সংবাদ শিরোনাম
কটিয়াদীতে নিখোঁজের পর মাটি খুঁড়ে মা-বাবা ও ছেলের লাশ উদ্ধার | ক্যান্সারে আক্রান্ত শিশু জিনিয়া বাঁচতে চায়, প্রয়োজন সহযোগিতার | সফলতার রঙিন স্বপ্ন: নওগাঁর মাটিতে থোকায় থোকায় ঝুঁলছে মিষ্টি-সুস্বাদু আঙ্গুর | আগের সব রেকর্ড ভেঙ্গে একদিনে সর্বোচ্চ করোনায় আক্রান্ত যুক্তরাষ্ট্রে! | মহানবীকে নিয়ে ব্যঙ্গ কার্টুন প্রদর্শনের প্রতিবাদে ফরিদপুরে বিক্ষোভ মিছিল | স্বাধীনতা পুরস্কারে ভূষিত হলেন নারী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ভারতেশ্বরী হোমস | ইসলাম অবমাননাকর কার্টুন প্রকাশের তীব্র নিন্দা জানিয়েছে রাশিয়া | সেনেগালে নৌকাডুবে ১৪০ অভিবাসী প্রত্যাশীর মৃত্যু | ইসলামপন্থি সন্ত্রাসের কাছে হার মানবে না ফ্রান্স: ম্যাক্রোঁ | ‘বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক বর্তমানে এক অনন্য উচ্চতায়’- এলজিআরডি মন্ত্রী |
  • আজ ১৪ই কার্তিক, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

উত্তরপত্র গায়েব বিহারের সেই আলোচিত ছাত্রীর !

১১:৪৬ পূর্বাহ্ন | শুক্রবার, জুলাই ১, ২০১৬ আন্তর্জাতিক

আন্তর্জাতিক ডেস্কঃ ভারতের বিহারে ক্লাস টুয়েলভ এ কলা বিভাগে প্রথম স্থান অধিকার করে সকলকে চমকে দিয়েছিল রুবি রাই। পরে এক ইন্টারভিউতে রুবি জানিয়েছিল রাষ্ট্রবিজ্ঞানে সে রান্না-বান্না নিয়ে পড়েছে। এমন ভিডিও ইন্টারনেটে ছড়িয়ে পড়লে কর্তৃপক্ষের সন্দেহ হয়। ফের পরীক্ষা নেওয়া হয়। আর সেই পরীক্ষায় সরাসরি ফেল।

‘তুলসীদাস প্রণাম’— বিহারের কলা বিভাগের প্রথমা রুবি রাইকে যখন পরীক্ষকরা তুলসীদাসের উপর একটি প্রবন্ধ লিখতে বলেন, এই উত্তরটাই সাদা খাতায় লিখেছিলেন রুবি। পরীক্ষকরা যখন এ বিষয়ে তাঁকে আরও কিছু লিখতে বললেও এর বেশি কিছু লিখতে পারেননি। বিশেষজ্ঞ পরীক্ষকরা জানিয়েছেন, এ বছরের বোর্ডের পরীক্ষায় তুলসীদাসের উপর এই প্রশ্নটিই ছিল। রুবির খাতা পরীক্ষা করে দেখা যায় তিনি যথেষ্ট ভালই লিখেছিলেন। কিন্তু সেই প্রশ্নই যখন শনিবারের পরীক্ষায় দেওয়া হল, শুধু তুলসীদাস প্রণাম লিখেই ছেড়ে দেন রুবি! পরীক্ষকরাও অবাক হয়ে যান। রুবি পরীক্ষকদের এটাও দাবি করেন, পরীক্ষার জন্য তিনি দু’বছর ধরে পড়েছেন, পরীক্ষাও দিয়েছেন। তিন মাস হয়ে গিয়েছে পরীক্ষার, তাই এ বিষয়ে তাঁর আর কিছু মনে নেই। বিহার বিদ্যালয় পরীক্ষা সমিতির দফতরে দু’ঘণ্টা ধরে পরীক্ষা নেওয়া হয় রুবির। বিশেষজ্ঞ কমিটি জানায়, কলা বিভাগের বিষয় নিয়ে প্রাথমিক জ্ঞানটুকুও নেই রুবির। বোর্ড প্রধান আনন্দ কিশোর জানান, বিশেষজ্ঞ কমিটির মতে প্রথম হওয়ার যোগ্যতাই নেই রুবির মধ্যে। রুবির পরীক্ষার খাতার ফরেন্সিক পরীক্ষার জন্য পাঠানো হবে। যাচাই করে দেখা হবে রুবি কি আদৌ পরীক্ষা দিয়েছিলেন, নাকি তাঁর হয়ে কেউ পরীক্ষায় বসেছিল।

এরপরই তাকে নেওয়া হয় পুলিশ হেফাজতে। শুরু হয় তদন্ত। এখন শোনা যা্ছে, রুবির সেই উত্তরপত্রই গায়েব হয়ে গেছে। গত দু’দিন ধরে খুঁজেও বিষুণ রায় কলেজের ওই ছাত্রীর উত্তরপত্রের কোনও হদিশ পায়নি পটনা পুলিশের বিশেষ তদন্তকারী দল (সিট)।

popular student of biharআসলে উত্তরপত্রের ফরেনসিক পরীক্ষা করাতে চাইছিলেন তারা। সে কারণেই দরকার ছিল ওই উত্তরপত্রগুলির। এর ফলে তদন্তের মোড় ঘুরেও যেতে পারে বলে মনে করছেন গোয়েন্দারা। নতুন করে কয়েক জনকে গ্রেফতার করার সম্ভাবনাও দেখা দিয়েছে। তবে এরই মধ্যে পরীক্ষা কেলেঙ্কারির বেশ কয়েকটি নতুন বিষয়ের খোঁজ পেয়েছে সিট।

বিহারের উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষার রেজাল্ট বেরনোর পর দেখা যায় বৈশালী জেলার ভগবানপুরের বিষুণ রায় কলেজের ছাত্রী রুবি প্রথম হয়েছেন। পলিটিক্যাল সায়েন্সকে ‘প্রডিক্যাল সায়েন্স’ বলে গোটা দেশে সাড়া ফেলে দিয়েছিলেন তিনি। এর পরেই নড়েচড়ে বসে বিহার সরকার। গত ৩ জুন সাক্ষাৎকারের জন্য মেধাতালিকায় থাকা অন্য পড়ুয়াদের সঙ্গে রুবিকেও সমিতির দফতরে ডাকা হয়েছিল। সে দিন অসুস্থতার জন্য হাজির হননি তিনি। ফের তাঁকে ১৭ জুন ডাকা হয়। সে দিনও আসেননি। তৃতীয় বার ডাকার পরে এ দিন হাজিরা দেন রুবি।

পটনা পুলিশের শীর্ষ কর্তারা মনে করছেন, প্রমাণ লোপাটের জন্যই রুবি রায়ের উত্তরপত্র সরানো হয়েছে। তাদের দাবি, বিষুণ রায় কলেজের অধ্যক্ষ বাচ্চাপ্রসাদের সঙ্গে বোর্ডের প্রাক্তন চেয়ারম্যান লালকেশ্বরের চুক্তি হয়েছিল। এই প্রক্রিয়ায় উপর থেকে নীচ পর্যন্ত, সমস্ত স্তরের এক শ্রেণির কর্মী যুক্ত রয়েছে বলেই মনে করা হচ্ছে। সেই কর্মীদের সাহায্যেই উত্তরপত্র সরিয়ে ফেলার সম্ভবনা রয়েছে। তদন্তকারীরা উত্তরপত্রের দায়িত্বে থাকা কর্মীদের গ্রেফতার করে জেরা করতে চাইছেন।

তদন্তে জানা গেছে, শিক্ষা দফতরের বৈশালী জেলা অফিসে বাচ্চাবাবুর যথেষ্ঠ প্রভাব ছিল। বাচ্চাবাবুর অফিস থেকে বৈশালীর আরএম কলেজের শিলমোহর মারা দু’ডজনের বেশি ফাঁকা উত্তরপত্র পাওয়া ড়েঝে। আরএম কলেজের অধ্যক্ষ ও পরীক্ষা পরিদর্শককে জেরা করবেন গোয়েন্দারা। কী ভাবে বোর্ডের শিলমোহর দেওয়া ওই ফাঁকা উত্তরপত্র বাচ্চাবাবুর কাছে গেল তা জানতে চাইবেন তারা।

সূত্রের দাবি, বাচ্চাবাবুর কলেজে বসেই উত্তরপত্রগুলি লেখা হতো। তারপরে তা আসল উত্তরপত্রের সঙ্গে জুড়ে দেওয়া হতো। এর পাশাপাশি, বিষুণ রায় কলেজের পরীক্ষার সেন্টার প্রথমে হাজিপুরের গুরুকুল পীঠ কলেজে করা হয়েছিল। পরে তা পাল্টে হাজিপুরের এসডিও রোডের জি এ ইন্টার কলেজে করা হয়। কেন এই পরিবর্তন, তা নিয়ে কোনও লিখিত সরকারি নির্দেশ সিট পায়নি। সিটের তদন্তকারীরা গুরুকুলের অধ্যক্ষ এবং পরীক্ষা পরিদর্শকের সঙ্গেও এ ব্যাপারে কথা বলবেন। কার নির্দেশে সেন্টার পাল্টানো হয়েছে তা দেখা হচ্ছে।

এরই মধ্যে রুবি রায়কে গ্রেফতার করা নিয়ে রাজনীতি শুরু হয়েছে। অন্যদিকে, বিহারের একজন মন্ত্রী বলেন, শিক্ষার্থীদের শাস্তি না দিয়ে কর্তৃপক্ষের শিক্ষা ব্যবস্থাকে আরো গ্রহণযোগ্য করে তোলা প্রয়োজন।

অন্যান্য বিভাগে প্রথম দিকে থাকা কয়েকজন শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধেও গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হয়েছে। যাদের মধ্যে বিজ্ঞানে সর্বোচ্চ নম্বর পাওয়া সৌরভ শ্রেষ্ঠও রয়েছে। কারণ সে এইচটুও (H2O) পানির সংকেত এটি বলতে পারেনি।

গত বছর বিহারে পরীক্ষা চলকালে অভিভাবকরা স্কুলের সীমানা প্রাচীর বেয়ে উঠে শিক্ষার্থীদের নকল সরবরাহ করছেন এমন একটি ছবি প্রকাশ পায়। যা বিহার রাজ্য সরকার কে অস্বস্তির মুখে ফেলে দেয়। ফলে এ বছর পরীক্ষায় বেশ কড়াকড়ি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছিল।

কিন্তু রুবির সাক্ষাৎকারের ভিডিও আসল চিত্র প্রকাশ করে দেয়।

imran বিশ্ব মুসলিম নেতাদের ইমরান খানের চিঠি

বৃহস্পতিবার, অক্টোবর ২৯, ২০২০