সংবাদ শিরোনাম
  • আজ ৯ই কার্তিক, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

এমএল পিনাক-৬ দুর্ঘটনার ৩২ মাস : কাটেনি আতঙ্ক

২:৫৮ অপরাহ্ন | বৃহস্পতিবার, জুন ৩০, ২০১৬ ঢাকা, দেশের খবর

মোঃ রুবেল ইসলাম, মুন্সীগঞ্জ প্রতিনিধি: ঢাকা-মাওয়া মহা সড়কের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের ২১ জেলার মাওয়া পদ্মাসেতু প্রকল্প এলাকার অন্যতম প্রবেশদ্বার নৌরুট শিমুলিয়া ফেরী ঘাট আজ বৃহস্পতিবার এমএল পিনাক-৬ লঞ্চ দুর্ঘটনার ৩২ মাস অতিবাহিত হলেও পবিত্র মাহে রমজান ও ঈদকে সামনে রেখে এখনো পদ্মা পাড়ি দিতে চরম আতঙ্কে রয়েছেন দক্ষিণবঙ্গের ঘরমুখো মানুষ। তাদের মাঝে এখনো কাটেনি লঞ্চডুবির আতঙ্ক। সেই ভয়াবহ স্মৃতি এখনো তাড়া করে বেরাচ্ছে পদ্মা পারাপার হওয়া মানুষের হৃদয়ে।

nou-poth

খোঁজ খবরে জানা যায়, এখনো অনেক যাত্রী লঞ্চ উপেক্ষা করে ফেরিতে পদ্মা পাড়ি দিচ্ছেন। গত দুই বছর আগে রমজানের ঈদের পর ৪ আগস্ট ধারণ ক্ষমতা অতিরিক্ত হওয়া আড়াই শতাধিক যাত্রী নিয়ে মাদারীপুরের শিবচর উপজেলার কাওরাকান্দিঘাট থেকে মাওয়ার উদ্দেশে ছেড়ে আসা পিনাক-৬ নামক সেই ধানব লঞ্চটি অভার লোডিংয়ের কারণে পদ্মায় অতল দেশে তলিয়ে যায়। সরকারিভাবে ওই ঘটনায় ৪৯টি যাত্রীর লাশ উদ্ধার করা হলেও। নিখোঁজ থাকে আরো ৫৩ জন। যাদের হুদিস আজো মেলেনি। এ সময় পদ্মার তীরে স্বজনহারাদের আহাজারি আর বুকফাটা আর্তনাদে ঘ্রাষ করে দেয় ঈদের আনন্দ। আজ এমএল পিনাক-৬ লঞ্চ দুর্ঘটনার ৩২ মাস পেরোলেও আর কিছু দিন পরেই আবারো আসছে ঈদ। আবারো বর্ষা মওসুমের সেই উত্তাল পদ্মা। এবারো একই নৌপথে লঞ্চে পারাপার হতে হবে দক্ষিণবঙ্গের ২১ জেলার মানুষকে।

সরোজমিন ও খোঁজ খবর নিয়ে জানা যায়, লঞ্চ দুর্ঘটনার পর উভয়ঘাট থেকে প্রতিটি লঞ্চ ধারণ ক্ষমতা অনুযায়ী নির্দিষ্ট যাত্রী নিয়ে পদ্মা পাড়ি দিচ্ছিল। এ কাজের সর্বোচ্চ সতর্কতা নিয়ে তদারকি অব্যাহত রেখেছিলেন ভ্রাম্যমাণ আদালত সহ স্থানীয় প্রশাসন, বিআইডব্লিউটিএ ও মাওয়া নৌ পুলিশের লোকজন। কয়েক মাস ধরে চলাচলকারী লঞ্চগুলোতে অতিরিক্ত যাত্রী দেখা যাচ্ছিল না। বর্তমানে পদ্মা উত্তাল থাকলেও যাত্রী স্বল্পতায় যাত্রী পারপারে নেই কর্তৃপক্ষের তদারকির সেই আগের চিত্র। তা ছাড়া প্রশাসন ও পুলিশি তদারকিতে লঞ্চে গুনে গুনে যাত্রী দেয়ার সেই আগের চিত্রও দেখা যায়নি। তবে যাত্রী না থাকায় এ ব্যবস্থাপনা নেই বলে সংশ্লিষ্টরা দাবি করছেন। একই সাথে আসন্ন ঈদের আগে যাত্রী চাপ বেড়ে গেলে তখন লঞ্চে গুনে গুনে যাত্রী দেয়া হবে বলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। অন্য দিকে সম্প্রতি ফরিদপুরের আটরশির ওরসের সময় যাত্রী চাপে তিন থেকে চার দিন কাওরাকান্দিঘাট থেকে কিছুটা অভারলোডিং হয়েছে।

farita-nou-poth

সে সময় লঞ্চ পন্টুনে ওঠানামার একাধিক জেটি থাকায় ও মাওয়া চৌরাস্তার সিগন্যাল থেকে একসাথে ১০-১৫টি যাত্রীবাহী যানবাহন শিমুলিয়াঘাটে এলে অতিরিক্ত যাত্রী চাপে লঞ্চে স্বল্প যাত্রী অভারলোডিং হয়েছিল। তবে মাঝে মধ্যে কিছু লঞ্চে যাত্রী, মালামাল সহ অভারলোডিং হয় বলে স্বীকার করেন বিআইডব্লিউটিএর একটি সূত্র। এ দিকে শিমুলিয়া-কাওরাকান্দি-মাঝিকান্দি নৌরুটে বর্তমানে ৮৭টি লঞ্চের মধ্যে ৮২টি চলাচল করছে। ফিটনেস থাকা সত্ত্বেও বাকি ৩টি লঞ্চ ঈদ উপলক্ষে মেরামতের জন্য ডকিংয়ে রয়েছে। এ ছাড়া পিনাক-৬ এর পরিবর্তে আরেকটি লঞ্চ এ রুটে চলাচল করছে বলে জানা যায়। শিবচর উপজেলার যাত্রী রুকেয়া খাতুন জানান, ঢাকা থেকে ছেলে মেয়েকে নিয়ে আগেভাগেই মা-বাবার সাথে ঈদ করতে বাড়ি যাচ্ছি। কিন্তু নদীর অবস্থা দেখে লঞ্চঘাটে এসেও ফের ফেরিঘাটের দিকে যাচ্ছি ফেরিতে পদ্মা পাড়ি দেয়ার জন্য।

পিনাক ডুবির ঘটনা স্মরণ করে একই সাথে থাকা চাকরিজীবী মোঃ নবীন হাসান জানান, সেই কথা এখনো আমরা ভুলিনি। সে সময় আমরাও ওই লঞ্চটির পেছনে পেছনে আরেকটি লঞ্চে ঢাকার দিকে যাচ্ছিলাম। আমাদের এলাকার অনেকেই ওই দুর্ঘটনায় মারা যান। তাই ভাগ্নে ৯ বছরের সিফাত ও ভাগ্নি তিন বছরের তানহা কে নিয়ে লঞ্চে যেতে ভয় লাগছে। এখন নদীতে অনেক ঢেউ।

এ ব্যাপারে শিমুলিয়া নদীবন্দরের ট্রাফিক ইন্সপেক্টর মোঃ সোলেমান সময়ের কণ্ঠস্বরকে জানান, এখন লঞ্চঘাটে যাত্রীর চাপ একেবারেই কম। তবে ঈদের আগে লঞ্চঘাটে যাত্রীর চাপ বেশি হলে তখন লঞ্চগুলোতে ধারণক্ষমতা অনুযায়ী গুনে গুনে যাত্রী দেয়া হবে। তা ছাড়া ওরস বা অন্য কোনো বড় ছুটিতে কখনো কখনো কোনো কোনো লঞ্চ অভারলোডিং করে থাকে বলে তিনি স্বীকার করেন ।