• আজ ৫ই কার্তিক, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

‘আওয়ামীলীগ সরকার না থাকলে কিছুই পেতাম না’

১১:৪৪ পূর্বাহ্ণ | বৃহস্পতিবার, জুন ৩০, ২০১৬ ঢাকা, দেশের খবর

মোঃ রুবেল ইসলাম, মুন্সীগঞ্জ প্রতিনিধি: পদ্মাসেতুর টাকা পেয়ে এলাকার নাম হাজ্জী পাড়া পুনর্বাসন উপজেলার মাওয়া এলাকায় এলেই চোখে পড়বে জেন কতি ক্ষত গতিতে এগিয়ে চলেছে পদ্মাসেতুর কাজ। এর অদূরে চৌরাস্তা মোড় সংলগ্নে কুমারভোগ। এখানে পৌঁছালে সবার নজর কড়বে পদ্মা বহুমূখী পুনর্বাসন কেন্দ্র। সুন্দর পুনর্বাসন কেন্দ্র এটি যেন পদ্মাপাড়ের এক সবুজ বেষ্টনী ও রির্সোটে পরিনত প্রবেশ পথেই চোখে পড়বে রকমারি ফলজ, ঔষুধি ও ফুল গাছের বাগান চোখ জুড়ানো সারি। প্রথম গেট থেকে কয়েক ফুট হাঁটতেই দেখা যায় খুবই সুন্দর একটি মসজিদ। এখানে ৫ ওয়াক্ত  নামাজ পড়েন মুসল্লিরা সবাই পদ্মাসেতু প্রকল্পের পুনর্বাসন কেন্দ্রের বাসিন্দা।

munshigonj

এদের মধ্যে একজন হাজী ফয়জুল মোড়ল (৬৫)। প্রকল্পের কাজে দিয়েছেন বাপ দাদার ৪০ শতক জমি। এর ক্ষতিপূরণ হিসেবে পুনর্বাসন কেন্দ্রে পেয়েছেন ৭ শতক জমি ও ৫০ লাখ টাকা। সেই টাকা দিয়ে এখন সুখে শান্তি আরাম আয়েসে বসবাস করছেন তিনি। কেমন আছেন জানতে চাইলেই হাত প্রসারিত করে পুনর্বাসন এলাকার চারপাশ দেখালেন তিনি। এরপর বলেন, এমন পরিবেশে তো সবাই ভালো থাকবে। আল্লাহর রহমতে অনেক ভালো আছি। ৪০ শতক জমির বিনিময়ে বাড়ি করার জমি পাইছি। ঘরবাড়ি বিনিময়ে ৫০ লাখ টাকা পাইছি। সেই টাকা দিয়ে হজ্ব ও করছি। তিনি আরও বলেন, খোদার কৃপায় আমার স্ত্রী আছিয়া বেগম, বড় বোন মাকছুদা খাতুন ও মা হালিমা খাতুন ১৩ লাখ টাকা খরচ করে হজ্জ করে এসেছি । এক সঙ্গে পদ্মাসেতুর টাকা না পাইলে হজ্জ করতে পারতাম না। এখন আমরা সবাই আল্লাহর রহমতে হাজ্জী।

মসজিদের সামনে আরও কথা হয়, হাজ্জী মোঃ আঃ রাজ্জাক, হাজ্জী শুকুর হাওলাদার, হাজ্জী আদেল শেখ, হাজ্জী ওমর কাওড়া, হাজ্জী আবু বকর, হাজ্জী ইমান আলী, হাজ্জী আব্দুল খালেক ও হাজ্জী আর্শেদ আলীর ও সৈয়দ মিয়ার সঙ্গে। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, এখানকার অধিকাংশ মানুষই পদ্মা সেতুর টাকা পেয়ে হজ্জ করেছেন। হাজ্জী ফয়জুল মোড়ল সাংবাদিকদের বলেন, কয়জনের নাম বলবো। কয়েক ঘর বাদে একটি করে এখানে হাজ্জী আছে। পদ্মাসেতুর কারনে এটা হাজ্জী পাড়া হয়ে গেছে। পুনর্বাসন এলাকা বললে ভুল হবে। পদ্মাসেতুর কারনে এটা এখন হাজ্জী পাড়া। এখানে সবুজ বেষ্টনীর মধ্যে কি নেই। সারি সারি পেয়ারা, কাঁঠাল, আম, লিচু, কামরাঙা, লেবু ও বিভিন্ন ফুল গাছের চোখ জোড়ানো সারি। রয়েছে মৎস প্রকল্প সহ সবুজে ঘেরা স্কুলে শিক্ষার্থীদের ভাল উপস্থিতি।

podda-sadu

প্রয়োজনীয় পানির ট্যাঙ্ক, ক্ষুদ্র কাঁচাবাজার ও পাঠাগার। স্যানিটেশন, বিদ্যুৎ সুবিধাসহ প্রতিটি বাসার সঙ্গেই রয়েছে পিচ ঢালাই করা কালো পাথর সংযোগ। হাটা চলার মেইন রোড পুনর্বাসন কেন্দ্র ঘুরতে ঘুরতে কথা হলো মোঃ দাদন তালুকদারের সঙ্গে। তিনি ৪৫ শতক জমি ও অবকাঠামোর (বাড়ি) বিনিময়ে এখানে ৭ শতক জমি ও ৬০ লাখ টাকা পেয়েছেন। এরপরে ৭ শতক জমির উপর নির্মাণ করছেন ২ তলা বিশিষ্ট পাকা দালান। তবে জমি এখনও তার নামে নিবন্ধন করা হয়নি। মোঃ দাদন তালুকদার বলেন, পদ্মাসেতুর কাজে ঘরবাড়ি ও জমি হারাইছি। বিনিময়ে সব পাইছি। অনেক ভালো আছি। আওয়ামীলীগ সরকার (শেখ হাসিনা) না থাকলে মনে হয় এ রকম কিছুই পেতাম না। এর পাশেই নতুন করে বাড়ি তৈরি করছেন হাজি মুনসুর আলী। তার জমি পদ্মা সেতু প্রকল্পে ব্যবহার হওয়ার কারণে তিনিও সব কিছু ফিরে পেয়েছেন। এই এলাকায় যার সঙ্গে দেখা হচ্ছে এদের মধ্যে হাজ্জীর সংখ্যাই অধিক।

পুনর্বাসন কাজে সবাই সন্তোষজনকভাবে দেখছেন। ভূমি অধিগ্রহণ ও পুনর্বাসন কাজও সন্তোষজনকভাবে এগিয়ে যাচ্ছে। প্রকল্পে ভূমি অধিগ্রহণ কাজের অগ্রগতি হয়েছে ৯৫ ভাগ। মুন্সীগঞ্জ ও পদ্মা নদীর ওইপাড়ে- মাদারীপুর ও শরীয়তপুর জেলায় যথাযতভাবে ভূমি অধিগ্রহণের কাজ এগিয়ে যাচ্ছে। সেতুর উভয় পাড়ে ৭ টি পুনর্বাসন কেন্দ্রে মোট ১ হাজার ১৭৫ দশমিক ৭৫ হেক্টর ভূমি অধিগ্রহণ হয়েছে। বাকি ভূমি দখল বুঝে নেয়ার জন্য কাজ চলমান। প্রকল্পের পুনর্বাসন কাযর্ক্রমের অগ্রগতি ৮০ ভাগ। ভূমি অধিগ্রহণে ক্ষতিগ্রস্তদের পুনর্বাসনের জন্য মোট ২ হাজার ৫৯২টি প্ল­টের মধ্যে ১ হাজার ১৩৫০টি প্ল­ট হস্তান্তর করা হয়েছে। এদের মধ্যে ৩৬০টি প্ল­ট ভূমিহীন ক্ষতিগ্রস্তদের। বাকি কাজ খুব দ্রুত সময়ে হবে বলে জানিয়েছে, সেতু বিভাগের কুমারভোগের মাওয়া সাইট নির্বাহী প্রকৌশলী (পুনর্বাসন) অফিসার মোঃ তোপাজ্জল হোসেন সেতুর উভয় পাশে ৭ টি পুনর্বাসন কেন্দ্র গড়ে উঠেছে। সবগুলোই পরিকল্পিতভাবে গড়ে উঠেছে। এমন কুমারভোগের মাওয়া চৌরাস্তা সবুজ বেষ্টনী ও পুনর্বাসন কেন্দ্র এখন (হাজ্জীপাড়া)।