• আজ ১০ই কার্তিক, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

অনিয়ম ও দুর্নীতির কারণে পিরোজপুর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের নতুন ভবন নির্মাণ কাজ বন্ধ

৫:১০ অপরাহ্ন | শুক্রবার, জুলাই ১, ২০১৬ দেশের খবর, বরিশাল

সৈয়দ বশির আহম্মেদ, কাউখালী প্রতিনিধি
পিরোজপুরের কাউখালী উপজেলায় চিকিৎসা ব্যবস্থা ভেঙে পড়েছে। দুই জন চিকিৎসক দিয়ে জোড়া-তালি দিয়ে চলছে লক্ষাধিক মানুষের চিকিৎসা সেবা। চিকিৎসক সংকট ছাড়াও ৮ বছর পূর্বে ঘোষনা করা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটি ঝুকিপূর্ণ ভবনে চলছে চিকিৎসা সেবা কার্যক্রম্। সামান্য বৃষ্টি হলেই স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ভবনের ছাদ চুয়ে পানি পড়া, সিলিং ও ভিম থেকে কংক্রিট ভেঙে পড়া নিত্য নৈমিত্তিক ব্যাপার হয়ে দাঁড়িয়েছে। চরম দুর্নীতি ও অনিয়মের কারনে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটি ৩১ থেকে ৫০ শয্যায় উন্নীত করার লক্ষ্যে ৩ তলা বিশিষ্ট নতুন ভবন নির্মানকাজও বন্ধ হয়ে গেছে।

স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসক ও কর্মচারীদের আবাসস্থলের অবস্থাও অত্যন্ত করুণ। যে কোন সময়ে বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশংকা চিকিৎসক কর্মচারীদের। কমিউনিটি ক্লিনিক গুলোও চলছে নামকাওয়াস্তে এর কর্মকান্ড মনিটর করারও কোন ব্যবস্থা নেই। সব মিলিয়ে উপজেলার স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের স্বাস্থ্য ব্যবস্থায় করুণ হাল বিরাজ করছে। পিরোজপুর জেলার ৭৯.৬৪ বর্গকিলোমিটার আয়তনের কাউখালী উপজেলাটি পাঁচটি ইউনিয়ন নিযে গঠিত। উপজেলা সদরের উপজেলা স্বাস্থ্য কেন্দ্রে ৯ জন এবং ৫ ইউনিয়নে ৫ টি এফডব্লিউসিতে একজন করে চিকিৎসক থাকার কথা।

কিন্তু উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা মো. ছিদ্দিকুর রহমান ও শিয়ালকাঠি এফডব্লিউসি তে ডা. ওসমান গনি কর্মরত আছেন। উপজেলা স্বাস্থ্য কেন্দ্রে চিকিৎসক না থাকায় শিয়ালকাঠি এফডব্লিউসি থেকে ডা. ওসমান গনিকে ডেপুটেশনে নিয়ে কাজ চালানো হচ্ছে। কমিউনিটি ক্লিনিক সমূহে কোন তদারকি বা পরিদর্শনের ব্যবস্থা না থাকায় সেগুলোর অধিকাংশ চলে না চলার মত। ফলে লক্ষাধিক মানুষ সব ধরনের চিকিৎসা সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। উপজেলা স্বাস্থ্য প্রশাসক মো. ছিদ্দিকুর রহমান জানান দীর্ঘ দিন ধরে কাউখালী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ডাক্তার সংকট, ভবন সমস্যায় ভুগতেছেন। বহুবার আাবেদন নিবেদনের পর ৩১ শয্যা থেকে ৫০ শয্যায় উন্নীত করনের জন্য ভবন নির্মানের কাজ শুরু হলে ঠিকারের ও প্রকৌশল বিভাগের দুর্নীতির কারনে তা বন্ধ হয়ে গেছে।

kaukhali৮ বছর পূর্বে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সভবনটি ঝুকিপুর্ন ভবনহিসেবে ঘোষনা করাহয়। বিকল্প কোন ভবন না থাকায় জরাজীর্ন ভবনের মধ্যে চলছে হাসপাতালের ইনডোর ও আউটডোর চিকিৎসা সেবা। সম্প্রতি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সংস্কার কাজ করা হয় কিন্তু তার মান অত্যন্ত নিম্নমানের হওয়ায় আগের অবস্থায়ই বিরাজ করছে বলে জানান উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা: মো: ছিদ্দিকুর রহমান। চিকিৎসকের বিষয়ে বলেন বার বার আবেদন করার পর তিনজন চিকিৎসক পোষ্টিং দেওয়া হলেও তারা কেউই এখানে নেই। এক বছর পূর্বে ডেন্টাল সার্জন হিসেবে ডা. লিটন ভুষন বড়ালকে পদায়ন করা হলেও তিনি যোগদান করে সেদিনই ঢাকায় সোহরাওয়ার্দি হাসপাতালে চলে যান। অপর এক মেডিকেল অফিসার গত ৭/৫/২০১৬ তারিখে যোগদান করেই ৫ দিনের ছুটিতে যান।

ছুটিতে গিয়ে ফিরে না আসায় দুইবার চিঠি দেওয়া হয়েছে। ওই চিঠি ফেরৎ এসেছে। কয়েকদিন পূর্বে তিনি দেড় মাসের মেডিকেল ছুটির আবেদন পাঠিয়েছেন। আর একজন মেডিকেল অফিসার ডা. ওয়ালিউর মিরাজ দুই মাসের ফাউন্ডেশন ট্রেনিংয়ে রয়েছেন। এ বিষয়ে পিরোজপুরের সিভিল সার্জন ডা. মো. ফখরুল আলমের সঙ্গে কথা হলে তিনি জানান দীর্ঘ দিন ধরে এ সমস্যা রয়েছে। আমাদের কাজ উর্ধতন কর্মকর্তাদেরকে বিষয়টি জানানো। বার বার বিষয়টি উর্ধতন কর্মকর্তাকে জানানো হয়েছে। স্বাস্থ্য বিভাগের ডিজি মহোদযকেও বিষয়টি জানানো হয়েছ্।ে সর্বোপরি এলাকার সংসদসদস্য পরিবেশ ও বন মন্ত্রী মহোদয়ের সাথেও বিষয়টি নিয়ে আলাপ আলোচনা হয়েছে।