ঈদুল ফিতর উপলক্ষে নিরাপত্তার চাদরে ঢাকা দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া ঘাট এলাকা

১১:২৮ পূর্বাহ্ন | সোমবার, জুলাই ৪, ২০১৬ ঢাকা, দেশের খবর

খন্দকার রবিউল ইসলাম, রাজবাড়ী প্রতিনিধি

দক্ষিনাঅঞ্চলের ২১ জেলার প্রবেশদ্বার ক্ষ্যাত দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া নৌরুটে পবিত্র রমজান ও ঈদুল ফিতর উপলক্ষে যাত্রী সাধারনের যাতায়াত নির্বিঘ্ন করনের লক্ষ্যে জেলা প্রশাসন ও পুলিশ প্রশাসন উদ্যোগে নিরাপতার চাদরে ঢাকা ঘাট এলাকা।

বিগত বছরের তুলনায় এবার যাত্রী সাধারনের যাতায়াত নিরাপদ করতে ঘাট এলাকায় সিসি ক্যামেরা স্থাপনসহ নানা ধরনের পদক্ষেপ গ্রহন করা হয়েছে। দালালদের হাত থেকে রক্ষা করতে নিয়মিত ভ্রাম্যমান আদালত পরিচালনা করা হবে।

এবার ঈদে এ রুটে ৩৫টি লঞ্চের মধ্যে ২১টি লঞ্চ চলাচল করবে। ২১টি লঞ্চের মালিক ও মাষ্টার / সারেং এর নাম ও মোবাইল নাম্বার জেলা প্রশাসন ও পুলিশ প্রশানের কাছে দেয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এছারাও লঞ্চে অতিরিক্ত যাত্রী না নেওয়ার জন্য লঞ্চ মালিকদের নির্দেশ প্রদান করা করেছে জেলা প্রশাসন।

nirapottaরাজবাড়ী জেলা প্রশাসক জিনাত আরা বলেন, দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া নৌরুটে পবিত্র রমজান ও ঈদুল ফিতর উপলক্ষে ঘরমুখী মানুষ গুলো নিরাপদে যাতায়াত করতে পারে সে ব্যাপারে রাজবাড়ী জেলা প্রশাসন নানা ধরনের পদক্ষেপ গ্রহন করেছে। গত বছরের তুলনায় এবার ঘড়মুখী মানুষ তাদের বাড়ীতে নিরাপদে যেতে পারবে। কোন রকম কোন সমস্য হলেই সাথে সাথে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

জানা গেছে দৌলতদিয়া নৌরুট দিয়ে প্রতিদিন চলাচল করে ৪হাজারের বেশি যানবাহন ও লাখ লাখ সাধারণ মানুষ। ঈদে এ সংখ্যা আরও কয়েক গুণ বেড়ে যায়। এ সুযোগে এখানে দীর্ঘদিন ধরে চলা দালাল চক্রের দৌরাত্ম্য বাড়ে। এ ছাড়া বেপরোয়া হয়ে ওঠে ঘাট এলাকায় ছিনতাই, পকেটমারসহ অন্য অপরাধীরা। এসব বিষয় মাথায় রেখে রাজবাড়ীর পুলিশ সুপার জিহাদুল কবির পিপিএম সার্বক্ষণিক দৌলতদিয়া ঘাটের চিত্র পর্যবেক্ষণের জন্য সিসি ক্যামেরা স্থাপন করেন।

রাজবাড়ী পুলিশ সুপার জিহাদুল কবির পিপিএম বলেন, আসন্ন ঈদুল ফিতর সামনে রেখে দৌলতদিয়া ঘাটের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন পয়েন্টে সিসি ক্যামেরা স্থাপন করে ঘাট এলাকাকে সিসি ক্যামেরার আওতায় আনা হয়েছে। দৌলতদিয়া ঘাটের গুরুত্বপূর্ণ আটটি পয়েন্টে সিসি ক্যামেরা স্থাপন করা হয়েছে। তিনি আরো বলেন, কোন যাত্রী যদি মলমপাট্রি ও ছিনতাইকারী এবং দালালের হাতে পরে যায়। সিসি ক্যমেরার বসানোর কারনে এঘাটে মলম পাট্রি ও ছিনতাইকারীকে আমারা পুলিশ প্রশাসন সিসি ক্যমেরার ভিডিও দেখে তাদের সহজেই ধরতে পারবো। তিনি আরো বলেন আমি সার্বখনিক ভাবে মোবাইল ফোনের মাধ্যমে দৌতলদিয়া-পাটুরিয়া ঘাটের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থান দেখি। তাছারাও বাইপাস সড়ক দিয়ে যদি কোন পরিবহন ঢুকে যায়। ঐ সময় কোন পুলিশ অফিসার ডিউটিতে থাকে কেন বাইপাস সড়ক দিয়ে গাড়ি ঢুকেছে এবিষয়ে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

গোয়ালন্দ ঘাট থানার ওসি মীর্জা আবুল কালাম আজাদ জানান, ঈদের আগে ঘরমুখো ও ঈদের পরে ঢাকামুখো যাত্রীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে উভয় ঘাট এলাকায় সিসি ক্যামেরা স্থাপনের পাশাপাশি পর্যাপ্ত পুলিশ মোতায়েন থাকবে। তারা সার্বক্ষণিক এলাকার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নজরদারি করবেন।
তাছারাও বাস-লঞ্চ মালিক বিআইডব্লিউটিএ ও বিআইডব্লিউটিসি সহ ঘাটে আইন শিঙ্খলা বিষয় মতবিনিমিয় সভা অনুষ্ঠিত হয়।
বিআইডব্লিউটিসি দৌলতদিয়া ঘাটের ম্যানাজার (বাণিজ্য) মো. শফিকুল ইসলাম জানান, ঈদে যাত্রীদের পারাপার নিশ্চিত করতে ছোট বড় ১৯টি ফেরি চালু থাকবে। তিনি আরো বলেন ঘাট এলাকাকে জেলা প্রশাসন ও পুলিশ প্রশান নিরাপত্তার চাদরে ঢেকে দিয়েছে। তাই এবার এঘাটে কোন রকম যাত্রী হয়রানীর সুযোগ পাবে না কেউ তাই তিনি রাজবাড়ী জেলা প্রশান ও পুলিশ প্রশাসনকে ধন্যবাদ জানান।

বিআইডব্লিউটিএ দৌলতদিয়া ঘাটের উপসহকারী পরিচালক শাহ আলম জানান, দৌলতদিয়া ফেরিঘাট এলাকায় ভাঙন অব্যাহত থাকায় ২নং ফেরিঘাটটি নিয়ে একটু সংশয় আছে। তবে আশা করছেন ঈদে ঘরমূখো যাত্রীদের চাপ সামলাতে পারবেন। ১, ২ ও ৩ নম্বর ফেরিঘাট হাই ওয়াটার লেভেলে থাকলেও ২ নম্বর ঘাটটি রয়েছে মিড ওয়াটার লেভেলে।