🕓 সংবাদ শিরোনাম
  • আজ মঙ্গলবার, ১ আষাঢ়, ১৪২৮ ৷ ১৫ জুন, ২০২১ ৷

শিক্ষা কর্মকর্তা ও প্রধান শিক্ষকের স্বাক্ষর জাল করে স্কুলের কমিটি গঠন


❏ শনিবার, জুন ২৫, ২০১৬ অপরাধ, ঢাকা, দেশের খবর

narsingdi sikkha durniti

মোঃ হৃদয় খান, স্টাফ রিপোর্টার: নরসিংদী সদর উপজেলার রাজাদী চিনিশপুর উচ্চবিদ্যালয়ের দুই শিক্ষকের বিরুদ্ধে উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা ও প্রধান শিক্ষকের সই জাল করে বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটি গঠনের অভিযোগ পাওয়া গেছে। মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড ঘটনাটি তদন্ত করতে জেলা শিক্ষা কর্মকর্তাকে নির্দেশ দিয়েছে।

উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্র জানায়, গত ১২ মে ওই বিদ্যালয়ের পরিচালনা কমিটির মেয়াদ শেষ হওয়ার কথা। শিক্ষা বোর্ডের বিধি অনুসারে এর আগেই কমিটি নির্বাচনের জন্য উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোতাকাব্বীর আহমেদ ১০ মার্চ উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা শামীমা আক্তারকে প্রিসাইডিং কর্মকর্তা নিয়োগ দেন। তফসিল ঘোষণা করে ২৭ মার্চ কমিটির সদস্য ও ৭ এপ্রিল সভাপতি নির্বাচনের তারিখ নির্ধারণ হয়। নির্বাচন না করেই ৪ এপ্রিল শামীমা আক্তার ব্যক্তিগত সফরে যুক্তরাষ্ট্র যান। এরই মধ্যে ১১ এপ্রিল ফেরদৌস মিয়া ও সাইফুল ইসলাম নামের দুজন শিক্ষক শামীমা আক্তার ও প্রধান শিক্ষক রেজাউল করিমের সই জাল করে গোপনে মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড থেকে ১০ সদস্যের নিয়মিত কমিটি অনুমোদন করে নিয়ে আসেন। তাঁরা দুজন ওই কমিটির শিক্ষক প্রতিনিধি হন।

বিদ্যালয়টির প্রশাসনিক বিভাগ সূত্রে জানা যায়, ১৯ এপ্রিল প্রধান শিক্ষক রেজাউল করিম বিদ্যালয়ের নিয়মিত কমিটি গঠনের জন্য অ্যাডহক কমিটি গঠনের অনুমতি চেয়ে বিদ্যালয় পরিদর্শকের কাছে আবেদন করেন। তখন তিনি জানতে পারেন নিয়মিত কমিটি হয়ে গেছে। ২২ এপ্রিল শামীমা আক্তার দেশে আসেন। তাঁর পরামর্শে রেজাউল করিম ৫ জুন ওই কমিটি বাতিল চেয়ে অ্যাডহক কমিটি গঠনের অনুমতি চেয়ে প্রমাণসহ বিদ্যালয় পরিদর্শকের কাছে আবার আবেদন করেন। তিনি আবেদনে প্রিসাইডিং কর্মকর্তা ও প্রধান শিক্ষকের সই জালের অভিযোগ করেন। এ ঘটনায় ১৬ জুন মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের বিদ্যালয় পরিদর্শক এ টি এম মইনুল হোসেন জেলা শিক্ষা কর্মকর্তাকে সরেজমিনে বিষয়টি তদন্ত করে মতামতসহ প্রতিবেদন দেওয়ার নির্দেশ দেন।

প্রধান শিক্ষক রেজাউল করিম বলেন, ‘মূলত ফেরদৌস ও সাইফুল ষড়যন্ত্র করে আমাদের সই জাল করে কমিটির অনুমোদন নিয়ে আসেন।’

প্রিসাইডিং কর্মকর্তা ও উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা শামীমা আক্তার বলেন, ‘আমি দেশের বাইরে থাকার সময়ে কে বা কারা আমার স্বাক্ষর জাল করে বোর্ড থেকে কমিটি অনুমোদন নিয়ে এসেছেন। এ ছাড়া আমার স্বাক্ষরে বিভিন্ন কাগজপত্র সত্যায়িত করেছেন।’

এ ব্যাপারে শিক্ষক ফেরদৌস মিয়া বলেন, ‘বিষয়টি কে বা কারা করেছে তা আমার জানা নাই।’

অপর শিক্ষক সাইফুল ইসলাম অন্য একটি মামলায় কারাগারে থাকায় তাঁর বক্তব্য নেয়া সম্ভব হয়নি।