সংবাদ শিরোনাম
এমসি কলেজ ছাত্রাবাসে ধর্ষণের ঘটনায় আসামি মাহফুজুর রহমান গ্রেফতার | গাজীপুরে পিবিআইয়ের অভিযানে অপহরণকারী চক্রের  ২সদস্য গ্রেফতার | সিলেট এবং খাগড়াছড়িতে ধর্ষণের প্রতিবাদে গাজীপুরে ছাত্রদলের বিক্ষোভ | শিল্পপতি হাসান মাহমুদ চৌধুরীর মৃত্যুতে ভূমিমন্ত্রীর শোক | বাংলাদেশ গণিত অলিম্পিয়াড দলকে অভিনন্দন জানালেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী | ‘শেখ হাসিনার জন্যই গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠা পেয়েছে’- মেয়র তাপস | ‘নভেম্বরে আসতে পারে করোনার ভ্যাকসিন’- স্বাস্থ্যমন্ত্রী | শেখ হাসিনা বাঙালি জাতির বাতিঘর ও কাণ্ডারি: শিক্ষামন্ত্রী | শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলা ও এইচএসসি নিয়ে সংবাদ সম্মেলন করবেন শিক্ষামন্ত্রী | দেশে ইতিহাস বিকৃতির জনক জিয়াউর রহমান: কাদের |
  • আজ ১৪ই আশ্বিন, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

শরীয়তপুরে চিকিৎসকের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত

৯:১০ অপরাহ্ণ | শনিবার, জুন ২৫, ২০১৬ ঢাকা, দেশের খবর

Shariatpur Hospital Pic-22

শরীয়তপুর প্রতিনিধি: শরীয়তপুর সদর হাসপাতালের মেডিকেল অফিসার ডাঃ সুমন কুমার পোদ্দারের বিরুদ্ধে আনিত অভিযোগ তদন্তে প্রমাণিত হয়েছে। তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য প্রতিবেদনটি স্বাস্থ্য মহাপরিচালকের কাছে প্রেরণ করা হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছেন সিভিল সার্জন ডাঃ মোঃ মশিউর রহমান।

এদিকে, তদন্ত প্রতিবেদন যাতে ফাইল বন্দি থাকে সেজন্য ডাঃ সুমন কুমার পোদ্দার উচ্চ থেকে উচ্চতর পর্যায়ের তদবীর চালিয়ে যাচ্ছেন বলেও অভিযোগ বয়েছে।

উল্লেখ্য, গত ১০ জুন শুক্রবার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে জেলার সদর উপজেলার ধানুকা গ্রামের বাসিন্দা মোঃ শাহজাহান সরদারের স্ত্রী রেহেনা বেগম (২৫) শরীয়তপুর সদর হাসপাতালে বিনা মূল্যে বিড়ালে কামড়ানোর প্রতিষেধক ভ্যাকসিন নিতে আসেন। তখন অত্র হাসপাতালের কর্তব্যরত ডাক্তার সুমন কুমার পোদ্দার তাকে ভ্যাকসিন না দিয়ে কিছু মেডিকেল টেস্ট করতে বলে এবং একজন দালালের মাধ্যমে তার নিজস্ব ক্লিনিক “শরীয়তপুর ডিজিটাল ডায়াগনস্টিক সেন্টারে” পাঠিয়ে দেন। উক্ত রোগী ডায়াগনস্টিক সেন্টারের টেস্টের বিল ৩ হাজার ৬ শত টাকা পরিশোধ করতে গিয়ে অবাক হয়ে যান। তখন রোগী ৫০০ টাকা জমা দিয়ে টেস্টের রিপোর্ট না নিয়েই চলে আসেন। এই ঘটনা নিয়ে গত ১২ জুন রোববার রোগীর স্বামী শাহজাহান সরদার জেলা প্রশাসকের কাছে অভিযোগ একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। সেই মোতাবেক জেলা প্রশাসক মোঃ মাহমুদুল হোসাইন খান সিভিল সার্জনকে অবহিত করা হয়। পরে তাৎক্ষণিক ভাবে সিভিল সার্জন তিন সদস্য বিশিষ্ট তদন্ত কমিটি গঠন করেন এবং তিন দিনের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দেয়ার নির্দেশ দেন। উক্ত নির্দেশনার ৬ দিন পরে তদন্ত কমিটি প্রতিবেদন দাখিল করেন। এতে ডাঃ সুমন কুমার পোদ্দারের বিরুদ্ধে যে আভিযোগ আনা হয়েছে তা সত্য প্রমাণিত হয়েছে এবং তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য প্রতিবেদনটি স্বাস্থ্য মহাপরিচালকের কাছে প্রেরণ করা হয়েছে।

এ ঘটনায় রোগী রেহেনা আক্তারের স্বামী শাহজাহান সরদার বলেন, ডাঃ সুমন কুমার পোদ্দার একটা কশাই। সদর হাসপাতালে আমার স্ত্রীকে নিয়ে গিয়েছিলাম বিড়ালে কামড়ের ভ্যাকসিন দিতে। কিন্তু ডাঃ সুমন কুমার পোদ্দার আমার স্ত্রীকে ভ্যাকসিন না দিয়ে কতগুলো টেস্ট ধরিয়ে দিয়ে বললেন তার নিজস্ব ক্লিনিক শরীয়তপুর ডিজিটাল ডায়াগনস্টিক সেন্টারে থেকে করিয়ে আনতে। আমি সেই মোতাবেক টেস্ট করাতে গিয়ে দেখি ৩ হাজার ৬ শত টাকা লাগবে। এতো টাকা আমার কাছে ছিল না। আর বিড়ালে কামড়ালে যে এতো গুলো টেস্ট করতে হয় তা আমি জানতাম না। আমি গরীব ভ্যান চালক। হঠাৎ করে এতো গুলো টাকা কোথায় পাই ?

অভিযুক্ত চিকিৎসক ডাঃ সুমন কুমার পোদ্দার বলেন, রোগী যখন আমার কাছে আসে, তখন রোগী অজ্ঞান অবস্থায় ছিল। আমি স্বাভাবিক চিকিৎসার জন্যই টেস্ট গুলো করতে দিয়েছি। রোগীকে যে বিড়ালে কামড়িয়েছে, সেটা আমার কাছে পরে বলেছে।

এ ব্যাপারে সিভিল সার্জন ডাঃ মোঃ মশিউর রহমান বলেন, ডাঃ সুমন কুমার পোদ্দার এর বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য প্রতিবেদনটি স্বাস্থ্য মহাপরিচালকের কাছে প্রেরণ করা হয়েছে।