• আজ ২৩শে ফাল্গুন, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

নীলফামারীর ইউনুছের চরের ঈদ উৎসব, ‘কী খামো ঘরোত তো খাবার নাই’ !

১১:২১ অপরাহ্ন | মঙ্গলবার, জুলাই ৫, ২০১৬ দেশের খবর, রংপুর, স্পট লাইট

yunus chor_nilphamari


মোঃ মহিবুল্লাহ্ আকাশ, স্টাফ করেসপন্ডেন্ট: ডালিয়া ব্যারেজের ভাটিতে তিস্তা নদীবেষ্টিত পুর্ব বাইশপুকুর চরের ভেতরের একটি চরের নাম ইউনুছের চর। নীলফামারী জেলার ডিমলা উপজেলার খালিশা চাপানী ইউনিয়নের এ চরটিতে বাস করে ৪২টি পরিবার। নদী ঘেরা এসব মানুষ তিস্তায় মাছ শিকার করে জীবন-জীবিকা চালালেও তিস্তা নদীর দু’দফা বন্যায় ভেসে গেছে তাদের ঈদ স্বপ্নের সবটুকু। সর্বহারা এসব মানুষ এই ঈদে ছেলে-মেয়েদের নতুন কোন কাপড়-চোপড় দিতে না পেরে ঈদ আনন্দকে শপে দিয়েছে প্রকৃতির হাতে।

গতকাল সোমবার ডালিয়া ব্যারেজ এলাকা থেকে নদী পথে নৌকাযোগে আর পায়ে হেটে ইউনুছের চরে সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, তিস্তা নদীবেষ্টিত চরবাসীর দুর্দশার চিত্র। পেট সর্বস্ব ছোট-ছোট ছেলে মেয়েদের বেড়িয়েছে বুকের হাড়। কারো পড়নে ছেড়া ফাটা হাফ প্যান্ট আবার কেউ কেউ উদাম।

সকালে কী খেয়েছো জিজ্ঞেস করতেই সবাই সমস্বরে উত্তর দিলো, কী খামো ঘরোত তো খাবার নাই। মাও খাবার জোগার কইল্লে দুপুরে খাওয়া হইবে, না হইলে নাই। এসব ছেলে মেয়ে পুষ্টিহীনতার শিকার।

চরের সাহের উদ্দীন বললেন, প্রতি ঈদোত নদীত ভালই মাছ পাই। তা ব্যাচেয়া যা পাই তাকে দিয়া ভালভাবেই ঈদ হয়। ছাওয়া পোওয়াগুলাক নয়া জামা কাপড় দিবার পাই। এবার দুই দফা বানোত মাছ ধরির পাই নাই। হামার ঈদ এবার সেই হালের।

অপর চরবাসী নহর উদ্দীন এক খন্ড জমিতে বাদাম আবাদ করেছিলেন, বানের পানিত ডুবে থাকায় তাও পচে নষ্ট হয়ে গেছে। ওই বাদাম ফসলটিই ছিল তার ঈদ খরচের সবকিছু। তাও গ্রাস করেছে তিস্তার বানের পানি।

নয় দশ বছরের সাকিলা আকতার এক কোণে মুখ ভার করে দায়িছে ছিল। তাকে জিজ্ঞেস করলাম ঈদে কী নিয়েছো? উত্তরে বললো, হামরা খুব গরীব মানুষ। বাবা নৌকায় নদী পার হয়ে গিয়া মানুষের ভ্যান চালায়। তিস্তাত বান উঠিছে। নদী পার হবার পারে নাই। বাবার কামাই রোজগার নাই নয়া জামাও কিনবার পারে নাই। নয়া জামার জন্য মোর ছোট ভাই সাবির আলী প্রতিদিন কান্দে। কান্দি লাভ কী? বাবা তো কিনি দিবার পাইরবে না।

খালিশা চাপানী ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান সামশুল হুদার সাথে কথা বলে তিনি বলেন, চরবাসীকে ত্রাণের ২০ কেজি করে চাল দেয়া হয়েছে। তবে এ চালে তাদের ঈদ কাটবে না। ঈদে তারা ছেলে মেয়েদের নতুন জামা কাপড়ও কিনে দিতে পারবে না। কারন চরে সামান্য বাদাম চাষ ও মাছ শিকার করে চলে তাদের সংশার। এবারের বন্যায় দুর্গম এই চরের মানুষের বাদাম পচে গেছে। বানের কারনে তারা মাছও শিকার করতে পারেনি।