• আজ বৃহস্পতিবার। ২৩শে বৈশাখ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ। ৬ই মে, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ। দুপুর ১:০৯

ঈদ যাত্রায় গতবছরের ন্যায় এবারও ব্যাপক প্রাণহানির শঙ্কা

⏱ | শুক্রবার, জুলাই ১, ২০১৬ 📁 আলোচিত বাংলাদেশ

eid-journey zatri-bh

সময়ের কন্ঠস্বর: ঈদযাত্রায় গতবছরের মতো এবারও সড়ক দুর্ঘটনায় ব্যাপক প্রাণহানির আশঙ্কা প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতি। আজ শুক্রবার জাতীয় প্রেসক্লাবে সংগঠনের আলোচনা সভায় এ আশঙ্কার কথা জানানো হয়।

যাত্রী কল্যাণ সমিতি থেকে জানানো হয়, ঈদে ৯ দিনের লম্বা ছুটি কাটাতে ঢাকা থেকে ৯২ লাখ, চট্টগ্রাম মহানগর থেকে ৩১ লাখ, সিলেট থেকে ৮ লাখ, খুলনা থেকে ১২ লাখ, রাজশাহী থেকে ৯ লাখ ও বরিশাল থেকে ৩ লাখ মানুষ বিভিন্ন গন্তব্যে যাবে। এর মধ্যে ৩ লাখ মানুষ ওমরাহ পালনসহ বিদেশে যাবেন। এক জেলা থেকে অপর জেলায় যাতায়াত করবে ৪ কোটি ৬০ লাখ মানুষ।

যাত্রী কল্যাণ সমিতির সভাপতি মো. মোজাম্মেল হক চৌধুরী বলেন, ‘গত বছর ঈদে এক সপ্তাহে ১৭৫ জন যাত্রী সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ও ১ হাজার ১৭১ জন আহত হয়েছে। দুর্ঘটনার কারণ চিহ্নিত করে তার প্রতিরোধের উদ্যোগ নেওয়া দরকার। প্রতিটি মহাসড়কে চলমান উন্নয়ন কার্যক্রম, বিভিন্ন মহাসড়কে রাস্তার মধ্যে সৃষ্ট গর্ত, ঢাকা ও চট্টগ্রামে ফ্লাইওভার নির্মাণ, রাস্তায় বিভিন্ন স্থানে ফুটপাতে বাজার বসানোর কারণে ঈদ যাত্রায় ভোগান্তি বাড়বে। এ ছাড়া দুর্যোগপূর্ণ বর্ষা মৌসুমে নৌপথে দুর্ঘটনা বৃদ্ধির আশঙ্কা রয়েছে।’

দেশের ১০টি পয়েন্টে ১ হাজার স্বেচ্ছাসেবকের কোনো অস্তিত্ব নেই উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয় দেশের ১০টি গুরুত্বপূর্ণ স্পটে ১ হাজার স্বেচ্ছাসেবক নিয়োগের ঘোষণা দিয়েছিল। কিন্তু আমরা এর কোনো অস্তিত্ব খুঁজে পাইনি।’

স্বেচ্ছাসেবকেরা প্রশিক্ষিত না হলে সড়কে শৃঙ্খলার পরিবর্তে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির আশঙ্কা রয়েছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

ভাড়া নৈরাজ্যে সরকার কোনো পদক্ষেপ নেয়নি মন্তব্য করে আলোচনা সভায় বক্তারা জানান, ২৭ রোজার পর থেকে সারা দেশে ভাড়া বাড়ানো হয়। ভাড়া নৈরাজ্য বন্ধে বিআরটিএ ও বিআইডাব্লিউটিএ’র পক্ষ থেকে প্রতিবছর গতানুগতিক পদ্ধতিতে ভিজিল্যান্স টিম মনিটরিং কমিটি গঠনের ঘোষণা দেওয়া হয়। অথচ প্রকৃতপক্ষে মাঠে তাদের অস্তিত্ব খুঁজে পাওয়া যায়নি। যাত্রী চাহিদার বিপরীতে দেশে ৩৭ দশমিক ৪৪ শতাংশ পরিবহনের ঘাটতি রয়েছে বলে আলোচনা সভা থেকে জানানো হয়।

এ প্রসঙ্গে বক্তারা জানান, ২২ রমজান থেকে ২৭ রমজান পর্যন্ত গণপরিবহন ঘাটতির পরিমাণ ৮৭ দশমিক ৮৯ শতাংশ। ২৭ রমজান থেকে ঈদের আগ পর্যন্ত ১০ গুণ বেশি মানুষ যাতায়াত করে। এ সময় গণপরিবহনের ঘাটতির পরিমাণ দাঁড়াবে ৩৭৪ দশমিক ৪৪ শতাংশ।

এ সংকটকে পুঁজি করে রাস্তায় বিশৃঙ্খলা ও অনিয়ম ঘটবে। এর বিপরীতে সব সমস্যা সামাল দিতে সরকার, প্রশাসন, পুলিশ, মালিক সমিতি ও শ্রমিক সমিতিকে গলদঘর্ম হতে হয়।

আলোচনা সভায় আরো বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ পর্যটন করপোরেশনের (বিপিসি) চেয়ারম্যান মোহাম্মদ মাহবুবুর রহমান।