প্রস্তুত জাতীয় ঈদগাহ

১:৩৬ পূর্বাহ্ন | মঙ্গলবার, জুলাই ৫, ২০১৬ জাতীয়

image-24244

সময়ের কণ্ঠস্বর: ঈদুল ফিতরের নামাজের জামাতের জন্য প্রস্তুত করা হয়েছে জাতীয় ঈদগাহ ময়দান। গুলশানে জঙ্গি হামলার পর আইনশৃঙ্খলা বাহিনী পুরো ঈদগাহ এলাকায় তৎপরতা চালাচ্ছে। পুরো ঈদগাহ ময়দানে শামিয়ানা টাঙানো হয়েছে। নিরাপত্তার ক্লোজড সার্কিট টেলিভিশন (সিসিটিভি) ক্যামেরা বসানোর কাজ শেষ হয়েছে। কয়েকশ বৈদ্যুতিক পাখা লাগানো হয়েছে। সাজসজ্জার কাজও শেষ।

ঈদগাহ এলাকায় নিরাপত্তার জন্য পুলিশ-র‍্যাবের দুটি আলাদা নিয়ন্ত্রণকক্ষ তৈরি করা হয়েছে। ময়দানের মূল ফটকের পাশেই বসানো হয়েছে ১২০টি অজুখানা।

ঈদগাহ আয়োজক সূত্রে জানা গেছে, শুধু ঈদগাহ মাঠে বসানো হয়েছে ৬৪টি সিসিটিভি ক্যামেরা। রাষ্ট্রপতিসহ বিশিষ্টজন ঈদের নামাজ পড়তে আসবেন হাইকোর্টের প্রধান ফটক দিয়ে। সর্বসাধারণের জন্য খোলা থাকবে ঈদগাহ ময়দানের প্রধান ফটক। তবে নিরাপত্তা তল্লাশির পরই সবাই ঈদগাহ ময়দানে প্রবেশ করতে পারবেন।

দুই সপ্তাহ ধরে ঈদগাহে দিন-রাত পরিশ্রম করে চলেছেন দুই শতাধিক শ্রমিক।

আয়োজক সূত্রে জানা গেছে, জাতীয় ঈদগাহ ময়দানে ৮৯ হাজার মুসল্লি একসঙ্গে ঈদের নামাজ আদায় করতে পারবেন। এর মধ্যে ৮৪ হাজার পুরুষ ও পাঁচ হাজার মহিলা নামাজ আদায় করতে পারবেন। দেশের প্রধান ঈদের জামাত হওয়ায় এখানেই ঈদের নামাজে অংশ নেন রাষ্ট্রপতি, মন্ত্রিসভার সদস্য, বিচারপতি, কূটনীতিক, সরকারি উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাসহ রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিরা।

গত কয়েক বছরের ধারাবাহিকতায় এবারও ঈদগাহ ময়দানের মাঠ প্রস্তুতের কাজ করছে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান পেয়ারু অ্যান্ড সন্স। ১৭ জুন থেকে মাঠ প্রস্তুতের কাজ শুরু করেছে তারা।

দুই লাখ ৬০ হাজার বর্গফুটের জাতীয় ঈদগাহ মাঠ প্রস্তুতের সার্বিক তত্ত্বাবধানে রয়েছে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ডিএসসিসি)।

ডিএসসিসির অতিরিক্ত প্রধান বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা খন্দকার মিল্লাতুল ইসলাম সাংবাদিকদের বলেন, ৫০ হাজার বাঁশ দিয়ে বানানো হচ্ছে মূল অবকাঠামো। এ অবকাঠামো নির্মাণের কাজ বর্তমানে শেষ পর্যায়ে। জাতীয় ঈদগাহ মাঠের চারপাশে আছে দেয়াল ও দেয়ালের ওপরে খাঁজকাটা লোহার কারুকাজ। এ দেয়াল ও লোহার কারুকার্য ঘষে লাগানো হচ্ছে নতুন রং। বাঁশ দিয়ে তৈরি মূল অবকাঠামোকে বৃষ্টি প্রতিরোধী শামিয়ানা দিয়ে ঢেকে দেওয়া হবে। ফলে বৃষ্টি এলেও মুসল্লিদের নামাজ আদায়ে কোনো সমস্যা হবে না। অজু করার জন্য পানির ট্যাপগুলোকে ঠিকঠাক করে লাগানো হচ্ছে। ১৪০ জন মুসল্লি একসঙ্গে অজু করতে পারবেন এখানে। পানি নিষ্কাশনের জন্য তৈরি হচ্ছে ড্রেনেজ ব্যবস্থা। মুসল্লিদের সুবিধার্থে ভ্রাম্যমাণ টয়লেট থাকবে ঈদগাহ মাঠে। মাজারের টয়লেট ব্যবহার করবেন ভিআইপিরা। মাঠে বিদ্যুৎ সংযোগ দিয়ে যাবতীয় ইলেকট্রিক ওয়্যারিংয়ের কাজ শেষ করা হয়েছে। ঈদগাহ মাঠে ৭০০ সিলিং ফ্যান, ৪৬০টি লাইট ও ৫৪টি মেটাল লাইট লাগানো হয়েছে। ৫০ থেকে ৭০টি মাইক লাগানো হয়েছে মাঠের বিভিন্ন প্রান্তে। ঈদগাহ মাঠে ফটক থাকবে তিনটি। মূল গেট ছাড়াও দক্ষিণ পাশে ও মাজারের দিকে একটি গেট করা হয়েছে। ২৯ রমজান সকালেই মাঠে সব ব্যবস্থা বারবার দেখে যাচাই করে নেওয়া হবে। সবকিছু ঠিকঠাক কাজ করছে কি না, তা ট্রায়াল দিয়ে শতভাগ নিশ্চিত করা হবে।

ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান পেয়ারু অ্যান্ড সন্সের কর্ণধার মোজাম্মেল হক রোববার বিকেলে কাজের তদারক করছিলেন। তিনি বলেন, ‘সবাই অনেক আন্তরিকতার সঙ্গে কাজ করছেন। নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে কাজ শেষ করতে পারব বলে আমরা বদ্ধপরিকর।’

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ভিআইপিদের জন্য ঈদগাহের ভেতরে প্রায় তিন হাজার বর্গফুট জায়গা আলাদা নিরাপত্তা বেষ্টনীর মধ্যে থাকবে। মাজারের রাস্তাটি মহিলাদের জন্য সংরক্ষিত রাখার পরিকল্পনা করা হচ্ছে। বরাবরের মতো এবারও জাতীয় ঈদগাহ ময়দানে ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হবে সকাল সাড়ে ৮টায়।