অস্ত্র হাতে কালো রঙের পোষাকে, চোখে মুখে এমন প্রশান্তির হাসির অর্থ জানেন কি ?


সময়ের কণ্ঠস্বর ডেস্ক –   ইতপুর্বেও আইএস কতৃক তাদের সদস্যদের প্রকাশিত সব ছবির একই রকম প্রকাশভঙ্গী আমরা দেখেছি। নিজের পরিচয় প্রকাশে তারা বরাবরই এক পদ্ধতিতেই এমন ছবি প্রকাশ করে থাকে।

প্রকাশিত ছবিগুলোতে দেখা যায় সবাই কালো পাঞ্জাবি পরে আছে। দেখতে একই রকমের পাঞ্জাবি। এসব পোশাক হয় একই জায়গা থেকে সংগ্রহ করা হয়েছে অথবা একই দর্জির কাছে বানানো হয়েছে।

গত ১ জুলাই দেশের ইতিহাসে ভয়ংকর এক জঙ্গী হামলায় প্রান হারিয়েছেন দেশি বিদেশী ২০ নাগরিক সহ দুই পুলিশ অফিসার। আইএস নিয়ন্ত্রিত কয়েকজন বাংলাদেশী তরুনের বর্বর হামলার ঘটনার পরই অনেকেরই ‘কৌতুহল’ বাড়ে একই কায়দায় এমন প্রকাশ ভঙ্গীর পেছনে আসলে কি থাকতে পারে ?

এমন ‘কৌতুহল’ থেকেই বিবিসি’র পক্ষ থেকে নানা প্রশ্নের উত্তর জানিয়েছেন,  সেনাবাহিনীর সাবেক কর্মকর্তা ও নিরাপত্তা বিশ্লেষক সাখাওয়াৎ হোসেন।

hasir ortho ki

কালো জামা

“পশ্চিমা নাগরিকদের শিরোশ্ছেদ করে হত্যার যেসব ভিডিও আইএস ইন্টারনেটে ছেড়েছে সেগুলোতে জিহাদিদেরকে এরকম কালো রঙের পোশাক পরে থাকতে দেখা যায়। এটা আইএসের জল্লাদ বা একজিকিউশনারের ইউনিফর্ম।”

তাদের (আইএস’র)  বিশ্বাসে এই কালো রঙের আরেকটি অর্থ হচ্ছে আত্মত্যাগ। অর্থাৎ তারা যে তাদের জীবন উৎসর্গ করতে যাচ্ছে সেটা তাদের পোশাকের মধ্যেও ঘোষণা করা হচ্ছে।

“খোরাসান ব্রিগেডের সদস্যরাও প্রতীক হিসেবে এধরনের পোশাক পরিধান করতো,” ।

পেছনে কালো পতাকা

দেখা যাচ্ছে, অস্ত্র হাতে এই তরুণরা তাদের পেছনে আইএসের পতাকা রেখে দাঁড়িয়ে আছে।

কালো পতাকায় শাদা রঙে লেখা ‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু।’

তাদের মাথায় আরবদের মতো করে ফেটি বা কেফেয়া বাঁধা।

“আরব যোদ্ধারা এই কেফায়া পরে থাকে। রণক্ষেত্রে যারা যুদ্ধ করে তাদের কাছে এটি একটি প্রতীকের মতো।”

পেশাদারি কায়দায় হাতে অস্ত্র !

প্রত্যেকটি ছবিতে দেখা যায়, পাঁচজনতরুন প্রায় একই কায়দায় অস্ত্র ধরে হাস্যমুখে তাকিয়ে আছে ক্যামেরার দিকে।

দেখে মনে হয় তাদের সবার হাতে একটাই অস্ত্র। অত্যন্ত পেশাদারদের ভঙ্গিতে তারা সেই অস্ত্রটি ধরে রেখেছে।

নিরাপত্তা বিশ্লেষক সাখাওয়াৎ হোসেন জানান , তাদের হাতে যে অস্ত্রটি দেখা যাচ্ছে সেটি একে মডেলের। মধ্যপ্রাচ্যে জিহাদিদের লড়াই-এ এখন এই অস্ত্রটির প্রচুর ব্যবহার হচ্ছে।

তিনি আরো জানান , “বর্তমানে সন্ত্রাসীদের কাছে সবচে পছন্দের অস্ত্র হচ্ছে এই একে ফোরটি সেভেন। তাদের হাতে যে অস্ত্রটি দেখা যাচ্ছে সেটি একে ফোরটি সেভেন না হলেও, একে সিরিজের।”

দেখা যাচ্ছে, একজন বাদে বাকি প্রত্যেকেরই হাতের আঙ্গুল বন্দুকের ট্রিগার থেকে দূরে।

“এই পজিশনের অর্থ হচ্ছে তারা পুরোপুরি প্রস্তুত। হাত ট্রিগারের বাইরে। রাইফেলটা এমনভাবে রাখা যে এটিকে শুধু একটু উপরের দিকে তুলে গুলি করতে হবে ব্যাস এতোটুকুই,” ।

মুখে প্রশান্তির হাসি

ছবিতে দেখা যায় যে তাদের সবার মুখে নির্মল হাসি। সাখাওয়াৎ হোসেন জানান, ” এর অর্থ হচ্ছে তারা পুরোপুরি মোটিভেটেড। তাদের ভেতরে কোনো সংশয় নেই, কোন রকমের দ্বিধাদ্বন্দ্ব নেই।”

“তারা যে জোর করে হাসছে না সেটাও বোঝা যাচ্ছে। হাসি দেখে বোঝা যাচ্ছে, নিজের জীবন উৎসর্গ করতে সে প্রস্তুত। ইহজগতে নয়, পরকালে সে যা কিছু পাবে তার জন্যে সে প্রস্তুত হচ্ছে। তাদের সবার মুখে সেরকমই এক প্রশান্তির হাসি,” ।

◷ ১:৩২ পূর্বাহ্ন ৷ সোমবার, জুলাই ৪, ২০১৬ আলোচিত, জানা-অজানা, স্পট লাইট