ঈদ উপলক্ষে ঝিনাইদহে বৃদ্ধি পেয়েছে মৌসুমী ভিক্ষুকের দৌরাত্ম

১২:৫৭ পূর্বাহ্ন | বুধবার, জুলাই ৬, ২০১৬ খুলনা, দেশের খবর

indexআরাফাতুজ্জামান, ঝিনাইদহ প্রতিনিধিঃ ঝিনাইদহে ঈদ উপলক্ষে মৌসুমী ভিক্ষুকের দৌরাত্ম বৃদ্ধি পেয়েছে। শহরের বিপনীবিতান এলাকাগুলোর সড়কের আশেপাশে ভিক্ষুকদের ভিড়ের কারণে পা ফেলার জায়গা নেই। এরমধ্যে সারিবদ্ধভাবে বসে, কেউবা শুয়ে, চিৎকার আর আহাজারি করছে। অনেকে বিকলাঙ্গ শরীর নিয়ে সড়কে গড়াগড়ি করছেন। রোদ বৃষ্টিতেও নেই তাদের কোন মাথাব্যথা। লক্ষ্য শুধু ঈদ উপলক্ষে ভিক্ষার থালা নিয়ে নানা কৌশলে পথচারীর দৃষ্টি আকর্ষণ করা। ভিক্ষুকদের এমন তৎপরতায় অনেকে ক্ষুব্ধও হচ্ছেন। ঈদ আসলেই এমন মৌসুমী ভিক্ষুকের আমদানি বেড়ে যায় শহরজুড়ে। নানা ভাবে করা সাধারণ মানুষের পকেট কাটার আয়োজন। ঈদকে কেন্দ্র করে ঝিনাইদহ শহরের বিপনীবিতানগুলোর সামনে, ব্যস্ততম এলাকা পোষ্ট অফিস মোড়, পায়রাচত্ত্বর, হাটের রাস্তাসহ ও বিভিন্ন মসজিদের সামনে ভিক্ষুকদের ভিড় দেখা যায়। প্রতিদিন সকাল থেকে মধ্য রাত পর্যন্ত চলে ভিক্ষাবৃত্তি। রোদ আর আষাঢ়ের থেমে থেমে বৃষ্টির মধ্যে ভিক্ষার থালা হাতে নেমে পড়েছেন অনেকে। যাদেরকে অন্য সময় শহরে দেখা যায়নি। ঈদ উপলক্ষে বিভিন্নস্থান থেকে শহরে আসে তারা।

শহরের পোষ্ট অফিস মোড়ে নজরুল ইসলাম নামে একজন শারীরিক প্রতিবন্ধি ব্যক্তি ভিক্ষা করছেন। ঈদবাজারে আসা লোকজন এড়িয়ে যেতে পারছেন না তাকে। দিচ্ছেন ছোট বড় নোট। ২০/৫০ টাকার নোট পেলেই পকেটে ভরছেন তিনি। তার সাথে কথা বলে জানা যায় তিনি অন্য সময় শৈলকুপা উপজেলা শহরের ভিক্ষা করেন, আর ঈদের আসলেই ভিক্ষার জন্য তিনি ঝিনাইদহ শহরের চলে আসেন।

মায়ামাখা চেহারার দুধের বাচ্চা কোলে কর্মক্ষম মহিলারাও রয়েছেন ঈদবাজারের ভিড়ে। হাত পেতে ভিক্ষা করছেন তারা। কেউ কেউ বলছেন ‘বাচ্চাটার জন্য কিছু দিয়ে যান স্যার। ঈদে কিছু কেনবো।’

অভিযোগ রয়েছে, মৌসুমী ভিক্ষুকদের অনেকেই ‘মায়ের ভূমিকা’য় অভিনয় করছেন পথচারীরদের সহানুভূতি পাওয়ার জন্য। এমনই মন্তব্য করলেন ভিক্ষুকের তাড়নায় অতিষ্ঠ এক পথচারি। তার ধারণা, ইনকাম বাড়াতে ভাড়ায় শিশুদের নিয়ে ভিক্ষা করছেন মা সেজে থাকা মহিলারা। শহরের অনেক জায়গায় কোমলমতি শিশুদেরকেও এ ব্যবসায় দেখা গিয়েছে। তারা হাত পাতছে এর-ওর কাছে।

অন্যদিকে, ভিক্ষাবৃত্তির পক্ষে না থাকলেও মানবিক বিবেচনায় নজর এড়িয়ে যাচ্ছে প্রশাসন।