জঙ্গি প্রশ্নে বাংলাদেশ সরকারের মতের সাথে একমত নয় ভারত

২:৩৭ পূর্বাহ্ন | সোমবার, জুলাই ৪, ২০১৬ Uncategorized

সময়ের কণ্ঠস্বর ডেস্ক –   বাংলাদেশ সরকার যদিও দাবি করেছে গুলশানের হামলার সঙ্গে আই এসের কোনও সম্পর্ক নেই, ভারতের নিরাপত্তা সংস্থাগুলো এই মূল্যায়ন পুরোপুরি মানতে রাজি নয়, তাদের বক্তব্য আইএসের অনুমোদন পেতে ইরাক বা সিরিয়ায় যেতেই হবে এমন কোনও মানে নেই।

moto

 

বাংলাদেশ সরকার জানিয়েছে গুলশানের হামলাকারীরা সবাই বাংলাদেশেরই লোক – তারা বাইরের কোনও সন্ত্রাসবাদী গোষ্ঠীর নয়।

ঢাকায় ভারতের সাবেক রাষ্ট্রদূত বীনা সিক্রি কিন্তু পাল্টা প্রশ্ন তুলছেন, তারা যে আন্তর্জাতিক কোনও গোষ্ঠীর হাতে র‌্যাডিকালাইজড হয়নি সেটা কীভাবে নিশ্চিত হওয়া যাবে?

“বুঝলাম এরা সবাই বাংলাদেশী, কিন্তু তাদের এ পথে এনেছে কে, র‌্যাডিকালাইজ করেছে কে? এরা উচ্চশিক্ষিত, ধনী ঘরের ছেলে – কেউ মাদ্রাসার ছাত্র নয়। তারা কীভাবে র‌্যাডিকালাইজড হল? মনে রাখতে হবে তাদের এ পথে নিয়ে আসতে আইএস বা আল কায়দাকে কিন্তু বাংলাদেশ আসতে হবে না, ইন্টারনেটই তার জন্য যথেষ্ট,” বলেন তিনি।

বস্তুত বাংলাদেশে তাদের মাটিতে কোনও হামলার পেছনেই যে আইএস-র হাত দেখে না, খানিকটা অনুযোগের সুরেই কয়েক সপ্তাহ আগে তা জানিয়েছিলেন ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র বিকাশ স্বরূপ।

ঢাকা বরাবরই এ সব হামলাকে স্থানীয় দুষ্কৃতীদের কাজ বলে চিহ্নিত করলেও দিল্লি কিন্তু গত বেশ কয়েক মাস ধরেই ভারতে আইএস-র উপস্থিতি স্বীকার করে আসছে।

গত সপ্তাহেই হায়দ্রাবাদে আইএস-র একটি জঙ্গি সেল ধরা পড়েছে বলেও দাবি করা হয়েছে। দু’দেশের অবস্থানে এই ফারাক কি জঙ্গি হামলার যৌথ মোকাবিলাতে প্রভাব ফেলতে পারে?

রাহুল বেদী বলছেন, “সন্ত্রাসবাদ সব সময়ই সন্ত্রাসবাদ, তা সে আইএস, আল কায়দা বা অন্য যে কোনও গোষ্ঠী – যারাই করুক না কেন। কিন্তু যে কোনও কারণেই হোক শেখ হাসিনার সরকার বাংলাদেশে আইএস-র অস্তিত্ব মানতে প্রস্তুত নন।”

“এর পেছনে অন্য অনেক কারণ থাকতে পারে, তবে আমার ধারণা গুলশানে যে জঙ্গিকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে সেই এ ব্যাপারে শেষ কথা বলতে পারে। মুম্বাইতে ২৬/১১র হামলার তদন্তে আজমল কাসভ যেমন ছিল আসল চাবিকাঠি, তেমনি এই ব্যক্তিও পেছনের সব কিছু ফাঁস করে দিতে পারে,” বলেন তিনি।বিবিসি