সংবাদ শিরোনাম

ইতালিতে রাজনৈতিক সঙ্কট: আস্থাভোটে বিজয়ী জুসেপ্পে কন্তে, রাতে ভাগ্য নির্ধারণটাঙ্গাইলে জিয়াউর রহমানের ৮৫তম জন্মদিন পালিতমানিকগঞ্জে চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে ধর্ষণের মামলারাস্তায় ঘুরে ঘুরে পোস্টার থেকে ‘আল্লাহ’র নাম সংগ্রহ করেন হোসনে আরাআজকে শপথ গ্রহণ করছি, তারেক রহমানকে দেশে ফিরিয়ে আনবো: মির্জা ফখরুলজিয়াউর রহমানের জন্মবার্ষিকী আজজনগণের সাড়া আছে বলেই পৌরসভায় ৯০ শতাংশ ভোটার উপস্থিতি: কাদেরবিমানবন্দর সড়কে স্বামী-স্ত্রীকে চাপা দেওয়া সেই বাসচালক আটকসাঈদ খোকনের দুই মামলার একটি খারিজ, অন্যটি প্রত্যাহারফুটপাতে ঘুমন্ত শ্রমিকদের চাপা দিল ট্রাক, নিহত ১৫

  • আজ ৫ই মাঘ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

পুলিশের জঙ্গিবিরোধী সাঁড়াশি অভিযান শেষ, গ্রেপ্তার ১৪৫৫২

◷ ১:২৫ অপরাহ্ন ৷ শুক্রবার, জুন ১৭, ২০১৬ ফিচার, স্পট লাইট
bangladesh police somoyerkonthosor

bangladesh-police_somoyerkonthosor

সময়ের কণ্ঠস্বর – শেষ হলো পুলিশের জঙ্গিদমনে বিশেষ সাঁড়াশি অভিযান। সপ্তাহব্যাপী চলা গণগ্রেফতার শুরু হয়েছিল গত ১০ জুন।

অভিযানে শেষ পর্যন্ত কত গ্রেপ্তার করা হয়েছে তা নিয়ে পুলিশ গত দুদিন আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য দেয়নি। তবে পুলিশ হেডকোয়ার্টার্সের জনসংযোগ কর্মকর্তা কামরুল আহছান লস এঞ্জেলেস টাইমসকে জানান, অভিযানে ১৪৫৫২ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

তিনি বলেন, শেষ দিনে গত ২৪ ঘণ্টায় ১৭ জঙ্গি গ্রেপ্তার করেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। এ পর্যন্ত ১৯৪ জঙ্গিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে । এবারের অভিযানে দুর্ধর্ষ কোনো জঙ্গি বা অপরাধীকে গ্রেপ্তার করা যায়নি।

এর মধ্যে ৯ জন নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন জামায়াতুল মুজাহিদীন বাংলাদেশের (জেএমবি), ৭ জন হিজবুত তাহরির এবং একজন আনসারুল্লাহ বাংলাটিমের (এবিটি) সদস্য।

ঢাকা রেঞ্জের মাদারীপুর জেলা থেকে ১ জন হিজবুত তাহরির, চট্টগ্রাম রেঞ্জের চট্টগ্রাম জেলা থেকে ২ জন জেএমবি ও ১ জন হিজবুত তাহরির, ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা থেকে ১ জন জেএমবি, রাজশাহী রেঞ্জের নওগাঁ জেলা থেকে ২ জন জেএমবি, খুলনা রেঞ্জের সাতক্ষীরা জেলা থেকে ১ জন জেএমবি, রংপুর রেঞ্জের রংপুর জেলা থেকে ১ জন জেএমবি, গাইবান্ধা জেলা থেকে ১ জন জেএমবি, ঠাকুরগাঁও জেলা থেকে ১ জন জেএমবি, পঞ্চগড় জেলা থেকে ১ জন জেএমবি এবং রাজধানী ঢাকা থেকে ১ জন আনসারুল্লাহ বাংলা টিম ও ৪ জন হিজবুত তাহরির সদস্যকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

গ্রেপ্তারদের কাছ থেকে ১টি পাইপগান, ১টি শাটারগান, ১ রাউন্ড গুলি, ২টি ককটেল, ১টি রামদা, ১টি চাপাতি ও ১৪টি উগ্রপন্থি বই উদ্ধার করা হয়েছে।

পুলিশ জানিয়েছে, সাত দিনের জঙ্গিবিরোধী বিশেষ অভিযানে বিভিন্ন জঙ্গি সংগঠনের মোট ১৯৪ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

গ্রেপ্তারদের মধ্যে ১৫১ জন জেএমবি, ৭ জন জেএমজেবি, ২১ জন হিজবুত তাহরির, ৬ জন আনসারুল্লাহ বাংলাটিম, ৩ জন আনসার আল ইসলাম, ৪ জন আল্লার দল, ১ জন হরকাতুল জিহাদ এবং ১ জন আফগানফেরত জঙ্গি সংগঠনের সদস্য।

এদিকে ‘জঙ্গিবিরোধী সাঁড়াশি অভিযান’ নিয়ে নানা প্রশ্ন ওঠেছে। প্রথমত, আগাম ঘোষণা নিয়ে এমন প্রক্রিয়ায় জঙ্গিবিরোধী অভিযানের নজির নেই বললেই চলে। দ্বিতীয়ত, জঙ্গিবিরোধী অভিযানে গিয়ে অন্যান্য মামলায় ১২ সহস্রাধিক ব্যক্তিকে  নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। অভিযোগ আছে, অনেক এলাকা থেকে যাদের  গ্রেফতার করা হয়েছে, তাদের সবাইকে আদালতে হাজির করা হয়নি। অনেকে থানা বা পুলিশের হেফাজত থেকে টাকার বিনিময়ে ‘উধাও হয়ে গেছে। এমনকি অনেককে কোনো সুনির্দিষ্ট অভিযোগ বা মামলা ছাড়াই গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ঈদের আগে সাঁড়াশি অভিযানে কোনো কোনো পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে ‘বাণিজ্য’ করার অভিযোগও উঠেছে।

এ ব্যাপারে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল বলেছেন, দীর্ঘদিন ধরে অনেক ওয়ারেন্ট তামিল হয়নি। অভিযানে অনেক ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি, সন্ত্রাসী, মলম ও অজ্ঞান পার্টির সদস্য গ্রেপ্তার  হয়েছে। তাই গ্রেপ্তারের সংখ্যাটি বড় দেখায়। তর দাবি, অভিযানে ৭৫ ভাগ সফলতা এসেছে। ছোটখাটো যেসব অভিযোগ এসেছে, তা তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

অভিযান নিয়ে পুলিশ সদর দপ্তরের ডিআইজি এ কে এম শহিদুর রহমান বলেন, সপ্তাহব্যাপী জঙ্গিবিরোধী অভিযানে পুলিশের অনেক সফলতা রয়েছে। জঙ্গি গ্রেপ্তারের পাশাপাশি উগ্রপন্থিদের মধ্যে ভীতিও তৈরি হয়েছে। তবে আপাতত এ অভিযানের মেয়াদ আর বাড়ছে বলে মনে হয় না।

গত ৫ জুন সকালে চট্টগ্রামের জিইসি মোড়ে প্রকাশ্যে পুলিশ সুপার (এসপি) বাবুল আক্তারের স্ত্রী মাহমুদা খানম মিতুকে ছুরিকাঘাত ও গুলি করে হত্যা করে দুর্বৃত্তরা।

মিতু হত্যার তিন দিন পরই তালিকাভুক্ত সন্ত্রাসী ও জঙ্গি ধরতে বিশেষ অভিযানের ঘোষণা দেয় পুলিশ। গত বৃহস্পতিবার মধ্যরাত থেকে সাঁড়াশি অভিযান শুরু করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।