সংবাদ শিরোনাম
কটিয়াদীতে নিখোঁজের পর মাটি খুঁড়ে মা-বাবা ও ছেলের লাশ উদ্ধার | ক্যান্সারে আক্রান্ত শিশু জিনিয়া বাঁচতে চায়, প্রয়োজন সহযোগিতার | সফলতার রঙিন স্বপ্ন: নওগাঁর মাটিতে থোকায় থোকায় ঝুঁলছে মিষ্টি-সুস্বাদু আঙ্গুর | আগের সব রেকর্ড ভেঙ্গে একদিনে সর্বোচ্চ করোনায় আক্রান্ত যুক্তরাষ্ট্রে! | মহানবীকে নিয়ে ব্যঙ্গ কার্টুন প্রদর্শনের প্রতিবাদে ফরিদপুরে বিক্ষোভ মিছিল | স্বাধীনতা পুরস্কারে ভূষিত হলেন নারী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ভারতেশ্বরী হোমস | ইসলাম অবমাননাকর কার্টুন প্রকাশের তীব্র নিন্দা জানিয়েছে রাশিয়া | সেনেগালে নৌকাডুবে ১৪০ অভিবাসী প্রত্যাশীর মৃত্যু | ইসলামপন্থি সন্ত্রাসের কাছে হার মানবে না ফ্রান্স: ম্যাক্রোঁ | ‘বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক বর্তমানে এক অনন্য উচ্চতায়’- এলজিআরডি মন্ত্রী |
  • আজ ১৪ই কার্তিক, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

অঝরে কাঁদলেন খালেদা, কাঁদালেন উপস্থিত অতিথিদেরও

৯:২১ অপরাহ্ন | বুধবার, জুন ২৯, ২০১৬ আলোচিত বাংলাদেশ, জাতীয়

_khaleda

সময়ের কণ্ঠস্বর- সরকার হটানোর জের ধরে বিগত আন্দোলনে গুম-খুনের শিকার নেতা-কর্মীদের স্মরণ করে অঝরে কেঁদেছেন বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া। এ সময় অনুষ্ঠানস্থলে উপস্থিত অতিথিরাও কান্নায় ভেঙে পড়েন।

বুধবার সন্ধ্যায় রাজধানীর গুলশানের লংবিচ হোটেলে গুম-খুন হওয়া নেতাকর্মীদের স্মরণে বক্তব্য দিতে গিয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন তিনি। বক্তব্যের পরে বিগত আন্দোলনে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের স্বজনদের সঙ্গে ইফতার করেন বিএনপি চেয়ারপারসন।

গুম হওয়াদের সম্পর্কে খালেদা জিয়া বলেন, ‘গত কয়েক বছর ধরে ছাত্রদল, যুবদল ও বিএনপির যারা নিখোঁজ রয়েছে, তারা কিভাবে আছেন, কেমন আছেন- তা আমরা কিছুই জানি না।

বেগম জিয়া বলেন, আপনারা যে আশা করছেন, স্বজনরা একদিন ফিরে আসবে, আমরাও সেই আশায় আছি। আবার আপনাদের মা, বাবা, ভাই-বোন-স্ত্রী ছেলে-মেয়েদের আদর করবে ঠিক তেমনিভাবে আমাদের দলে ফিরে নেতা-কর্মীদের সঙ্গে মিলে আমাদের আপন হয়ে থাকবে।

এর পরপরই ভারী হয়ে আসে সাবেক প্রধানমন্ত্রীর কণ্ঠ। অঝরে কাঁদতে থাকেন তিনি। এ সময় অনুষ্ঠানস্থলে উপস্থিত অতিথিরাও কান্নায় ভেঙে পড়েন। কান্নাজড়িত কণ্ঠে খালেদা জিয়া বলেন, স্বজন হারানোর ব্যথা আমি বুঝি। আপনারা দেখেছেন আমার সন্তান হারিয়েছি।

ক্রসফায়ারের ঘটনাকে দুঃখজনক আখ্যায়িত করে তিনি বলেন, একটি নিরীহ ছেলেকে কথা নাই বার্তা নেই গুলি করে মেরে ফেলবে। এটা খুবই দুঃখজনক। বিচার ছাড়া কাউকে গুলি করে মেরে ফেলবে, এটা আগে কখনো হয়নি। এরা খুনি এরা গুপ্তহত্যাকারী এরা জালেম। আমরা আল্লাহর কাছে দোয়া করব তিনি যে এর বিচার করেন। দুনিয়াতেই যেন এর বিচার আপনারা দেখে যেতে পারেন। ভবিষ্যতে যেন এই ধরনের কাজ করতে সাহস না পায়।

খালেদা আরও বলেন, নিখোঁজ নেতা-কর্মীরা যেখানেই আছে আল্লাহ যেন তাদের ভালো রাখেন। আমরা বিরোধী দলে আছি। আমাদের প্রত্যেকের ওপর মিথ্যা মামলা, নানা নির্যাতন চলছে। নতুন করে অভিযানে ১৬ হাজার লোক ধরেছে এর মধ্যে ৪ হাজার বিএনপি নেতা-কর্মী। তাদের প্রধান উদ্দেশ্য হলো বিএনপিকে ধ্বংস করা।

গুম-খুনের সঙ্গে জড়িত আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের বিচার করা হবে এমন মন্তব্য করে বিএনপি প্রধান বলেন,‘ভবিষ্যতে দেশে গণতন্ত্র ফিরে এলে আমরা অবশ্যই তাদের (গুম হওয়া নেতাকর্মী) খোঁজ করব। র‌্যাব ও পুলিশের যারা এই অন্যায় কাজগুলো করেছে তাদের কোনো ক্ষমা করা হবে না। তাদের বিচার একদিন না একদিন হবে। স্বজনদের আমরা ফিরে না পেতে পারি। কিন্তু বিচারটা পেলেও অন্তত শান্তি পাওয়া যাবে। আমরা আল্লাহর কাছে দোয়া করব, যাতে তাদের আত্মাটা শান্তি পায়।

অনুষ্ঠান শেষে আন্দোলনে গুম, খুনের শিকার ৩৮ পরিবারের সদস্যদের হাতে ঈদ উপহার ও আর্থিক সহায়তা তুলে দেন খালেদা জিয়া।