষ্টি রেখে এ ব্যবস্থা করছি। কৃষিতে আমরা ব্যাপকভাবে ভর্তুকি দিচ্ছি। তিনি বলেন, ইংল্যান্ডের মতো জায়গায় খাদ্যে মূল্যস্ফীতি ১৩ দশমিক ৩ শতাংশ। এটা একটা উন্নত দেশের কথা বললাম। পৃথিবীর সব দেশে এ অবস্থা বিরাজমান। বাংলাদেশ এখনো সেই অবস্থায় পড়েনি। ভর্তুকি প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, গ্যাস উৎপাদন ও বিতরণ এবং বিদ্যুৎ উৎপাদন ও বিতরণে যদি ৪০, ৫০ ও ৬০ হাজার কোটি টাকা আমাকে ভর্তুকি দিতে হয়, তাহলে সেটা কী করে দেব? এর ফলে দাম বাড়লে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ করার যে চেষ্টা সেটা করে কিছুটা সফলতা দেখাতে পেরেছি। শেখ হাসিনা বলেন, ডিসেম্বর ও জানুয়ারিতে মূল্যস্ফীতি কিছুটা কমেছে। এ সময় তিনি সবাইকে সাশ্রয়ী হওয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেন, আমরা প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় ও গণভবনে বিদ্যুতের ব্যবহার ৫০ শতাংশ কমিয়ে দিয়েছি। এভাবে যদি সবাই উদ্যোগ নেয়, তাহলে বিদ্যুৎ ব্যবহার সাশ্রয়ী হতে পারে।

    প্রধানমন্ত্রীর প্রচেষ্টায় দেশের অর্থনীতির চাকা সচল রয়েছে: স্পিকার

    সময়ের কণ্ঠস্বর, ঢাকা: জাতীয় সংসদের স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী বলেছেন, চলমান বৈশ্বিক অর্থনৈতিক সংকট সত্ত্বেও প্রধানমন্ত্রীর নিরলস প্রচেষ্টায় দেশের অর্থনীতির চাকা সচল রয়েছে। মঙ্গলবার (১৭ জানুয়ারি) আন্তর্জাতিক মুদ্রা সংস্থা (আইএমএফ)-এর ডেপুটি ম্যানেজিং ডিরেক্টর অন্তোনিয়েতে মোনসিও সাইয়েহর নেতৃত্বে সংস্থার একটি প্রতিনিধি দল তার সাথে সাক্ষাতকালে তিনি এ কথা বলেন। প্রতিনিধি দলে অন্যান্যের মধ্যে ছিলেন আইএমএফের এডভাইজর টু ডিএমডি আমিনা লেহরিচি, ডেপুটি ডিরেক্টর এনি মেরি গাল্ডি, মিশন চিফ রাহুল আনন্দ, বাংলাদেশ ও ভুটানের আবাসিক প্রতিনিধি জায়েন্দু দে। সাক্ষাতকালে তারা বাংলাদেশের অভূতপূর্ব উন্নয়ন, সাম্প্রতিক বৈশ্বিক সংকট, উন্নত দেশ হিসেবে বাংলাদেশের উত্তরণে আইএমএফ-এর সহযোগিতা, জলবায়ু পরিবর্তন, বিদ্যুৎ খাতে ভর্তুকি ইত্যাদি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে আলোচনা করেন। স্পিকার বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নিরলস প্রচেষ্টায় করোনা ও রাশিয়া ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে অনেক দেশের অর্থনীতি হিমশিম খেলেও বাংলাদেশের অর্থনীতির চাকা সচল রয়েছে। দেশে অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা আনয়নের পাশাপাশি শতভাগ বিদ্যুতায়ন, মাতৃস্বাস্থ্য সুরক্ষা, মাতৃত্বকালীন ভাতা প্রদান, প্রায় এক কোটি মেয়ে শিক্ষার্থীদের মোবাইলে অর্থ প্রেরণের মাধ্যমে বৃত্তি প্রদান, নারীদের অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক ক্ষমতায়ন, শিক্ষাক্ষেত্রে নারীদের অভূতপূর্ব অগ্রগতি, তথ্য-প্রযুক্তিভিত্তিক প্রশিক্ষণের মাধ্যমে নারীদের দক্ষতা উন্নয়ন, ‘ডেল্টাপ্লান ২১০০’ প্রণয়ন ইত্যাদি সকল ক্ষেত্রে সফলতার সাথে কাজ করে যাচ্ছে বর্তমান সরকার। সরকার দারিদ্র্য দূরীকরণ ও খাদ্য নিরাপত্তার লক্ষে বিভিন্ন উন্নয়ন কর্মসূচি হাতে নেয়ার পাশাপাশি হতদরিদ্র মানুষের দুর্ভোগ লাঘবে সামাজিক সুরক্ষা জালের আওতা বর্ধিতকরণ এবং টিসিবি ও ভিজিএফ কার্ডের মাধ্যমে তাদের মাঝে খাদ্য ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় জিনিস বিতরণের মতো নানামুখী পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলেও জনগণের জীবনমান সুরক্ষা নিশ্চিত করেছে বর্তমান সরকার। বাংলাদেশের অভূতপূর্ব অগ্রগতির প্রশংসা করে ডিএমডি অন্তোনিয়েতে মোনসিও সাইয়েহ বলেন, আইএমএফ দীর্ঘদিন ধরে বাংলাদেশের উন্নয়ন অংশীদার। ২০৪১ সাল নাগাদ একটি উন্নত, সমৃদ্ধ ও উচ্চ আয়ের দেশে উত্তরণে আইএমএফ বাংলাদেশকে তার সহায়তা অব্যহত রাখবে। সমগ্র বিশ্ব কোভিড-১৯ এর অভিঘাতের কারণে চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন হয়েছে, পাশাপাশি রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে কঠিন পরিস্থিতি বিরাজ করছে।  উদ্ভূত পরিস্থিতিতে বাংলাদেশের মতো উদীয়মান অর্থনৈতিক দেশগুলো মুদ্রাস্ফীতি সংক্রান্ত চাপ, নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের মূল্যবৃদ্ধি ও বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ সংক্রান্ত নানা ধরনের সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছে। এসব সমস্যা মোকাবিলায় বাংলাদেশের প্রচেষ্টায় আইএমএফ পাশে থাকবে বলে দৃঢ় আশ্বাস প্রদান করেন তিনি। বর্তমান সংকটকালীন সময়ে আইএমএফ বাংলাদেশকে যে ঋণ সহায়তা দিতে যাচ্ছে তা যথাসময়ে পরিশোধের সক্ষমতা বাংলাদেশের রয়েছে বলে অভিমত ব্যক্ত করেন তিনি। এক্ষেত্রে, প্রয়োজনে বিদ্যমান আইনের সংশোধন কিংবা নতুন আইন প্রণয়নে প্রয়োজনীয় সহযোগিতার আশ্বাস দেন স্পিকার। বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের অনুমিত হিসাব, সরকারি হিসাব ও সরকারি প্রতিষ্ঠান সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সাথে ভবিষ্যতে আইএমএফ প্রতিনিধিদলের সভা ও সেমিনার আয়োজনের অনুরোধ জানান স্পিকার। তিনি বলেন, আইএমএফ বাংলাদেশকে যে সহযোগিতা প্রদান করছে সে বিষয়ে সংসদ সদস্যদের আইএমএফ-এর রিসোর্স পার্সন দ্বারা অরিয়েন্টেশনের মাধ্যমে অবহিত করলে সংসদ সদস্যগণ বিষয়ে অভিজ্ঞতা অর্জন করতে পারে। এসময় বাংলাদেশ সফরের জন্য প্রতিনিধিদলকে ধন্যবাদ জানান স্পিকার। সংসদ সচিবালয়ের উর্ধ্বতন কর্মকর্তাগণ এসময় উপস্থিত ছিলেন।

    ২২ জানুয়ারি থেকে শিশুদের খাওয়ানো হবে কৃমিনাশক ওষুধ

    সময়ের কণ্ঠস্বর, ঢাকা: আগামী ২২ জানুয়ারি থেকে শুরু হচ্ছে ২৭তম জাতীয় কৃমি সপ্তাহ। প্রথম ধাপে দেশের ৪৪ জেলার প্রাথমিক ও মাধ্যমিক পর্যায়ের সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রায় ২ কোটি ৬০ লাখ শিশুকে এই ওষুধ খাওয়ানো হবে। প্রথম ধাপের এ কার্যক্রম চলবে ৩১ জানুয়ারি পর্যন্ত । জাতীয় কৃমি নিয়ন্ত্রণ সপ্তাহ ২০২৩ উপলক্ষে মঙ্গলবার (১৭ জানুয়ারি) দুপুরে মহাখালী স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের কনফারেন্স রুমে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. এবিএম খুরশিদ আলম এ তথ্য জানান। তিনি বলেন, এবারে ১ম ধাপে ওষধ সেবনকারী শিশুর কাক্সিক্ষত লক্ষ্যমাত্রা প্রায় ২ কোটি ৬০ লাখ। কৃমিনাশক ওষুধ সেবনের হার অব্যাহত থাকলে এবং দেশের সকল শিশুকে পরিস্কার-পরিছন্নতা বিষয়ে শিক্ষাদানের মাধ্যমে তাদের অভ্যাস গড়ে তুলতে পারলে প্রতিটি ঘরে আমরা কৃমিমুক্ত শিশু দেখতে পাব যা সুন্দর ও সুস্থ জাতি গঠনে সহায়ক ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে। আগামী ২০২৫ সালের মধ্যে বাংলাদেশ থেকে কৃমি নির্মূলের লক্ষ্যে ৫-১৬ বছর বয়সী শিশুদের জন্য রোগ নিয়ন্ত্রণ শাখা কৃমি নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে। সম্মেলনে জানানো হয়, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে উপস্থিতির মাধ্যমে ৫-১১ বছর বয়সী সকল শিশুকে এবং মাধ্যমিক পর্যায়ের সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে উপস্থিতির মাধ্যমে ১২-১৬ বছর বয়সী সকল শিশুকে ১ ডোজ কৃমি নাশক ঔষধ ভরা পেটে সেবন করানো হবে।

    কর্ণফুলী টানেলের খরচ বাড়ল ৩১৫ কোটি টাকা

    সময়ের কণ্ঠস্বর, ঢাকা: ডলারের মূল্যবৃদ্ধির কারণে আবারও বাড়ছে কর্ণফুলী টানেল নির্মাণ প্রকল্পের খরচ। এবার এই প্রকল্পের খরচ বাড়ছে ৩১৫ কোটি টাকা। পাশাপাশি আরও এক বছর বাড়ানো হয়েছে প্রকল্পের মেয়াদও। দ্বিতীয়বারের মতো প্রকল্পটি সংশোধনে আজ মঙ্গলবার জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় এ অনুমোদন দেওয়া হয়। এ ছাড়া ঠিকাদারের বিল পরিশোধসহ বিভিন্ন আমদানি খাতে খরচ বাড়ছে প্রায় আড়াইশ কোটি টাকা। ফলে সব মিলিয়ে এখন এই প্রকল্পে খরচ হবে ১০ হাজার ৬৮৯ কোটি টাকা। একনেক সভায় সভাপতিত্ব করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এর আগে গত বছরের নভেম্বর মাসে প্রকল্পটি সংশোধনের প্রস্তাব দিয়ে পরিকল্পনা কমিশনে পাঠায় সেতু কর্তৃপক্ষ। ২০১৫ সালে কর্ণফুলী নদীর তলদেশে বহুলেন সড়ক টানেল নির্মাণ প্রকল্পটি যখন অনুমোদন দেওয়া হয় তখন এর ব্যয় ছিল ৮ হাজার ৪৪৬ কোটি ৬৩ লাখ টাকা। এর মেয়াদকাল ছিল নভেম্বর ২০১৫ থেকে জুন ২০২০। প্রথম সংশোধনে প্রকল্পের ব্যয় বাড়িয়ে ১০ হাজার ৩৭৪ কোটি ৪২ লাখ টাকা। মেয়াদ বাড়িয়ে ডিসেম্বর ২০২২ করা হয়। সর্বশেষ মঙ্গলবার প্রকল্পে দ্বিতীয় সংশোধনী আনা হয়। দ্বিতীয় সংশোধনীতে কর্ণফুলী টানেল নির্মাণ প্রকল্পের ব্যয় বাড়িয়ে ১০ হাজার ৬৮৯ কোটি ৭১ লাখ টাকা করা হয় এবং সময় বাড়িয়ে ২০২৩ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত করা হয়। প্রকল্পে সরকারি অর্থায়ন ৪ হাজার ৬১৯ কোটি ৭০ লাখ টাকা এবং চায়না এক্সিম ব্যাংকের ঋণ ৬ হাজার ৭০ কোটি টাকা। কর্ণফুলী নদীর তলদেশে বহু লেনবিশিষ্ট এই টানেল নির্মাণ হচ্ছে। বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষ সূত্রে জানা গেছে, প্রায় শেষ দিকে প্রকল্পটি। শিগগির যান চলাচলের জন্য টানেল খুলে দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান বলেন, কর্ণফুলী টানেলসহ একনেক সভায় সব মিলিয়ে ১১টি প্রকল্প অনুমোদন দেওয়া হয়। এর মধ্যে অন্যতম হলো চট্টগ্রামের পটিয়ার শ্রীমাই নদে বাঁধ নির্মাণ, বরিশালে শেখ হাসিনা সেনানিবাসকে নদীভাঙন থেকে রক্ষায় প্রকল্প, মাতারবাড়ী কয়লা-বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ প্রকল্প (সওজ অংশ), কিশোরগঞ্জের মিঠামইন উপজেলা সদর থেকে করিমগঞ্জ উপজেলার মরিচখালী পর্যন্ত উড়াল সড়ক নির্মাণ, বাংলাদেশের ২৪টি শহরে অন্তর্ভুক্তিমূলক স্যানিটেশন প্রকল্প ও ক্লাইমেট চেঞ্জ এডাপটেড আরবান ডেভেলপমেন্ট ফেজ-২ (খুলনা) প্রকল্প। এদিকে গত কয়েক মাসে ডলারের দাম ৮৬ টাকা থেকে বেড়ে ১০৬ টাকা হয়েছে। সে কারণে এই প্রকল্পের খরচ বাড়ানোর প্রস্তাব করা হয়। এছাড়া আসবাব কেনা, শুল্ক-কর বৃদ্ধির কারণেও খরচ বাড়ছে বলে জানা যাচ্ছে।