উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের এক্স-রে মেশিন নষ্ট: দুর্ভোগে রোগীরা

১১:৫৬ পূর্বাহ্ণ | বৃহস্পতিবার, জুন ৩০, ২০১৬ খুলনা, দেশের খবর

আরাফাতুজ্জামান, ঝিনাইদহ প্রতিনিধি: ঝিনাইদহ জেলার ছয়টি স্বাস্থ্যকেন্দ্রের মধ্যে মাত্র দুইটি স্বাস্থ্যকেন্দ্রের এক্স-রে মেশিনে রোগীদের ঠিকমতো সেবা দেওয়া হয়। বাকি চারটি স্বাস্থ্যকেন্দ্রের এক্স-রে মেশিনের দুইটি নষ্ট ও দুইটি মেশিনের ফিল্ম শেষ হওয়ায় রোগীদের সেবা দিতে পারছে না। কালীগঞ্জ ও কোটচাঁদপুর উপজেলা স্বাস্থ্যকেন্দ্রের মেশিনগুলো পুরোপুরি নষ্ট ও অকেজো হয়ে পড়ে আছে। দীর্ঘদিন পড়ে থাকা এসব মেশিনগুলো মেরামত করার উদ্যোগও নেওয়া হয় না বলে জানা গেছে। এর ফলে রোগীরা পড়েছেন দুর্ভোগে।

x-ray-masin-nosto

সিভিল সার্জন অফিস সূত্রে জানা গেছে, কালীগঞ্জ ও কোটচাঁদপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেশিন প্রায় ১ বছর ধরে নষ্ট হয়ে পড়ে আছে। বার বার চিঠি দিয়ে মন্ত্রণালয়ের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলেও এর প্রতিকার পাওয়া যাচ্ছে না। এছাড়া শৈলকুপা ও মহেশপুর উপজেলার এক্স-রে মেশিন ভালো থাকা সত্ত্বেও মেশিনের ফিল্মের সমস্যার কারণে রোগীদের সেবা কার্যক্রম প্রায় ব্যাহত হয়। ফিল্ম শেষ হয়ে গেলে তা ঢাকা থেকে আসতে প্রায় ২ মাস সময় লেগে যায়।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সরকারি হাসপাতালে এক্স-রে করতে ছোট সাইজ ৫৫ টাকা ও বড় সাইজ ১৫০ টাকা খরচ হয়। যা অন্যান্য ক্লিনিকে করতে ছোট সাইজ ১৫০/২০০ টাকা ও বড় সাইজ ৫০০/৬০০ টাকা খরচ হয়। জীবন বাঁচাতে বাধ্য হয়ে রোগীরা অধিক টাকা দিয়ে বেসরকারি ক্লিনিক থেকে এক্স-রে করছেন। কালীগঞ্জ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আসমা খাতুন নামের এক রোগী জানায়, হাসপাতালে এসেছিলাম এক্স-রে করতে। কিন্তু এখানে মেশিন নষ্ট থাকায় এক্স-রে করছে না। এখন বাইরে থেকে বেশি টাকা দিয়ে এক্স-রে করাতে হবে।

শামছুল হক নামের এক বৃদ্ধ জানান, কিছুদিন আগে পড়ে গিয়ে কোমরের হাড়ে সমস্যা হয়েছে। কম খরচে এখানে এক্স-রে হয় শুনে এসে ছিলাম কিন্তু মেশিন নাকি নষ্ট হয়ে পড়ে আছে। আমরা গরীব মানুষ বাইরে থেকে এক্স-রে করতে এতো টাকা কোথায় পাবো?

কালীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাঃ আব্দুর রহমান জানান, অসংখ্য বার চিঠি দিয়ে উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছি। কিন্তু কোনো কাজ হচ্ছে না। মাঝে মাঝে ঢাকা থেকে লোক এসে মেশিন দেখে চলে যায়। কিন্তু মেরামত করার ব্যাপারে কোনো পদক্ষেপ নেয় না।

কোটচাঁদপুর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাঃ আব্দুর রাজ্জাক জানান, প্রায়ই মন্ত্রাণালয়ে চিঠি দিচ্ছি কিন্তু কোনো প্রতিকার পাচ্ছি না। গত এক সপ্তাহ আগেও চিঠি দিয়েছি। আশায় আছি খুব দ্রুত মেরামত করা হবে।

শৈলকুপা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের লুৎফুননাহার নামের এক রোগী জানান, এক্স-রে করাতে এসেছিলাম কিন্তু মেশিনে নাকি ফিল্ম নেই। কিছুদিন পরে আবার আসতে বললেন অফিসের লোকজন।

শৈলকুপা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কর্মকর্তা ডাঃ খোন্দকার বাবর জানান, মেশিনে কোনো সমস্যা নাই কিন্তু ফিল্ম শেষ হয়ে গেলে তা আসতে ২ মাস সময় লাগে। এ সময় রোগীদের কিছুটা সমস্যা হয়।

ঝিনাইদহ সিভিল সার্জন ডাঃ আব্দুস সালাম সময়ের কণ্ঠস্বরকে জানান, দুই উপজেলার মেশিন নষ্ট বেশ কিছুদিন। এগুলো মেরামত করার ব্যাপারে কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হয়েছে। অচিরেই এগুলো মেরামত করা হবে বলে তিনি আশা করেন। মেশিনের ফিল্ম শেষ হয়ে যাওয়ার ব্যাপারে তিনি বলেন, ফিল্ম শেষ হওয়ার এক মাস আগে আবার অর্ডার দেওয়া হয় কিন্তু ঢাকা থেকে আসতে এটা অনেক সময় নেয়। এর ফলে রোগীদের কিছুটা সমস্যা হয়।