সংবাদ শিরোনাম

সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট বাশার আল-আসাদ সস্ত্রীক করোনায় আক্রান্তরোহিঙ্গা শিশু অপহরণের পর হত্যার ঘটনায় নারীসহ দু’জন গ্রেপ্তারবেলকুচিতে দূর্বৃত্তদের আগুনে পুড়ে গেল শিক্ষা প্রতিষ্ঠান !জামালপুরে মাদ্রাসা ছাত্রীকে রাতভর ধর্ষণ, গ্রেফতার মাদ্রাসার শিক্ষক‘করোনাকালের নারী নেতৃত্ব: গড়বে নতুন সমতার বিশ্ব’বগুড়ায় শিক্ষা প্রনোদনা পেতে প্রত্যয়নের নামে টাকা নেয়ার অভিযোগজামালপুরে ধর্ষণ মামলায় ধর্ষকের যাবজ্জীবনপাবনায় অবৈধ অস্ত্র তৈরির কারখানায় অভিযান, চারটি আগ্নেয়াস্ত্রসহ গ্রেফতার-২উপজেলা আ.লীগের সভাপতিকে ‘পেটালেন’ কাদের মির্জা!কে কত বড় নেতা, সবাইকে আমি চিনি: কাদের মির্জা

  • আজ ২৪শে ফাল্গুন, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

টাকা হলে পরীক্ষা ও ফিল্ড টেস্ট ছাড়াই ড্রাইভিং লাইসেন্স ফরিদপুর বিআরটিএ

৪:৩৭ অপরাহ্ন | শনিবার, জুলাই ২, ২০১৬ ঢাকা, দেশের খবর

হারুন-অর-রশীদ, ফরিদপুর প্রতিনিধি: ফরিদপুর বিআরটিএ অফিসে ড্রাইভিং লাইসেন্স পেতে সাধারণ জনগণকে নিদারুণ ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। ঘুষ ছাড়া কাজ হয় না এ অফিসে এমনই অভিযোগ ভুক্তভোগীদের। আর বিশেষ তদবীর বা টাকা হলে লিখিত, মৌখিক বা ফিল্ড টেষ্ট কিছুই প্রয়োজন নেই। শুধুমাত্র ফিঙ্গারিং দিয়েই লাইসেন্স মিলে। সম্প্রতি এমনই অভিযোগ পাওয়া গেছে ফরিদপুর বিআরটিএ এর বিরুদ্ধে।

foridpur

বিআরটি এর নিয়ম অনুযায়ী মোটর ড্রাইভিংয় লাইসেন্স পেতে ইচ্ছুক ব্যক্তিকে প্রথমে লার্নার ড্রাইভিং লাইসেন্স এর জন্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সহ আবেদন করতে হয়। ২ মাস পরে লিখিত, মৌখিক ও ফিল্ড টেস্ট দিতে হয়। উত্তীর্ণ হলে নির্ধারিত ফরমে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ও ফি প্রদান করে আবেদন করতে হয়। গ্রাহকের বায়োমেট্রিক্স (ডিজিটাল ছবি, ডিজিটাল স্বাক্ষর ও আঙ্গুলের ছাপ) গ্রহণ পূর্বক ৮০ থেকে ৯০ দিনের মধ্যে স্মার্ট কার্ড ইস্যু করা হয়। স্মার্ট কার্ড গ্রহণের জন্য গ্রাহককে এসএমএস এর মাধ্যমে অবহিত করা হয়। লার্নার ড্রাইভিং লাইসেন্স ফি ৩৪৫ টাকা। স্মার্ট কার্ড অপেশাদার লাইসেন্স ফি ২৩শ’ টাকা। স্মার্ট কার্ড পেশাদার লাইসেন্স ১৪শ’ ৩৮ টাকা। বিআরটিএ কর্তৃপক্ষ দাবি করছে, বর্তমানে সবকিছুই অনলাইনে হচ্ছে। এখন আর ঘুষ খাওয়ার সুযোগ নেই। কিন্তু বাস্তবতা জানান দিচ্ছে ঠিক তার উল্টোটাই।

কেস ষ্টাডি: দেড় মাস আগে ফরিদপুরের বোয়ালমারী উপজেলার সাতৈর গ্রামের এক যুবক স্থানীয় একজন সাংবাদিককে নিয়ে যান ফরিদপুর জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের ভবনে অবস্থিত বিআরটিএ অফিসে। সেখানে লাইসেন্সটি কোনভাবে দ্রুত পাওয়া যায় কিনা এ কথা জিজ্ঞাসা করতেই একজন কর্মচারী সহাস্যে বললেন, ভাই এখন অনলাইনের যুগ। এখন আর কারো টাকা খাওয়ার সুযোগ নেই। স্যারেরও টাকা খাওয়া শেষ।

এরপর তিনি সহযোগীতার হাত বাড়িয়ে জানালেন, প্রথমে লার্নারের জন্য আবেদন করেন, দুই মাসের মধ্যেই লাইসেন্স পেয়ে যাবেন। পরীক্ষা ও ফিল্ড টেষ্টেও সমস্যা হবে না বলে তিনি আশ্বাস দিলেন। তবে তার কথামতো লার্নারের আবেদনের কাগজপত্র জমা দিতে গেলে অফিসের একজন নারী ষ্টাফ এজন্য দু’শো টাকা নিলেন। তারপর তিনি জানালেন, ৫ হাজার টাকা দিলে একমাসের মধ্যেই আপনার লাইসেন্স পেয়ে যাবেন। এরপর যুবকটি ঘুষ না দিয়ে ঢাকা পুলিশ অফিসের একজন উর্দ্ধতন পুলিশ কর্মকর্তাকে দিয়ে ফোনে তদবীর করায়। এতে কাজ হয়েছে বলে ছাত্রটি জানায়। ঈদের পরে তার ড্রাইভিং লাইসেন্স দেয়া হবে। আর এ লাইসেন্স পেতে লিখিত, মৌখিক ও ফিল্ড টেষ্ট কিছুই লাগবে না বলে জানানো হয়েছে। তবে খরচের জন্য ১ হাজার টাকা দিতে হবে জানায় সে।

এ ব্যাপারে জানতে বিআরটিএ এর ফরিদপুর অফিসের সহকারী পরিচালক মোঃ আব্দুল কুদ্দুসের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি সময়ের কণ্ঠস্বরকে জানান, মোটর ড্রাইভিং লাইসেন্সের পরীক্ষা ও ফিল্ড টেষ্ট এর জন্য ফরিদপুরের এডিএমকে চেয়ারম্যান করে একটি কমিটি রয়েছে। পরীক্ষা ছাড়া কাউকে লাইসেন্স দেয়া হয় না। তবে কিছু রিকোয়েষ্ট থাকে যেগুলো একটু আলাদাভাবে দেখি। টাকা নেয়ার অভিযোগ তার জানা নেই বলে জানান তিনি।