কেউ জোয়ারের পানিতে ভাসছে, কেউবা পানিবন্দীঃ ঈদের নামাজ পড়াও অনিশ্চিত

৭:০৫ অপরাহ্ণ | বুধবার, জুলাই ৬, ২০১৬ দেশের খবর, বরিশাল

Kalpara pic-20 (06.7.2016) water Floodজাহিদ রিপন,পটুয়াখালী প্রতিনিধি: পানিতে ভাসছে কলাপাড়ায় অন্তত ৭০টি গ্রামের প্রায় এক লাখ মানুষের ঈদ আনন্দ। কেউ জোয়ারের পানিতে ভাসছে, আবার কেউ পানিবন্দী হয়ে পড়েছে। এ দুর্দশার যেন শেষ নেই। ঈদের দিনে একটু সেমাই রান্না করে সন্তান সন্তুতি নিয়ে হাসিখুশিতে দিন পার করবে তারও সুযোগ নেই। পানিবন্ধী এসব মানুষ এখন দিশেহারা হয়ে পড়েছেন।
কুয়াকাটা পৌরসভার কুয়াকাটা, পশ্চিম কুয়াকাটা, ফাসিপাড়া ও খাজুরা এলাকার অন্তত পাঁচ হাজার পরিবারের ঈদ উদসব নেই। পশ্চিম আলীপুর বাজার সংলগ্ন পাঁচ ভেন্টের স্লুইসটি ৪৮ নং পোল্ডারের বেড়িবাঁধসহ বিধ্বস্ত হয়ে জোয়ারের পানিতে এসব গ্রাম ডুবে গেছে। মানুষের বাড়িঘর থেকে শুরু করে রান্নার চুলা পর্যন্ত ডুবে গেছে। এসব পরিবারের প্রত্যেককে পৌরসভার পক্ষ থেকে বুধবার (আজ) দুই কেজি মুড়ি/চিড়া ও গুড় বিতরন করা হয়েছে বলে মেয়র আব্দুল বারেক মোল্লা নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান কোমর থেকে বুক সমান পানিতে ডুবে আছে কুয়াকাটা পৌরসভার অর্ধেকটা। এসব পরিবারের দুরাবস্থার চিত্র এতই বেহাল যে ঈদের নামাজ পড়ার মতো কোন শুকনো মাঠ নেই। কুয়াকাটা সংলগ্ন লতাচাপলী ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান সাঈয়েদ ফকির জানান, ওই স্লুইসটি প্রায় ছয় মাস আগে ভেঙ্গে গেছে। এখন অস্বাভাবিক জোয়ারে পশ্চিম আলীপুরসহ খাজুরা, ফাসিপাড়া এলাকা ডুবে আছে। মানুষের দুর্দশার শেষ নেই।
লালুয়ার চাড়িপাড়া রিং বেড়িবাঁধটির দুটি পয়েন্ট ভেঙ্গে গেছে জোয়ারের চাপে। ভাঙ্গা অংশ দিয়ে প্রবলবেগে জোয়ারের পানি প্রবেশ করে ডুবে গেছে চারিপাড়া, বানাতিপাড়া, নাওয়াপাড়া, ছোট পাঁচ নং, বড় পাঁচ নংসহ আটটি গ্রাম। এসব গ্রামের মানুষের ঈদ উৎসব নেই। চেয়ারম্যান তারিকুজ্জামান তারা জানান, এসব মানুষ এখন পানিবন্দী হয়ে পড়েছে।
নিজামপুর, সুধিরপুর, পুরানমহিপুরসহ মহিপুর ইউনিয়নের চারটি গ্রামের পাঁচ হাজার পরিবার মাসাধিককাল ধরে জোয়ারের পানিতে ভাসছে। ঈদ উৎসব তো দুরের কথা এরা ঈদের নামাজ পড়তেও পারবে না। চম্পাপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান রিন্টু তালুকদার জানান, দেবপুরের প্রায় ছয় শ’ পরিবার ভাসছে। টানা তিন মাস তাদের এ দুরাবস্থা। অন্তত আট শ’ ফুট বেড়িবাঁধ ভেঙ্গে শুধু দেবপুর নয় চালিতাবুনিয়া গ্রামের তিনটি ওয়ার্ডসহ অন্তত দেড় হাজার পরিবার চরম দুর্ভোগে।
এতো গেল প্রাকৃতিক দুর্যোগের শিকার হওয়া মানুষের দুরাবস্থা। অপরদিকে ৪০ টি গ্রামে জলাবদ্ধতা দেখা দিয়েছে পানি উন্নয়ন বোর্ডের সৃষ্ট বিপর্যয়ের কারনে। গাববাড়িয়া পয়েন্টে গেল বছর একটি অপরিকল্পিতভাবে করা ক্লোজারের কারনে চারটি শাখা নদীর পানির প্রবাহ বন্ধ হয়ে গেছে। ২৯ টি স্লুইসের পানি নামায় প্রতিবন্ধকতার সৃষ্টি হয়েছে। ফলে ডালবুগঞ্জ, ধুলাসার, বালিয়াতলী ও মিঠাগঞ্জ ইউনিয়নের ৪০ গ্রামের মানুষ পয়েন্টে স্লুইসগেট করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল। কিন্ত তার কোন বাস্তবায়ন নেই। ফলে এসব গ্রামের অন্তত ২৫ হাজার কৃষক পরিবারে ঈদ উৎসব তো দুরের কথা, আমন আবাদে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে।