‘বাবা, তুমি ফিরে এসো’ আর্টিসানের বাবুর্চি সাইফুলের অবুঝ দুই মেয়ের আর্তনাদ


shariatpur-03-07-2016-jongg_222450

সময়ের কণ্ঠস্বর: ঢাকার গুলশানের হলি আর্টিসান রেঁস্তোরায় জঙ্গি হামলায় নিহত বাবুর্চি সাইফুল ইসলাম চৌকিদারের পরিবারের সঙ্গে ঈদ করা হলো না। মেয়েদের জন্য কেনা হলো না ঈদের জামা। পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তিকে হারিয়ে দিশেহারা হয়ে পড়েছে পুরো পরিবার। শরীয়তপুরের নড়িয়া উপজেলার কুলিকাঠি গ্রামে সাইফুলের বাড়িতে এখন চলছে শোকের মাতম।

গুলশানের হলি আর্টিজান বেকারিতে হামলাকারী হিসেবে যাদের ছবি পুলিশ দিয়েছে, তার মধ্যে একজন ওই ক্যাফের রাঁধুনি বলে তার পরিবারের দাবি। তারা বলছেন, যে পাঁচটি লাশের ছবি গণমাধ্যমে এসেছে, তাদের একজন সাইফুল ইসলাম চৌকিদার দেড় বছর ধরে ওই ক্যাফেটিরই শেফ হিসেবে কাজ করছিলেন। পাঁচজনের মধ্যে সাইফুলের পরনে  যে পোশাক রয়েছে, তা শেফরাই পরে থাকেন। সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমেও তাকে নিয়ে পুলিশের দাবির বিষয়ে সন্দেহ প্রকাশ করা হচ্ছে।
Capture

আইএস জানিয়েছে, গুলশানে হলি আর্টিজান বেকারি রেস্তোরাঁয় হামলায় অংশ নেয় ওপরের পাঁচজন। এঁদের মধ্যে রোহান ইমতিয়াজ (ওপরে গোলচিহ্নিত)। নিচের ছবিগুলো পুলিশের পাঠানো। সেখানে অন্যরা থাকলেও রোহান ইমতিয়াজ নেই। আছে রেস্তোরাঁর বাবুর্চি সাইফুল ইসলাম চৌকিদার (নিচে গোলচিহ্নিত)।

পুলিশের পাঠানো ছবি গণমাধ্যমে আসার পর সাদা অ্যাপ্রোন পরা ব্যক্তিকে সাইফুল বলে শনাক্ত করেন শরীয়তপুরের নড়িয়া উপজেলায় থাকা তার পরিবারের সদস্যরা।

শুক্রবার (১ জুলাই) বিকেলে টেলিফোনে স্ত্রী সোনিয়ার সঙ্গে শেষ কথা হয় সাইফুলের। তিনি বলেছিল রোববার সকালে ঈদের ছুটিতে বাড়ি ফিরে বাজার থেকে মেয়েদের সঙ্গে নিয়ে ঈদের নতুন জামা কিনবেন। এ কথা বলেই স্ত্রী সোনিয়া বার বার মূর্চ্ছা যাচ্ছেন।

বাবা আসবে সেই পথ চেয়ে বসে আছে নিহত সাইফুলের অবুঝ ছোট দুই মেয়ে। শনিবার টেলিভিশন দেখে তারা জানতে পারে জঙ্গি হামলা হয়েছে। অনেক মানুষকে মেরে ফেলেছে। সেই সাথে তাদের বাবা সাইফুলকেও মেরে ফেলেছে।

এদিকে, গুলশানে জঙ্গি হামলায় নিহত সাইফুল ইসলাম সম্পর্কে নড়িয়া থানায় কোনো তথ্য আছে কিনা জানতে চাইলে নড়িয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ইকরাম আলী বলেন, জঙ্গি হামলায় যে ২২ জন মারা গেছে তাদের নাম ও তথ্য থানায় আছে। যে ৬ জন জঙ্গি নিহত হয়েছে তাদের নামের সাথেও সাইফুল ইসলামের কোনো মিল নাই। হয়তো আহত হয়ে সাইফুল ইসলাম অন্যত্র মারা গেছে।

নিহতের পারিবারিক সূত্র জানায়, এক বছর আগে উপজেলার কলোকাঠি গ্রামের মৃত হাসেম চৌকিদারের একমাত্র ছেলে সাইফুল ইসলাম চৌকিদার বাবুর্চির চাকরি নেন রাজধানীর গুলশানে হলি আর্টিসান রেস্তরাঁয়। সাইফুল এর আগে জার্মান প্রবাসী ছিলেন। সেখানেও তিনি রেস্তোরাঁয় পিজা তৈরির কাজ করতেন।

সাইফুলের বড় মেয়ে সামিয়া (৯) কান্না জড়িত কণ্ঠে বলে, ‘আমার বাব আমার জন্য ও আমার ছোট বোন ইলমির জন্য ঈদের জামা নিয়া আসবে। বাবা তুমি ফিরে আসো। কে আমার ঈদের জামা দিবে? নিহত ছোট মেয়ে ইলমি (৭) শুধুই চারদিক তাকিয়ে থাকে। মুখে কোনো ভাষা নেই তার।’

পরিবারটি এখন শুধু অপেক্ষা করছে মরদেহের জন্য। হত্যাকারীদের বিচার ও অসহায় এই পরিবারের জন্য সাহায্যের আবেদন করেছেন স্বজনসহ স্থানীয়রা।

◷ ১২:২২ পূর্বাহ্ন ৷ সোমবার, জুলাই ৪, ২০১৬ অকালমৃত্যু প্রতিদিন, আলোচিত, ঢাকা, দেশের খবর, স্পট লাইট