হাইওয়ে ছেড়ে মফস্বল রাস্তায় ট্রাক, সৈয়দপুরে ভাঙ্গলো ব্রীজ

৯:২৭ অপরাহ্ন | শুক্রবার, জুলাই ১, ২০১৬ দেশের খবর, রংপুর

সৈয়দপুর১২সৈয়দপুর প্রতিনিধি: নীলফামারী জেলার সৈয়দপুর পৌর এলাকায় ক্যান্টনমন্টে পাবলিক স্কুল অ্যান্ড কলেজের সামনের সড়কে পঁচানালার ব্রীজ ভেঙ্গে দশ চাকা বিশিষ্ট বালু বোঝাই একটি ট্রাক নালায় পড়ে গেছে। বৃহস্পতিবার ভোর রাতে এ দূর্ঘটনাটি ঘটেছে। এ ঘটনার পর থেকে সৈয়দপুর শহরে প্রবেশের বিকল্প ওই সড়কে সকল প্রকার যানবাহন চলাচল বন্ধ রয়েছে।

জানা গেছে, ঘটনার দিন শুক্রবার ভোর রাতে দশ চাকার একটি বালু বোঝাই ট্রাক (নম্বর: চট্টগ্রাম-ট-১১-০৪৫৭) ঝুঁকিপূর্ণ ও জরাজীর্ণ ওই ব্রীজটি অতিক্রম করছিল। এ সময় বালু বোঝাই ট্রাকটি ব্রীজ ভেঙে নালায় পড়ে যায়। পরে খবর পেয়ে সৈয়দপুর থানা পুলিশ গিয়ে ট্রাক চালক মো. রবিউল ইসলাম (৫০) থানায় নিয়ে আসে। তাঁর বাড়ি চুয়াডাঙ্গা বাগান এলাকায়। ট্রাক চালক রবিউল ইসলাম বলেন, তিনি পঞ্চপড়ের ভজনপুর থেকে ট্রাকে বালু বোঝাই করে চুয়াডাঙ্গায় যাচ্ছিলেন। মূল সড়ক হয়ে না গিয়ে তিনি বিকল্প সড়ক দিয়ে সৈয়দপুর শহর হয়ে যাচ্ছিলেন। আর ওই সড়কের ব্রীজটি যে এতো জরাজীর্ণ ও ঝুঁকিপূর্ণ ছিল সেটি আমার জানা ছিল না। তিনি জানান, ভোরে ট্রাক নিয়ে ব্রীজে ওঠার সঙ্গে সঙ্গে বালু বোঝাই ট্রাকসহ ব্রীজটি ভেঙে পড়ে। তবে  তিনি ও তাঁর সহকারি (হেলপার) কেউ আহত হননি।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, সৈয়দপুর শহরের পূর্ব দিকে পঁচানালার ওপর ওই ব্রীজটি নির্মাণ করে ইষ্ট পকিস্তান ওয়াপদা বিগত ষাটের দশকে। যদিও ওই সংস্থাটির এখন আর কোন অস্তিত্ব নেই। এখন সেটি ভেঙ্গে বাংলাদেশ বিদূৎ উন্নয়ন বোর্ড (বিউবো) এবং বাংলাদেশ পনি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) নামকরণ হয়েছে। কিন্তু পরবর্তীতে অজ্ঞাত কারণে আর পঁচানালার ব্রীজটির কোন রকম সংস্কারের উদ্যোগ নেয়নি পাউবো। কিন্তু পঁচানালার খনন ও সংস্কার কাজ ঠিকই করেছে পাউবো। ফলে পঁচানালার ওপর নির্মিত ব্রীজটি দীর্ঘদিন মেরামতের ও দেখভালের অভাবে জরাজীর্ণ ও মারাত্মক ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ে।

কিন্তু তারপরও ব্রীজটি দিয়ে সকল প্রকার যানবাহন চলাচল অব্যাহত ছিল। ব্রীজটি দিয়ে সৈয়দপুর উপজেলার ৩ নম্বর বাঙ্গালীপুর ইউপি’র মানুষ ছাড়াও পার্শ্ববর্তী রংপুর জেলার বদরগঞ্চ,তারাগঞ্জ ও দিনাজপুরের পার্বতীপুর উপজেলার মানুষ ও যানবাহন বাণিজ্যিক শহর সৈয়দপুরে প্রবেশ করে থাকে। ব্রীজটির অবস্থান সৈয়দপুর ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক স্কুল অ্যান্ড কলেজের একেবারে সামনে। তাই ব্রীজটি ঝুঁকিপূর্ণ ও জরাজীর্ণ হওয়ায় ওই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটি ও সৈয়দপুর সেনানিবাসের পক্ষ থেকে ব্রীজটি বিষয়ে গত বছর সৈয়দপুর পৌরসভাকে অবহিত করা হয়। পৌরসভা কর্তৃপক্ষ আবার ব্রীজটি পূর্ণর্নিমাণের বিষয়ে এলজিইডি নির্বাহী প্রকৌশলী ও সৈয়দপুর উপজেলা প্রকৌশলীর দপ্তরে পত্র দেন।

তৎকালীন সৈয়দপুর উপজেলা প্রকৌশলী (বর্তমানে দিনাজপুরের বিরল উপজেলায় কর্মরত) মো. জাকিউর রহমান জানান, ব্রীজটির অবস্থান সৈয়দপুর পৌরসভা এলাকায়। তাই সেটি পূর্ণর্নিমাণ কিংবা সংস্কার করা তাদের (এলজিইডি) এখতিয়ারভূক্ত নয় মর্মে চিঠি দিয়ে পৌরসভাকে জানিয়ে দেওয়া হয় সে সময়। পরবর্তীতে পৌরসভা কর্তৃপক্ষ আবার সৈয়দপুর পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) নির্বাহী প্রকৌশলীকে ব্রীজটির বিষয়ে অবহিত করে পত্র দেন। আর সে সময় “ক্ষতিগ্রস্থ ব্রীজ সকল প্রকার যান চলাচল নিষেধ” লেখা একটি সাইনবোর্ড লাগিয়ে দেওয়া হয় পৌরসভার পক্ষ থেকে। তবে সে সময় পাউবো সৈয়দপুর বিভাগ থেকে ব্রীজ নির্মাণের ব্যাপারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের মৌখিক আশ্বাস দেওয়া হয়েছিল। এদিকে, পাউবো’র একটি সূত্র জানায়, ব্রীজটি নির্মাণের সকল উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। এভাবে এলজিইডি, পৌরসভা ও পাউবোর মধ্যে চিঠিপত্র চালাচালির মধ্যে শুক্রবার ভোরে বালু বোঝাই ট্রাকসহ ব্রীজটি নালায় ভেঙ্গে পড়ল।

কিন্তু প্রধান রাস্তা (হাইওয়ে ও বাইপাস) ছেড়ে কেন তিনি ওই মফস্বল রাস্তায় ট্রাক প্রবেশ করালেন তা নিয়ে জনমনে সৃষ্টি হয়েছে নানা প্রশ্নের।