• আজ বৃহস্পতিবার। গ্রীষ্মকাল, ৯ই বৈশাখ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ। ২২শে এপ্রিল, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ। সকাল ৯:৩৯মিঃ

ঐতিহ্যবাহী ও সুস্বাদু হাঁড়িভাঙ্গা আমে ভরে উঠেছে রংপুরের বাজার

⏱ ৭:১৭ অপরাহ্ন | বৃহস্পতিবার, জুন ১৬, ২০১৬ 📁 দেশের খবর, রংপুর

fsd


শাহরিয়ার মিম, রংপুর প্রতিনিধি:

ঐতিহ্যবাহী ও সুস্বাদু হাঁড়িভাঙ্গা আমে ভরে উঠেছে রংপুরের বাজার। বাম্পার ফলন ও বাজারদর ভালো হওয়ায় আম চাষেই স্বাবলম্বী হওয়ার স্বপ্ন দেখছেন রংপুরের আম চাষিরা। এবার রংপুর জেলায় ১৬২ কোটি টাকার আম বিক্রির আশা করছে কৃষি বিভাগ। তবে আম সংরক্ষণসহ নানা জটিলতায় দর পতনের আশংকা করছেন আম চাষিরা।

রংপুর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, চলতি মৌসুমে রংপুর জেলায় দুই হাজার ৯৫০ হেক্টর জমিতে আমের চাষ হয়েছে। এর মধ্যে এক হাজার ৪৫০ হেক্টর জমিতে সুস্বাদু হাঁড়িভাঙ্গা আমের চাষ হয়েছে। চলতি মৌসুমে ১৫ হাজার ৯৫০ টন আম উত্পাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। সুস্বাদু হাঁড়িভাঙ্গা আমের কারণে অনেকেই রংপুরকে আমের এলাকা বলে থাকেন।

রংপুর মহানগরীতে ঢুকতে পীরগঞ্জ, মিঠাপুকুর ও বদরগঞ্জ উপজেলার সড়ক, মহাসড়ক ও গ্রামের মেঠোপথে সারি সারি হাঁড়িভাঙ্গা আমের গাছ। মিঠাপুকুর উপজেলাতেই ছোট-বড় মিলে প্রায় ৩ হাজার ৮টি হাঁড়িভাঙ্গা আমের বাগান রয়েছে।

রংপুরের ঐতিহ্যবাহী হাঁড়িভাঙ্গা আম এখন দেশ ছেড়ে বিদেশেও ছড়িয়ে পড়েছে। উঁচু-নিচু ও পরিত্যক্ত জমিতে এ জাতের আম চাষ করে অনেকেই ঘুরিয়েছেন ভাগ্যের চাকা। অন্য ফসলে খুব একটা লাভ না হওয়ায় প্রতি বছরই বাড়ছে আমের চাষ। চাষিরা আগ্রহ নিয়ে আম চাষে এগিয়ে আসছেন। অত্যন্ত লাভজনক হওয়ায় শিক্ষিত বেকার যুবকরাও ঝুঁকে পড়েছেন আম চাষে।

হাঁড়িভাঙ্গা ছাড়াও এ অঞ্চলে মিছরিভোগ, ফজলি, গোপালভোগ, কপিল বাঙ্গরিসহ নানা জাতের আম চাষ হয়। আম বাগানগুলোতে সারাবছর শ্রম দিয়ে জীবিকা নির্বাহ করে আসছেন হাজার হাজার শ্রমিক। চাহিদা থাকায় বাগান মালিকদের মুখে হাসি ফুটেছে। বাগান মালিকরা বলছেন, রংপুরে এবার যে আমের ফলন হয়েছে, তা সারাদেশের মানুষের চাহিদা মিটিয়ে বিদেশেও রফতানি করা সম্ভব।

মিঠাপুকুর উপজেলার সর্দারপাড়া গ্রামের আলহাজ আব্দুস সালাম সরকার বলেন, চলতি বছর ১২ একর জমিতে আম চাষ করেছি। ২০ লাখ টাকার আম বিক্রি করা যাবে। ময়েনপুর গ্রামের সুলতান মিয়া বলেন, চলতি বছর ২ একর জমিতে আম চাষ করেছি। বামপার ফলন হয়েছে। বদরগঞ্জ উপজেলার জয়নাল আবেদীন বলেন, হাঁড়িভাঙ্গা আম আমার ভাগ্যের চাকা পরিবর্তন করেছে। মৌসুমের শুরুতে এ আম প্রতি কেজি ৫০ টাকা ও শেষের দিকে ১শ ৫০ টাকা থেকে ২শ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হয়।

রংপুর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক আশরাফ আলী বলেন, রংপুরের ঐতিহ্যবাহী হাঁড়িভাঙ্গা আম আরো সম্প্রসারণের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। আগামী দিনে রংপুরের আম দেশের চাহিদা মিটিয়ে বিদেশেও রফতানি করা সম্ভব হবে। বেশি লাভের আশায় আম চাষ করছেন চাষিরা। এ বছর আমের ব্যাপক ফলন ও বাজারদর ভালো হওয়ায় চাষিদের মাঝে আম চাষে আগ্রহ বৃদ্ধি পেয়েছে।