দিনাজপুরে অপারেশন করতে এসে কিডনি হারালেন এক নারী !


হাতুড়ে ডাক্তারকে প্রতিকী বেঝাতে

হাতুড়ে ডাক্তারকে প্রতিকী বেঝাতে

শাহ্ আলম শাহী,স্টাফ রিপোর্টার, দিনাজপুর থেকেঃ দিনাজপুরে পাথর অপারেশন করতে এসে কিডনি হারালেন এক নারী। কিডনি হারিয়ে তিনি এখন দিশেহারা হয়ে পড়েছেন। চিকিৎসকের শাস্তি দাবি করেছেন তার পরিবার। অভিযুক্ত চিকিৎসক ডাঃ হযরত আলীর এধরনের ঘটনা প্রতিনিয়ত ঘটিয়ে আসছেন অনেকের অভিযোগ।
দিনাজপুর শহরের কালিতলা থানার মোড় সংলগ্ন (কোতয়ালি থানার সামনে) এইচ,কে মাদার কেয়ার হসপিটালের চেয়ারম্যান ডা. হযরত আলী পাথর অপারেশন করতে গিয়ে এক নারীর কিডনি কেটে ফেলেছেন। জানতে পেরে মহিলার ছেলে-মেয়ে ও আত্মীয়রা শোকাতর হয়ে পড়েছেন। এ ঘটনার সুষ্ঠু বিচার চেয়েছেন ওই পরিবার। পাথর অপারেশন করার সময় কিডনি কেটে ফেলার বিষয়টি দিনাজপুরে টক অব দ্যা টাউনে পরিণত হয়েছে। হাসপাতাল ও রোগীর আত্মীয়-স্বজনদের অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, দিনাজপুরের বিরল উপজেলার পাকুড়া গ্রামের আঃ কুদ্দুসের স্ত্রী আনোয়ারার বাম পাশের কিডনির উপরে একটি পাথর হয়। এক্স-রে করে আরো নিশ্চিত হয় তার কিডনিতে কোনো সমস্যা নাই।

গত ২৯ জুন রোগী আনোয়ারা ভর্তি হয় ডা. হযরত আলীর এইচকে মাদার কেয়ার হসপিটালে। পরের দিন ৩০ জুন ডা. হযরত আলী নিজেই এই পাথর অপারেশন করেন। পাথর অপারেশন করতে গিয়ে ভুলবশতঃ কিডনিটি কেটে ফেলে। পাথর ও কিডনি দুটোই কেটে ফেললেও ডা. হযরত আলী কিডনি কেটে ফেলার বিষয়টি রোগীর লোকজনকে জানাননি। পরের দিন অপারেশন থিয়েটারে কিডনি কেটে ফেলার বিষয়টি ফাঁস হয়ে যায়। এখন অসুস্থ্য আনোয়ারা। ৫ তলায় ৬১৭ নং বেডে ভর্তি থাকা রোগী আনোয়ারার সঙ্গে কথা বললে তিনি জানান, আমি ভর্তি হয়েছি পাথর অপারেশন করার জন্য। অথচ এখন শুনছি যে আমার একটি কিডনি কেটে ফেলেছে। আমাকে এখন একটি কিডনি নিয়ে চলতে হবে। এদিকে মায়ের পাশে অবস্থানকারী ছেলে আইনুল ইসলাম সাংবাদিকদের জানান, ডা. হযরত আলীর হসপিটালে ভর্তি হওয়ার আগে এক্স-রে করা হয়েছে। তখন পাথরটি দেখা গেছে কিডনির অনেক উপড়ে। ফলে পাথর অপারেশনের জন্য ভর্তি হয়। এক্স-রেতে কিডনির কোনো সমস্যা ধরা পড়েনি। কিন্তু পাথর অপারেশন করতে গিয়ে তিনি কিডনিটি কেটে ফেলেছে।একটি সূত্র জানায়, কিডনি কেটে ফেলার বিষয়টি জানাজানি হলে রাতেই ডাঃ হযরত আলী রোগীর আত্মীয়-স্বজনকে ডেকে নিয়ে এক লাখ টাকার বিনিময়ে রফাদফা করে ফেলেন। পাশাপাশি বিভিন্ন স্থানে মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে বিষয়টি ধামাচাপা দেয়া হয়েছে।

উল্লেখ্য,ইতোপূর্বে ডা. হযরত আলী একটি অবৈধ গর্ভপাত মামলায় ৯ বছরের সাজা হয় এবং এক বছর জেল খেটে উচ্চ আদালত থেকে আপিলে জামিন পান।

◷ ২:৪৬ পূর্বাহ্ন ৷ বুধবার, জুলাই ৬, ২০১৬ দেশের খবর, রংপুর