পনের দিন অবস্থান করে বিয়ে, অবশেষে স্বামীর হাতেই খুন

১১:৩৩ পূর্বাহ্ন | শুক্রবার, জুলাই ৮, ২০১৬ ঢাকা, দেশের খবর

মানিকগঞ্জ প্রতিনিধি: বিয়ের দাবিতে প্রেমিক মনির হোসেনের (২১) বাড়ি ১৫ দিন অবস্থান করেছিলেন কণা আক্তার (১৯)। প্রেমিকের সঙ্গে বিয়ে না হলে ওই সময় আত্মহত্যা করার হুমকিও দিয়েছিলেন তিনি। এরপর উভয় পরিবারের সম্মতিতে তাদের দেয়া হয় বিয়ে। স্বামীকে নিয়ে সুখের সংসার সাজানোর স্বপ্নে বিভোর ছিলেন তিনি।

এ কারণে দরিদ্র পরিবারের মেয়ে হয়েও স্বামীর চাহিদা মতো এনে দিয়েছিলেন যৌতুক। তারপরও পারেননি সুখি হতে। দিনের পর দিন শ্বশুর-শাশুড়ি ও স্বামীর অমানুষিক নির্যাতন সহ্য করতে হয়েছে তাকে। যাকে না পেলে চেয়েছিলেন নিজের জীবন দিতে, তাকে পেয়েও সেই স্বামীর বাড়ি প্রাণ দিতে হলো কণাকে।

শুক্রবার ভোরে তাকে মানিকগঞ্জের দৌলতপুর উপজেলার বহড়াবাড়ি গ্রামে স্বামী মনির ও পরিবারের লোকজন মিলে পিটিয়ে এবং শ্বাসরোধে হত্যা করেছেন বলে স্বজনরা অভিযোগ করছেন। তবে, মনির ও পরিবারের লোকজনের বলছেন, কণা গলায় ফাঁস নিয়ে আত্মহত্যা করেছেন।146811_1এই ঘটনার পরপরই বাড়িতে লাশ রেখে পালিয়ে যাওয়ার সময় মনির ও তার বাবা মজিবর রহমান (৫৫), মা মমতা বেগম (৫০), বোন রিক্তা আক্তার (২৫) এবং ভগ্নিপতি মহিদুর রহমানকে (৩০) ধরে আটকে রেখে পুলিশে খবর দিয়েছেন প্রতিবেশিরা।

ওই গ্রামের মজিবুর রহমানের ছেলে মনির গাজীপুরের একটি পোশাক তৈরি কারখানায় কাজ করেন। আর পার্শ্ববর্তী তালুকনগর গ্রামের মৃত জব্বার খানের মেয়ে কণা।

দৌলতপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নাজমুল নিশাত জানান, ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্তের জন্য লাশ মানিকগঞ্জ সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হবে। এ ঘটনায় স্বজনরা হত্যার অভিযোগ দিলে প্রাথমিক তদন্ত ও ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন অনুযায়ী আইনি ব্যবস্থা নেয়া হবে।