সংবাদ শিরোনাম

উল্লাপাড়ায় এইচটি ইমামের প্রথম জানাজা অনুষ্ঠিতটাঙ্গাইলে ডিসি অফিসের অফিস সহকারীর এক মাসের কারাদণ্ড১০ মাস পর মুক্তি পেলেন কার্টুনিস্ট কিশোরনাসিরের স্ত্রী তামিমার সাবেক স্বামীর হাইকোর্টে রিটজনগণের জন্য কৃত্রিম দরদ দেখাচ্ছে বিএনপি: কাদেরযেকোনো পরিস্থিতিতে বাংলাদেশের পাশে থাকবে ভারত: জয়শঙ্করক্ষমতায় টিকে থাকতেই ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন: ফখরুলঅবৈধভাবে যারা ক্ষমতায় বসে তারাই দেশকে অস্থিতিশীল করে: প্রধানমন্ত্রীকারখানার বর্জ্যের ট্যাংকিতে পড়ে মা-ছেলেসহ তিনজনের মৃত্যুশরীয়তপুরে বিচারপ্রার্থী‌কে লাঞ্চিত করার অ‌ভি‌যো‌গে ডি‌বি কর্মকর্তা বরখাস্ত

  • আজ ১৯শে ফাল্গুন, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

গুলশান হামলাকারী ৪ জঙ্গির সম্পুর্ন পরিচয় মিলল একজন এখনও অজ্ঞাত

৩:৩২ অপরাহ্ন | সোমবার, জুলাই ৪, ২০১৬ আলোচিত বাংলাদেশ

সময়ের কণ্ঠস্বর ডেস্ক – গুলশান হামলাকারী ৪ জঙ্গির সম্পুর্ন পরিচয় মিলল একজন এখনও অজ্ঞাত ।   যে চারজনের পরিচয় পাওয়া গেছে তাঁরা হলেন ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র রোহান ইবনে ইমতিয়াজ, স্কলাসটিকা থেকে ও লেভেল পাস করা মীর সামেহ মোবাশ্বের, মালয়েশিয়ার মোনাশ বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র নিবরাস ইসলাম ও বগুড়ার একটি মাদ্রাসার ছাত্র খায়রুল ইসলাম ওরফে পায়েল। নিবরাস ইসলাম আগে ঢাকার টার্কিশ হোপ স্কুল ও নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়েছেন।

hasir-ortho-ki

পুলিশ বলছে, বগুড়ার খায়রুলই গুলশানে হামলার নেতৃত্বে ছিলেন। তিনি এর আগে উত্তরবঙ্গে অন্তত তিনটি হত্যায় জড়িত ছিলেন।

রোহান: অভিযানে নিহত রোহান ইবনে ইমতিয়াজের বাবা এস এম ইমতিয়াজ খান ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগের নেতা, বাংলাদেশ অলিম্পিক অ্যাসোসিয়েশনের উপমহাসচিব ও সাইক্লিং ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক। রোহানের মা শিক্ষিকা। দুই ভাইবোনের মধ্যে রোহান বড়। তিনি ঢাকার স্কলাসটিকা থেকে এ লেভেল শেষ করে ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়তেন।

মোহাম্মদপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জামাল উদ্দীন মীর  বলেন, রোহান নিখোঁজ হয়েছেন উল্লেখ করে গত ৪ জানুয়ারি থানায় জিডি করা হয়েছিল। জিডিতে বলা হয়, ৩০ ডিসেম্বর বন্ধুদের সঙ্গে ঘুরতে গিয়ে রোহান আর বাসায় ফেরেনি। পরে তদন্তে দেখা যায়, রোহান জঙ্গি কর্মকাণ্ডে যুক্ত হয়েছেন। এরপর তাঁকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলে, যাতে দেশের বাইরে না যেতে পারেন, সে জন্য বিমানবন্দরেও জানানো হয়েছিল।

প্রতিবেশীরা জানান, গত বছর ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের ৩১ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর পদে রেডিও প্রতীকে নির্বাচন করেছিলেন রোহানের বাবা ইমতিয়াজ। নির্বাচন উপলক্ষে তখন স্থানীয় সাংসদ জাহাঙ্গীর কবির নানক ভোটারদের উদ্দেশে একটি খোলা চিঠি দেন। চিঠিতে তিনি ইমতিয়াজকে আওয়ামী লীগ-সমর্থিত প্রার্থী হিসেবে উল্লেখ করেন। ইমতিয়াজ খানের নির্বাচনী প্রচারপত্রের তথ্য অনুযায়ী, তিনি ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগের যুব ও ক্রীড়া–বিষয়ক সম্পাদক, মোহাম্মদপুর থানা আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক ও ৩১ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। এখন তিনি বাংলাদেশ অলিম্পিক অ্যাসোসিয়েশনের উপমহাসচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।

মোবাশ্বের: গত ২৯ ফেব্রুয়ারি কোচিংয়ে যাওয়ার কথা বলে মীর সামেহ মোবাশ্বের বনানীর ডিওএইচএসের বাসা থেকে বের হয়ে আর ফেরেননি। গতকাল ওই বাসায় তাঁর বাবা মীর এ হায়াৎ কবিরের সঙ্গে প্রথম আলোরকথা হয়। তিনি বলেন, সামেহ স্কলাস্টিকা স্কুল থেকে ও লেভেল পাস করেছে। এ লেভেল পরীক্ষার প্রস্তুতি নিচ্ছিল। যেদিন সামেহ নিখোঁজ হয়, সেদিন তার গুলশানের আজাদ মসজিদের পাশের একটি কোচিং সেন্টারে যাওয়ার কথা ছিল।

বাবা মীর এ হায়াৎ কবির একটি টেলিকম প্রতিষ্ঠানে উচ্চ পদে চাকরি করেন। মা একটি কলেজের সহযোগী অধ্যাপক।

হায়াৎ কবির বলেন, ‘মোবাশ্বের বোধবুদ্ধিতে কিছুটা পিছিয়ে ছিল। আমার মন বলছিল ও কারও খপ্পরে পড়েছে। আমরা সচেতন অভিভাবক ছিলাম। তারপরও আমার সুরক্ষিত বাড়ি থেকে বাচ্চাকে কেড়ে নিল। ওরা কত শক্তিশালী যে কেউ ধরতে পারছে না? আজ আমারটা নিয়েছে, কাল আর কারও কপাল আমার মতো হবে। এটা তো একটা জাতীয় দুর্যোগ।’ তিনি বলেন, ‘মোবাশ্বের নিখোঁজ হওয়ার পরে সেখানকার ভিডিও ফুটেজে দেখা গেছে, গুলশানের আগোরার পাশে গাড়ি ছেড়ে দিয়ে সে একটি রিকশায় করে বনানী ১১ নম্বরের দিকে যাচ্ছে। এরপর মুঠোফোনে বা অন্য কোনো মাধ্যমে সে পরিবারের কারও সঙ্গে যোগাযোগ করেনি।’

হায়াৎ কবির বলেন, পত্রপত্রিকায় যে ছবি ছাপা হয়েছে, তার সঙ্গে ছেলের চেহারা মেলে। নিখোঁজ হওয়ার পর প্রথমেই তিনি গুলশান থানায় জিডি করেন। এরপর ডিবি, র‍্যাব ও অন্যান্য সংস্থার কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করেছেন। সংস্থাগুলো তাঁকে জানিয়েছে, যেদিন মোবাশ্বের নিখোঁজ হয়েছেন তার দু-এক দিনের মধ্যে গুলশান-বনানী এলাকা থেকে আরও চার-পাঁচটি ছেলে নিখোঁজ হয়। মোবাশ্বেরের কম্পিউটারে জঙ্গিবাদী গোষ্ঠীর কিছু যোগাযোগের তথ্য-প্রমাণ পায় তারা। কিন্তু শেষ পর্যন্ত কোনো সংস্থাই তাঁকে খুঁজে বের করতে পারেনি। পরে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কর্মকর্তারা বলেন, তাঁদের ধারণা ছিল, মোবাশ্বের দেশের বাইরে কোথাও চলে গেছেন। যদিও তাঁর পাসপোর্ট বাসাতেই ছিল।

নিবরাস: মোনাশ বিশ্ববিদ্যালয়ের মালয়েশিয়া ক্যাম্পাসের ছাত্র ছিলেন নিবরাস ইসলাম। ব্যবসায়ী নজরুল ইসলামের এক ছেলে ও এক মেয়ের মধ্যে নিবরাস বড়। বাসা ঢাকার উত্তরায়। তাঁর নিকটাত্মীয়রা সরকারের বিভিন্ন উচ্চ পদে চাকরি করেন। পরিবারের ঘনিষ্ঠ সূত্র জানায়, নিবরাস যে মালয়েশিয়া থেকে ঢাকায় এসেছিলেন, তা-ই জানত না পরিবার।

খায়রুল: পুলিশ কর্মকর্তারা জানান, ছয়-সাত মাস ধরে উত্তরবঙ্গের অন্তত তিনটি হত্যাকাণ্ডে খায়রুল ইসলামের নাম এসেছে। তাঁকে তখন থেকেই খোঁজা হচ্ছিল। খায়রুল যে গুলশানে হামলার নেতৃত্ব দিয়েছিলেন, এ ব্যাপারে পুলিশ মোটামুটি নিশ্চিত।