• আজ ১২ই ফাল্গুন, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

শেষ মূহুর্তের কেনাকাটায় ব্যস্ত আড়াইহাজারবাসী


522এম এ হাকিম ভূঁইয়া,আড়াইহাজার প্রতিনিধি: আগামীকালই মুসলমানদের সর্ববৃহৎ ধর্মীয় উৎসব ঈদ-উল ফিতর উযাপন হতে যাচ্ছে। ঈদকে সামনে রেখে কেনাটাকায় যেন দম ফেলার ফুসরত নেই। শেষ মূহূর্তের কেনাকাটায় ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজার উপজেলাবাসী। পছন্দের পোশাকটি কেনার জন্য ছুঁটে চলছেন এক মার্কেট থেকে অন্য মার্কেট। দিনভর থেমে থেমে বৃষ্টিকে অপেক্ষা করে নারীরা মার্কেটগুলোতে ভিড় করছেন। ঈদ বলে কথা। ঈদে আর যা-ই হোক একটি নতুন জামাতো চাই-চাই। তাই বড়দের পাশাপাশি ছোট্ররা ছুটছেন ঈদ মার্কেটে। এবছর দেশীয় পোশাকের পাশাপাশি স্থান দখল করেছে ভারতীয় পোশাক। বিশেষ করে (স্টার জলছার) বিভিন্ন মেগা সিরিয়ালের নায়ক-নায়কাদের নামের আদলে পোশাকের চাহিদা অনেক বেশী। দেশীয় পোশাকের পাশাপাশি বিদেশী পোশাকের গুরুত্ব বেড়ে যাওয়ায় স্থানীয় তাঁত শিল্প অনেকটাই হুমকীর মুখে পড়েছে বলে শঙ্কা প্রকাশ করেছেন ব্যবসায়ীরা। তারপরও ঈদের কেনা কাটা করতেই হবে। বৃষ্টির কারনে মার্কেটগুলোর সামনের অংশে জলাবদ্ধাতার সৃষ্টি হয়েছে। এতে প্রচন্ড যানজটের সৃষ্টি হচ্ছে। তারপরও কেউ বসে নেই।  যে যার মত ছুঁটে বেড়াচ্ছেন। বিরুপ আবহাওয়া ক্রেতাদের কাছে কিছুটা বিরক্তির কারন হলেও বৃষ্টি থামিয়ে রাখতে পারছে না কাউকে। মার্কেটগুলোতে নারী-পুরুষের স্রোত।  কর্মস্থল এরই মধ্যে বন্ধ হয়ে গেছে। তাই নারীদের পাশাপাশি পুরুষেরা তাদের প্রিয়জনদের নিয়ে মার্কেটগুলোতে এসেছেন। এতে ক্রেতাদের ঢল নেমেছে আড়াইহাজার উপজেলার বিভিন্ন বিপণী বিতানে। উচ্চ ও মধ্যবিত্তদের জন্য বিপণী বিতান থাকলেও; কম আয়ের ক্রেতাদের জন্য ফুটপাতগুলোতেও বসেছে পোশাকের পসরা। স্বাদ এবং স্বার্দের মধ্যে প্রিয়জনের জন্য যে যেমন পারছেন কেনাকাটা করছেন। প্রিয়জনের মুখে হাসি ফোটানোই যেন শেষ চেষ্টা। নিজের প্রয়োজনীয় জিনিসটি কেনার জন্য ছুঁটে বেড়াচ্ছেন এক দোকান থেকে অন্য দোকানে।

শেষ মূহুর্তে এসে তরুণীরা ভীড় করছেন উপজেলার বিভিন্ন কসমেটিকের দোকান গুলোতে। দোকানীরা ক্রেতাদের আকৃষ্ট করতে বরবারের মতই দেশী-বিদেশী বিভিন্ন নামের কসমেটিক দোকানে সাজিয়ে রেখেছেন। যাদের বাকী আছে তারাও সেরে ফেলছেন। দোকানীদের মধ্যে এক ধরনের প্রতিযোগিতা। ক্রেতাদের আকৃষ্ট করতে চেষ্টার ত্রুটি করেনি। ইমিটিশনের জিনিসের ওপর হালকা কারুকাজের বিভিন্ন নতুন আইটেম এ বছর ঈদ বাজারে এসেছে বলে জানিয়েছেন আড়াইহাজার উপজেলা সদরের দুবাইপ্লাজার কসমেটিকের দোকান মালিক মো. শাহজালাল। তিনি বলেন, ‘এ বছর বাজারে ভারতীয় নায়িকাদের নামে বেশ কিছু নতুন আইটেম বাজারে এসেছে। এসব অর্নামেন্টের চাহিদা ব্যাপক। তাই ক্রেতাদের রুচির দিক থেকে বিবেচনা করে দোকানে দেশীয় তৈরির চেয়ে বিদেশে তৈরি জিনিস উঠিয়েছেন বেশী। তবে বসে নেই পুরুষেরাও। এই ঈদে পুরুষের জন্য একটি পাঞ্জাবী বা ফতোয়া চাই। পুরুষের জন্য পাঞ্জাবীই হলো এই ঈদের প্রধান পোশাক।

আড়াইহাজার উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় গড়ে উঠা মার্কেট গুলোতে পাঞ্জাবীর দোকানগুলো বেশ জমে উঠেছে। একটি নতুন পাঞ্জাবী না হলেই যেন ঈদ মাটি। তাই তরুণ ও বয়স্করা ছুটে বেড়িয়েছেন পাঞ্জাবীর দোকানগুলোতে। এ বছর দেশীয় তৈরি পাঞ্জাবীর পাশাপাশি ভারত, পাকিস্তানের তৈরি বিভিন্ন নামের পাঞ্জাবী দোকানগুলোতে স্থান করে নিয়েছে। পাশাপাশি তরুণীরা ছুটে বেড়াচ্ছেন জুয়েলারী ও অর্নামেন্টের দোকানে। আড়াইহাজার উপজেলার সদরে বাজারে বেশ কিছু মার্কেট রয়েছে। নারীদের পোশাকের পাশাপাশি পুরুষের জন্যও এ বছর বেশ কিছু নামে ও ভিন্নতায় সমারাহ ঘটে পাঞ্জাবী, ফতোয়ার। দেশীয় পাঞ্জাবীর পাশপাশি ভারতীয় তৈরি পোশাক দখল করে নিয়েছে এবারের ঈদ বাজার। আড়াইহাজার উপজেলার সদরে অবস্থিত খোরশেদ আলম সুপার মার্কেটে পাঞ্জাবীর দোকানী মো. রহমত আলী বলেন, এ বছর বিভিন্ন নামের ও দামের পাঞ্জাবী তিনি দোকানে তুলেছেন। একটি পাঞ্জাবী তিনি ধরন ও মান বুঝে ১ হাজার টাকা থেকে ১ হাজার পাচশ’ টাকায় বিক্রি করছেন। তিনি বলেন- দেশীয় তৈরি পাঞ্জাবীর মান ও কাপড় অত্যন্ত ভালো। দামেও অনেক কম। তাই ক্রেতাদের কাছে এর চাহিদাও ভালো। তবে একটু গরম আবহাওয়ার কারনে সুতি পাঞ্জাবীর দিকে বেশ ঝুঁকছেন ক্রেতারা।

◷ ১২:৩৩ অপরাহ্ন ৷ বুধবার, জুলাই ৬, ২০১৬ ঢাকা, দেশের খবর