• আজ ১৬ই ফাল্গুন, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

হতাশা থেকে জীবনবিমুখ হয়ে ভুল পথে পা রাখে নিব্রাস ইসলাম

৩:২০ পূর্বাহ্ন | বুধবার, জুলাই ৬, ২০১৬ আলোচিত বাংলাদেশ

nibras

সময়ের কণ্ঠস্বর ডেস্ক –    হতাশা থেকে হঠাৎ করে জীবনবিমুখ হয়ে ভুল পথে পা রাখে নিব্রাস ইসলাম। আর এই হতাশাকেই ষোল আনা কাজে লাগিয়েছে  আইএস, হিজবুত তাহরীর বা অন্য কোনো জঙ্গি সংগঠন।

নিব্রাসের টুইটার অ্যাকাউন্ট পর্যবেক্ষণ করে জানা যায়, ২০১৪ সালের অক্টোবরে টুইটারে অ্যাকাউন্ট খুলে সে। ওই বছরের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত সামাজিক যোগাযোগের এই মাধ্যমটিতে সক্রিয় ছিল। এই সময়ে করা কয়েকটি টুইটে তাঁর অভিমান, হতাশা ও অসহায়ত্ব ফুটে উঠেছে।

নিব্রাসের টুইটার অ্যাকাউন্টে দেখা গেছে, ২০১৪ সালের ১৪ অক্টোবর নিব্রাস একটি টুইট বার্তায় লিখে, ‘আমি তোমাকে সবচেয়ে ভালো জানি। একদিন সেটি তুমি উপলব্ধি করবে।’ (I do know you best. One day you will realised.)

এর দুদিন পর নিব্রাস আরেকটি টুইটে লিখে, ‘আমাকে তোমার আর প্রয়োজন নেই। সুখে থেক তার সঙ্গে। সবাই আমার চেয়ে অনেক ভালো। আমাকে কোথায় পাবে তা তুমি জানো।’ (You don’t need me anymore. Be happy with him. Everyone is better then me. You know where to find me.)।

একই দিনে আরেকটি টুইটে নিব্রাস লিখে, ‘আমি চিরদিন তোমার জন্য এখানে আছি। যখনই আমাকে তোমার প্রয়োজন পড়বে। আমি শুধু একটা ফোন কল দূরত্বে আছি। কিন্তু, মনে হচ্ছে তুমি আমার জায়গাটা অন্য কাউকে দিয়ে দিয়েছ। তোমাকে আমি দ্বিধাগ্রস্ত দেখতে চাই না।’ (I am always there for you. When you need me. I m just a call away. But it seems you replaced me. Don’t want you to be confused anymore)।

একইদিনে তৃতীয় টুইটে নিব্রাস লিখে, ‘কিন্তু,তোমার কাছ থেকে কিছু দিনের জন্য দূরে থাকাই ভালো হবে, যাতে তুমি হয়তো বুঝতে পার, আসলে তুমি কী চাও।’ (But It will be good if I away from You for a while. So that you can understand what you really want)

যাকে নিয়ে নির্বাসের এই আকুতি ছিল সেই মানুষটির কোনো সাড়া পেয়েছিল কি না সেটা আর জানা যায়নি। সবশেষে নিব্রাসের খোঁজ মেলে গত শনিবার রাতে সাইট ইন্টালিজেন্টসের পেইজে তার হাস্যোজ্জ্বল ছবি প্রকাশের পর।

তার আগে শুক্রবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে গুলশানের হলি আর্টিজান বেকারিতে হামলা চালায় সন্ত্রাসীরা। সেখানে খুনি নিব্রাসসহ আরো পাঁচ সন্ত্রাসীর হাতের ধারালো অস্ত্রের আঘাতে প্রাণ যায় ২০ জনের। গুলশান ২-এর ৭৯ নম্বর সড়কের এই রেস্তোরাঁয় সন্ত্রাসীদের সঙ্গে পুলিশের গোলাগুলির ঘটনায় ডিবির সহকারী (এসি) রবিউল ইসলাম ও বনানী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সালাহউদ্দিন নিহত হন।

শনিবার সকালে রেস্টুরেন্টটিতে কমান্ডো অভিযান চালানো হয়। অভিযানে ছয় হামলাকারী নিহত হয়েছে বলে আইএসপিআরের পক্ষ থেকে জানানো হলেও আর্টিজানের মালিকের দাবি, ছয়জনের একজন সাইফুল চৌধুরী। তিনি আর্টিজানের কুক ছিলেন। এরইমধ্যে বাকি পাঁচ হামলাকারীর পরিচয় প্রকাশিত হয়েছে। তারা হলো- নিব্রাস ইসলাম, রোহান ইমতিয়াজ, মীর সামিহ মোবাশ্বির, খায়রুল ইসলাম পায়েল এবং শফিকুল ইসলাম উজ্জ্বল। আত্মীয় ও পরিচিতজনরা ছবি দেখে তাদের শনাক্ত করে।