ভারতীয় বিমানবাহিনীতে দেশীয় প্রযুক্তিতে বানানো ‘তেজস’ সুপারসনিক যুদ্ধবিমান

❏ শুক্রবার, জুলাই ১, ২০১৬ আন্তর্জাতিক

আন্তর্জাতিক ডেস্কঃ দীর্ঘ ৩ দশকের অপেক্ষার পর আজ ‘এইচএএল তেজস’ নামে দুটি সুপারসনিক যুদ্ধবিমান ভারতীয় বিমানবাহিনীতে যুক্ত হয়েছে। ‘ফ্লাইং ডেগারস’ নামে ভারতের প্রথম তেজস স্কোয়াড্রন’র অংশ হিসেবে বেঙ্গালুরুর একটি বিমানঘাঁটিতে বহুমুখী কাজ করতে সক্ষম একক ইঞ্চিনের এ বিমান দুটি আনুষ্ঠানিকভাবে যুক্ত হলো। খবর টাইমস অব ইন্ডিয়ার

বিমান দুটিকে বিশ্বের সবচেয়ে ক্ষুদ্রতম ও হালকা হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। এর মধ্য দিয়ে দেশীয় প্রযুক্তির যুদ্ধবিমানের জন্য ভারতের ৩৩ বছরের অপেক্ষার অবসান হলো। যদিও বিমানটির জিই ইঞ্চিনসহ আরো বেশ কিছু উপাদান আমদানিকৃত।
একেবারেই দেশীয় প্রযুক্তিতে বানানো সুপারসনিক ‘তেজস’ যুদ্ধবিমান ভারতীয় বিমানবাহিনীর মুকুটে নতুন পালক হয়ে উঠতে চলেছে।

এই যুদ্ধবিমানটিতে চালক ছাড়া থাকতে পারবেন মাত্র একজনই। ভারতীয় বিমানবাহিনীতে দীর্ঘ ৫/৬ দশক ধরে যে ভূমিকা ছিল সাবেক সোভিয়েত যুদ্ধবিমান ‘মিগ-২১’ এর, এবার সেই জায়গাটাই নিতে চলেছে ‘তেজস’।

প্রায় সাড়ে ১৩ মিটার লম্বা আর ১২ টন ওজনের যুদ্ধবিমানগুলোর সর্বোচ্চ গতিবেগ হতে পারে ঘণ্টায় ১৩৫০ কিলোমিটার। সর্বাধিক ৪০০ কিলোমিটার ব্যাসার্ধের এলাকা চষে বেড়ানোর জন্য ‘তেজস’ এ নতুন করে জ্বালানি ভরতে হবে না।

tejosভারতীয় বিমানবাহিনীতে মোট ৩৩টি স্কোয়াড্রন রয়েছে। সেই সব স্কোয়াড্রনের প্রত্যেকটিতে রয়েছে ১৬ থেকে ১৮টি যুদ্ধবিমান। প্রাথমিকভাবে এক স্কোয়াড্রন ‘তেজস’ যুদ্ধবিমান পাবে বিমানবাহিনী।

তেজস-এ রয়েছে ইজরায়েলে তৈরি অত্যাধুনিক মাল্টি-মোড রেডার, ‘এলটা ২০৩২’৷ আকাশে শত্রুপক্ষের সঙ্গে সংঘাতে জড়িয়ে পড়লে রয়েছে ‘এয়ার টু এয়ার’ মিসাইল৷ উড়ন্ত অবস্থায় মাটিতে টার্গেট করে শত্রুঘাঁটি ধ্বংস করার জন্য তেজস-এ রয়েছে লেজার ও টার্গেটিং পডস৷ সবচেয়ে বড় কথা, তেজস-এর চেয়ে নিরাপদ যুদ্ধবিমান খুব কমই রয়েছে৷ ৩০০০ বারেরও বেশি টেস্ট ফ্লাইংয়ের সময় একবারও মাঝ-আকাশে ভেঙে পড়েনি এই বিমান৷ ফ্রান্সের তৈরি মিরাজ ২০০০ মডেলের সঙ্গে একাসনে বসানো যায় তেজসকে৷ সাধে এই বিমানকে বায়ুসেনার ‘ব্লু-আইড বয়’ বা ‘আদরের সন্তান’ বলে!

উল্লেখ্য, এলসিএ তেজস যুদ্ধবিমান তৈরির লক্ষ্যে ভারত ৩৩ বছর আগে একটি প্রকল্প হাতে নিয়েছিল।