সংবাদ শিরোনাম

সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট বাশার আল-আসাদ সস্ত্রীক করোনায় আক্রান্তরোহিঙ্গা শিশু অপহরণের পর হত্যার ঘটনায় নারীসহ দু’জন গ্রেপ্তারবেলকুচিতে দূর্বৃত্তদের আগুনে পুড়ে গেল শিক্ষা প্রতিষ্ঠান !জামালপুরে মাদ্রাসা ছাত্রীকে রাতভর ধর্ষণ, গ্রেফতার মাদ্রাসার শিক্ষক‘করোনাকালের নারী নেতৃত্ব: গড়বে নতুন সমতার বিশ্ব’বগুড়ায় শিক্ষা প্রনোদনা পেতে প্রত্যয়নের নামে টাকা নেয়ার অভিযোগজামালপুরে ধর্ষণ মামলায় ধর্ষকের যাবজ্জীবনপাবনায় অবৈধ অস্ত্র তৈরির কারখানায় অভিযান, চারটি আগ্নেয়াস্ত্রসহ গ্রেফতার-২উপজেলা আ.লীগের সভাপতিকে ‘পেটালেন’ কাদের মির্জা!কে কত বড় নেতা, সবাইকে আমি চিনি: কাদের মির্জা

  • আজ ২৪শে ফাল্গুন, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

নেতাপুত্র জঙ্গী রোহানের লাশের স্থানে রেস্তোরাঁর বাবুর্চির লাশ ? জট খুলছেনা রহস্যের ! বাড়ছে বিভ্রান্তি

৮:৪৭ পূর্বাহ্ন | সোমবার, জুলাই ৪, ২০১৬ Breaking News, ফিচার, স্পট লাইট

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, সময়ের কণ্ঠস্বর-

রাজধানীর গুলশানের রেস্তোরাঁয় হামলাকারী জঙ্গী সন্ত্রাসীর সঠিক নাম, সংখ্যা, পরিচয় ও তাদের ছবি নিয়ে মিলছেনা অনেক প্রশ্নের উত্তর । সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমসহ গনমাধ্যমেও প্রকাশিত  বিভিন্ন সংবাদ নিয়ে বাড়ছে বিভ্রান্তি । সাইট এ প্রকাশিত ছবির তথ্য ও প্রাথমিক নানা তদন্তে সেদিনের  হামলায় সরকারী দলের একজন নেতার ছেলে রোহান ইমতিয়াজ হত্যাযজ্ঞে অংশ নিয়েছিলেন।

তবে সাইট ইন্টেলিজেন্সের টুইটারে ছবি প্রকাশের পর সংবাদমাধ্যমের কাছে আসা হামলাকারীদের লাশের ছবিতে রোহান ইমতিয়াজের ছবি নেই।

সন্ত্রাসীদের লাশের সারির ছবিতে সেই নেতার ছেলে না থাকার এই অভিযোগ নিয়ে চলছে আলোচনা ও সমালোচনার ঝড়। প্রকাশিত পাঁচজনের ছবির মধ্যে চারজনের চেহারার যথেষ্ট মিল পাওয়া গেলেও রোহান ইমতিয়াজ (নেতাপুত্র) এর ছবির বদলে রয়েছে রেস্তোরাঁর বাবুর্চি সাইফুল ইসলাম চৌকিদারের মরদেহ।

রোহান ইমতিয়াজের বাবা ইমতিয়াজ খান বাবুল সদ্য বিলুপ্ত অবিভক্ত ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগের যুব ও ক্রীড়া সম্পাদক ছিলেন। একই সঙ্গে তিনি সাইক্লিং ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক এবং বাংলাদেশ অলিম্পিক অ্যাসোসিয়েশনের উপমহাসচিব।

গত জুন মাসের ২১ তারিখে তিনি ছেলের ফিরে আসার ‘আকুতি’ জানিয়ে ফেসবুকে একটি পোস্ট করেছিলেন। গতকাল রাতে ফেসবুকে একে একে সবার নাম ঠিকানা বের হয়ে পড়ে। এর কিছুক্ষন বাদে  রোহান ইমতিয়াজের বাবা ইমতিয়াজ খান বাবুলের ফেসবুক আইডি ডিএকটিভেট পাওয়া যায়।

তার কিছু সময় বাদে হামলায় অংশ নিয়ে নিহত অন্যতম জঙ্গী নিব্রাস ইসলামের ফেসবুক আইডিটিও ডিএকটিভেট হয়ে যায় ! নিব্রাসের মৃত্যুর পর তার ফেসবুক আইডি এভাবে আকস্মিক বন্ধ হয়ে যাওয়া নিয়েও বিস্ময় প্রকাশ করেন অনেকেই। 

Capture

আইএস জানিয়েছে, গুলশানে হলি আর্টিজান বেকারি রেস্তোরাঁয় হামলায় অংশ নেয় ওপরের পাঁচজন। এঁদের মধ্যে রোহান ইমতিয়াজ (ওপরে গোলচিহ্নিত)। নিচের ছবিগুলো পুলিশের পাঠানো। সেখানে অন্যরা থাকলেও রোহান ইমতিয়াজ নেই। আছে রেস্তোরাঁর বাবুর্চি সাইফুল ইসলাম চৌকিদার (নিচে গোলচিহ্নিত)।

হামলাকারীদের নাম পরিচয় ও তথ্য নিয়ে বিভ্রান্তির শেষ নেই 

গুলশানের হলি আর্টিজান বেকারিতে হামলাকারী হিসেবে যাদের ছবি পুলিশ দিয়েছে, তার মধ্যে একজন ওই ক্যাফের রাঁধুনি বলে তার পরিবারের দাবি। সাইফুলের স্বজনদের দাবি, সাইফুল ওই রেস্তোরাঁয় কাজ করতেন। তিনি কোনভাবেই  সন্ত্রাসী হামলায় জড়িত নন।

তারা বলছেন, যে পাঁচটি লাশের ছবি গণমাধ্যমে এসেছে, তাদের একজন সাইফুল ইসলাম চৌকিদার দেড় বছর ধরে ওই ক্যাফেটিরই শেফ হিসেবে কাজ করছিলেন। পাঁচজনের মধ্যে সাইফুলের পরনে  যে পোশাক রয়েছে, তা শেফরাই পরে থাকেন। সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমেও তাকে নিয়ে পুলিশের দাবির বিষয়ে সন্দেহ প্রকাশ করা হচ্ছে।  শুধুমাত্র সরকারী দলের নেতার ছেলের লাশের এমন ‘ অন্তর্ধান ‘ হবার বিষয়টিকে অনেকেই দেখছেন ‘লুকোচুরি খেলার ‘ কোন অংশ হিসেবেই ।

এর আগে হামলার পর জঙ্গিগোষ্ঠী ইসলামিক স্টেট (আইএস) গুলশানের রেস্তোরাঁয় হামলাকারী উল্লেখ করে পাঁচ তরুণের ছবি প্রকাশ করে। শনিবার রাতে ওই ছবিগুলো প্রকাশ করা হয় বলে জানায়  জঙ্গিগোষ্ঠীর ইন্টারনেটভিত্তিক তৎপরতা নজরদারিতে যুক্ত যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক সাইট ইন্টেলিজেন্স গ্রুপ।

অন্যদিকে আইএসপিআর কতৃক সংবাদ সম্মেলনে ছয় সন্ত্রাসী নিহতের কথা বলা হলেও পুলিশ সদর দপ্তর রেস্তোরাঁয় হামলাকারী উল্লেখ করে পাঁচজনের লাশের ছবি ও নাম  প্রকাশিত হয়। আরেক সন্ত্রাসীর ছবি ও নাম-পরিচয় প্রকাশ করেনি পুলিশ ।

পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) এ কে এম শহীদুল হক গত শনিবার সাংবাদিকদের জানান, হলি আর্টিজান বেকারিতে হামলাকারী নিহত ছয়জনই বাংলাদেশি। এদের মধ্যে পাঁচজন জেএমবি সদস্য এবং তাদের খোঁজা হচ্ছিল।

হামলাকারীদের নাম নিয়ে যত বিভ্রান্তি

পুলিশ তাদের নাম জানায় আকাশ, বিকাশ, ডন, বাঁধন ও রিপন। আর টেররিজম মনিটরের টুইটার অ্যাকাউন্টে ওই তরুণদের ছবি দিয়ে তাদের নাম উল্লেখ করা হয়েছে- আবু উমায়ের, আবু সালাম, আবু রাহিক, আবু মুসলিম ও আবু মুহারিব। তবে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুক ও সংবাদমাধ্যমে আসা খবরে জানা যায়, হামলাকারীদের চারজনের নাম নিব্রাস ইসলাম, মীর সাবিহ মুবাশ্বের, রোহান ইমতিয়াজ ও রাইয়ান মিনহাজ।

যৌথ অভিযানে নিহত পাঁচ জঙ্গীর ছবি নিয়ে কাটছেনা রহস্য !

গনমাধ্যমে  আসা এই ছবিটিতে প্রথমেই সাদা এপ্রোন পড়া যাকে দেখা যাচ্ছে তার সাথে ক্যাফেটির শেফ সাইফুল ইসলাম চৌকিদার এর হুবুহু মিল আছে।

gulshan-murder

বিভ্রান্তি ও নানা প্রশ্নের জন্ম দেয় ফেসবুকে প্রকাশিত আরেকটি ছবি।

gulshan trajedi sk

এই ছবিতে দেখা যাচ্ছে, হলি আর্টিজান বেকারি প্রাঙ্গণে পাঁচজনের মরদেহ পড়ে আছে। সেখানে কোনো মরদেহের গায়েই সাদা পোশাক ছিল না। অথচ পুলিশের পাঠানো ছবিতে দেখা যায়, বাবুর্চির সাদা পোশাক পরা সাইফুলের গায়ে সাদা এপ্রোন !

পুলিশের পাঠানো লাশেরছবি ও নাম নিয়ে সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমে এমন ‘বিভ্রান্তি কাটাতে দাবী জানিয়ে হাজারো মানুষের প্রশ্ন আর কৌতুহল বাড়ছেই ।