সংবাদ শিরোনাম
  • আজ ১৬ই ফাল্গুন, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

টানা ১২ ঘন্টার ভয়াবহ জঙ্গী অবস্থান মাত্র ১৩ মিনিটেই গুড়িয়ে দেয় কমান্ডোরা !

৩:৩০ পূর্বাহ্ন | রবিবার, জুলাই ৩, ২০১৬ আলোচিত, আলোচিত বাংলাদেশ, জাতীয়, স্পট লাইট

সময়ের কণ্ঠস্বর ডেস্ক-

টানা ১২ ঘন্টার ভয়াবহ জঙ্গী অবস্থান মাত্র ১৩ মিনিটের কমান্ডো অভিযানে ধরাশায়ী হয়ে পড়ে ।  জিম্মি উদ্ধারে পরিচালিত এই অভিযানের নাম দেওয়া হয় ‘অপারেশন থান্ডার বোল্ট’। গুলশানে হলি আর্টিজান বেকারি রেস্তোরাঁয় জিম্মি দেশি-বিদেশি নাগরিকদের উদ্ধার করতে শুক্রবার রাতেই উপস্থিত হয় প্যারা কমান্ডো টিম।

সিলেট জালালাবাদ সেনানিবাস থেকে প্যারা কমান্ডো টিম বিমান বাহিনীর সি-১৩০ পরিবহন বিমানে করে ঢাকায় আসে। রাত সাড়ে ৩টার দিকে প্যারা কমান্ডো টিমটি উপস্থিত হয় ঘটনাস্থল গুলশানের ৭৯ নম্বর সড়কে। ৭০ সদস্যের এই দলের নেতৃত্ব দেন লে. কর্নেল ইমরুল হাসান।

প্যারা কমান্ডো টিমটি হলি আর্টিজান বেকারি রেস্তোরাঁকে কেন্দ্র করে চারদিকে অবস্থান নিতে শুরু করে। এর আগে নৌবাহিনীর কমান্ডো টিম ঘটনাস্থলে অবস্থান নেয়। এরপর সেখানে আসে সেনাবাহিনীর পদাতিক ডিভিশন। ওই রেস্তোরাঁকে চারদিক থেকে ঘিরে ফেলা হয়। গুলশান এলাকার চার বর্গকিলোমিটার এলাকা সশস্ত্র বাহিনী, পুলিশ, র্যাব ও ডিবি ঘিরে ফেলে।

gul-hamla

সেনাবাহিনীর ৪৬ ব্রিগেড কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বে এ অভিযান মনিটরিং করা হয়। ভবনের প্রবেশমুখে ৭৯ নম্বর সড়কে অবস্থান নেয় প্যারা কমান্ডো। হলি আর্টিজান বেকারি রেস্তোরাঁর পূর্বপাশে গুলশান লেক। লেকের পাশে হাঁটাপথে অবস্থান নেয় প্যারা কমান্ডো। ওই ভবনের পশ্চিম দিক অর্থাত্ প্রবেশের আগে লেকভিউ ক্লিনিক। ওই ক্লিনিকের ভবনের ওপরে অবস্থান নেয় সেনাবাহিনীর স্নাইপার টিম। স্নাইপার রাইফেল নিয়ে তারা হলি আর্টিজান বেকারি ভবনটির দিকে তাক করে থাকে।

অন্যদিকে, ৭৯ নম্বর সড়কে সেনাবাহিনীর ৯টি এপিসি ও ২টি সাঁজোয়া গাড়ি অবস্থান নেয়। ফায়ার সার্ভিসের উপ-সহকারী পরিচালক আব্দুল হালিমের নেতৃত্বে সেখানে অবস্থান নেয় ১৬টি ইউনিট ও ১টি জেমিনি বোট। জেমিনি বোটটি গুলশান লেকে অবস্থান নেয়। ওই ভবনে অভিযান চালানোর সময় জঙ্গি সদস্যরা পিছন দিয়ে বের হয়ে গুলশান লেক দিয়ে পালিয়ে যেতে পারে— এমন বিষয় থেকে গুলশান লেক ও লেক সংলগ্ন পদচারী রাস্তায় অবস্থান নেয় সেনাবাহিনীর পদাতিক ডিভিশন।

img_20160702_013004__1

অন্যদিকে, ৭৯ নম্বরে সড়কে র্যাব-১ ও র্যাব-২ এর সদস্যরা অবস্থান নেয়। এভাবে ওই ভবনকে ঘিরে প্যারা কমান্ডো ট্রুপের অভিযানের ছক কষতে কষতে ভোরের আলো ফুটে ওঠে।

সকাল ৭টার দিকে প্যারা কমান্ডো ট্রুপ ওই বাড়িকে কেন্দ্র করে রেকি করে। এর আগে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন সেনাপ্রধান জেনারেল আবু বেলাল মোহাম্মদ শফিউল হক। ৭টা ৪০ মিনিটে আনুষ্ঠানিকভাবে এই অভিযান শুরু হয়। মুহুর্মুহু গুলির শব্দে ভোরের গুলশান প্রকম্পিত হতে থাকে। শত শত রাউন্ড গুলি ছুঁড়তে থাকে। প্যারা কমান্ডোর সদস্যরা ক্রলিং করতে করতে সামনের দিকে এগুতে থাকেন। এর মধ্যে পদাতিক ডিভিশন গুলি ছুঁড়তে থাকে। ভিতর থেকে জঙ্গিরাও গুলি ছুঁড়তে থাকে। একপর্যায়ে প্যারা কমান্ডো ট্রুপের সদস্যরা হলি আর্টিজান বেকারির খুব কাছাকাছি চলে যায়। এভাবে প্রায় ১৩ মিনিট ধরে গুলি চালানোর পর কমান্ডোরা ভবনের ভিতরে প্রবেশ করে এর নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নেয়। ধরাশায়ী হয় জঙ্গিরা।

একই সময় প্রায় ২০/২৫টি সাউন্ড গ্রেনেড বিস্ফোরিত হয়। পরে ওই ভবনে র্যাবের বোম ডিসপজাল টিম প্রবেশ করে অবিস্ফোরিত বোমাগুলো নিষ্ক্রিয় করে।

প্রথম ভিডিও

দ্বিতীয় ভিডিও

আজ শনিবার দুপুরে সেনাবাহিনীর সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, গুলশানের হোলি আর্টিজান বেকারিতে হামলার ঘটনায় মোট জিম্মি হয়ে পড়া ২০ জন সহ হামলাকারী ৬ জঙ্গীর মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এছাড়া বিদেশি নাগরিকসহ মোট ১৩জনকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে। এঘটনায় নিহত হয়েছেন পুলিশের দুই কর্মকর্তা ।

এই ঘটনায় শুধু বাংলাদেশ নয়, বিশ্ব গনমাধ্যমেও ব্যপক আলোচিত হয়েছে। সারাদেশের মানুষসহ প্রবাসী বাংলাদেশীদের প্রতিটা মুহুর্ত কেটেছে উৎকণ্ঠায় । কিন্তু গনমাধ্যমের উপর কড়াকড়ি থাকায় সব ঘটনার প্রকাশ পাচ্ছিলোনা সাথে সাথে। এতে করে অনেকেই আরো বেশি উৎকণ্ঠায় পড়েন । অভিযানের অনেক ঘটনাই তাই জানা হয়নি সবার । শুক্রবার রাত ৯ টা থেকে শনিবার সকাল ৯ টা রুদ্ধশ্বাস অভিযানের প্রতিটি ঘন্টায় উল্লেখযোগ্য যা ঘটেছিলো একনজরে তাই সময়ের কণ্ঠস্বরের পাঠকদের জন্য তুলে ধরা হলো ।

অবশেষে পরিচয় মিললো নিহত সন্ত্রাসীদের !

আতংক, নির্মমতা, রুদ্ধশ্বাস অভিযান আর দেশজুড়ে উৎকণ্ঠার টানা ১২ ঘন্টায় যা ঘটেছিলো গুলশানে

gulshan-murder-1