• আজ শুক্রবার, ২২ শ্রাবণ, ১৪২৮ ৷ ৬ আগস্ট, ২০২১ ৷

মিতু হত্যাকান্ডে এসপি বাবুলের ‘চাঞ্চল্যকর তথ্য’ নিয়ে বিভিন্ন সংবাদপত্রে প্রকাশিত সংবাদের নেপথ্যে


❏ শনিবার, জুন ২৫, ২০১৬ Breaking News, ফিচার

mitu2

সময়ের কণ্ঠস্বর- গতকাল রাত থেকেই এসপি বাবুল আক্তারকে নিয়ে ধুম্রজাল সৃষ্টি হয়েছে। তিনি এখন কোথায় আছেন তার সঠিক অবস্থান বলছেন না কেউ। এছাড়া তিনি গ্রেপ্তার হয়েছেন নাকি জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পুলিশ তাকে নিয়ে গেছে সে ব্যাপারে স্পষ্ট করে কোন কথা বলছে না আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা।

তবে আজ শনিবার সকালে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল গণমাধ্যমকে বলেছেন, বাবুল আক্তারকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। তবে তিনি গ্রেপ্তার হয়েছেন কি না সে বিষয়ে মন্ত্রী কিছুই বলেননি।

এদিকে, শনিবার গোয়েন্দা পুলিশের দায়িত্বশীল একটি সূত্রের বরাত দিয়ে অনলাইন গনমাধ্যম বাংলা নিউজ ও বাংলদেশ প্রতিদিন  তাদের সংবাদে জানিয়েছে, ‘  ‘চৌকস পুলিশ কর্মকর্তা এসপি বাবুল আক্তারের স্ত্রী মাহমুদা খানম মিতুকে হত্যার পরিকল্পনার ছক নিজেই কেটেছিলেন বলে জানিয়েছেন খোদ বাবুল। পুলিশের হাতে আটকের পর জিজ্ঞাসাবাদে এমন চাঞ্চল্যকর তথ্য দিয়েছেন তিনি’  ।

Capture

এর মধ্য দিয়ে পুলিশ সুপার বাবুল আক্তারের স্ত্রী মাহমুদা খানম মিতু আক্তার হত্যা মামলার তদন্ত নতুন চাঞ্চল্যকর মোড় নিলো বলেও জানায় তারা ।

প্রকাশিত সংবাদের সূত্র জানিয়েছে, ”পারিবারিক কলহের জের ধরে নিজে পরিকল্পনা করে স্ত্রীকে হত্যা করিয়েছেন বাবুল আক্তার। চট্টগ্রামের দামপাড়ার এক ব্যবসায়ীর সঙ্গে তার স্ত্রীর সম্পর্ক ছিলো, যা নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায় বলে জিজ্ঞাসাবাদে বাবুল জানিয়েছেন বলেও নিশ্চিত করে সূত্র। কঠোর গোপনীয়তায় বাবুল আক্তারের জিজ্ঞাসাবাদ চলছে।”

বাংলা নিউজে এই সংবাদ ছাড়াও প্রকাশিত হয় এসপি বাবুলের স্ত্রী হত্যাকান্ডে জড়িত ছিলেন বাবুলের চাচাতো ভাই ও ”দামপাড়ার ব্যবসায়ীর সঙ্গে সম্পর্ক ছিলো মিতুর!” শিরোনামে আরও দুটি চাঞ্চল্যকর সংবাদ ।

তবে আকস্মিকভাবে শনিবার বিকেল ৫ টার পরে প্রকাশিত সংবাদটি বদলে ফেলে বাংলা নিউজ ।লাল চিহ্নিত লিংকে আগের শিরোনাম স্ত্রী হত্যার ছক নিজেই কেটেছিলেন এসপি বাবুল আক্তার! কিন্তু একই লিংকে ক্লিক করে এখন দেখা যাচ্ছে  ” বাসায় ফিরেছেন বাবুল আক্তার” ।

f

পত্রিকাটির অফিশিয়াল ফেসবুক পেজে স্টিকি করে রাখা সংবাদটি বদলের সাথে সাথে বদলে ফেলা হয় ভেতরের সংবাদটিও।

7

বাংলা নিউজের বরাত দিয়ে অন্যান্য সংবাদপত্রের মত সময়ের কণ্ঠস্বরও সংবাদটি প্রকাশ করলে পাঠকের মধ্যে শুরু হয় বিভ্রান্তি । বাংলা নিউজে সংবাদের এমন পরিবর্তনে মন্তব্যের ঘরে অনেক পাঠককেই উত্তেজিত মন্তব্য করতেও দেখা যায় ।

bangla news

এর আগে শুক্রবার দিবাগত রাত পৌনে ২টার সময়ে রামপুরার বনশ্রীর শ্বশুরের বাসা থেকে বাবুল আক্তারকে নিয়ে যায় পুলিশ। বাবুল আক্তারের শ্বশুর পুলিশের অবসরপ্রাপ্ত পরিদর্শক মো. মোশাররফ হোসেন বলেন, ‘খিলগাঁও থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মঈনুল ইসলাম ও মতিঝিল বিভাগের উপ-কমিশনার (ডিসি) মোহাম্মদ আনোয়ার হোসেন আমার বাসায় এসে আইজিপি স্যার ডেকেছেন এমন কথা বলে বাবুল আক্তারকে নিয়ে যান।

তিনি আরও বলেন, এর আগেও দুইবার পুলিশ বাবুল আক্তারকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য নিয়ে গেছে। তবে তখন সে তার ফোন রিসিভ করে কথা বলত। কিন্তু গতকাল রাত থেকে বাবুল আক্তারের সঙ্গে যোগাযোগ করা যাচ্ছে না। একাধিক বার ফোন করলেও কেউ রিসিভ করছেন না।’ বাবাকে না দেখে বাবুল আক্তারের দুই সন্তানই কান্নাকাটি করছে বলে জানান মোশাররফ হোসেন।

এদিকে রাত থেকেই বিভিন্ন দায়িত্বশীল সূত্রে জানা যাচ্ছে আরও কিছু চাঞ্চল্যকর তথ্য। যা জঙ্গি, সোনা চোরাচালানি, ইয়াবা ব্যবসায়ীদের দিক থেকে সন্দেহের তীর ঘুরিয়ে দিচ্ছে খোদ বাবুল আক্তারের দিকেই। তবে এখনও এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে মুখ খোলেনি সংশ্লিষ্ট কেউই।

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ও চট্টগ্রাম নগর গোয়েন্দা পুলিশের সহকারী কমিশনার (দক্ষিণ) মো.কামরুজ্জামান জানিয়েছেন, তিনি এ বিষয়ে কিছুই জানেন না।

তবে নগর পুলিশের দুজন শীর্ষ কর্মকর্তা এবং তদন্ত সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্রে জানা গেছে, গত এক সপ্তাহে মিতু হত্যাকাণ্ডে অংশ নেয়া চারজনের প্রত্যেককে আটক করতে সক্ষম হয়েছে পুলিশ। আটক চারজনের মধ্যে দুজনই বাবুল আক্তারের সোর্স।

সূত্র জানায়, আটকের পর চারজনের আলাদা আলাদা করে জবানবন্দিও নিয়েছে। এতে তারা হত্যার দায় স্বীকার করেছে। এছাড়া খুনের নির্দেশদাতাকে নিয়ে সুনির্দিষ্ট তথ্যও তারা প্রকাশ করেছে। মূলত এরপরই পুলিশ বাবুল আক্তারকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য হেফাজতে নেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু করে।

উল্লেখ্য, গত ৫ জুন চট্টগ্রামের জিইসি মোড়ে শিশু সন্তানের সামনে কুপিয়ে ও গুলি করে পুলিশ সুপার বাবুল আক্তারের স্ত্রী মাহমুদা খানম মিতুকে হত্যা করা হয়। পরের দিন ভোরে নগরীর বাদুরতলা বড় গ্যারেজ এলাকা থেকে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহার করা মোটরসাইকেল উদ্ধার করে পুলিশ।

ঘটনার পর পুলিশ দাবি করে বাবুল আক্তারের জঙ্গিবিরোধী ভূমিকার কারণেই তার স্ত্রীকে হত্যা করা হয়েছে। এই প্রেক্ষাপটে সারাদেশে শুরু হয় জঙ্গিদের বিরুদ্ধে বিশেষ অভিযান। আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর কথিত ক্রসফায়ারে নিহত হয় কমপক্ষে ৬ জঙ্গি।

আপনার জেলার সর্বশেষ সংবাদ জানুন